ইউক্রেনে ট্রাম্পের শান্তি প্রচেষ্টায় বাধা দিচ্ছে ইউরোপ: রাশিয়া

- আপডেট সময় ১১:০৪:৩৭ অপরাহ্ন, রবিবার, ৩১ অগাস্ট ২০২৫
- / ২৭ বার পড়া হয়েছে
ইউক্রেনে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের শান্তি প্রচেষ্টায় ইউরোপীয় শক্তিগুলো বাধা দিচ্ছে বলে অভিযোগ করেছে রাশিয়া। একই সঙ্গে মস্কো বলেছে, কিয়েভ শান্তির জন্য প্রস্তুত হওয়ার বাস্তব ইঙ্গিত না দেওয়া পর্যন্ত রাশিয়ার অভিযান চলবে। ক্রেমলিনের মুখপাত্র দিমিত্রি পেশকভ রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যমকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে এমন মন্তব্য করেছেন।
ক্রেমলিনের মুখপাত্র বলেছেন, ‘ইউরোপের যুদ্ধপন্থী দল’ এখনও ইউক্রেন ইস্যুতে যুক্তরাষ্ট্র ও রাশিয়ার শান্তি প্রচেষ্টাকে বাধাগ্রস্ত করছে। তিনি বলেন, আমরা রাজনৈতিক ও কূটনৈতিক উপায়ে সমস্যার সমাধান করার জন্য প্রস্তুত রয়েছি। কিন্তু কিয়েভের পক্ষ থেকে আমরা এখন পর্যন্ত কোনও পদক্ষেপ দেখতে পাচ্ছি না। যে কারণে দেশটিতে আমাদের বিশেষ সামরিক অভিযান চলবে।
যুক্তরাষ্ট্রের তথ্য অনুযায়ী, ২০২২ সাল থেকে এই যুদ্ধে প্রায় ১২ লাখ মানুষ হতাহত হয়েছেন। যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর থেকে এখন পর্যন্ত ইউক্রেনের প্রায় এক পঞ্চমাংশ ভূখণ্ডের নিয়ন্ত্রণ নিয়েছে রাশিয়া। পূর্ব ইউক্রেনে রুশপন্থী বিচ্ছিন্নতাবাদীদের সঙ্গে ইউক্রেনীয় সেনাদের আট বছরের সংঘাতের পর ২০২২ সালের ফেব্রুয়ারিতে ইউক্রেনে বিশেষ সামরিক অভিযান শুরুর নির্দেশ দেন রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন।
ইউরোপীয় শক্তিগুলো বলছে, পুতিন সত্যিই ইউক্রেনে শান্তি চান, এমন বিশ্বাস তারা করে না। যদিও রুশ প্রেসিডেন্ট বার বার বলেছেন, তিনি শান্তি নিয়ে আলোচনা করার জন্য প্রস্তুত। তবে রাশিয়া দখলকৃত কোনও ভূখণ্ডের নিয়ন্ত্রণ ছাড়বে না।
রুশ প্রতিরক্ষামন্ত্রী আন্দ্রেই বেলোউসোভ গত শুক্রবার বলেছিলেন, রুশ সৈন্যরা ইউক্রেনে সামরিক অভিযানের গতি বৃদ্ধি করেছে। চলতি বছরের শুরুর দিকে রুশ সৈন্যরা মাসে ৩০০-৪০০ বর্গ কিলোমিটার ইউক্রেনীয় ভূখণ্ডের নিয়ন্ত্রণ নিলেও বর্তমানে তা ৬০০-৭০০ বর্গকিলোমিটারে পৌঁছেছে।
ইউক্রেন যুদ্ধের তৃতীয় বছরে প্রবেশ করেছে এবং সংঘাত ক্রমান্বয় দীর্ঘায়িত হচ্ছে। যুক্তরাষ্ট্রসহ পশ্চিমা বিভিন্ন দেশ ইউক্রেনকে ব্যাপক সামরিক ও অর্থনৈতিক সহায়তা দিয়ে যাচ্ছে। যদিও যুক্তরাষ্ট্র ও ইউরোপের ভেতরে এই সহায়তা অব্যাহত রাখা নিয়ে রাজনৈতিক চাপ বাড়ছে।
২০২৪ সালের শেষ দিক থেকে রাশিয়া পূর্ব ও দক্ষিণ ইউক্রেনে নতুন করে হামলা চালানো জোরদার করেছে। ইউক্রেনের পাল্টা হামলায় প্রত্যাশিত সাফল্য না মেলায় যুদ্ধক্ষেত্রে রাশিয়ার প্রভাব আরও বেড়েছে।
জাতিসংঘ ও আন্তর্জাতিক বিভিন্ন মানবাধিকার সংস্থা বার বার সতর্ক করে দিয়ে বলেছে, ইউক্রেন-রাশিয়ার দীর্ঘস্থায়ী সংঘাত মানবিক সংকটকে আরও তীব্র করে তুলছে। প্রায় ৬০ লাখ ইউক্রেনীয় নাগরিক বিদেশে শরণার্থী হিসেবে আশ্রয় নিয়েছেন। আর অভ্যন্তরীণভাবে বাস্তুচ্যুত হয়েছে আরও লাখ লাখ মানুষ।
সূত্র: রয়টার্স, এএফপি।