ঢাকা ০৮:৩৫ অপরাহ্ন, রবিবার, ২৫ জানুয়ারী ২০২৬, ১২ মাঘ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
কারাগারে নিষিদ্ধ ছাত্রলীগ নেতার স্ত্রী ও সন্তানের লাশ

প্যারোলে মুক্তির আবেদনেই করেনি নিষিদ্ধ ছাত্রলীগ নেতার পরিবার: জেলা প্রশাসক

স্টাফ রিপোর্টার
  • আপডেট সময় ০৩:১৩:৩৬ অপরাহ্ন, রবিবার, ২৫ জানুয়ারী ২০২৬
  • / ২৯ বার পড়া হয়েছে

নিষিদ্ধ ছাত্রলীগ নেতাকে প্যারোলে মুক্তি না দিয়ে কারাফটকে স্ত্রী-সন্তানের মরদেহ নেওয়ার ঘটনায় দেশজুড়ে শুরু হয়েছে তুমুল সমালোচনা। শনিবার (২৪ জানুয়ারি) সন্ধ্যায় যশোর কেন্দ্রীয় কারাগার ফটকের সামনে দাঁড়ানো সেই অ্যাম্বুলেন্সে ছিল ছাত্রলীগ নেতা জুয়েল হাসান সাদ্দামের স্ত্রী ও ৯ মাস বয়সী পুত্রের মরদেহ।

অভিযোগ উঠেছে, সাদ্দামের প্যারোলে মুক্তির আবেদন করেছিল পরিবার। কিন্তু শেষ পর্যন্ত মরদেহ নিয়েই তাদের জেলগেটে আসতে হয়।

তবে ‘জুয়েলের পরিবার থেকে যথাযথ কর্তৃপক্ষ বরাবর প্যারোলে মুক্তি সংক্রান্ত কোনো আবেদনই করা হয়নি’ বলে জানিয়েছেন যশোর জেলা প্রশাসক।

রোববার (২৫ জানুয়ারি) যশোর জেলা প্রশাসক কার্যালয়ের সহকারী কমিশনার আশীষ কুমার দাস স্বাক্ষরিত বিবৃতিতে এ দাবি করা হয়।

বিবৃতিতে বলা হয়, বাগেরহাট কারাগার থেকে গত ১৫ ডিসেম্বর যশোর কেন্দ্রীয় কারাগারে আগত বন্দি জুয়েল হাসান সাদ্দাম নামক ব্যক্তির স্ত্রী ও সন্তান মৃত্যুর ঘটনায় পরিবারের পক্ষ থেকে জেলা ম্যাজিস্ট্রেট কিংবা যশোর কেন্দ্রীয় কারাগার কর্তৃপক্ষ বরাবর প্যারোলে মুক্তির কোনো ধরনের আবেদন করা হয়নি।

বরং বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমে পরিবারের বক্তব্য থেকে জানা যায়, সময় স্বল্পতার কারণে তাদের পারিবারিক সিদ্ধান্তে প্যারোলে মুক্তির আবেদন না করে জেল গেটে লাশ দেখানোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।ফেসবুকের বিভিন্ন পোস্টে উল্লিখিত বন্দির স্ত্রীকে লিখিত চিঠি, কারাগারে বন্দি অবস্থায় ছবি দেখা যাচ্ছে যা যশোর কেন্দ্রীয় কারাগারের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট নয়।

এছাড়া আবেদনের পরেও প্যারোলে মুক্তি দেওয়া হয়নি এ ধরনের তথ্যও মিথ্যা উল্লেখ করে জেলা প্রশাসন বলছে, কারণ যশোর জেলা ম্যাজিস্ট্রেট বরাবর প্যারোলে মুক্তি সংক্রান্ত কোনো আবেদনই করা হয়নি। বরং পরিবারের মৌখিক আবেদনের প্রেক্ষিতে কারা কর্তৃপক্ষ ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সঙ্গে কথা বলে মানবিক দিক বিবেচনায় কারা ফটকে লাশ দেখানোর ব্যবস্থা করে।

বিষয়টি সকলের জ্ঞাতার্থে জানিয়ে সত্যনিষ্ঠ সংবাদ প্রকাশে অনুরোধ করেছে যশোর জেলা প্রশাসন।

উল্লেখ্য, শুক্রবার (২৩ জানুয়ারি) সদর উপজেলার সাবেকডাঙ্গা গ্রাম থেকে গৃহবধূ কানিজ সুবর্ণার (২২) ঝুলন্ত মরদেহ ও তার ৯ মাস বয়সী ছেলে সেজাদ হাসানের নিথর দেহ উদ্ধার করে পুলিশ। কানিজ সুবর্ণা বাগেরহাট সদর উপজেলা নিষিদ্ধ ঘোষিত সংগঠন ছাত্রলীগের সভাপতি জুয়েল হাসানের স্ত্রী। জুয়েল বর্তমানে যশোর জেলা কারাগারে আছেন।

শনিবার দুপুরে বাগেরহাট জেলা হাসপাতালে ময়নাতদন্ত শেষে মা ও ছেলের মরদেহ সাবেকডাঙ্গা গ্রামে সুবর্ণার বাবার বাড়িতে আনা হয়। পরে বিকাল সোয়া চারটার দিকে লাশবাহী গাড়িতে করে লাশ যশোর কেন্দ্রীয় কারাগারে নেওয়া হয়। সেখানে স্ত্রী-সন্তানের লাশ শেষবারের মতো দেখেন জুয়েল।

কারা কর্তৃপক্ষ জানায়, মরদেহবাহী অ্যাম্বুলেন্সের সঙ্গে জুয়েলের পরিবারের ছয় সদস্যকে কারা ফটকে প্রবেশ করতে দেওয়া হয়।

