ঢাকা ০৯:৪৭ অপরাহ্ন, রবিবার, ২৫ জানুয়ারী ২০২৬, ১২ মাঘ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
‘স্বচ্ছতা, দায়বদ্ধতা এবং শাসন প্রক্রিয়া’ শীর্ষক সংলাপে বক্তারা

“রাষ্ট্র সংস্কারের চেয়ে রাজনৈতিক দলের সংস্কার বেশি জরুরি”

নিজস্ব সংবাদ :
  • আপডেট সময় ০৫:১১:১৬ অপরাহ্ন, রবিবার, ২৫ জানুয়ারী ২০২৬
  • / ২২ বার পড়া হয়েছে

গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রে প্রশাসনিক স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতার পাশাপাশি রাজনৈতিক দলগুলোর অভ্যন্তরীণ সংস্কার জরুরি, এমন অভিমত উঠে এসেছে রাজধানীতে আয়োজিত এক সংলাপে। বক্তারা বলেন, রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠান সংস্কারের আলোচনা যতই গুরুত্বপূর্ণ হোক না কেন, রাজনৈতিক দলগুলোর ভেতরে স্বচ্ছতা, দায়বদ্ধতা ও গণতান্ত্রিক চর্চা প্রতিষ্ঠা না হলে কাক্সিক্ষত শাসনব্যবস্থা নিশ্চিত করা সম্ভব নয়।

গতকাল শনিবার (২৪ জানুয়ারি) রাজধানীর সিরডাপে সেন্টার ফর গভর্ন্যান্স স্টাডিজ (সিজিএস) আয়োজিত ‘স্বচ্ছতা, দায়বদ্ধতা এবং শাসন প্রক্রিয়া’ শীর্ষক সংলাপে বক্তারা এসব মতামত তুলে ধরেন। আসন্ন নির্বাচনকে সামনে রেখে একটি জনমুখী, জবাবদিহিমূলক ও দুর্নীতিমুক্ত শাসনব্যবস্থা গড়ে তোলার পথ ও প্রতিবন্ধকতা নিয়েও আলোচনায় গুরুত্ব দেয়া হয়। সংলাপে আলোচক হিসেবে অংশ নেন অর্থনীতিবিদ সেলিম জাহান, অ্যাডভোকেট সুব্রত চৌধুরী, বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান আসাদুজ্জামান রিপন, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের আইন ও মানবাধিকার সম্পাদক মুহাম্মদ শওকত আলী হাওলাদার, জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) সাবেক চেয়ারম্যান মুহাম্মদ আব্দুল মজিদ, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ব্যাংকিং অ্যান্ড ইন্সু্যুরেন্স বিভাগের অধ্যাপক শহীদুল ইসলাম জাহিদ, কৃষক দলের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাহমুদা হাবিবা, এবি পার্টির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ব্যারিস্টার নাসরিন সুলতানা মিলি, রাষ্ট্র সংস্কার আন্দোলনের যুগ্ম সম্পাদক দিদার ভুঁইয়া, সাবেক সচিব ও বিপিএটিসির সাবেক রেক্টর এ কে এম আব্দুল আউয়াল মজুমদার, জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের সরকার ও রাজনীতি বিভাগের অধ্যাপক শামসুন নাহার খানম, বিএনপির সাবেক সংসদ সদস্য নিলুফার চৌধুরী মনি, বাংলাদেশের সমাজতান্ত্রিক দলের (বাসদ) সাধারণ সম্পাদক বজলুর রশীদ ফিরোজ, সিজিএসের নির্বাহী পরিচালক পারভেজ করিম আব্বাসী এবং সিজিএসের সভাপতি জিল্লুর রহমান।

