সচিবালয়ে তদবির সিন্ডিকেট: রঙ বদলে বছর পার হাসিনাঘনিষ্ঠ কর্মকর্তাদের
- আপডেট সময় ০৫:০৩:৫৪ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১ জানুয়ারী ২০২৬
- / ৪১ বার পড়া হয়েছে
ছাত্র-জনতার গণ-আন্দোলনে ভারতে পালিয়ে যাওয়া শেখ হাসিনা স্বেচ্ছাচারী হতে প্রধান হাতিয়ার বানিয়েছিলেন জনপ্রশাসনকে। জনগণের টাকায় বেতন পাওয়া এসব কর্মচারী নিরপেক্ষতা হারিয়ে দলীয় কর্মীতে পরিণত হয়েছিলেন। যে কর্মচারী যত বেশি দলীয় আনুগত্য দেখিয়েছেন শেখ হাসিনাও তাকে তত বেশি পুরস্কৃত করেছিলেন। শেখ হাসিনা পালিয়ে যাওয়ার পর বছরজুড়ে রঙ বদলেই ব্যস্ত ছিলেন এসব কর্মচারী। রঙ বদলে উপসচিব-যুগ্মসচিব পদোন্নতি ছাড়াও সচিব পদোন্নতিও বাগিয়ে নিয়েছেন প্রায় দুই ডজন কর্মকর্তা। তাদের রঙ বদলে সহযোগিতার অভিযোগ রয়েছে ৫ আগস্টের পর চুক্তিভিত্তিক নিয়োগ পাওয়া কয়েকজন সিনিয়র সচিবের বিরুদ্ধে। এই কাজে বড় ধরনের আর্থিক লেনদেন হয়েছে বলেও অভিযোগও উঠেছে।
জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় সূত্র জানায়, পদোন্নতি-পদায়নের জন্য জনপ্রশাসনে একটি শক্তিশালী সিন্ডিকেট গড়ে ওঠে। এই সিন্ডিকেটে জড়িতদের বেশির ভাগই আগে থেকে জনপ্রশাসনে পদায়ন ছিলেন। এ ছাড়া শেখ হাসিনার সরকারের সুবিধাভোগী কয়েকজন কর্মকর্তা, যারা সেই সময়ে গুরুত্বপূর্ণ পদে ছিলেন, এখন রঙ বদলে বিএনপিপন্থী বলে পরিচয় দিচ্ছেন এমন কর্মকর্তাও রয়েছেন। সেই সিন্ডিকেটটি মূলত অফিসার্স ক্লাব থেকে নিয়ন্ত্রিত হয়ে থাকে। ক্লাবের প্রভাবশালী একাধিক কর্মকর্তা বিভিন্ন সুবিধা আদায়ের মাধ্যমে পদোন্নতি পদায়নের তদবির করেন। তাদের এই তদবির বাস্তবায়ন করাই প্রধান টার্গেট থাকে সিন্ডিকেটের।
অন্তর্বর্তী সরকার দায়িত্ব নেয়ার পর বিসিএস প্রশাসন ক্যাডারের ৮২ ব্যাচের কয়েকজন কর্মকর্তাকে চুক্তিভিত্তিক নিয়োগ দেয়া হয়। নিয়োগ পাওয়া এসব কর্মকর্তা ১০ থেকে ১৫ বছর আগেই অবসরে গিয়েছিলেন। এজন্য বর্তমান প্রশাসন ব্যবস্থা এবং কর্মরত কর্মকর্তাদের বিষয়ে তাদের খুব বেশি ধারণা রাখার সুযোগ ছিল না। ফলে প্রশাসনের এই সিন্ডিকেটটি পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণে নেন চুক্তিভিক্তিক নিয়োগ পাওয়া কর্মকর্তাদের। ফলে সিন্ডিকেটের প্রেসক্রিপসনের বাইরে কোনো সিদ্ধান্ত নেয়ার সুযোগ তাদের নেই।
অতিরিক্ত সচিব পদোন্নতিতে গড়িমসি : অতিরিক্ত সচিব পদে পদোন্নতির জন্য গত ফেব্রুয়ারি মাসে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের তথ্য সংগ্রহ শুরু করে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়। প্রত্যেক কর্মকর্তার কর্মজীবনের সমস্ত নথিপত্র, প্রয়োজনীয় নম্বর, চাকরি জীবনের শৃঙ্খলা, দুর্নীতির বিষয়সহ সামগ্রিক বিষয়ের তথ্য সংগ্রহ করা হয়। বিগত সরকারের মন্ত্রী, প্রতিমন্ত্রীদের পিএস ছিল, প্রধানমন্ত্রীর পিএস, এপিএস, প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের পরিচালক, মহাপরিচালক, ২০১৮ সালের রাতের ভোটে ডিসি হিসেবে রিটার্নিং অফিসারের দায়িত্ব পালন করেছেন এবং বিভিন্নভাবে বিগত সরকারের প্রতি অন্ধ আনুগত্য দেখিয়েছেন তাদের পদোন্নতি না দেয়ার সিদ্ধান্ত নেয় সরকার।
