ঢাকা ০৫:৩২ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৩ জানুয়ারী ২০২৬, ২৯ পৌষ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
অন্যের ওপর ‘ধর্ম ব্যবসার’ অভিযোগ চাপিয়ে নিজেরাই ইসলামকে অবমাননা করা দ্বিচারিতা

নিকাব নিয়ে বিএনপি নেতার কুরুচিপূর্ণ বক্তব্যে ছাত্রশিবিরের প্রতিবাদ

নিজস্ব সংবাদ :
  • আপডেট সময় ০৮:০৪:৪৯ অপরাহ্ন, সোমবার, ১২ জানুয়ারী ২০২৬
  • / ২৯ বার পড়া হয়েছে
বিএনপি নেতা মোশাররফ আহমেদ ঠাকুরের দেওয়া নিকাববিরোধী কুরুচিপূর্ণ ও বিভ্রান্তিকর বক্তব্যের তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছে বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবির। সোমবার (১২ জানুয়ারি) এক যৌথ বিবৃতিতে ছাত্রশিবিরের কেন্দ্রীয় সভাপতি নূরুল ইসলাম ও সেক্রেটারি জেনারেল সিবগাতুল্লাহ এ প্রতিবাদ জানান।
বিবৃতিতে তারা বলেন, “সম্প্রতি এক বক্তব্যে বিএনপি নেতা মোশাররফ আহমেদ ঠাকুর প্রকাশ্যে দাবি করেছেন— ‘নেকাব মুসলমানদের ড্রেসই না। ইহুদি নারীরা যখন বেশ্যাবৃত্তি করতো তখন নেকাব পরতো।’ এই বক্তব্য চরম মিথ্যাচার, ইতিহাস বিকৃতি ও জঘন্য কুরুচির বহিঃপ্রকাশ। মুসলিম নারীদের ধর্মীয় পোশাককে এভাবে অপমান করা শুধু ইসলাম অবমাননাই নয়; বরং মুসলমানদের বিশ্বাস ও সংস্কৃতির ওপর সরাসরি আঘাত। এবং তার এই বক্তব্য রাষ্ট্রীয় আইনে ফৌজদারি অপরাধ। আমরা তার এই ধৃষ্টতাপূর্ণ বক্তব্যের তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানাচ্ছি।”
নেতৃবৃন্দ আরও বলেন, ‍‍‍‍“হিজাব ও নিকাব কুরআন-সুন্নাহভিত্তিক পর্দা ব্যবস্থার অংশ এবং যুগ যুগ ধরে মুসলিম সমাজে চর্চিত একটি সম্মানজনক ধর্মীয় অনুশীলন। নিকাব মুসলিম নারীর মর্যাদা, নিরাপত্তা ও আত্মপরিচয়ের প্রতীক। রাজনীতির মাঠে প্রতিপক্ষকে ঘায়েল করার উদ্দেশ্যে ইসলামী বিধিবিধানকে তুচ্ছতাচ্ছিল্য করা কোনোভাবেই দায়িত্বশীল রাজনীতির পরিচয় হতে পারে না। দুঃখজনকভাবে, বিএনপির একাধিক নেতার বক্তব্যে এ ধরনের অসংযম ও ধর্মবিদ্বেষী মনোভাবের পুনরাবৃত্তি ঘটছে।”
নেতৃবৃন্দ বলেন, “বিএনপি ইসলামী রীতিনীতি, আদর্শ ও মূল্যবোধে বিশ্বাস করে কি না—তা তাদের নিজস্ব দলীয় সিদ্ধান্ত। কিন্তু দেশের অধিকাংশ মানুষের তথা মুসলমানদের ধর্মীয় সংস্কৃতি ও বিধান নিয়ে কুরুচিপূর্ণ বক্তব্য দেওয়ার কোনো অধিকার কারও নেই। অন্যদের ওপর ‘ধর্ম ব্যবসার’ অভিযোগ চাপিয়ে দিয়ে নিজেরাই ইসলামের বিধানকে অবমাননা করা দ্বিচারিতা ও ইসলামোফোবিক মানসিকতার স্পষ্ট প্রকাশ।”
নেতৃবৃন্দ আরও বলেন, “আমরা ধর্ম বিষয়ক মন্ত্রণালয়, আলেমসমাজ ও সচেতন মুসলিম জনগণকে এ বিষয়ে সোচ্চার ভূমিকা পালনের আহ্বান জানাই। একই সঙ্গে সংশ্লিষ্ট রাজনৈতিক দলকে অবিলম্বে এই বক্তব্য প্রত্যাহার করে জাতির কাছে ক্ষমা চাওয়ার জোর দাবি জানাচ্ছি।”

