ঢাকা ০৩:১০ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ০১ জানুয়ারী ২০২৬, ১৮ পৌষ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
যুক্তরাজ্যসহ ১০ দেশের বিবৃতি

গাজায় মানবিক পরিস্থিতি চরম অবনতির দিকে: অত্যাবশ্যকীয় পণ্য সরবারহের আহ্বান

রয়টার্স
  • আপডেট সময় ০১:২১:০২ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১ জানুয়ারী ২০২৬
  • / ২১ বার পড়া হয়েছে
ফিলিস্তিনের গাজা উপত্যকায় মানবিক পরিস্থিতির আবারও অবনতি হয়েছে। সেখানকার পরিস্থিতি অত্যন্ত উদ্বেগজনক। গত মঙ্গলবার যুক্তরাজ্য, কানাডা, ফ্রান্সসহ ১০টি দেশের এক যৌথ বিবৃতিতে এ উদ্বেগ জানানো হয়েছে। গাজায় একশনএইডসহ বেশ কিছু আন্তর্জাতিক ত্রাণ সংস্থার নিবন্ধন বাতিলের ইসরায়েলি সিদ্ধান্তের পর এ বিবৃতি দেওয়া হয়েছে। বিবৃতিতে গাজায় মানবিক বিষয়ে জরুরি পদক্ষেপ নিতে ইসরায়েলের প্রতি আহ্বান জানানো হয়েছে।

যুক্তরাজ্যের পররাষ্ট্র দপ্তরের ওয়েবসাইটে প্রকাশিত বিবৃতিতে বলা হয়েছে, ইসরায়েল যেন বেসরকারি সংস্থাগুলোকে কাজ করার অনুমতি দেয়। পাশাপাশি জাতিসংঘ যেন ফিলিস্তিনি ভূখণ্ডে তাদের কার্যক্রম অব্যাহত রাখতে পারে, তা নিশ্চিত করে।

যুক্তরাজ্য, কানাডা, ডেনমার্ক, ফিনল্যান্ড, ফ্রান্স, আইসল্যান্ড, জাপান, নরওয়ে, সুইডেন ও সুইজারল্যান্ডের পররাষ্ট্রমন্ত্রীদের দেওয়া বিবৃতিতে বলা হয়েছে, ‘গাজায় মানবিক পরিস্থিতির আবারও অবনতি হওয়ায় আমরা গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করছি। সেখানকার পরিস্থিতি অত্যন্ত খারাপ।’

বিবৃতিতে আরও বলা হয়েছে, ইসরায়েলকে চিকিৎসাসামগ্রী ও আশ্রয়-সংক্রান্ত উপকরণসহ অত্যাবশ্যকীয় পণ্য আমদানির ওপর থেকে ‘অযৌক্তিক বিধিনিষেধ’ তুলে নিতে হবে। এ ছাড়া গাজায় মানবিক সহায়তা বাড়াতে সীমান্ত ক্রসিংগুলো খুলে দেওয়ার আহ্বান জানানো হয়েছে।

তবে ইসরায়েলের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এসব অভিযোগ ‘ভিত্তিহীন’ বলে আখ্যা দিয়েছে। তারা বলেছে, এটি ইসরায়েলকে নিয়ে বিচ্ছিন্ন সমালোচনা ও একতরফা অভিযোগের পুনরাবৃত্তির অংশ। এর মাধ্যমে ইচ্ছাকৃতভাবে হামাসকে নিরস্ত্রীকরণের প্রয়োজনীয়তাকে উপেক্ষা করা হয়েছে।

ইসরায়েলের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এক বিবৃতিতে বলেছে, গাজায় যুদ্ধবিরতি কার্যকর হওয়ার পর থেকে মানবিক পরিস্থিতির উল্লেখযোগ্য উন্নতি ওই বিবৃতিতে উপেক্ষা করা হয়েছে।

ক্ষুধা পর্যবেক্ষণকারী একটি বৈশ্বিক সংস্থা গত ১৯ ডিসেম্বর জানিয়েছে, যুদ্ধবিরতির পর গাজা উপত্যকায় মানবিক ও বাণিজ্যিক খাদ্য সরবরাহের সুযোগ বাড়ায় গাজায় আর কোনো দুর্ভিক্ষ নেই।

