চলতি মাসেই স্বাক্ষরিত হবে ট্রাম্পের ইউক্রেন শান্তি পরিকল্পনা
- আপডেট সময় ০৬:২৪:৫৮ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১ জানুয়ারী ২০২৬
- / ৪৪ বার পড়া হয়েছে
রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধাবসানে ২০টি পয়েন্ট সম্বলিত নতুন যে শান্তি পরিকল্পনা প্রস্তাব করেছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প, সেটি এই চলতি মাসেই কিয়েভ ও মস্কো স্বাক্ষর করবে বলে মনে করছেন ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলাদিমির জেলেনস্কি।
বিভিন্ন সূত্রে জানা গেছে, রাশিয়ার সাথে যুদ্ধবিরতির বিনিময়ে যুক্তরাষ্ট্রের কাছে নিরাপত্তার নিশ্চয়তা (সিকিউরিটি গ্যারান্টি) চেয়েছিলেন জেলেনস্কি। যুক্তরাষ্ট্র এই শর্তে রাজিও হয়েছে। এ ব্যাপারে ট্রাম্পের প্রস্তাবিত শান্তি পরিকল্পনার ৫ নম্বর পয়েন্টে বলা হয়েছে, আগামী ১৫ বছর ইউক্রেনকে নিরাপত্তা নিশ্চয়তা দেবে যুক্তরাষ্ট্র। তবে জেলেনস্কি চাইছেন, এই মেয়াদ যেন ১৫ বছর থেকে ৫০ বছরে উন্নীত করা হয়। ট্রাম্প প্রশাসনের সাথে এই নিয়ে বর্তমানে কিয়েভের আলোচনা চলছে।
মঙ্গলবারের ভাষণে এ ব্যাপারে জেলেনস্কি বলেন, ‘নিরাপত্তা নিশ্চয়তা নিয়ে বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্র ও ইউক্রেনের কর্মকর্তাদের মধ্যে আলোচনা চলছে। আমি আশা করছি, ইউক্রেন এবং তার নাগরিকদের নিরাপত্তাগত স্বার্থকে অগ্রাধিকার দিয়েই চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হবে।’
নিরাপত্তা নিশ্চয়তার প্রসঙ্গে জেলেনস্কি আরো বলেন, “ইউক্রেন শুধু যুক্তরাষ্ট্রের কাছে নিরাপত্তা নিশ্চয়তা চেয়েছে। যুদ্ধবিরতি চুক্তি স্বাক্ষরের পর এই ব্যবস্থার আওতায় কেবল মার্কিন সেনাবাহিনীই ইউক্রেনে অবস্থান করবে। নিরাপত্তার স্বার্থে ইউক্রেনকে ট্রাম্প প্রশাসন বিশ্বের সবচেয়ে অগ্রসর আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা প্যাট্রিয়ট এয়ার ডিফেন্স সিস্টেম প্রদান করবে বলে জানিয়েছেন ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট। মঙ্গলবারের ভাষণে যুদ্ধ পরবর্তী পুনর্গঠন নিয়েও কথা বলেছেন জেলেনস্কি। তিনি বলেছেন, প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প যুদ্ধবিধ্বস্ত ইউক্রেনের পুনর্গঠনকে অত্যন্ত গুরুত্ব দিচ্ছেন এবং যুদ্ধবিরতির পর মার্কিন ও ইউরোপীয় বিভিন্ন কোম্পানি ইউক্রেনের পুনর্গঠন ও অন্যান্য খাতে বিনিয়োগ করবে। আমাদের লক্ষ্য হলো যুদ্ধ পরবর্তী ইউক্রেনে নাগরিকদের গড় মজুরি বা আয় বৃদ্ধি করা। প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প বলেছেন যে এ ব্যাপারে তিনি আমাদের সহযোগিতা করবেন। আমি তার প্রতি খুবই কৃতজ্ঞ।”
এদিকে রাশিয়ার একটি তেল শোধনারগার লক্ষ্য করে ড্রোন হামলা চালিয়েছে ইউক্রেনের সেনাবাহিনী। এতে শোধনাগারটির বেশ ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে এবং সেটি দেখভালের দায়িত্বে থাকা দুইজন আহত হয়েছেন। যে শোধানাগারটিকে লক্ষ্যবস্তু করেছে ইউক্রেনীয় সেনাবাহিনী, সেটির নাম তুয়াপস অয়েল রিফাইনারি। এটি রাশিয়ার দক্ষিণাঞ্চলীয় প্রদেশ ক্রাসনোদারে কৃষ্ণ সাগরের তীরে অবস্থিত। ইউক্রেনের মূল ভূখণ্ড থেকে শোধনাগারটির দূরত্ব ৩৫০ কিলোমিটার। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম টেলিগ্রামে পোস্ট করা এক বিবৃতিতে রুশ সেনাবাহিনীর ক্রাসনোদার শাখার পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, ড্রোন হামলার পর সেই শোধনাগার এবং তার আশপাশের তিন হাজার ২২৯ বর্গফুট এলাকাজুড়ে আগুন ধরে যায়। আগুন দ্রুত নেভানো সম্ভব হলেও ক্ষয়ক্ষতি এড়ানো যায়নি। কী পরিমাণ ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে, সে সম্পর্কে অবশ্য বিস্তারিত কিছু বলা হয়নি বিবৃতিতে।
তুয়াপস তেল শোধনাগারটি রাশিয়ার রাষ্ট্রায়ত্ত তেল উত্তোলন ও বিক্রেতা কোম্পানি রোসনেফটের মালিকানাধীন। কৃষ্ণ এবং আজভ সাগর অঞ্চলে রাশিয়ার যেসব তেল শোধনাগার রয়েছে- সেসবের মধ্যে এটি অন্যতম বৃহৎ ও গুরুত্বপূর্ণ।
ইউক্রেনের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তেল শোধনাগারে হামলার এই খবর বেশ গুরুত্ব দিয়ে প্রচার করা হয়েছে। সংবাদে প্রদর্শিত ভিডিওচিত্রে দেখা গেছে রাতের আঁধারে তুয়াপসের বিশাল এলাকজুড়ে জ্বলছে আগুন। তবে এ ব্যাপারে ইউক্রেনের সরকার কিংবা প্রতিরক্ষা বাহিনীর পক্ষ থেকে এখন পর্যন্ত কোনো বিবৃতি বা তথ্য প্রদান করা হয়নি। গত চার বছর ধরে যুদ্ধ চলছে রাশিয়া ও ইউক্রেনের মধ্যে। যুদ্ধের শুরু থেকেই রুশ সেনাবহিনী ইউক্রেনের বিদ্যুৎ উৎপাদন ও সরবারাহ ব্যবস্থাকে লক্ষ্য করে অধিকাংশ হামলা চালিয়ে আসছে, অন্যদিকে রাশিয়ার তেল উত্তোলন ও পরিশোধন কেন্দ্রগুলোকে লক্ষ্যবস্তুতে পরিণত করেছে ইউক্রেন।
রয়টার্স












