জাতীয় পার্টি হচ্ছে চব্বিশের পরাজিত শক্তি: সারোয়ার তুষার

- আপডেট সময় ১১:৪৫:১০ অপরাহ্ন, রবিবার, ৩১ অগাস্ট ২০২৫
- / ৯ বার পড়া হয়েছে
রোববার (৩১ আগস্ট) বেলা ১১টায় মেহেরপুর জেলা পরিষদের হলরুমে জেলা-উপজেলা সমন্বয়ক কমিটির সদস্যদের নিয়ে আয়োজিত সাংগঠনিক সভা ও রাজনৈতিক কর্মশালায় তিনি এসব কথা বলেন।
সরোয়ার তুষার বলেন, এই সরকারের প্রধান সমস্যা হলো, এরা জানে না যে তারা সরকার। সরকারের কোনো কর্তৃত্ব নেই। নুরুল হক নুরকে উপদেষ্টারা হাসপাতালে দেখতে গিয়ে তীব্র নিন্দা জানিয়েছেন, কিন্তু এখনো কোনো আইনি পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি। সাধারণত রাজনৈতিক দলগুলো বিবৃতি দেয়। আর সরকার ব্যবস্থা নেয়। কিন্তু ড. মোহাম্মদ ইউনূসের সরকার শুধু বিবৃতি দেয়, অথচ কাজের জায়গায় পদক্ষেপ নেয় না।
জুলাই সনদ প্রসঙ্গে তুষার বলেন, জুলাই সনদ পরবর্তী নির্বাচিত সরকার বাস্তবায়ন করবে না। যে কোনো মূল্যে নির্বাচনের আগেই এই সনদ বাস্তবায়ন করতে হবে। এর ভিত্তিতেই নির্বাচন হতে হবে। পরবর্তী নির্বাচিত সরকারের হাতে জুলাই সনদ তুলে দেওয়ার অর্থ হচ্ছে ‘শিয়ালের কাছে মুরগি ধার দেওয়া’। বর্তমানে অনেক রাজনৈতিক দল কিছু গুরুত্বপূর্ণ সংস্কারের বিষয়ে একমত হয়েছে। এর মধ্যে অন্যতম হলো- একজন ব্যক্তি দুইবারের বেশি প্রধানমন্ত্রী হতে পারবেন না। এই সংস্কার যদি এখনই না করা যায়, তাহলে পরবর্তীতে এটি আর বাস্তবায়ন সম্ভব হবে না।
সংবিধান প্রসঙ্গে এনসিপির এ নেতা বলেন, মুক্তিযুদ্ধের পর আমাদের উপর যে সংবিধান চাপিয়ে দেওয়া হয়েছে, তা প্রণয়নে যারা ছিলেন তাদের কোনো এখতিয়ার ছিল না। এই সংবিধানে একজন ব্যক্তিকে এমনভাবে ক্ষমতাবান করা হয়েছে যে, জনগণের মৌলিক অধিকার খর্ব হয়েছে। সরকারকে একচেটিয়া ক্ষমতা দেওয়া হয়েছে। আর শর্তসাপেক্ষে জনগণের হাত-পা বেঁধে ফেলা হয়েছে। আমাদের দেশ স্বাধীন হলেও একটি সঠিক গণতান্ত্রিক সংবিধান প্রণয়ন করতে না পারার খেসারত আমরা বারবার দিচ্ছি। সামরিক শাসন এসেছে, গণআন্দোলন হয়েছে, ৯০-এর গণঅভ্যুত্থান হয়েছে তারপরও রাজনৈতিক দলগুলো জনগণকে একটি গণতান্ত্রিক সংবিধান উপহার দিতে পারেনি।
নির্বাচন কমিশন সংস্কারের দাবি জানিয়ে সারোয়ার তুষার বলেন, কীভাবে, কোন পদ্ধতিতে নির্বাচন হবে তা এখনও আলোচনার টেবিলে। অথচ প্রধান নির্বাচন কমিশনার রোডম্যাপ ঘোষণা করে দিয়েছেন। এই কমিশনের পক্ষে কোনোভাবেই সুষ্ঠু নির্বাচন দেওয়া সম্ভব নয়, তাই দ্রুত নির্বাচন কমিশন সংস্কার করতে হবে।
সাংগঠনিক সভা ও রাজনৈতিক কর্মশালায় উপস্থিত ছিলেন এনসিপির যুগ্ম মুখ্য সংগঠক (দক্ষিণাঞ্চল) মোল্ল্যা রহমাতুল্লাহ, যুগ্ম মুখ্য সমন্বয়ক অ্যাডভোকেট সাকিল আহমাদ, কেন্দ্রীয় সদস্য সোহেল রানা, মেহেরপুর জেলা ও উপজেলার সমন্বয়ক কমিটির সদস্যবৃন্দ।