ঢাকা ০২:২২ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ০৩ এপ্রিল ২০২৫, ২০ চৈত্র ১৪৩১ বঙ্গাব্দ

দেশে ফিরলেন মিয়ানমারের স্ক্যাম সেন্টারে বন্দী ১৮ বাংলাদেশী

নিজস্ব সংবাদ :
  • আপডেট সময় ০১:৪৩:১২ অপরাহ্ন, বুধবার, ১৯ মার্চ ২০২৫
  • / ৪৫ বার পড়া হয়েছে
মানবপাচারের শিকার হয়ে মিয়ানমারের স্ক্যাম সেন্টারে বন্দী জীবন কাটানো ১৮ বাংলাদেশী অবশেষে দেশে ফিরছেন। মঙ্গলবার দিবাগত রাত পৌনে ১টায় থাই এয়ারওয়েজের একটি ফ্লাইটে ঢাকায় ফিরেছেন তারা।
বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থা ব্র্যাকের মাইগ্রেশন প্রোগ্রাম এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানিয়েছে। এতে বলা হয়, ভালো চাকরি ও বেতনের প্রলোভন দেখিয়ে মানবপাচারকারীরা দুবাইসহ মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন দেশ থেকে এই বাংলাদেশিদের প্রথমে থাইল্যান্ডে নিয়ে যায়। সেখান থেকে নেয়া হয় মিয়ানমারের স্ক্যাম সেন্টারে। সেখানে পাচারকারীরা তাদের দিয়ে জোরপূর্বক সাইবার অপরাধমূলক কাজে করাতো। কেউ রাজি না হলে বৈদ্যুতিক শক দেয়াসহ ভয়াবহ সব নির্যাতন করা হতো।

ব্র্যাকের সহযোগী পরিচালক শরিফুল হাসান (মাইগ্রেশন অ্যান্ড ইয়ুথ প্ল্যাটফর্ম) বলেন, ‘ভুক্তভোগীদের পরিবারের পক্ষ থেকে তাদেরকে উদ্ধারের জন্য ব্র্যাকের সাথে যোগযোগ করে। এরপর আমরা বাংলাদেশ সরকারের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়, সিআইডি ও থাইল্যান্ডের বাংলাদেশ দূতাবাসের সাথে যোগাযোগ করি। সবার নিরলস প্রচেষ্টায় দুঃসহ বন্দিদশা থেকে মুক্তি পেয়েছেন ১৮ বাংলাদেশী।’

উদ্ধার পাওয়া ব্যক্তিরা হলেন ওমর ফারুক, রাশেদুল ইসলাম, মোহাম্মদ আলিফ, রায়হান সোবহান, শেখ আরমান, পাভেল চৌধুরী, মনির হোসেন, ইসমাইল হোসেন, নিজাম উদ্দীন, জহির উদ্দিন, তানভীর আকন্দ রাফি, তোয়ানুর খলিলুল্লাহ, সায়মন হোসেন, উজ্জ্বল হোসেন, মেহেদী হাসান, কায়সার হোসেন, শাহ আলম ও আকাশ আলী।

উদ্ধার বাংলাদেশীদের একজন চট্টগ্রামের আলিফ বলেন, ‘দুবাইতে আমি জাহাজে কাজ করতাম। আমাকে বেশি বেতনে ডাটা এন্ট্রির কাজের লোভ দেখিয়ে থাইল্যান্ড নিয়ে যাওয়া হয়। সেখান থেকে মানবপাচারকারীরা থাই-মিয়ানমার সীমান্তের ম্যাসটে নিয়ে যায়। যেখানে আমার মতো বিভিন্ন দেশের আরো অনেক মানুষকে অস্ত্রের মুখে বিক্রি করে দেয়া হয় স্ক্যাম সেন্টারে। আমি ছয় মাস ভয়াবহ নির্যাতনের মধ্যে সেখানে বন্দী ছিলাম। জীবন বাঁচাতে আমি স্ক্যাম সেন্টারে কাজ করতে বাধ্য হই।’

সিআইডির অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, পাচারকারীদের মূল হোতা ইফতেখারুল ইসলাম রনির বিরুদ্ধে মানবপাচারের অভিযোগে দেশের বিভিন্ন থানায় আটটি মামলা দায়ের করা হয়েছে। আমরা গত ১৮ জানুয়ারি তাকে চট্টগ্রাম এয়ারপোর্ট থেকে আটক করেছি। পাশাপাশি পাচারকারী চক্রের আরেক হোতা আব্দুল্লাহ আল নোমানকে গ্রেফতারের চেষ্টা চলছে।’

