ঢাকা ০৩:৩০ অপরাহ্ন, শনিবার, ১৭ জানুয়ারী ২০২৬, ৪ মাঘ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

আইসিজেতে রোহিঙ্গা গণহত্যার অভিযোগ অস্বীকার মিয়ানমারের

আন্তর্জাতিক ডেস্ক
  • আপডেট সময় ০১:৫৪:৪৭ অপরাহ্ন, শনিবার, ১৭ জানুয়ারী ২০২৬
  • / ১৪ বার পড়া হয়েছে

নেদারল্যান্ডসের হেগ শহরে জাতিসংঘের সর্বোচ্চ আদালত ইন্টারন্যাশনাল কোর্ট অব জাস্টিসে (আইসিজে) রোহিঙ্গা গণহত্যা মামলার শুনানিতে নিজেদের আত্মপক্ষ সমর্থন শুরু করেছে মিয়ানমার।

শুনানির প্রথম দিনে মিয়ানমার সরকারের প্রতিনিধি কো কো হ্লাইং তাদের বিরুদ্ধে আনা গণহত্যার অভিযোগ অস্বীকার করে দাবি করেছেন, গাম্বিয়া এই অভিযোগের সপক্ষে পর্যাপ্ত প্রমাণ উপস্থাপন করতে ব্যর্থ হয়েছে।

তিনি আদালতকে বলেন, মিয়ানমারের বিরুদ্ধে আনা এই অভিযোগগুলো সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন এবং প্রমাণের অভাবে তা টেকসই নয়।

এর আগে চলতি সপ্তাহের শুরুর দিকে গাম্বিয়ার পররাষ্ট্রমন্ত্রী দাওদা জ্যালো আদালতে অভিযোগ করেছিলেন যে মিয়ানমার পরিকল্পিত ‘গণহত্যামূলক নীতি’ গ্রহণের মাধ্যমে দেশটিতে বসবাসরত সংখ্যালঘু মুসলিম জনগোষ্ঠীকে সম্পূর্ণ নির্মূল করতে চেয়েছিল।

২০১৭ সালে মিয়ানমার সেনাবাহিনীর বর্বর অভিযানে হাজার হাজার রোহিঙ্গা নিহত হন। প্রায় ৭ লাখ ৪০ হাজারেরও বেশি মানুষ প্রাণ বাঁচাতে প্রতিবেশী বাংলাদেশে আশ্রয় নিতে বাধ্য হন। ২০১৮ সালে জাতিসংঘের এক তদন্ত প্রতিবেদনে মিয়ানমারের শীর্ষ সামরিক কর্মকর্তাদের রাখাইন রাজ্যে গণহত্যা এবং অন্যান্য এলাকায় মানবতাবিরোধী অপরাধের জন্য তদন্তের আওতায় আনার সুপারিশ করা হয়েছিল।

মিয়ানমার সরকার অবশ্য শুরু থেকেই এই অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করে আসছে। বর্তমানে দেশটির সামরিক জান্তা সরকারের দাবি, তাদের সামরিক অভিযান মূলত সশস্ত্র বিদ্রোহী এবং সন্ত্রাসী গোষ্ঠীকে লক্ষ্য করে পরিচালিত হয়েছিল।

শুক্রবার (১৬ জানুয়ারি) আইসিজে-তে শুনানির সময় কো কো হ্লাইং সাফ জানিয়ে দেন যে রাখাইনে সন্ত্রাসীদের অবাধ বিচরণ দেখে মিয়ানমার হাত গুটিয়ে বসে থাকতে বাধ্য ছিল না। তার ভাষ্যমতে, তথাকথিত ‘ক্লিয়ারেন্স অপারেশন’ ছিল একটি সামরিক পরিভাষা, যা মূলত বিদ্রোহ দমন বা সন্ত্রাসবাদবিরোধী অভিযানের ক্ষেত্রে ব্যবহৃত হয়।

২০২১ সালে বেসামরিক সরকারকে ক্ষমতাচ্যুত করে সামরিক বাহিনী ক্ষমতা দখলের পর এই প্রথম তারা আন্তর্জাতিক আদালতে এমন গুরুত্বপূর্ণ আইনি লড়াইয়ের মুখোমুখি হলো। এই মামলার রায় আন্তর্জাতিক অঙ্গনে মিয়ানমারের অবস্থান এবং রোহিঙ্গাদের ন্যায়বিচারের ক্ষেত্রে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে বলে মনে করা হচ্ছে। – সূত্র: বিবিসি

