জুলাই আন্দোলনে হামলা
জাবি ছাত্রলীগের ২৮৯ নেতাকর্মী বহিষ্কার, সাময়িক বরখাস্ত ৯ শিক্ষক

- আপডেট সময় ০১:০৮:৫৩ অপরাহ্ন, বুধবার, ১৯ মার্চ ২০২৫
- / ৩৩ বার পড়া হয়েছে
বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন চলাকালে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে (জাবি) শিক্ষার্থীদের ওপর হামলার ঘটনায় ছাত্রলীগের ২৮৯ জন নেতাকর্মীকে বিশ্ববিদ্যালয় থেকে সাময়িক বহিষ্কার করা হয়েছে। এছাড়া হামলায় মদদ দেওয়ার অভিযোগে ৯ জন শিক্ষককে চাকরি থেকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে।
সোমবার দিবাগত রাত তিনটায় বিশ্ববিদ্যালয়ের সিন্ডিকেট সভা শেষে উপাচার্য অধ্যাপক মোহাম্মদ কামরুল আহসান এসব তথ্য নিশ্চিত করেন। উপাচার্য বলেন, বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন চলাকালে জাবি শিক্ষার্থীদের ওপর হামলার ঘটনায় ৩ ক্যাটাগরিতে ২৮৯ জন ছাত্রলীগ নেতাকর্মীকে বিশ^বিদ্যালয় থেকে সাময়িক বহিষ্কার করা হয়েছে। এছাড়া একটি অধিকতর তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। ওই ছাত্রলীগ নেতাকর্মীদের মধ্যে যাদের ছাত্রত্ব শেষ হয়েছে তাদের সনদ স্থগিত করা হবে। যারা পরীক্ষা ও ভাইভা দিয়েছে তাদের ফলাফল স্থগিত করা হবে এবং নিয়মিত শিক্ষার্থীদের সাময়িক বহিষ্কার করা হবে।
উপাচার্য আরও বলেন, হামলার ঘটনায় অভিযুক্তদের মধ্যে বিশ্ববিদ্যালয়ের তৎকালীন উপাচার্য অধ্যাপক মো. নূরুল আলম এবং রেজিস্ট্রার আবু হাসান অবসরে চলে যাওয়ায় তাদের পেনশন সুবিধা বাতিলের সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে। আন্দোলন চলাকালে বিশ্ববিদ্যালয়ে ছাত্রলীগ ও পুলিশি হামলায় সংশ্লিষ্টতার অভিযোগে ৯ জন শিক্ষককে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। প্রাথমিক তদন্তে আরও কয়েকজন শিক্ষকের বিরুদ্ধে হামলায় জড়িত থাকার অভিযোগ পাওয়া গেছে। তাদের বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য-প্রমাণ সংগ্রহ করতে স্ট্রাকচার্ড কমিটি গঠন করা হয়েছে।
এছাড়া ছাত্রলীগ নেতা শামীম মোল্লাকে ক্যাম্পাসের অভ্যন্তরে গণপিটুনি ও পরবর্তীতে পুলিশি হেফাজতে মৃত্যুর ঘটনায় আটজনকে ৬ মাসের বহিষ্কার করার সিদ্ধান্ত হয়েছে। হিসাব অনুযায়ী, ৬ মাস বহিষ্কারের মেয়াদ শেষ হওয়ায় তাদের একাডেমিক কার্যক্রমে বাধা থাকছে না। একই সঙ্গে বিশ্ববিদ্যালয় থেকে দায়েরকৃত মামলার ধারায় পরিবর্তন আসতে পারে বলে জানা গেছে।
এদিকে শিক্ষার্থীদের দাবির পরিপ্রেক্ষিতে ১৫ জুলাই রাতকে ‘কালো রাত’ হিসেবে ঘোষণা করা হয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয়ে শেখ পরিবারের সদস্যদের নামে থাকা স্থাপনার নাম বাতিলের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান হল, বঙ্গমাতা হল, শেখ রাসেল হল এবং শেখ হাসিনা হলের নাম পরিবর্তন করার জন্য কমিটি গঠন করা হয়েছে।