মোহাম্মদপুর-ধানমন্ডিতে ৯ হত্যা
তাপস ও নানকসহ ২৪ জনের বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা
- আপডেট সময় ০৩:০৪:৪২ অপরাহ্ন, রবিবার, ১৮ জানুয়ারী ২০২৬
- / ২১ বার পড়া হয়েছে
জুলাই গণঅভ্যুত্থানের সময় বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনকারী মোহাম্মদ ফারহানুল ইসলাম ভূঁইয়া ওরফে ফারহান ফাইয়াজসহ নয়জনকে হত্যার মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় আওয়ামী লীগ সরকারের আমলের ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের সাবেক মেয়য় ব্যারিস্টার শেখ ফজলে নূর তাপস ও নানকসহ ২৪ আসামির বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করা হয়েছে। আসামিদের গ্রেফতার অথবা তাদের গ্রেফতার করে উপস্থিত করতে বলা হয়েছে।
এ বিষয়ে অগ্রগতি প্রতিবেদন জানানোর জন্য আগামী ২৯ জানুয়ারি দিন ঠিক করেছেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল।
এই সংক্রান্ত বিশেষ শুনানি নিয়ে রোববার (১৮ জানুয়ারি) ট্রাইব্যুনাল-১ এর চেয়ারম্যান বিচারপতি মো. গোলাম মর্তূজা মজুমদারের নেতৃত্বাধীন তিন সদস্যের আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের বিচারিক প্যানেল এ আদেশ দেন। অপর সদস্যরা হলেন, বিচারপতি মো. শফিউল আলম মাহমুদ এবং অবসরপ্রাপ্ত জেলা ও দায়রা জজ মো. মোহিতুল হক এনাম চৌধুরী।
আদালতে আজ রাষ্ট্রপক্ষে শুনানি করেন চিফ প্রসিকিউটর মোহাম্মদ তাজুল ইসলাম। তাকে সহযোগিতা করেছেন প্রসিকিউটর গাজি এমএইচ তামিম। উপস্থিত ছিলেন প্রসিকিউটর আব্দুস সাত্তার পালোয়ান, প্রসিকিউটর শহীদুল ইসলাম সরদার, প্রসিকিউটর শাইখ মাহাদী, প্রসিকিউটর আব্দুল্লাহ আল মামুন। এ সময় উপস্থিত ছিলেন মাহমুদুর রহমান সৈকতের বোন সাবরিনা আফরোজ সেবন্তি।
আসামিদের মধ্যে অন্যতম সাবেক বস্ত্র ও পাটমন্ত্রী জাহাঙ্গীর কবির নানক, ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের তৎকালীন মেয়র শেখ ফজলে নূর তাপস, ডিএমপির তৎকালীন কমিশনার হাবিবুর রহমান, সাবেক অ্যাডিশনাল ডিআইজি প্রলয় কুমার জোয়ারদার, ডিএমপির সাবেক যুগ্ম পুলিশ কমিশনার বিপ্লব কুমার সরকারসহ কার্যক্রম নিষিদ্ধ স্থানীয় আওয়ামী লীগ, যুবলীগ ও ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা।
মামলায় মোট ২৮ আসামির মধ্যে বর্তমানে গ্রেফতার হয়ে কারাগারে রয়েছেন চারজন। তারা হলেন, নিষিদ্ধ ছাত্রলীগের মোহাম্মদপুর থানা শাখা সভাপতি নাঈমুল হাসান রাসেল, সহ-সভাপতি সাজ্জাদ হোসেন, ওমর ফারুক ও ফজলে রাব্বি। এর আগে রোববার সকালে মামলায় মোট ২৮ আসামির বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ (ফরমাল চার্জ) দাখিল করেন রাষ্ট্রপক্ষের প্রসিকিউশন।
এ মামলায় ৯ জনকে হত্যাসহ তিনটি অভিযোগ আনেন রাষ্ট্রপক্ষের প্রসিকিউশন। ট্রাইব্যুনালে তাদের এসব অভিযোগ পড়ে শোনান চিফ প্রসিকিউটর মোহাম্মদ তাজুল ইসলাম। শুনানিতে তিনি বলেন, ২০২৪ সালের ১৮ ও ১৯ জুলাই ছাত্র-জনতার আন্দোলনে নৃশংসতা চালায় আওয়ামী লীগ, ছাত্রলীগ ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। এ ঘটনায় তদন্তের পরিপ্রেক্ষিতে ২৮ জনের বিরুদ্ধে প্রতিবেদন জমা দেয় তদন্ত সংস্থা। প্রতিবেদনটি যাচাই-বাছাই শেষে আজ আসামিদের বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ (ফরমাল চার্জ) দাখিল করা হয় আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে।
চিফ প্রসিকিউটর বলেন, আসামিদের উসকানি-প্ররোচনা ও প্রত্যক্ষ-পরোক্ষ উপস্থিতিতে জুলাই আন্দোলনে নিরীহ ছাত্র-জনতার ওপর গুলি চালানো হয়। এতে মাহমুদুর রহমান সৈকত, ফারহান ফাইয়াজসহ ৯ জন শহীদ হন। আহত হন আরও অনেকে। যার পর্যাপ্ত তথ্যপ্রমাণ আমাদের হাতে রয়েছে। এছাড়া ৫০ জন সাক্ষী রয়েছেন।
অভিযোগ পড়ে শুনানি শেষে আসামিদের বিরুদ্ধে অভিযোগ আমলে নেওয়ার আবেদন করেন চিফ প্রসিকিউটর। পরে অভিযোগ আমলে নেন ট্রাইব্যুনাল। এছাড়া পলাতক আসামিদের বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করে পরবর্তী শুনানি ও আদেশের জন্য আগামী ২৯ জানুয়ারি হাজিরের দিন ধার্য করা হয়েছে।
ঘটনার তারিখ ও সময় ১৮ জুলাই সকাল থেকে সন্ধ্যা সাতটা এবং ধানমন্ডি ২৭ নম্বর এলাকা ঘটনাস্থল হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে আবেদনে।
অভিযোগে বলা হয়, ২০২৪ সালের ১৮ জুলাই রাজধানীর ধানমন্ডি ২৭ নম্বর এলাকার রাপা প্লাজার সামনে মূল সড়কে কোটা সংস্কারের দাবিতে আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীরা অবস্থান নিয়ে বিক্ষোভ শুরু করেন। সেখানে ধানমন্ডি এলাকার কয়েকটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীরা অংশ নেন।
আন্দোলনকারীদের সঙ্গে মোহাম্মদ ফারহানুল ইসলাম ভূঁইয়া ওরফে ফারহান ফাইয়াজ ও তার সহপাঠী/বন্ধুরা অংশ নেন। সকাল থেকেই কোটা সংস্কারের দাবিতে আন্দোলনকারীদের ওপর আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্য, আওয়ামী লীগ, যুবলীগ, ছাত্রলীগ, স্বেচ্ছাসেবক লীগের নেতাকর্মীরা হামলা চালান।
দফায় দফায় সংঘর্ষ শুরু হয়। ওই সংঘর্ষে ঢাকা রেসিডেনসিয়াল মডেল কলেজের এইচএসসি ২৫তম ব্যাচের শিক্ষার্থী ফারহান ফাইয়াজ আনুমানিক দুপুর দুইটা/আড়াটায় গুলিবিদ্ধ হয়। ফারহানের বন্ধুরা গুলিবিদ্ধ অবস্থায় তাকে লালমাটিয়ায় অবস্থিত সিটি হাসপাতালে নিয়ে গেলে চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।



















