নির্বাচন শেষে ঐক্য সরকারে আগ্রহী জামায়াতে ইসলামী
- আপডেট সময় ০৪:০২:১৮ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১ জানুয়ারী ২০২৬
- / ৩০ বার পড়া হয়েছে
দীর্ঘ প্রায় ১৭ বছর পর জাতীয় নির্বাচনে অংশ নিতে যাওয়া বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী ফেব্রুয়ারিতে অনুষ্ঠিতব্য জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পর একটি ঐক্য সরকারে যোগ দিতে আগ্রহী বলে জানিয়েছেন দলটির আমির ডা: শফিকুর রহমান। বুধবার ঢাকায় নিজ কার্যালয়ে রয়টার্সকে দেয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি জানান, ইতোমধ্যে বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের সাথে এ বিষয়ে আলোচনা হয়েছে।
রয়টার্সের উদ্ধৃত জনমত জরিপ অনুযায়ী, আসন্ন নির্বাচনে জামায়াতে ইসলামী প্রধান বিরোধী দল বিএনপির পর দ্বিতীয় বৃহত্তম শক্তি হিসেবে উঠে আসতে পারে। প্রায় দুই দশক পর মূলধারার রাজনীতিতে প্রত্যাবর্তন করা দলটি ২০০১ থেকে ২০০৬ সাল পর্যন্ত বিএনপির নেতৃত্বাধীন চারদলীয় জোট সরকারের শরিক ছিল।
ডা: শফিকুর রহমান বলেন, ‘আমরা অন্তত পাঁচ বছরের জন্য একটি স্থিতিশীল বাংলাদেশ দেখতে চাই। যদি রাজনৈতিক দলগুলো ঐক্যবদ্ধ হতে পারে, তাহলে আমরা একসাথে সরকার পরিচালনা করতে প্রস্তুত।’ সম্প্রতি একটি জেন-জি বা তরুণ নেতৃত্বভিত্তিক রাজনৈতিক দলের সাথে সমঝোতায় পৌঁছে জামায়াত রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন করে আলোচনার কেন্দ্রে আসে।
দুর্নীতিবিরোধী ইস্যুতে ঐকমত্যের আহ্বান : ইসলামী শরিয়াভিত্তিক রাষ্ট্রব্যবস্থার পক্ষে অবস্থান নেয়া জামায়াতে ইসলামী সাম্প্রতিক সময়ে নিজেদের রাজনৈতিক ভাষ্যকে আরো বিস্তৃত ও অন্তর্ভুক্তিমূলক করার চেষ্টা করছে। দলটির আমির বলেন, দুর্নীতিবিরোধী লড়াইকে যেকোনো ঐক্য সরকারের অভিন্ন এজেন্ডা হতে হবে।
প্রধানমন্ত্রী কে হবেন- এ প্রশ্নে তিনি বলেন, ‘যে দল সবচেয়ে বেশি আসন পাবে, প্রধানমন্ত্রী সেই দল থেকেই হবেন। যদি জামায়াত সর্বাধিক আসন পায়, তাহলে দলীয়ভাবে সিদ্ধান্ত নেয়া হবে আমি প্রার্থী হবো কি না।’
জুলাই গণ-অভ্যুত্থান-পরবর্তী রাজনীতিতে জামায়াতের পুনরুত্থান : জামায়াতের এই রাজনৈতিক পুনরুত্থান ঘটেছে ২০২৪ সালের আগস্টে ছাত্র-জনতার গণ-অভ্যুত্থানে দীর্ঘদিনের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার পতনের পর। ওই অভ্যুত্থানের পর আওয়ামী লীগকে নির্বাচনে অংশ নেয়া থেকে বিরত রাখা হয়। শেখ হাসিনার সরকার জামায়াতের কট্টর সমালোচক ছিল। তার শাসনামলে ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধকালীন কথিত যুদ্ধাপরাধের দায়ে জামায়াতের একাধিক শীর্ষ নেতা মৃত্যুদণ্ড পান। উল্লেখ্য, জামায়াতে ইসলামী ১৯৭১ সালের স্বাধীনতা যুদ্ধে পাকিস্তানের বিরোধিতা করেনি- এ কারণে দলটি বিতর্কের কেন্দ্রে ছিল।
