আবেদের স্ত্রী ও ছেলের নামেও হয়েছে মামলা
প্রশ্নফাঁসের মামলায় তিন দিনের রিমান্ডে আবেদ আলী
- আপডেট সময় ০৬:৪৪:২০ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৫ জানুয়ারী ২০২৬
- / ৮ বার পড়া হয়েছে
সরকারি কর্ম কমিশন-পিএসসির প্রশ্নফাঁস কাণ্ডে আলোচিত সংস্থার সাবেক চেয়ারম্যানের গাড়িচালক সৈয়দ আবেদ আলী জীবনকে দুর্নীতির মামলায় তিন দিনের রিমান্ডে পাঠিয়েছে আদালত।
মামলার তদন্ত কর্মকর্তার আবেদনের ওপর শুনানি নিয়ে বৃহস্পতিবার ঢাকার মেট্রোপলিটন সিনিয়র স্পেশাল জজ সাব্বির ফয়েজ এ আদেশ দেন।
দুর্নীতি দমন কমিশন-দুদকের জনসংযোগ কর্মকর্তা তানজীর আহমেদ এ তথ্য দিয়েছেন।
একটি চক্র প্রায় এক যুগ ধরে পিএসসির অধীনে বিসিএসসহ বিভিন্ন পরীক্ষার প্রশ্নফাঁসে জড়িত বলে ২০২৪ সালের জুলাইয়ে একটি অনুসন্ধানী প্রতিবেদন প্রচারিত হয় বেসরকারি টেলিভিশন চ্যানেল টোয়েন্টিফোরে। সেখান ওই চক্রের ছয়জনের ছবি প্রকাশ করা হয়।
এদের মধ্যে পিএসসি চেয়ারম্যানের সাবেক গাড়িচালক সৈয়দ আবেদ আলী জীবন ও তার পরিবারের বিলাসবহুল জীবনযাপনের বিভিন্ন ছবি ফেইসবুকে ঘুরতে থাকে।
এরপর ওই চক্রের সদস্যদের ধরতে অভিযানে নামে সিআইডি। আবেদ আলী, তার ছেলে ঢাকা মহানগর উত্তর ছাত্রলীগের ত্রাণ ও দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা বিষয়ক সম্পাদক সৈয়দ সোহানুর রহমান সিয়ামসহ মোট ১৭ জনকে ঢাকাসহ বিভিন্ন স্থানে অভিযান চালিয়ে গ্রেপ্তার করা হয়। সেই সময় আবেদ আলী পরিবারের বিরুদ্ধে অনুসন্ধানে নামে দুদক।
গেল বছরের ৫ জানুয়ারি আবেদ আলীর বিরুদ্ধে পৌনে ৪ কোটি টাকার ‘জ্ঞাত আয়বহির্ভূত’ সম্পদ অর্জনের অভিযোগে মামলা করেছে দুদক। তার ও পরিবারের বিরুদ্ধে মোট তিনটি মামলা করা হয়।
মামলার তদন্ত কর্মকর্তা দুদকের সহকারী পরিচালক আল-আমিন গত ৫ জানুয়ারি তার সাত দিনের রিমান্ড চেয়ে আবেদন করেন। আদালত আসামির উপস্থিতিতে শুনানির দিন বৃহস্পতিবার ধার্য করেন। এদিন শুনানিকালে তাকে আদালতে হাজির করা হয়।
দুদকের প্রসিকিউটর হাফিজুর রহমান রিমান্ডের পক্ষে যুক্তি তুলে ধরেন। আসামিপক্ষের আইনজীবী মো. রেজাউল করিম রিমান্ড আবেদন বাতিল ও জামিন চেয়ে আবেদন করেন।
শুনানি নিয়ে আদালত আবেদ আলীকে তিন দিনের রিমান্ডে পাঠানোর আদেশ দেয়।
রিমান্ড আবেদনে বলা হয়, আবেদ আলীর সঙ্গে বিভিন্ন ব্যক্তির ‘অস্বাভাবিক ও সন্দেহজনক’ ব্যাংকিং লেনদেন পাওয়া যায়। তার মধ্যে জাকারিয়া রহমানসহ একাধিক সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারী জড়িত আছেন মর্মে তথা পাওয়া যায়।
আবেদনে বলা হয়, আবেদ আলী বাংলাদেশ সরকারি কর্ম কমিশন সচিবালয়ের একজন গাড়িচালক (অবসরপ্রাপ্ত) হয়েও তিনি ‘সংঘবদ্ধ প্রশ্ন ফাঁস চক্রের সঙ্গে জড়িত ছিলেন’। অনেক সরকারি কর্মকর্তার সঙ্গে তার ‘যোগাযোগ ছিল এবং অনৈতিকভাবে’ চাকরি পেয়েছেন।
প্রাপ্ত তথ্য পর্যালোচনার কথা তুলে ধরে দুদক বলেছে, আবেদ আলীর কাছ থেকে মামলার গুরুত্বপূর্ণ তথ্য উপাত্ত পাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। এ অবস্থায়, মামলার সুষ্ঠু তদন্তের স্বার্থে, প্রকৃত তথ্য ও উপাত্ত সংগ্রহের জন্য, নিবিড়ভাবে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আসামির সাত দিনের রিমান্ড প্রয়োজন।
দুদকের মামলায় আবেদ আলীর বিরুদ্ধে অবৈধভাবে ৩ কোটি ৭২ লাখ ৯৯ হাজার ৯৯৭ টাকা আয়ের অভিযোগ আনা হয়েছে। এছাড়া তার ১২টি ব্যাংক অ্যাকাউন্টে ২০ কোটি ৮৮ লাখ ১৬ হাজার ৯৭১ টাকা জমা এবং ২০ কোটি ৪১ লাখ ৩ হাজার ৭৪১ কোটি টাকা উত্তোলনের তথ্য পাওয়ার কথা বলেছে সংস্থাটি।
আবেদ আলীর স্ত্রী শাহরিন আক্তার শিল্পী ও তার ছেলে সৈয়দ সোহানুর রহমান সিয়ামের বিরুদ্ধে আরও দুটি মামলা হয়েছে।
এর মধ্যে শিল্পীর বিরুদ্ধে ১ কোটি ২৬ লাখ ৬৩ হাজার টাকার জ্ঞাত আয়বহির্ভূত সম্পদ অর্জনের অভিযোগ আনা হয়েছে। তার দুটি ব্যাংক হিসাবে ১ কোটি ৭৮ লাখ ৭৬ হাজার ৬৩৬ টাকা জমা এবং ১ কোটি ৭৭ লাখ ৬৪ হাজার ৯৫ টাকা উত্তোলনের তথ্য পাওয়ার কথা বলেছে দুদক।
আর আবেদ আলীর ছেলে সৈয়দ সোহানুর রহমান সিয়ামের বিরুদ্ধে ৩ কোটি ৩০ লাখ টাকার জ্ঞাত আয় বহির্ভূত সম্পদ অর্জনের অভিযোগ আনা হয়েছে।
পিএসসির তথ্যানুযায়ী, আবেদ আলী ১৯৯৭ সালের ২ ডিসেম্বর গাড়িচালক হিসেবে সংস্থাটিতে যোগ দেন। ২০১৪ সালের ২২ এপ্রিলে নন-ক্যাডার তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের ‘সহকারী মেইনটেন্যান্স ইঞ্জিনিয়ার’ পদে লিখিত পরীক্ষায় লিখিত উত্তরপত্র সরবরাহ করার অভিযোগে তার বিরুদ্ধে বিভাগীয় মামলা হয় এবং অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ায় তিনি চাকরিচ্যুত হন।



