সূত্র : ইউএনবি

ট্যাগস :

নিউজটি শেয়ার করুন

দেশে ফিরলেন মিয়ানমারের স্ক্যাম সেন্টারে বন্দী ১৮ বাংলাদেশী

আপডেট সময় ০১:৪৩:১২ অপরাহ্ন, বুধবার, ১৯ মার্চ ২০২৫
মানবপাচারের শিকার হয়ে মিয়ানমারের স্ক্যাম সেন্টারে বন্দী জীবন কাটানো ১৮ বাংলাদেশী অবশেষে দেশে ফিরছেন। মঙ্গলবার দিবাগত রাত পৌনে ১টায় থাই এয়ারওয়েজের একটি ফ্লাইটে ঢাকায় ফিরেছেন তারা।
বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থা ব্র্যাকের মাইগ্রেশন প্রোগ্রাম এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানিয়েছে। এতে বলা হয়, ভালো চাকরি ও বেতনের প্রলোভন দেখিয়ে মানবপাচারকারীরা দুবাইসহ মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন দেশ থেকে এই বাংলাদেশিদের প্রথমে থাইল্যান্ডে নিয়ে যায়। সেখান থেকে নেয়া হয় মিয়ানমারের স্ক্যাম সেন্টারে। সেখানে পাচারকারীরা তাদের দিয়ে জোরপূর্বক সাইবার অপরাধমূলক কাজে করাতো। কেউ রাজি না হলে বৈদ্যুতিক শক দেয়াসহ ভয়াবহ সব নির্যাতন করা হতো।

ব্র্যাকের সহযোগী পরিচালক শরিফুল হাসান (মাইগ্রেশন অ্যান্ড ইয়ুথ প্ল্যাটফর্ম) বলেন, ‘ভুক্তভোগীদের পরিবারের পক্ষ থেকে তাদেরকে উদ্ধারের জন্য ব্র্যাকের সাথে যোগযোগ করে। এরপর আমরা বাংলাদেশ সরকারের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়, সিআইডি ও থাইল্যান্ডের বাংলাদেশ দূতাবাসের সাথে যোগাযোগ করি। সবার নিরলস প্রচেষ্টায় দুঃসহ বন্দিদশা থেকে মুক্তি পেয়েছেন ১৮ বাংলাদেশী।’

উদ্ধার পাওয়া ব্যক্তিরা হলেন ওমর ফারুক, রাশেদুল ইসলাম, মোহাম্মদ আলিফ, রায়হান সোবহান, শেখ আরমান, পাভেল চৌধুরী, মনির হোসেন, ইসমাইল হোসেন, নিজাম উদ্দীন, জহির উদ্দিন, তানভীর আকন্দ রাফি, তোয়ানুর খলিলুল্লাহ, সায়মন হোসেন, উজ্জ্বল হোসেন, মেহেদী হাসান, কায়সার হোসেন, শাহ আলম ও আকাশ আলী।

উদ্ধার বাংলাদেশীদের একজন চট্টগ্রামের আলিফ বলেন, ‘দুবাইতে আমি জাহাজে কাজ করতাম। আমাকে বেশি বেতনে ডাটা এন্ট্রির কাজের লোভ দেখিয়ে থাইল্যান্ড নিয়ে যাওয়া হয়। সেখান থেকে মানবপাচারকারীরা থাই-মিয়ানমার সীমান্তের ম্যাসটে নিয়ে যায়। যেখানে আমার মতো বিভিন্ন দেশের আরো অনেক মানুষকে অস্ত্রের মুখে বিক্রি করে দেয়া হয় স্ক্যাম সেন্টারে। আমি ছয় মাস ভয়াবহ নির্যাতনের মধ্যে সেখানে বন্দী ছিলাম। জীবন বাঁচাতে আমি স্ক্যাম সেন্টারে কাজ করতে বাধ্য হই।’

সিআইডির অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, পাচারকারীদের মূল হোতা ইফতেখারুল ইসলাম রনির বিরুদ্ধে মানবপাচারের অভিযোগে দেশের বিভিন্ন থানায় আটটি মামলা দায়ের করা হয়েছে। আমরা গত ১৮ জানুয়ারি তাকে চট্টগ্রাম এয়ারপোর্ট থেকে আটক করেছি। পাশাপাশি পাচারকারী চক্রের আরেক হোতা আব্দুল্লাহ আল নোমানকে গ্রেফতারের চেষ্টা চলছে।’

সূত্র : ইউএনবি