জকসু নির্বাচন: সনাতন প্রার্থীকে হুমকি দিয়ে বসিয়ে দেয়ার অভিযোগ ছাত্রদলের বিরুদ্ধে
- আপডেট সময় ১২:১১:৪০ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ৫ জানুয়ারী ২০২৬
- / ৮৪ বার পড়া হয়েছে
জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় শিক্ষার্থী সংসদ (জকসু) নির্বাচনে সমাজসেবা ও শিক্ষার্থী কল্যাণ সম্পাদক পদে স্বতন্ত্র এক সনাতন প্রার্থীকে হুমকি দিয়ে বসিয়ে দেয়ার অভিযোগ উঠেছে ছাত্রদলের বিরুদ্ধে। ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় সাধারণ সম্পাদক নাসির উদ্দিন নাসির প্রার্থীর পরিবারকে ফোন করে হুমকি দিয়েছেন বলে জানা গেছে।
ভুক্তভোগী প্রার্থীর নাম সুজন চন্ত্র সুকুল। তিনি সমাজসেবা ও শিক্ষার্থী কল্যাণ সম্পাদক পদে স্বতন্ত্র হিসেবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছিলেন।
ভুক্তভোগী প্রার্থীর সূত্রে জানা যায়, তিনি স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে নির্বাচনে প্রচার প্রচারণা চালাচ্ছিলেন। তার পক্ষে তার পোলিং এজেন্টরাও পর্যাপ্ত প্রচারণা চালাচ্ছিলেন। তবে অজানা কারণে নির্বাচনের আগের রাতে গত ২৯ ডিসেম্বর গভীর রাতে তিনি ফেসবুকে পোস্ট দিয়ে নিজের প্রার্থীতা প্রত্যাহারের ঘোষণা দেন। পাশাপাশি তিনি ছাত্রদলের প্রার্থী আনন বিন রহমানকে সমর্থন দিয়ে তাকে ভোট দেয়ার আহ্বান জানান।
জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় সূত্রে জানা যায়, বিশ^বিদ্যালয়ে উল্লেখযোগ্য সংখ্যক হিন্দু শিক্ষার্থী রয়েছে। প্রায় ২ হাজারের মত হিন্দু শিক্ষার্থী নির্বাচনে বিশেষ গুরুত্ব বহন করে। তবে নির্বাচনের আগের রাতে তার বাসায় স্থানীয় ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা গিয়ে বলেছে, ‘আরেকটা বিশ্বজিৎ না হতে চাইলে নির্বাচন থেকে সরে যাওয়ার জন্য। পরে পরিবারের নিরাপত্তার কথা ভেবে তিনি প্রার্থীতা প্রত্যাহার করে নেন।
ফাঁস হওয়া স্ক্রিনশট থেকে দেখা যায়, ভুক্তভোগী শিক্ষার্থী সুজন বলছেন তার পরিবারের কাছে স্থানীয় ছাত্রদল গিয়ে হুমকি দিয়েছে। ‘আমার সামনে গিয়ে বলা হয় বিশ^জিৎ এর মতো হইস না।’ ‘আমার বাসায় পর্যন্ত লোক গেছিলো, সেন্ট্রালে নাসির ভাই ফোন দিছে, অনেক হুমকি। পরে আর পারিনি।’
অপর এক স্ক্রিনশটে দেখা যায়, ‘আমার বন্ধু অনিক স্বয়ং বলেছে জানে বাঁচতে চাইলে বসে যেতে বল।’ ‘ওরা ভাবে সনাতনী ভোট আছে তাই ওরা আমাকেই টার্গেট করেছে।’
এ ব্যাপারে সুজন চন্ত্র সুুকুলের নাম্বারে ফোন করলে তিনি সাংবাদিক পরিচয় জানার পর ফোন কেটে দেন। আজ দুপুরে তিনি দাবি করেন তার ফেসবুক আইডি হ্যাক হয়েছিল।
তবে ছাত্রদলের আভ্যন্তরীণ একটি সূত্রে জানা যায়, রাত ১২ টায় এ সংবাদ লেখার সময় রায়সাহেব বাজারে স্টার কাবাবে ছাত্রদলের নেতৃত্বে একটি নির্বাচনী সভা চলছে। রিপোর্টার্স ইউনিটির সদ্য সাবেক সভাপতি অমৃত রায়ের নেতৃত্বে এ সভা চলছে। সভায় উপস্থিত সবাইকে এক হাজার টাকা করে দেয়ার তথ্য জানা গেছে।
তবে এ ব্যাপারে ছাত্রদলের দায়িত্বশীল পর্যায়ের কারো বক্তব্য সংগ্রহ করা সম্ভব হয়নি।


