২০১৩ সালে আদালতের রায়ে জামায়াতের গঠনতন্ত্র সংবিধানের ধর্মনিরপেক্ষ নীতির পরিপন্থী বলে ঘোষিত হলে দলটির নির্বাচন কমিশনে নিবন্ধন বাতিল করা হয়। তবে ড. মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তী সরকার ২০২৪ সালের আগস্টে সব নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার করে।
ভারত ও পাকিস্তান নিয়ে অবস্থান : ভারতের সাথে সম্পর্ক প্রসঙ্গে ডা: শফিকুর রহমান বলেন, শেখ হাসিনার দেশত্যাগের পর থেকে বাংলাদেশ-ভারত সম্পর্ক গত কয়েক দশকের মধ্যে সবচেয়ে নিম্ন পর্যায়ে রয়েছে। তিনি জানান, চলতি বছর তিনি একজন ভারতীয় কূটনীতিকের সাথে বৈঠক করেছেন, যদিও ওই বৈঠকটি গোপন রাখার অনুরোধ জানানো হয়েছিল। ‘আমাদের সবার সাথে খোলা মন নিয়ে সম্পর্ক গড়ে তুলতে হবে। পারস্পরিক সম্পর্কোন্নয়নের বিকল্প নেই’- বলেন তিনি। ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এ বিষয়ে তাৎক্ষণিক কোনো মন্তব্য না করলেও ভারতীয় সরকারের একটি সূত্র বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের সাথে যোগাযোগের বিষয়টি নিশ্চিত করেছে।
পাকিস্তানের সাথে জামায়াতের ঐতিহাসিক ঘনিষ্ঠতা নিয়ে প্রশ্ন করা হলে ডা: শফিকুর রহমান বলেন, ‘আমরা কারো দিকে ঝুঁঁকে পড়তে চাই না। সব দেশের সাথে ভারসাম্যপূর্ণ ও সম্মানজনক সম্পর্কই আমাদের নীতি।’
রাষ্ট্রপতি ইস্যুতে অস্বস্তির ইঙ্গিত : জামায়াতের আমির আরো বলেন, জামায়াত অন্তর্ভুক্ত কোনো সরকার বর্তমান রাষ্ট্রপতি মোহাম্মদ সাহাবুদ্দিনকে নিয়ে স্বস্তি বোধ করবে না। উল্লেখ্য, ২০২৩ সালে আওয়ামী লীগের সমর্থনে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হন সাহাবুদ্দিন। তবে চলতি মাসের শুরুতে রয়টার্সকে দেয়া সাক্ষাৎকারে রাষ্ট্রপতি সাহাবুদ্দিন নিজেই মধ্যবর্তী সময়ে পদত্যাগে আগ্রহের কথা জানিয়েছিলেন। বুধবার রয়টার্সের সাথে ফোনালাপে তিনি এ বিষয়ে নতুন করে মন্তব্য করতে অস্বীকৃতি জানান।
রাজনীতির নতুন সমীকরণ : ফেব্রুয়ারির নির্বাচনকে সামনে রেখে জামায়াতে ইসলামী এখন কেবল একটি ধর্মভিত্তিক দল নয়, বরং সম্ভাব্য ক্ষমতার অংশীদার হিসেবে নিজেদের অবস্থান দৃঢ় করতে চাচ্ছে। ঐক্য সরকার, দুর্নীতিবিরোধী কর্মসূচি ও ভারসাম্যপূর্ণ পররাষ্ট্রনীতির বার্তা দিয়ে দলটি মধ্যপন্থী ভোটারদের দিকেও হাত বাড়াচ্ছে; যা আগামী নির্বাচনের রাজনীতিতে একটি নতুন সমীকরণ তৈরি করতে পারে।
সংবাদ ২৪৭/ এজে