বিসিএস প্রশাসন ক্যাডারের নিয়মিত ২০ ব্যাচের যুগ্মসচিব পদোন্নতি হয় ২০২১ সালের ২৯ অক্টোবর। যুগ্মসচিব হিসেবে দুই বছর সন্তোষজনক চাকরির পর তারা অতিরিক্ত সচিব পদে পদোন্নতিযোগ্য হন। অথচ নিয়মিত পদোন্নতি পাওয়া এসব যুগ্মসচিবের পদোন্নতির চার বছর ইতোমধ্যে পার হলেও ২০তম ব্যাচের উপযুক্ত অফিসারদের পদোন্নতি হচ্ছে না। অথচ অতিরিক্ত সচিবের স্বল্পতার জন্য অনেক মন্ত্রণালয় ও বিভাগের বিভিন্ন অনুবিভাগে পদায়ন করা যাচ্ছে না। একজন অতিরিক্ত সচিব দুই বা ততধিক অনুবিভাগের দায়িত্ব পালন করছেন। অনেক সংস্থা ও করপোরেশনে চেয়ারম্যান, প্রধান নির্বাহী ও মহাপরিচালক পদ শূন্য থাকার পরেও কর্মকর্তা স্বল্পতায় পদায়ন করা যাচ্ছে না।
পদোন্নতির জন্য গত ৭ সেপ্টেম্বর থেকে শুরু করে পাঁচটি সুপিরিয়র সিলেকশন বোর্ডের (এসএসবি) প্রথম সভা অনুষ্ঠিত হয়। এরই মধ্যে সক্রিয় হয়ে ওঠে ছাত্রলীগের কোটায় নিয়োগ পাওয়া আওয়ামী সুবিধাভোগী কর্মকর্তরা। তারা অন্তর্বর্তী সরকারের চেয়ে দলীয় সরকার ক্ষমতায় এলে এমপি-মন্ত্রীদের ম্যানেজ করে পদোন্নতি নিশ্চিত করা যাবে মনে করে যেকোনো মূল্যে পদোন্নতি ঠেকানোর চেষ্টা চালায়। ইতোমধ্যে এসব কর্মকর্তা সরকারের কয়েকজন সচিব, একাধিক উপদেষ্টাকে ম্যানেজ করে অতিরিক্ত সচিব পদোন্নতি আটকে রেখেছেন।
যুগ্মসচিব পদোন্নতিতেও বিতর্ক : গত ২০ মার্চ প্রশাসনে যুগ্মসচিব পদে ১৯৬ জন উপ-সচিবকে পদোন্নতি দিয়ে প্রজ্ঞাপন জারি করে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়। স্বৈরাচারী শেখ হাসিনার কার্যালয়ের পরিচালক, ওই সময়ের আস্থাভাজন জেলা প্রশাসক এবং তার মন্ত্রিসভার সদস্যরাও এই পদোন্নতি বাগিয়ে নেন। যদিও ছাত্র-জনতার গণ-অভ্যুত্থানের পর সুবিধাভোগী এমন বেশ কিছু কর্মকর্তাকে ওএসডি এবং বাধ্যতামূলক অবসরে পাঠিয়েছে সরকার। শেখ হাসিনার সহযোগী হিসেবে শাস্তি না দিয়ে উল্টা অন্তর্বর্তী সরকারের উপদেষ্টা এবং কয়েকজন সচিবকে ম্যানেজ করে পদোন্নতি বাগিয়ে নেন।
পদোন্নতির তালিকায় ১৭ নম্বরে থাকা আবু সালেহ মোহাম্মদ ওবায়দুল্লাহ শেখ হাসিনার বেসরকারি খাত উন্নয়নবিষয়ক উপদেষ্টা সালমান এফ রহমানের একান্ত সচিব হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। তালিকার ২৩ নম্বর থাকা মো: মনিরুজ্জামান শেখ হাসিনার আস্থাভাজন হওয়ায় তার কার্যালয়ের পরিচালক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। তালিকার ৩৩ নম্বরে থাকা মোহা: আমিনুর রহমান আওয়ামী লীগের সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক ও নৌ পরিবহন প্রতিমন্ত্রী খালিদ মাহমুদ চৌধুরীর একান্ত সচিব হিসেবে দীর্ঘদিন দায়িত্ব পালন করেন।