সংলাপের সভাপতির বক্তব্যে সিজিএসের সভাপতি জিল্লুর রহমান বলেন, স্বচ্ছতা ও দায়বদ্ধতার প্রশ্নটি সাধারণত প্রশাসনিক দৃষ্টিকোণ থেকে আলোচিত হয়; কিন্তু একটি গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রে এটি কেবল প্রশাসনিক বিষয় নয়। এটি সরাসরি রাজনৈতিক ক্ষমতার প্রয়োগ, নাগরিক অধিকার এবং রাষ্ট্র-নাগরিক সম্পর্কের সাথে যুক্ত। তিনি বলেন, প্রশ্ন শুধু শাসন প্রক্রিয়ার দক্ষতা নয়, এই প্রক্রিয়া কাদের জন্য, কিভাবে এবং কোন দায়বদ্ধতার কাঠামোর মধ্যে পরিচালিত হচ্ছে, সেটিই মূল বিষয়। তিনি আরো বলেন, রাজনৈতিক দলগুলোর দায়বদ্ধতা ও অভ্যন্তরীণ স্বচ্ছতা উপেক্ষা করলে গণতান্ত্রিক কাঠামো দুর্বল হয়ে পড়ে। নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি যদি বাস্তবায়নের কোনো দায় না থাকে, তাহলে জনগণের আস্থা নষ্ট হয় এবং নির্বাচন-পরবর্তী সময়ে এই সংকট আরও প্রকট হয়ে ওঠে।

অর্থনীতিবিদ সেলিম জাহান বলেন, নির্বাচিত সরকার কোনো দলের সরকার নয়; এটি পুরো দেশের সরকার। সরকার যদি জনগণের স্বার্থের বিরুদ্ধে অবস্থান নেয়, তাহলে তা সংশোধন করতে হবে। তিনি বলেন, দায়বদ্ধতা বাইরে থেকে চাপিয়ে দেয়া যায় না, এটি নৈতিকতার জায়গা থেকে নিজেকেই নিশ্চিত করতে হয়। এ জন্য ওপর থেকে নিচ পর্যন্ত দায়বদ্ধতার সংস্কৃতি গড়ে তোলা জরুরি। তিনি আরো বলেন, সরকারের প্রতিটি কাজের জন্য জবাবদিহির কাঠামো থাকতে হবে। দায়িত্ব লঙ্ঘনের ক্ষেত্রে কী শাস্তি হবে, সেটিও স্পষ্ট থাকতে হবে। বিচার বিভাগের স্বাধীনতা ছাড়া আইনের শাসন সম্ভব নয়, আর আইনের শাসন নিরপেক্ষ না হলে বিচার বিভাগও স্বাধীন থাকতে পারে না।

এনবিআরের সাবেক চেয়ারম্যান মুহাম্মদ আব্দুল মজিদ বলেন, শুধু আলোচনা নয়, বাস্তবে মাঠে নামতে হবে। দায়িত্ব নিতে হবে নিজেদের কাঁধে। তিনি বলেন, সরকারকে ভেতরের ও বাইরের সব চ্যালেঞ্জের বিষয়ে আন্তরিক ও সতর্ক থাকতে হবে। নিজের অভিজ্ঞতা তুলে ধরে তিনি বলেন, একসময় সংসদ সদস্যদের সম্পদের বিবরণ প্রকাশের উদ্যোগ নেয়া হলেও পরে তা বন্ধ করে দেয়া হয়, যা রাজনৈতিক সদিচ্ছার অভাবকেই নির্দেশ করে।

বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান আসাদুজ্জামান রিপন বলেন, বর্তমান বৈশ্বিক বাস্তবতায় ছোট দেশগুলোতে স্বচ্ছতা ও দায়বদ্ধতা টিকে থাকবে কি না, তা নিয়ে সন্দেহ রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের একটি নির্দিষ্ট রাজনৈতিক দলের সাথে সম্পর্ক নিয়ে প্রশ্ন তুলে তিনি বলেন, দ্বৈত নাগরিকত্বের আইন কঠোরভাবে প্রয়োগ করা জরুরি। রাজনৈতিক নেতাদের হলফনামা বাস্তবায়নও নিশ্চিত করতে হবে।

বাসদের সাধারণ সম্পাদক বজলুর রশীদ ফিরোজ বলেন, স্বাধীনতার ৫৪ বছর ধরে স্বচ্ছতা ও শাসন সংস্কার নিয়ে আলোচনা হলেও বাস্তব পরিবর্তন হয়নি। অন্তর্বর্তীকালীন সরকার জাতির কাছে দায়বদ্ধ হলেও কোনো দলের কাছে নয়, এ কথা স্মরণ করিয়ে দিয়ে তিনি বলেন, উপদেষ্টাদের সম্পদের হিসাব প্রকাশ না হওয়ায় আস্থাহীনতা তৈরি হয়েছে। অন্তর্বর্তী সরকারের দুর্নীতি নিয়েও শ্বেতপত্র প্রকাশের দাবি জানান তিনি।

