ঢাকা ০১:১৯ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৮ মে ২০২৪, ১৪ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩১ বঙ্গাব্দ

নিবন্ধন পরীক্ষায় উত্তীর্ণ নারীর লাশ উদ্ধার, অকৃতকার্য স্বামী পলাতক

নিজস্ব সংবাদ :
  • আপডেট সময় ১০:৪২:২১ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৬ মে ২০২৪
  • / ৫৩ বার পড়া হয়েছে

নিবন্ধন পরীক্ষায় স্ত্রী উত্তীর্ণ, অকৃতকার্য হয়েছেন স্বামী। এ নিয়ে রাতে কলহ। এরপর সকালে শোবারঘরে স্ত্রীর লাশ পাওয়া গেছে। গা ঢাকা দিয়েছেন স্বামী।

ঘটনাটি ঘটেছে রাজশাহীর গোদাগাড়ী পৌর সদরের গোদাগাড়ী মহল্লায়। খবর পেয়ে আজ বৃহস্পতিবার (১৬ মে) সকালে পুলিশ সুরভী খাতুন (২৮) নামের ওই নারীর লাশ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য রাজশাহী মেডিকেল কলেজের মর্গে পাঠিয়েছে। এ ঘটনায় গোদাগাড়ী থানায় সুরভীর স্বামী মোস্তাফিজুর রহমানকে আসামি করে একটি হত্যা মামলা হয়েছে।

নিহত সুরভী খাতুন সিঙ্গাপুরপ্রবাসী তরিকুল ইসলামের মেয়ে। ঘটনার পর থেকে অভিযুক্ত স্বামী মোস্তাফিজুর রহমান পলাতক রয়েছেন। তিনি গোদাগাড়ী উপজেলা সদরের মেডিকেল মোড় এলাকার বাসিন্দা।

পুলিশ জানিয়েছে, ২০২১ সালের ১৪ ফেব্রুয়ারি মোস্তাফিজুর রহমানের সঙ্গে সুরভী খাতুনের বিয়ে হয়। বিয়ের পর থেকেই মোস্তাফিজুর রহমান বেকার ছিলেন। এ নিয়ে প্রায়ই এই দম্পতির মধ্যে হতাশা ও অসন্তোষ দেখা দিত। গতকাল বুধবার বেসরকারি শিক্ষক নিবন্ধন ও প্রত্যয়ন কর্তৃপক্ষের (এনটিআরসিএ) ১৮তম নিবন্ধনের প্রিলিমিনারি পরীক্ষার ফলাফল প্রকাশিত হয়। এ পরীক্ষায় সুরভী খাতুন উত্তীর্ণ হন। মোস্তাফিজুর রহমানও একই পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করেছিলেন। কিন্তু স্ত্রী উত্তীর্ণ হলেও তিনি অকৃতকার্য হন। ফলাফল প্রকাশের পর শ্বশুরবাড়িতে যান মোস্তাফিজুর রহমান। কারণ, সুরভী খাতুন কিছুদিন ধরে বাবার বাড়িতেই ছিলেন।

পুলিশ ও পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, শ্বশুরবাড়ি যাওয়ার পর গতকাল রাতে এ নিয়ে স্বামী–স্ত্রীর মধ্যে প্রচণ্ড ঝগড়া হয়। দীর্ঘদিন কর্মহীন থাকায় মোস্তাফিজুরকে তাঁর শ্বশুরবাড়ির লোকজন বকাবকি করেন। পরে রাতে তাঁরা সবাই ঘুমিয়ে পড়েন। আজ সকালে সুরভীর মা হাঁটতে বের হন। ফিরে এসে সকাল সাড়ে আটটার দিকে মেয়ে ও জামাইকে ডাকতে যান। কিন্তু কোনো সাড়াশব্দ না পেয়ে দরজা ঠেলে ঘরে ঢুকে দেখেন, মেয়ের নিথর দেহ বিছানায় পড়ে আছে। আর জামাতা মোস্তাফিজুর ঘরে নেই। তড়িঘড়ি করে তাঁরা সুরভীকে গোদাগাড়ী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান। কিন্তু কর্তব্যরত চিকিৎসক সুরভীকে মৃত ঘোষণা করেন। খবর পেয়ে পুলিশ সেখানে গিয়ে নিহতের মরদেহের সুরতহাল প্রতিবেদন করে এবং ময়নাতদন্তের জন্য লাশ রাজশাহী মেডিকেল কলেজের (রামেক) মর্গে পাঠায়।

গোদাগাড়ী থানার উপপরিদর্শক আলতাফ হোসেন বলেন, নিহতের গায়ে বড় ধরনের আঘাতের কোনো চিহ্ন নেই। মুখে ‘নেইল কাট মার্ক’ আছে। ঘটনার পর থেকে তাঁর স্বামী পলাতক রয়েছেন। ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন পাওয়ার পরে বলা যাবে, কীভাবে মৃত্যু হয়েছে।

