রোড সেফটি ফাউন্ডেশনের রিপোর্ট
২০২৫ সালে সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত ৭ হাজার ৩৫৯ জন
- আপডেট সময় ০২:১৩:৪৯ অপরাহ্ন, শনিবার, ১০ জানুয়ারী ২০২৬
- / ২৪ বার পড়া হয়েছে
বিগত ২০২৫ সালে দেশে সড়ক দুর্ঘটনা ঘটেছে ৭৫৮৪টি। এসব ঘটনায় নিহত হয়েছেন ৭৩৫৯ জন এবং আহত হয়েছেন ১৬৪৭৬ জন।
গত বছর সড়ক দুর্ঘটনায় নিহতদের মধ্যে নারী ৯৬২ (১৩ দশমিক শূন্য ৭ শতাংশ), শিশু ১০০৮ (১৩ দশমিক ৬৯ শতাংশ)। এর মধ্যে ৩০২৯টি মোটরসাইকেল দুর্ঘটনায় নিহত ২৬৭১ জন, যা মোট নিহতের ৩৬ দশমিক ২৯ শতাংশ। মোটরসাইকেল দুর্ঘটনার হার ৩৯ দশমিক ৯৩ শতাংশ। দুর্ঘটনায় ১৫৬৪ জন পথচারী নিহত হয়েছেন, যা মোট নিহতের ২১ দশমিক ২৫ শতাংশ। যানবাহনের চালক ও সহকারী নিহত হয়েছেন ৯৪১ জন, অর্থাৎ ১২ দশমিক ৭৮ শতাংশ।
প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, ২০২৫ সালে ১৩২টি নৌ-দুর্ঘটনায় ১৪৯ জন নিহত, ১২৩ জন আহত এবং ৩৪ জন নিখোঁজ রয়েছেন। ৫১৯টি রেলপথ দুর্ঘটনায় ৪৭৮ জন নিহত এবং ১৫২ জন আহত হয়েছেন।
দুর্ঘটনার যানবাহনভিত্তিক নিহতের চিত্র
দুর্ঘটনায় যানবাহনভিত্তিক নিহতের পরিসংখ্যানে দেখা যায়- মোটরসাইকেলচালক ও আরোহী ২৬৭১ জন (৩৬ দশমিক ২৯ শতাংশ), বাসযাত্রী ৪১৬ জন (৫ দশমিক ৬৫ শতাংশ), পণ্যবাহী যানবাহনের আরোহী ৪৮০ জন (৬ দশমিক ৫২ শতাংশ), প্রাইভেটকার-মাইক্রোবাস-অ্যাম্বুলেন্স-জিপ আরোহী ২৩৫ জন (৩ দশমিক ১৯ শতাংশ), থ্রি-হুইলার যাত্রী (ইজিবাইক-সিএনজি-অটোরিকশা-অটোভ্যান-লেগুনা-মিশুক ইত্যাদি) ১৩৭৬ জন (১৮ দশমিক ৬৯ শতাংশ), স্থানীয়ভাবে তৈরি যানবাহনের যাত্রী (নসিমন-করিমন-ভটভটি-আলমসাধু-মাহিন্দ্র-টমটম) ৪৮৯ জন (৬ দশমিক ৬৪ শতাংশ) এবং বাইসাইকেল-প্যাডেল রিকশা আরোহী ১২৮ জন (১ দশমিক ৭৩ শতাংশ) নিহত হয়েছেন।
দুর্ঘটনা সংঘটিত সড়কের ধরন