তালিকার ৩৬ নম্বরে থাকা সাহেলা আক্তার ৩০ মে ২০২২ সালে শেরপুরের জেলা প্রশাসক হিসেবে যোগদান করেছিলেন। তালিকার ৪০ নম্বরে থাকা অলিউর রহমান ২০২২ সালের ১৩ জানুয়ারি গাইবান্ধার জেলা প্রশাসক হিসেবে যোগদান করেন। এর আগে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের গুরত্বপূর্ণ এপিডি উইংয়ে কর্মরত ছিলেন।
তালিকার ৪৪ নম্বরে থাকা হেলাল উদ্দীন সাবেক অর্থসচিব এবং বাংলাদেশ ব্যাংকের গর্ভনর আব্দুর রউফের একান্ত সচিব হিসেবে কর্মরত ছিলেন। তালিকার ৬০ নম্বরে থাকা মনিরা বেগম ঝিনাইদহের জেলা প্রশাসক ছিলেন। ৯১ নম্বরে থাকা তানভীর আহমেদ। শেখ হাসিনার শাসনামলে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের উপসচিব এবং এর আগে তিনি ঢাকা জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের এডিসি (এলএ) হিসেবে কর্মরত ছিলেন।
তালিকার ১০৪ নম্বরে থাকা ড. চিত্রলেখা নাজনিন ২০২২ সালের ৪ ডিসেম্বর রংপুরের জেলা প্রশাসক হিসেবে যোগদান করেন। তালিকার ১১৯ নম্বরে থাকা শ্রাবস্তী রায় ২০২২ সালের ৩১ মে জামালপুরের জেলা প্রশাসক হিসেবে যোগদান করেন।
বিতর্কিত উপসচিব পদোন্নতি : গত ২৮ আগস্ট উপসচিব হিসেবে ২৬৮ কর্মকর্তাকে পদোন্নতি দিয়েছে সরকার। পদোন্নতি পাওয়া কর্মকর্তাদের মধ্যে বেশির ভাগই রাতের ভোটের কারিগর। ২০১৮ নির্বাচনে সহকারী রিটার্নিং অফিসারের দায়িত্ব পালন করে রাতেই ভোট সম্পন্ন করেন।
রাতের ভোটে পদোন্নতি পাওয়া কর্মকর্তাদের মধ্যে রয়েছেন- কক্সবাজারের উখিয়ার উপজেলা নির্বাহী অফিসার হিসেবে রাতের ভোটে কাজ করা নিকারুজ্জামান। তারা বাবা ওয়াহিদুজ্জামান চৌধুরী ছিলেন চট্টগ্রাম দক্ষিণ জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক। তার আপন ছোট ভাই তানভীর চৌধুরী ছিলেন চট্টগ্রাম দক্ষিণ জেলা ছাত্রলীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক। পদোন্নতি পান শেখ হাসিনার শাসনামলে জনপ্রশাসন সচিব মেজবাহ উদ্দীন চৌধুরীর একান্ত সচিব বারীউল করিম খান।
২০২৪ নির্বাচনে মানিকগঞ্জ জেলায় ম্যাজিস্ট্রেট হিসেবে দায়িত্ব পালন করা কাজী হাফিজুল আমিন ঢাকা জেলার এডিসি, গাজীপুর জেলার কালিয়াকৈর উপজেলার ইউএনও পদে দায়িত্ব পালন করেছেন। ২০১৪ সালের নির্বাচনে যশোর জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে দায়িত্ব পালন করেন নাজমুল আলম। চট্টগ্রামের পটিয়া উপজেলার রাতের ভোটের কারিগর দুর্নীতি দমন কমিশনের উপপরিচালক হাবিবুল হাসান। নেত্রকোনার কেন্দুয়া উপজেলার রাতের ভোটের কারিগর আল ইমরান রুহুল ইসলাম। পাবনার সুজানগর উপজেলার রাতের ভোটের কারিগর স্বাস্থ্য ও সেবা বিভাগের সিনিয়র সহকারী সচিব সুজিৎ দেবনাথ। পটুয়াখালীর মির্জাগঞ্জ উপজেলার রাতের ভোটের কারিগর জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের সাবেক সিনিয়র সহকারী সচিব এবং বর্তমানে নদী রক্ষা কমিশনের উপপরিচালক আবদুল্লাহ আল জাকী। ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদর উপজেলার রাতের ভোটের কারিগর পঙ্কজ বড়ুয়া। টাঙ্গাইলের গোপালপুরের রাতের ভোটের কারিগর জননিরাপত্তা বিভাগের সিনিয়র সহকারী সচিব বিকাশ বিশ্বাস। ২০২৪ এর নির্বাচনে রাজবাড়ী ম্যাজিস্ট্রেট হিসেবে কাজ করা স্নেহাশীষ দাশ। বগুড়ার শিবগঞ্জ উপজেলার রাতের ভোটের কারিগর আলমগীর কবীর, কুষ্টিয়ার কুমারখালীর রাতের ভোটের কারিগর রাজীবুল ইসলাম খান, খুলনার কয়রা উপজেলার রাতের ভোটের কর্মকর্তা শিমুল কুমার সাহা। পটুয়াখালীর রাঙ্গাবালীর রাতের ভোটের কারিগর মাশফাকুর রহমান, সিলেটের বিয়ানী বাজারের রাতের ভোটের কারিগর স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সহকারী সচিব কাজী আরিফুর রহমান, রাতের ভোটের নওগাঁর সাপাহার উপজেলার কারিগর কল্যাণ চৌধুরী, ময়মনসিংহের ফুলপুর উপজেলার রাতের ভোটের কারিগর জেবুন নাহার শাম্মী, শেরপুরের শ্রীবরদী উপজেলার রাতের ভোটের কারিগর সেজুতি ধর।
ডিসি নিয়োগে বিতর্ক : আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আগে জেলা প্রশাসক (ডিসি) হিসেবে পদায়ন নিয়ে লেজেগোবরে পাকায় জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়। এ সময় ৫২ জেলায় যে ডিসি দেয়া হয়েছে তাদের মধ্যে বেশির ভাগ আওয়ামী সরকারের সুবিধাভোগী কর্মকর্তা। বিসিএস ২৫তম ও ২৭তম ব্যাচের প্রশাসন ক্যাডারের দু’জন কর্মকর্তাকে ডিসি করা হয়েছিল, যাদের একজন ২০১৪ সালের জাতীয় নির্বাচনে, অন্য জন ২০১৮ সালের জাতীয় নির্বাচনে সহকারী রিটার্নিং কর্মকর্তা ছিলেন। ২০১৪ সালের নির্বাচনের এআরও বিসিএস ২৫তম ব্যাচের একজন কর্মকর্তাকে বরগুনার ডিসি হিসেবে পদায়ন করা হয়েছিল। তিনি আওয়ামী লীগ আমলে ২০১৮ সালে উপসচিব পদে পদোন্নতি পান। ২০১৪ সালের বিতর্কিত নির্বাচনের সময় তিনি আশুগঞ্জের উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা হিসেবে সহকারী রিটার্নিং অফিসার (এআরও) ছিলেন। তার বিরুদ্ধে দুর্নীতি দমন কমিশনে (দুদক) অনুসন্ধান চলমান রয়েছে। নিয়োগের পর এসব তথ্য গণমাধ্যমে প্রকাশ পেলে ছয়জন জেলা প্রশাসকের পদায়ন বাতিল করা হয়।
হাসিনার ঘনিষ্ঠদের সচিব হিসেবে পদোন্নতি : গত এক বছরে প্রশাসনে ৩৬ জন কর্মকর্তাকে সচিব হিসেবে পদোন্নতি দিয়েছে অন্তর্বর্তী সরকার। পদোন্নতিপ্রাপ্ত কর্মকর্তাদের বড় অংশই শেখ হাসিনার ঘনিষ্ঠজন, যারা গত ১৬ বছর নিজেদের আওয়ামীপন্থী হিসেবে জাহির করে শেখ হাসিনার অনুগত হয়ে গুরুত্বপূর্ণ পদগুলোতে কাজ করেছেন। এসব কর্মকর্তা এখন রঙ পাল্টিয়ে আগামী নির্বাচনে সরকার গঠন করতে পারে এমন রাজনৈতিক দলের আস্থাভাজন হয়েছেন।
