শেরপুরে জুলাই অভ্যুত্থানের সরকারি অনুষ্ঠানে আওয়ামী নেতারা, সমালোচনার ঝড়

- আপডেট সময় ০৪:২৭:০৮ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২৯ অগাস্ট ২০২৫
- / ২৪ বার পড়া হয়েছে
জুলাই গণঅভ্যুত্থান দিবসের সরকারি অনুষ্ঠানে আওয়ামী লীগ নেতাদের সরব উপস্থিতি ঘিরে শেরপুরে ব্যাপক সমালোচনা শুরু হয়েছে। মঙ্গলবার (৫ আগস্ট) জেলার ঝিনাইগাতী ও নকলা উপজেলার কর্মসূচিতে আওয়ামী নেতাদের আসতে দেখা যায়।
ঝিনাইগাতী উপজেলা শহীদ সৌরভ চত্বরে আয়োজিত মোড়ক উন্মোচন অনুষ্ঠানে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) আশরাফুল আলম রাসেলের পাশে দাঁড়িয়ে থাকতে দেখা যায় উপজেলা আওয়ামী লীগের নেতা সারোয়ার হোসেনকে। জানা গেছে, তিনি ২০২৪ সালের ১৫ ডিসেম্বর দায়ের হওয়া বিশেষ ক্ষমতা আইনের একটি মামলার আসামি।
নকলা উপজেলার ১ নম্বর গণপদ্দী ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি শামসুর রহমান আবুলকে পুষ্পস্তবক অর্পণ করতে দেখা যায়। এ সময় তার পাশে ছিলেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা জাহাঙ্গীর আলম ও সহকারী কমিশনার (ভূমি)। বিষয়টি সামনে আসতেই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সমালোচনার ঝড় উঠে।
ঘটনাটি নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেছে বিএনপি, যুবদল ও ছাত্রদল নেতাকর্মীরা। ঝিনাইগাতী উপজেলা যুবদলের যুগ্ম আহ্বায়ক এখলাছুর রহমান বলেন, আমরা ১৬ বছর ধরে কোনো জাতীয় দিবসে আমন্ত্রণ পাই না, ছবি তোলার সুযোগ তো দূরের কথা। অথচ এখনও প্রশাসনের আশেপাশে আওয়ামী ঘরানার লোকজনকে দেখা যাচ্ছে। ঘটনার পর ঝিনাইগাতী থানা পুলিশ অভিযান চালিয়ে আ. লীগ নেতা সারোয়ার হোসেনকে গ্রেপ্তার করেছে বলে নিশ্চিত করেছেন ওসি মো. আল-আমীন।
এ বিষয়ে নকলা উপজেলা বিএনপির সাবেক আহ্বায়ক খোরশেদুর রহমান বলেন, আমরা ইউএনওকে প্রশ্ন করেছিলাম। তিনি জানিয়েছেন, কাউকে দাওয়াত দেওয়া হয়নি, ওই ব্যক্তি নিজে থেকেই অনুষ্ঠানে হাজির হয়েছেন। অথচ তিনি একাধিক মামলার আসামি এবং কিছুদিন আগেই কারাগার থেকে ছাড়া পেয়েছেন। বিষয়টি আমরা কোনোভাবেই মেনে নিতে পারছি না।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে ঝিনাইগাতীর ইউএনও আশরাফুল আলম রাসেল বলেন, আমি অভিযুক্ত ব্যক্তিকে চিনতাম না। নকলা উপজেলার ইউএনও জাহাঙ্গীর আলম বলেন, আমি কাউকে আমন্ত্রণ জানাইনি। তিনি নিজে থেকেই অনুষ্ঠানে উপস্থিত হয়েছেন।
শেরপুরের জেলা প্রশাসক তরফদার মাহমুদুর রহমান বলেন ঘটনাটি জানার পর আমি ইউএনওকে ফোন করে জিজ্ঞেস করেছি। তিনি জানিয়েছেন, তিনি ওই ব্যক্তিকে চিনতেন না। আর কোনো ব্যক্তি যদি মামলার আসামি হন তাহলে তার গ্রেপ্তার হওয়া উচিত।