রোড সেফটি ফাউন্ডেশনের পর্যবেক্ষণ ও বিশ্লেষণ বলছে, দুর্ঘটনাগুলোর মধ্যে ২৬৯৮টি (৩৫ দশমিক ৫৭ শতাংশ) জাতীয় মহাসড়কে, ২৮৬৫টি (৩৭ দশমিক ৭৭ শতাংশ) আঞ্চলিক সড়কে, ৯৬৮টি (১২ দশমিক ৭৬ শতাংশ) গ্রামীণ সড়কে, ৯৯২টি (১৩ দশমিক শূন্য ৮ শতাংশ) শহরের সড়কে এবং অন্যান্য স্থানে ৬১টি (শূন্য দশমিক ৮০ শতাংশ) সংঘটিত হয়েছে।
দুর্ঘটনার ধরন
দুর্ঘটনাসমূহের ১৭৯২টি (২৩ দশমিক ৬২ শতাংশ) মুখোমুখি সংঘর্ষ, ৩০৭৩টি (৪০ দশমিক ৫১ শতাংশ) নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে, ১৫৭৬টি (২০ দশমিক ৭৮ শতাংশ) পথচারীকে চাপা/ধাক্কা দেওয়া, ১০০৪টি (১৩ দশমিক ২৩ শতাংশ) যানবাহনের পেছনে আঘাত করা এবং ১৩৯টি (১ দশমিক ৮৩ শতাংশ) অন্যান্য কারণে ঘটেছে।
দুর্ঘটনায় সম্পৃক্ত যানবাহন
দুর্ঘটনায় সম্পৃক্ত যানবাহনের মধ্যে পণ্যবাহী যানবাহন ২৭ দশমিক ৫৫ শতাংশ, যাত্রীবাহী বাস ১৩ দশমিক ৮৭ শতাংশ, মাইক্রোবাস-প্রাইভেটকার-অ্যাম্বুলেন্স-জিপ ৪ দশমিক ৮৪ শতাংশ, মোটরসাইকেল ২৫ দশমিক ৪৭ শতাংশ, থ্রি-হুইলার (ইজিবাইক-সিএনজি-অটোরিকশা-অটোভ্যান-লেগুনা-মিশুক ইত্যাদি) ১৭ দশমিক ১৮ শতাংশ, স্থানীয়ভাবে তৈরি যানবাহন (নসিমন-ভটভটি-আলমসাধু-মাহিন্দ্র-টমটম) ৬ দশমিক ১৫ শতাংশ, বাইসাইকেল শূন্য দশমিক ৮৮ শতাংশ, প্যাডেল রিকশা ১ দশমিক ৪২ শতাংশ এবং অজ্ঞাত যানবাহন ২ দশমিক ৫৯ শতাংশ।
দুর্ঘটনায় সম্পৃক্ত যানবাহনের সংখ্যা
দুর্ঘটনায় সম্পৃক্ত যানবাহনের সংখ্যা ১২৩৮৯টি। বাস ১৭১৯, পণ্যবাহী যানবাহন (ট্রাক-কাভার্ডভ্যান-পিকআপ-ট্রলি-লরি-ট্রাক্টর-ড্রাম ট্রাক-ডাম্পার-তেলবাহী ট্যাংকার-কার্গো ট্রাক-পুলিশভ্যান-র্যাবের গাড়ি-সেনা বাহিনীর ভ্যান-মিকচার মেশিন ট্রাক-রোড রোলার-সিটি করপোরেশনের ময়লাবাহী ট্রাক-ভেক্যু মেশিন) ৩৪১৪, মাইক্রোবাস-প্রাইভেটকার-অ্যাম্বুলেন্স-জিপ ৬০০, মোটরসাইকেল ৩১৫৬, থ্রি-হুইলার (ইজিবাইক-সিএনজি-অটোরিকশা-অটোভ্যান-লেগুনা-মিশুক ইত্যাদি) ২১২৯, স্থানীয়ভাবে তৈরি যানবাহন (নসিমন-ভটভটি-আলমসাধু-মাহিন্দ্র-টমটম ইত্যাদি) ৭৬৩, বাইসাইকেল ১১০, প্যাডেল রিকশা ১৭৭ এবং অজ্ঞাত গাড়ি ৩২১টি।




