বিসিএস (প্রশাসন) ক্যাডারের ১৭তম ব্যাচের কর্মকর্তারা ১৯৯৮ সালের আওয়ামী শাসনামলে যোগদান করেন। এই ব্যাচের পদোন্নতি ও পদায়ন নিয়ন্ত্রণ করতেন ৫ আগস্টের পরে বিদেশে পালিয়ে যাওয়া পুলিশের অতিরিক্ত আইজিপি মনিরুল ইসলামের স্ত্রী শায়লা ফারজানা। তার মৌখিক নির্দেশনা ছাড়া এই ব্যাচের কোনো কর্মকর্তার পদোন্নতি এবং পদায়ন সম্ভব ছিল না। বিএনপি-জামায়াত ট্যাগ দিয়ে পদোন্নতি ও পদায়নবঞ্চিত হওয়া তার কয়েকজন ব্যাচমেট ছাত্র-জনতার গণ-অভ্যুত্থানের পর পদোন্নতি পান। ৭ আগস্ট এই কর্মকর্তাকে মন্ত্রণালয় থেকে তাড়িয়ে দেন দীর্ঘদিন বঞ্চিত ও তার হাতে হয়রানির শিকার কর্মকর্তারা। এরপর তাকে বাধ্যতামূলক অবসরে দেয় অন্তর্বর্তী সরকার।
ছাত্র-জনতার গণ-অভ্যুত্থানের পর জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের এপিডি উইংয়ের অতিরিক্ত সচিব শায়লা ফারজানাকে তাড়িয়ে দেন বঞ্চিত কর্মকর্তারা। এরপর একই মন্ত্রণালয়ের শায়লার ঘনিষ্ঠ ও আওয়ামী সুবিধাভোগী অতিরিক্ত সচিব ড. মোহাম্মদ জিয়াউল হককে ধাক্কা দিয়ে অফিস থেকে বের করে দেন বঞ্চিত কর্মকর্তারা। এ সময় তিনি নিজের ব্যবহৃত ল্যাপটপ নিতে চাইলে সেটিও নিতে দেয়া হয়নি। পরে তার কর্মচারীরা তাকে ল্যাপটপটি পৌঁছে দেন। এরপর এই কর্মকর্তাকে সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক বিভাগে বদলি করা হয়। সেখানে যোগদানের পর মন্ত্রণালয়ের চুক্তিভিত্তিক নিয়োগ পাওয়া সিনিয়র সচিব মো: এহছানুল হকের আস্থাভাজন হয়ে ওঠেন এই কর্মকর্তা। এরপর মো: এহছানুল হক জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ে বদলি হলে জিয়াউল হককে এপিডি উইংয়ে পদায়নের আগ্রহ দেখান। এটি হলে জনপ্রশাসন সচিবকে সমালোচনার মুখে পড়তে হবে ভেবে তা আর হয়নি। এরপর এই কর্মকর্তাকে সচিব হিসেবে পদোন্নতি দিয়েছে অন্তর্বর্তী সরকার।
এর কিছু দিন আগে সচিব হিসেবে পদোন্নতি পান তার স্ত্রী ও একই ব্যাচের কর্মকর্তা ড. নুরুন্নাহার চৌধুরী। শায়লা ফারজানার মায়াবতি গ্রুপের এই সদস্য কৃষি মন্ত্রণালয়, জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়, প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়, প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মতো গুরুত্বপূর্ণ জায়গায় কাজ করেছেন।
রঙ পাল্টে সচিব হয়েছেন আর্থিক খাত ধ্বংস ও অর্থনীতির ডাটা ম্যানিপুলেশনের প্রধান হোতা সাবেক অর্থসচিব আব্দুর রউফ তালুকদারের ঘনিষ্ঠ এবং দীর্ঘদিন অর্থ বিভাগে কর্মরত বিলকিস জাহান রিমি। এই কর্মকর্তা ২০১২ সালে সিনিয়র সহকারী সচিব থেকে বর্তমান অতিরিক্ত সচিব পর্যন্ত ১১ বছর অর্থ মন্ত্রণালয়ে কর্মরত আছেন। মাঝখানে দুই বছর তিনি একটি প্রকল্পে লিয়েনে ছিলেন।