কিন্তু মানবিক সংস্থাগুলো বলছে, জনবহুল উপত্যকাটিতে আরও ত্রাণসহায়তা পৌঁছানো দরকার। তা ছাড়া প্রয়োজনীয় সামগ্রী প্রবেশে বাধা দিচ্ছে ইসরায়েল। যদিও ইসরায়েল এ ধরনের অভিযোগ অস্বীকার করছে।

৩৭টি ত্রাণ সংস্থার নিবন্ধন বাতিল

বিবিসি জানায়, গাজা ও দখলকৃত পশ্চিম তীরে কাজ করা ৩৭টি ত্রাণ সংস্থার নিবন্ধন বাতিল করতে যাচ্ছে ইসরায়েল। তাদের দাবি, সংস্থাগুলো নতুন নিবন্ধন নিয়ম অনুযায়ী প্রয়োজনীয় শর্ত পূরণ করতে পারেনি। পরিচিত আন্তর্জাতিক বেসরকারি সংস্থার মধ্যে একশনএইড, ইন্টারন্যাশনাল রেসকিউ কমিটি এবং নরওয়েজিয়ান রিফিউজি কাউন্সিলের নিবন্ধন আজ থেকে স্থগিত হয়ে যাবে। ফলে আগামী দুই মাসের মধ্যে তাদের সব ধরনের কার্যক্রম বন্ধ হয়ে যাবে।

ইসরায়েলের দাবি সংস্থাগুলো তাদের কর্মীদের ব্যক্তিগত সব তথ্য জমা দিতে ব্যর্থ হয়েছে। এই সিদ্ধান্তকে যুক্তরাজ্যসহ ১০টি দেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রীরা কঠোরভাবে সমালোচনা করেছেন। যৌথ বিবৃতিতে তাঁরা বলেছেন, আন্তর্জাতিক ত্রাণ সংস্থাগুলোর কার্যক্রম জোর করে বন্ধ করে দেওয়ার এ পদক্ষেপ গাজায় জরুরি সেবা ও স্বাস্থ্যসেবার ওপর মারাত্মক বিরূপ প্রভাব ফেলবে।

ট্যাগস :

নিউজটি শেয়ার করুন

যুক্তরাজ্যসহ ১০ দেশের বিবৃতি

গাজায় মানবিক পরিস্থিতি চরম অবনতির দিকে: অত্যাবশ্যকীয় পণ্য সরবারহের আহ্বান

আপডেট সময় ০১:২১:০২ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১ জানুয়ারী ২০২৬
ফিলিস্তিনের গাজা উপত্যকায় মানবিক পরিস্থিতির আবারও অবনতি হয়েছে। সেখানকার পরিস্থিতি অত্যন্ত উদ্বেগজনক। গত মঙ্গলবার যুক্তরাজ্য, কানাডা, ফ্রান্সসহ ১০টি দেশের এক যৌথ বিবৃতিতে এ উদ্বেগ জানানো হয়েছে। গাজায় একশনএইডসহ বেশ কিছু আন্তর্জাতিক ত্রাণ সংস্থার নিবন্ধন বাতিলের ইসরায়েলি সিদ্ধান্তের পর এ বিবৃতি দেওয়া হয়েছে। বিবৃতিতে গাজায় মানবিক বিষয়ে জরুরি পদক্ষেপ নিতে ইসরায়েলের প্রতি আহ্বান জানানো হয়েছে।

যুক্তরাজ্যের পররাষ্ট্র দপ্তরের ওয়েবসাইটে প্রকাশিত বিবৃতিতে বলা হয়েছে, ইসরায়েল যেন বেসরকারি সংস্থাগুলোকে কাজ করার অনুমতি দেয়। পাশাপাশি জাতিসংঘ যেন ফিলিস্তিনি ভূখণ্ডে তাদের কার্যক্রম অব্যাহত রাখতে পারে, তা নিশ্চিত করে।