নিউজটি শেয়ার করুন

নিবন্ধন পরীক্ষায় উত্তীর্ণ নারীর লাশ উদ্ধার, অকৃতকার্য স্বামী পলাতক

আপডেট সময় ১০:৪২:২১ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৬ মে ২০২৪

নিবন্ধন পরীক্ষায় স্ত্রী উত্তীর্ণ, অকৃতকার্য হয়েছেন স্বামী। এ নিয়ে রাতে কলহ। এরপর সকালে শোবারঘরে স্ত্রীর লাশ পাওয়া গেছে। গা ঢাকা দিয়েছেন স্বামী।

ঘটনাটি ঘটেছে রাজশাহীর গোদাগাড়ী পৌর সদরের গোদাগাড়ী মহল্লায়। খবর পেয়ে আজ বৃহস্পতিবার (১৬ মে) সকালে পুলিশ সুরভী খাতুন (২৮) নামের ওই নারীর লাশ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য রাজশাহী মেডিকেল কলেজের মর্গে পাঠিয়েছে। এ ঘটনায় গোদাগাড়ী থানায় সুরভীর স্বামী মোস্তাফিজুর রহমানকে আসামি করে একটি হত্যা মামলা হয়েছে।

নিহত সুরভী খাতুন সিঙ্গাপুরপ্রবাসী তরিকুল ইসলামের মেয়ে। ঘটনার পর থেকে অভিযুক্ত স্বামী মোস্তাফিজুর রহমান পলাতক রয়েছেন। তিনি গোদাগাড়ী উপজেলা সদরের মেডিকেল মোড় এলাকার বাসিন্দা।

পুলিশ জানিয়েছে, ২০২১ সালের ১৪ ফেব্রুয়ারি মোস্তাফিজুর রহমানের সঙ্গে সুরভী খাতুনের বিয়ে হয়। বিয়ের পর থেকেই মোস্তাফিজুর রহমান বেকার ছিলেন। এ নিয়ে প্রায়ই এই দম্পতির মধ্যে হতাশা ও অসন্তোষ দেখা দিত। গতকাল বুধবার বেসরকারি শিক্ষক নিবন্ধন ও প্রত্যয়ন কর্তৃপক্ষের (এনটিআরসিএ) ১৮তম নিবন্ধনের প্রিলিমিনারি পরীক্ষার ফলাফল প্রকাশিত হয়। এ পরীক্ষায় সুরভী খাতুন উত্তীর্ণ হন। মোস্তাফিজুর রহমানও একই পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করেছিলেন। কিন্তু স্ত্রী উত্তীর্ণ হলেও তিনি অকৃতকার্য হন। ফলাফল প্রকাশের পর শ্বশুরবাড়িতে যান মোস্তাফিজুর রহমান। কারণ, সুরভী খাতুন কিছুদিন ধরে বাবার বাড়িতেই ছিলেন।

পুলিশ ও পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, শ্বশুরবাড়ি যাওয়ার পর গতকাল রাতে এ নিয়ে স্বামী–স্ত্রীর মধ্যে প্রচণ্ড ঝগড়া হয়। দীর্ঘদিন কর্মহীন থাকায় মোস্তাফিজুরকে তাঁর শ্বশুরবাড়ির লোকজন বকাবকি করেন। পরে রাতে তাঁরা সবাই ঘুমিয়ে পড়েন। আজ সকালে সুরভীর মা হাঁটতে বের হন। ফিরে এসে সকাল সাড়ে আটটার দিকে মেয়ে ও জামাইকে ডাকতে যান। কিন্তু কোনো সাড়াশব্দ না পেয়ে দরজা ঠেলে ঘরে ঢুকে দেখেন, মেয়ের নিথর দেহ বিছানায় পড়ে আছে। আর জামাতা মোস্তাফিজুর ঘরে নেই। তড়িঘড়ি করে তাঁরা সুরভীকে গোদাগাড়ী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান। কিন্তু কর্তব্যরত চিকিৎসক সুরভীকে মৃত ঘোষণা করেন। খবর পেয়ে পুলিশ সেখানে গিয়ে নিহতের মরদেহের সুরতহাল প্রতিবেদন করে এবং ময়নাতদন্তের জন্য লাশ রাজশাহী মেডিকেল কলেজের (রামেক) মর্গে পাঠায়।

গোদাগাড়ী থানার উপপরিদর্শক আলতাফ হোসেন বলেন, নিহতের গায়ে বড় ধরনের আঘাতের কোনো চিহ্ন নেই। মুখে ‘নেইল কাট মার্ক’ আছে। ঘটনার পর থেকে তাঁর স্বামী পলাতক রয়েছেন। ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন পাওয়ার পরে বলা যাবে, কীভাবে মৃত্যু হয়েছে।