নিউজটি শেয়ার করুন

অন্যের ওপর ‘ধর্ম ব্যবসার’ অভিযোগ চাপিয়ে নিজেরাই ইসলামকে অবমাননা করা দ্বিচারিতা

নিকাব নিয়ে বিএনপি নেতার কুরুচিপূর্ণ বক্তব্যে ছাত্রশিবিরের প্রতিবাদ

আপডেট সময় ০৮:০৪:৪৯ অপরাহ্ন, সোমবার, ১২ জানুয়ারী ২০২৬
বিএনপি নেতা মোশাররফ আহমেদ ঠাকুরের দেওয়া নিকাববিরোধী কুরুচিপূর্ণ ও বিভ্রান্তিকর বক্তব্যের তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছে বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবির। সোমবার (১২ জানুয়ারি) এক যৌথ বিবৃতিতে ছাত্রশিবিরের কেন্দ্রীয় সভাপতি নূরুল ইসলাম ও সেক্রেটারি জেনারেল সিবগাতুল্লাহ এ প্রতিবাদ জানান।
বিবৃতিতে তারা বলেন, “সম্প্রতি এক বক্তব্যে বিএনপি নেতা মোশাররফ আহমেদ ঠাকুর প্রকাশ্যে দাবি করেছেন— ‘নেকাব মুসলমানদের ড্রেসই না। ইহুদি নারীরা যখন বেশ্যাবৃত্তি করতো তখন নেকাব পরতো।’ এই বক্তব্য চরম মিথ্যাচার, ইতিহাস বিকৃতি ও জঘন্য কুরুচির বহিঃপ্রকাশ। মুসলিম নারীদের ধর্মীয় পোশাককে এভাবে অপমান করা শুধু ইসলাম অবমাননাই নয়; বরং মুসলমানদের বিশ্বাস ও সংস্কৃতির ওপর সরাসরি আঘাত। এবং তার এই বক্তব্য রাষ্ট্রীয় আইনে ফৌজদারি অপরাধ। আমরা তার এই ধৃষ্টতাপূর্ণ বক্তব্যের তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানাচ্ছি।”
নেতৃবৃন্দ আরও বলেন, ‍‍‍‍“হিজাব ও নিকাব কুরআন-সুন্নাহভিত্তিক পর্দা ব্যবস্থার অংশ এবং যুগ যুগ ধরে মুসলিম সমাজে চর্চিত একটি সম্মানজনক ধর্মীয় অনুশীলন। নিকাব মুসলিম নারীর মর্যাদা, নিরাপত্তা ও আত্মপরিচয়ের প্রতীক। রাজনীতির মাঠে প্রতিপক্ষকে ঘায়েল করার উদ্দেশ্যে ইসলামী বিধিবিধানকে তুচ্ছতাচ্ছিল্য করা কোনোভাবেই দায়িত্বশীল রাজনীতির পরিচয় হতে পারে না। দুঃখজনকভাবে, বিএনপির একাধিক নেতার বক্তব্যে এ ধরনের অসংযম ও ধর্মবিদ্বেষী মনোভাবের পুনরাবৃত্তি ঘটছে।”
নেতৃবৃন্দ বলেন, “বিএনপি ইসলামী রীতিনীতি, আদর্শ ও মূল্যবোধে বিশ্বাস করে কি না—তা তাদের নিজস্ব দলীয় সিদ্ধান্ত। কিন্তু দেশের অধিকাংশ মানুষের তথা মুসলমানদের ধর্মীয় সংস্কৃতি ও বিধান নিয়ে কুরুচিপূর্ণ বক্তব্য দেওয়ার কোনো অধিকার কারও নেই। অন্যদের ওপর ‘ধর্ম ব্যবসার’ অভিযোগ চাপিয়ে দিয়ে নিজেরাই ইসলামের বিধানকে অবমাননা করা দ্বিচারিতা ও ইসলামোফোবিক মানসিকতার স্পষ্ট প্রকাশ।”
নেতৃবৃন্দ আরও বলেন, “আমরা ধর্ম বিষয়ক মন্ত্রণালয়, আলেমসমাজ ও সচেতন মুসলিম জনগণকে এ বিষয়ে সোচ্চার ভূমিকা পালনের আহ্বান জানাই। একই সঙ্গে সংশ্লিষ্ট রাজনৈতিক দলকে অবিলম্বে এই বক্তব্য প্রত্যাহার করে জাতির কাছে ক্ষমা চাওয়ার জোর দাবি জানাচ্ছি।”