অ্যাডভোকেট সুব্রত চৌধুরী বলেন, স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা যদি রাজনৈতিক দলগুলোর ভেতরে না থাকে, তাহলে সাধারণ মানুষের জীবনে তা কিভাবে প্রতিফলিত হবে? তিনি বলেন, পুরো রাষ্ট্রই অসুস্থ হয়ে পড়েছে। রাজনৈতিক দলের ভাষা ও আচরণ সংস্কার না হলে রাষ্ট্র সংস্কারের আলোচনা অর্থহীন। রাষ্ট্র সংস্কারের চেয়ে রাজনৈতিক দলের সংস্কারই এখন বেশি জরুরি। বিএনপির সাবেক সংসদ সদস্য নিলুফার চৌধুরী মনি বলেন, স্বচ্ছতা ও দায়বদ্ধতা আদৌ কতটা আছে, তা নিয়েই প্রশ্ন। তিনি বলেন, গণমাধ্যম ও বিচার বিভাগের স্বাধীনতা এখনো প্রশ্নবিদ্ধ। নির্বাচনের সময় প্রতিশ্রুতি দেয়া হলেও পরে তা আর বাস্তবায়িত হয় না। হলফনামায় তথ্য গোপন এবং ঋণখেলাপি আইনপ্রণেতাদের উপস্থিতি ভবিষ্যৎ নিয়ে গভীর উদ্বেগ তৈরি করছে।

সিজিএসের নির্বাহী পরিচালক পারভেজ করিম আব্বাসী বলেন, নির্বাচিত সরকারগুলো সাধারণত সংস্কারে আগ্রহী হয় না। তারা দ্রুত প্রতিশ্রুতি ভুলে যায়। বন্দর লিজ, সামরিক বিমান ক্রয় কিংবা গুরুত্বপূর্ণ নীতিনির্ধারণে স্বচ্ছতার অভাব রয়েছে বলে তিনি মন্তব্য করেন। নির্বাচন নিয়েও জনগণের আস্থার সঙ্কট কাটেনি বলেও তিনি উল্লেখ করেন।

ট্যাগস :

নিউজটি শেয়ার করুন

‘স্বচ্ছতা, দায়বদ্ধতা এবং শাসন প্রক্রিয়া’ শীর্ষক সংলাপে বক্তারা

“রাষ্ট্র সংস্কারের চেয়ে রাজনৈতিক দলের সংস্কার বেশি জরুরি”

আপডেট সময় ০৫:১১:১৬ অপরাহ্ন, রবিবার, ২৫ জানুয়ারী ২০২৬

গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রে প্রশাসনিক স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতার পাশাপাশি রাজনৈতিক দলগুলোর অভ্যন্তরীণ সংস্কার জরুরি, এমন অভিমত উঠে এসেছে রাজধানীতে আয়োজিত এক সংলাপে। বক্তারা বলেন, রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠান সংস্কারের আলোচনা যতই গুরুত্বপূর্ণ হোক না কেন, রাজনৈতিক দলগুলোর ভেতরে স্বচ্ছতা, দায়বদ্ধতা ও গণতান্ত্রিক চর্চা প্রতিষ্ঠা না হলে কাক্সিক্ষত শাসনব্যবস্থা নিশ্চিত করা সম্ভব নয়।