নিউজটি শেয়ার করুন

কারাগারে নিষিদ্ধ ছাত্রলীগ নেতার স্ত্রী ও সন্তানের লাশ

প্যারোলে মুক্তির আবেদনেই করেনি নিষিদ্ধ ছাত্রলীগ নেতার পরিবার: জেলা প্রশাসক

আপডেট সময় ০৩:১৩:৩৬ অপরাহ্ন, রবিবার, ২৫ জানুয়ারী ২০২৬

নিষিদ্ধ ছাত্রলীগ নেতাকে প্যারোলে মুক্তি না দিয়ে কারাফটকে স্ত্রী-সন্তানের মরদেহ নেওয়ার ঘটনায় দেশজুড়ে শুরু হয়েছে তুমুল সমালোচনা। শনিবার (২৪ জানুয়ারি) সন্ধ্যায় যশোর কেন্দ্রীয় কারাগার ফটকের সামনে দাঁড়ানো সেই অ্যাম্বুলেন্সে ছিল ছাত্রলীগ নেতা জুয়েল হাসান সাদ্দামের স্ত্রী ও ৯ মাস বয়সী পুত্রের মরদেহ।

অভিযোগ উঠেছে, সাদ্দামের প্যারোলে মুক্তির আবেদন করেছিল পরিবার। কিন্তু শেষ পর্যন্ত মরদেহ নিয়েই তাদের জেলগেটে আসতে হয়।

তবে ‘জুয়েলের পরিবার থেকে যথাযথ কর্তৃপক্ষ বরাবর প্যারোলে মুক্তি সংক্রান্ত কোনো আবেদনই করা হয়নি’ বলে জানিয়েছেন যশোর জেলা প্রশাসক।

রোববার (২৫ জানুয়ারি) যশোর জেলা প্রশাসক কার্যালয়ের সহকারী কমিশনার আশীষ কুমার দাস স্বাক্ষরিত বিবৃতিতে এ দাবি করা হয়।

বিবৃতিতে বলা হয়, বাগেরহাট কারাগার থেকে গত ১৫ ডিসেম্বর যশোর কেন্দ্রীয় কারাগারে আগত বন্দি জুয়েল হাসান সাদ্দাম নামক ব্যক্তির স্ত্রী ও সন্তান মৃত্যুর ঘটনায় পরিবারের পক্ষ থেকে জেলা ম্যাজিস্ট্রেট কিংবা যশোর কেন্দ্রীয় কারাগার কর্তৃপক্ষ বরাবর প্যারোলে মুক্তির কোনো ধরনের আবেদন করা হয়নি।

বরং বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমে পরিবারের বক্তব্য থেকে জানা যায়, সময় স্বল্পতার কারণে তাদের পারিবারিক সিদ্ধান্তে প্যারোলে মুক্তির আবেদন না করে জেল গেটে লাশ দেখানোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।ফেসবুকের বিভিন্ন পোস্টে উল্লিখিত বন্দির স্ত্রীকে লিখিত চিঠি, কারাগারে বন্দি অবস্থায় ছবি দেখা যাচ্ছে যা যশোর কেন্দ্রীয় কারাগারের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট নয়।

এছাড়া আবেদনের পরেও প্যারোলে মুক্তি দেওয়া হয়নি এ ধরনের তথ্যও মিথ্যা উল্লেখ করে জেলা প্রশাসন বলছে, কারণ যশোর জেলা ম্যাজিস্ট্রেট বরাবর প্যারোলে মুক্তি সংক্রান্ত কোনো আবেদনই করা হয়নি। বরং পরিবারের মৌখিক আবেদনের প্রেক্ষিতে কারা কর্তৃপক্ষ ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সঙ্গে কথা বলে মানবিক দিক বিবেচনায় কারা ফটকে লাশ দেখানোর ব্যবস্থা করে।

বিষয়টি সকলের জ্ঞাতার্থে জানিয়ে সত্যনিষ্ঠ সংবাদ প্রকাশে অনুরোধ করেছে যশোর জেলা প্রশাসন।

উল্লেখ্য, শুক্রবার (২৩ জানুয়ারি) সদর উপজেলার সাবেকডাঙ্গা গ্রাম থেকে গৃহবধূ কানিজ সুবর্ণার (২২) ঝুলন্ত মরদেহ ও তার ৯ মাস বয়সী ছেলে সেজাদ হাসানের নিথর দেহ উদ্ধার করে পুলিশ। কানিজ সুবর্ণা বাগেরহাট সদর উপজেলা নিষিদ্ধ ঘোষিত সংগঠন ছাত্রলীগের সভাপতি জুয়েল হাসানের স্ত্রী। জুয়েল বর্তমানে যশোর জেলা কারাগারে আছেন।

শনিবার দুপুরে বাগেরহাট জেলা হাসপাতালে ময়নাতদন্ত শেষে মা ও ছেলের মরদেহ সাবেকডাঙ্গা গ্রামে সুবর্ণার বাবার বাড়িতে আনা হয়। পরে বিকাল সোয়া চারটার দিকে লাশবাহী গাড়িতে করে লাশ যশোর কেন্দ্রীয় কারাগারে নেওয়া হয়। সেখানে স্ত্রী-সন্তানের লাশ শেষবারের মতো দেখেন জুয়েল।

কারা কর্তৃপক্ষ জানায়, মরদেহবাহী অ্যাম্বুলেন্সের সঙ্গে জুয়েলের পরিবারের ছয় সদস্যকে কারা ফটকে প্রবেশ করতে দেওয়া হয়।