নিউজটি শেয়ার করুন

আইসিজেতে রোহিঙ্গা গণহত্যার অভিযোগ অস্বীকার মিয়ানমারের

আপডেট সময় ০১:৫৪:৪৭ অপরাহ্ন, শনিবার, ১৭ জানুয়ারী ২০২৬

নেদারল্যান্ডসের হেগ শহরে জাতিসংঘের সর্বোচ্চ আদালত ইন্টারন্যাশনাল কোর্ট অব জাস্টিসে (আইসিজে) রোহিঙ্গা গণহত্যা মামলার শুনানিতে নিজেদের আত্মপক্ষ সমর্থন শুরু করেছে মিয়ানমার।

শুনানির প্রথম দিনে মিয়ানমার সরকারের প্রতিনিধি কো কো হ্লাইং তাদের বিরুদ্ধে আনা গণহত্যার অভিযোগ অস্বীকার করে দাবি করেছেন, গাম্বিয়া এই অভিযোগের সপক্ষে পর্যাপ্ত প্রমাণ উপস্থাপন করতে ব্যর্থ হয়েছে।

তিনি আদালতকে বলেন, মিয়ানমারের বিরুদ্ধে আনা এই অভিযোগগুলো সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন এবং প্রমাণের অভাবে তা টেকসই নয়।

এর আগে চলতি সপ্তাহের শুরুর দিকে গাম্বিয়ার পররাষ্ট্রমন্ত্রী দাওদা জ্যালো আদালতে অভিযোগ করেছিলেন যে মিয়ানমার পরিকল্পিত ‘গণহত্যামূলক নীতি’ গ্রহণের মাধ্যমে দেশটিতে বসবাসরত সংখ্যালঘু মুসলিম জনগোষ্ঠীকে সম্পূর্ণ নির্মূল করতে চেয়েছিল।

২০১৭ সালে মিয়ানমার সেনাবাহিনীর বর্বর অভিযানে হাজার হাজার রোহিঙ্গা নিহত হন। প্রায় ৭ লাখ ৪০ হাজারেরও বেশি মানুষ প্রাণ বাঁচাতে প্রতিবেশী বাংলাদেশে আশ্রয় নিতে বাধ্য হন। ২০১৮ সালে জাতিসংঘের এক তদন্ত প্রতিবেদনে মিয়ানমারের শীর্ষ সামরিক কর্মকর্তাদের রাখাইন রাজ্যে গণহত্যা এবং অন্যান্য এলাকায় মানবতাবিরোধী অপরাধের জন্য তদন্তের আওতায় আনার সুপারিশ করা হয়েছিল।

মিয়ানমার সরকার অবশ্য শুরু থেকেই এই অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করে আসছে। বর্তমানে দেশটির সামরিক জান্তা সরকারের দাবি, তাদের সামরিক অভিযান মূলত সশস্ত্র বিদ্রোহী এবং সন্ত্রাসী গোষ্ঠীকে লক্ষ্য করে পরিচালিত হয়েছিল।

শুক্রবার (১৬ জানুয়ারি) আইসিজে-তে শুনানির সময় কো কো হ্লাইং সাফ জানিয়ে দেন যে রাখাইনে সন্ত্রাসীদের অবাধ বিচরণ দেখে মিয়ানমার হাত গুটিয়ে বসে থাকতে বাধ্য ছিল না। তার ভাষ্যমতে, তথাকথিত ‘ক্লিয়ারেন্স অপারেশন’ ছিল একটি সামরিক পরিভাষা, যা মূলত বিদ্রোহ দমন বা সন্ত্রাসবাদবিরোধী অভিযানের ক্ষেত্রে ব্যবহৃত হয়।

২০২১ সালে বেসামরিক সরকারকে ক্ষমতাচ্যুত করে সামরিক বাহিনী ক্ষমতা দখলের পর এই প্রথম তারা আন্তর্জাতিক আদালতে এমন গুরুত্বপূর্ণ আইনি লড়াইয়ের মুখোমুখি হলো। এই মামলার রায় আন্তর্জাতিক অঙ্গনে মিয়ানমারের অবস্থান এবং রোহিঙ্গাদের ন্যায়বিচারের ক্ষেত্রে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে বলে মনে করা হচ্ছে। – সূত্র: বিবিসি