যুক্তরাজ্য, কানাডা, ডেনমার্ক, ফিনল্যান্ড, ফ্রান্স, আইসল্যান্ড, জাপান, নরওয়ে, সুইডেন ও সুইজারল্যান্ডের পররাষ্ট্রমন্ত্রীদের দেওয়া বিবৃতিতে বলা হয়েছে, ‘গাজায় মানবিক পরিস্থিতির আবারও অবনতি হওয়ায় আমরা গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করছি। সেখানকার পরিস্থিতি অত্যন্ত খারাপ।’

বিবৃতিতে আরও বলা হয়েছে, ইসরায়েলকে চিকিৎসাসামগ্রী ও আশ্রয়-সংক্রান্ত উপকরণসহ অত্যাবশ্যকীয় পণ্য আমদানির ওপর থেকে ‘অযৌক্তিক বিধিনিষেধ’ তুলে নিতে হবে। এ ছাড়া গাজায় মানবিক সহায়তা বাড়াতে সীমান্ত ক্রসিংগুলো খুলে দেওয়ার আহ্বান জানানো হয়েছে।

তবে ইসরায়েলের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এসব অভিযোগ ‘ভিত্তিহীন’ বলে আখ্যা দিয়েছে। তারা বলেছে, এটি ইসরায়েলকে নিয়ে বিচ্ছিন্ন সমালোচনা ও একতরফা অভিযোগের পুনরাবৃত্তির অংশ। এর মাধ্যমে ইচ্ছাকৃতভাবে হামাসকে নিরস্ত্রীকরণের প্রয়োজনীয়তাকে উপেক্ষা করা হয়েছে।

ইসরায়েলের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এক বিবৃতিতে বলেছে, গাজায় যুদ্ধবিরতি কার্যকর হওয়ার পর থেকে মানবিক পরিস্থিতির উল্লেখযোগ্য উন্নতি ওই বিবৃতিতে উপেক্ষা করা হয়েছে।

ক্ষুধা পর্যবেক্ষণকারী একটি বৈশ্বিক সংস্থা গত ১৯ ডিসেম্বর জানিয়েছে, যুদ্ধবিরতির পর গাজা উপত্যকায় মানবিক ও বাণিজ্যিক খাদ্য সরবরাহের সুযোগ বাড়ায় গাজায় আর কোনো দুর্ভিক্ষ নেই।

কিন্তু মানবিক সংস্থাগুলো বলছে, জনবহুল উপত্যকাটিতে আরও ত্রাণসহায়তা পৌঁছানো দরকার। তা ছাড়া প্রয়োজনীয় সামগ্রী প্রবেশে বাধা দিচ্ছে ইসরায়েল। যদিও ইসরায়েল এ ধরনের অভিযোগ অস্বীকার করছে।

৩৭টি ত্রাণ সংস্থার নিবন্ধন বাতিল

বিবিসি জানায়, গাজা ও দখলকৃত পশ্চিম তীরে কাজ করা ৩৭টি ত্রাণ সংস্থার নিবন্ধন বাতিল করতে যাচ্ছে ইসরায়েল। তাদের দাবি, সংস্থাগুলো নতুন নিবন্ধন নিয়ম অনুযায়ী প্রয়োজনীয় শর্ত পূরণ করতে পারেনি। পরিচিত আন্তর্জাতিক বেসরকারি সংস্থার মধ্যে একশনএইড, ইন্টারন্যাশনাল রেসকিউ কমিটি এবং নরওয়েজিয়ান রিফিউজি কাউন্সিলের নিবন্ধন আজ থেকে স্থগিত হয়ে যাবে। ফলে আগামী দুই মাসের মধ্যে তাদের সব ধরনের কার্যক্রম বন্ধ হয়ে যাবে।

ইসরায়েলের দাবি সংস্থাগুলো তাদের কর্মীদের ব্যক্তিগত সব তথ্য জমা দিতে ব্যর্থ হয়েছে। এই সিদ্ধান্তকে যুক্তরাজ্যসহ ১০টি দেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রীরা কঠোরভাবে সমালোচনা করেছেন। যৌথ বিবৃতিতে তাঁরা বলেছেন, আন্তর্জাতিক ত্রাণ সংস্থাগুলোর কার্যক্রম জোর করে বন্ধ করে দেওয়ার এ পদক্ষেপ গাজায় জরুরি সেবা ও স্বাস্থ্যসেবার ওপর মারাত্মক বিরূপ প্রভাব ফেলবে।