ইরানি বিক্ষোভকারীদের যুক্তরাষ্ট্রের সমর্থন, ‘রেড লাইন’ ঘোষণা করল সেনাবাহিনী
- আপডেট সময় ০৯:১৪:৪৯ অপরাহ্ন, শনিবার, ১০ জানুয়ারী ২০২৬
- / ৩৫ বার পড়া হয়েছে
ইরানের নিয়মিত সেনাবাহিনী ও সেনাবাহিনীর অভিজাত শাখা বিপ্লবী গার্ড বাহিনী (আইআরজিসি) দেশটিতে ‘রেড লাইন’ ঘোষণা করে সতর্কতা জারি করেছে। এরই অংশ হিসেবে জাতীয় স্বার্থ, কৌশলগত অবকাঠামো ও জনসম্পত্তি রক্ষায় দৃঢ় অবস্থানে থাকা এবং নিরাপত্তা ও শৃঙ্খলা রক্ষায় কোনো আপস না করার প্রতিশ্রুতি ব্যক্ত করেছে সামরিক বাহিনী।
বার্তা সংস্থা রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়, দেশজুড়ে চলমান ব্যাপক সরকারবিরোধী বিক্ষোভ দমনে শনিবার (১০ জানুয়ারি) এ ধরনের কঠোর বার্তা দেয় দেশটির সেনাবাহিনী ও আইআরজিসি।
যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প শুক্রবার ইরানের নেতাদের উদ্দেশে নতুন করে সতর্কবার্তা দেয়ার পর এই পদক্ষেপ নিলো তেহরান। বিক্ষোভের শুরু থেকেই বিক্ষোভকারীদের সমর্থন দিয়ে আসছে ওয়াশিংটন, যা উত্তেজনাকে আরও বাড়িয়ে তুলেছে। মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও বলেন, ‘যুক্তরাষ্ট্র ইরানের সাহসী জনগণের পাশে রয়েছে।’
এদিকে রাতভর ইরানের বিভিন্ন অঞ্চলে অস্থিরতা অব্যাহত ছিল। রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম জানায়, রাজধানী তেহরানের পশ্চিমে কারাজ শহরে একটি পৌর ভবনে আগুন দেয়া হয়েছে। এ ঘটনায় সরকার ‘দাঙ্গাকারীদের’ দায়ী করেছে। একই সঙ্গে রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনে শিরাজ, কুম ও হামেদান শহরে নিহত নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্যদের জানাজা ও দাফনের দৃশ্য প্রচার করা হয়।
গত দুই সপ্তাহ ধরে ইরানের বিভিন্ন শহরে বিক্ষোভ ছড়িয়ে পড়েছে। প্রথমদিকে লাগামহীন মূল্যস্ফীতি ও জীবনযাত্রার ব্যয় বৃদ্ধির প্রতিবাদে আন্দোলন শুরু হলেও দ্রুত তা রাজনৈতিকভাবে সরকার বিরোধী আন্দোলনে রূপ নেয়। বিক্ষোভকারীরা সরাসরি ধর্মীয় শাসনের অবসানের দাবি জানাচ্ছেন। তবে, ইরান সরকার অভিযোগ করেছে, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল এসব ‘দাঙ্গা’ উসকে দিচ্ছে।
এদিকে ইরানের মানবাধিকার সংগঠন এইচআরএএনএ জানায়, ৯ জানুয়ারি পর্যন্ত তারা ৬৫ জনের মৃত্যুর তথ্য নথিভুক্ত করেছে। এর মধ্যে ৫০ জন বিক্ষোভকারী এবং ১৫ জন নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্য। অপরদিকে নরওয়েভিত্তিক মানবাধিকার সংগঠন হেংগাও জানিয়েছে, গত দুই সপ্তাহে দেশজুড়ে গ্রেপ্তার করা হয়েছে অন্তত ২ হাজার ৫০০ জন বিক্ষোভকারীকে।
এমন পরিস্থিতির মধ্যে ইন্টারনেট বন্ধ এবং কিছু এলাকায় সীমিত চালু রেখেছে দেশটির সরকার। পশ্চিম ইরানের এক প্রত্যক্ষদর্শী ফোনে জানান, ওই এলাকায় বিপ্লবী গার্ড মোতায়েন রয়েছে এবং তারা গুলি চালাচ্ছে।
বিক্ষোভকারীদের সন্ত্রাসী ঘোষণা
রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনে প্রচারিত এক বিবৃতিতে আইআরজিসি দাবি করে, গত দুই রাত ধরে ‘সন্ত্রাসী গোষ্ঠী’ সামরিক ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর ঘাঁটিতে হামলা চালিয়েছে। এতে বেশ কয়েকজন সাধারণ নাগরিক ও নিরাপত্তা সদস্য নিহত হয়েছেন। এছাড়া সরকারি ও বেসরকারি সম্পত্তিতে আগুন দেয়া হয়েছে বলে বিবৃতিতে অভিযোগ করা হয়।
বিবৃতিতে বলা হয়, ১৯৭৯ সালের ইসলামি বিপ্লবের অর্জন রক্ষা এবং জাতীয় নিরাপত্তা বজায় রাখা তাদের জন্য ‘রেড লাইন’। বর্তমান পরিস্থিতির ধারাবাহিকতা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয় বলেও সতর্ক করে আইআরজিসি।
এদিকে আইআরজিসি থেকে আলাদা ইরানের নিয়মিত সেনাবাহিনী এক ঘোষণায় জানায়, দেশের কৌশলগত অবকাঠামো, জাতীয় স্বার্থ ও জনসম্পত্তি রক্ষায় তারা প্রয়োজনীয় সব ব্যবস্থা নেবে।