গতকাল শনিবার (২৪ জানুয়ারি) রাজধানীর সিরডাপে সেন্টার ফর গভর্ন্যান্স স্টাডিজ (সিজিএস) আয়োজিত ‘স্বচ্ছতা, দায়বদ্ধতা এবং শাসন প্রক্রিয়া’ শীর্ষক সংলাপে বক্তারা এসব মতামত তুলে ধরেন। আসন্ন নির্বাচনকে সামনে রেখে একটি জনমুখী, জবাবদিহিমূলক ও দুর্নীতিমুক্ত শাসনব্যবস্থা গড়ে তোলার পথ ও প্রতিবন্ধকতা নিয়েও আলোচনায় গুরুত্ব দেয়া হয়। সংলাপে আলোচক হিসেবে অংশ নেন অর্থনীতিবিদ সেলিম জাহান, অ্যাডভোকেট সুব্রত চৌধুরী, বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান আসাদুজ্জামান রিপন, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের আইন ও মানবাধিকার সম্পাদক মুহাম্মদ শওকত আলী হাওলাদার, জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) সাবেক চেয়ারম্যান মুহাম্মদ আব্দুল মজিদ, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ব্যাংকিং অ্যান্ড ইন্সু্যুরেন্স বিভাগের অধ্যাপক শহীদুল ইসলাম জাহিদ, কৃষক দলের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাহমুদা হাবিবা, এবি পার্টির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ব্যারিস্টার নাসরিন সুলতানা মিলি, রাষ্ট্র সংস্কার আন্দোলনের যুগ্ম সম্পাদক দিদার ভুঁইয়া, সাবেক সচিব ও বিপিএটিসির সাবেক রেক্টর এ কে এম আব্দুল আউয়াল মজুমদার, জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের সরকার ও রাজনীতি বিভাগের অধ্যাপক শামসুন নাহার খানম, বিএনপির সাবেক সংসদ সদস্য নিলুফার চৌধুরী মনি, বাংলাদেশের সমাজতান্ত্রিক দলের (বাসদ) সাধারণ সম্পাদক বজলুর রশীদ ফিরোজ, সিজিএসের নির্বাহী পরিচালক পারভেজ করিম আব্বাসী এবং সিজিএসের সভাপতি জিল্লুর রহমান।

সংলাপের সভাপতির বক্তব্যে সিজিএসের সভাপতি জিল্লুর রহমান বলেন, স্বচ্ছতা ও দায়বদ্ধতার প্রশ্নটি সাধারণত প্রশাসনিক দৃষ্টিকোণ থেকে আলোচিত হয়; কিন্তু একটি গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রে এটি কেবল প্রশাসনিক বিষয় নয়। এটি সরাসরি রাজনৈতিক ক্ষমতার প্রয়োগ, নাগরিক অধিকার এবং রাষ্ট্র-নাগরিক সম্পর্কের সাথে যুক্ত। তিনি বলেন, প্রশ্ন শুধু শাসন প্রক্রিয়ার দক্ষতা নয়, এই প্রক্রিয়া কাদের জন্য, কিভাবে এবং কোন দায়বদ্ধতার কাঠামোর মধ্যে পরিচালিত হচ্ছে, সেটিই মূল বিষয়। তিনি আরো বলেন, রাজনৈতিক দলগুলোর দায়বদ্ধতা ও অভ্যন্তরীণ স্বচ্ছতা উপেক্ষা করলে গণতান্ত্রিক কাঠামো দুর্বল হয়ে পড়ে। নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি যদি বাস্তবায়নের কোনো দায় না থাকে, তাহলে জনগণের আস্থা নষ্ট হয় এবং নির্বাচন-পরবর্তী সময়ে এই সংকট আরও প্রকট হয়ে ওঠে।

অর্থনীতিবিদ সেলিম জাহান বলেন, নির্বাচিত সরকার কোনো দলের সরকার নয়; এটি পুরো দেশের সরকার। সরকার যদি জনগণের স্বার্থের বিরুদ্ধে অবস্থান নেয়, তাহলে তা সংশোধন করতে হবে। তিনি বলেন, দায়বদ্ধতা বাইরে থেকে চাপিয়ে দেয়া যায় না, এটি নৈতিকতার জায়গা থেকে নিজেকেই নিশ্চিত করতে হয়। এ জন্য ওপর থেকে নিচ পর্যন্ত দায়বদ্ধতার সংস্কৃতি গড়ে তোলা জরুরি। তিনি আরো বলেন, সরকারের প্রতিটি কাজের জন্য জবাবদিহির কাঠামো থাকতে হবে। দায়িত্ব লঙ্ঘনের ক্ষেত্রে কী শাস্তি হবে, সেটিও স্পষ্ট থাকতে হবে। বিচার বিভাগের স্বাধীনতা ছাড়া আইনের শাসন সম্ভব নয়, আর আইনের শাসন নিরপেক্ষ না হলে বিচার বিভাগও স্বাধীন থাকতে পারে না।

এনবিআরের সাবেক চেয়ারম্যান মুহাম্মদ আব্দুল মজিদ বলেন, শুধু আলোচনা নয়, বাস্তবে মাঠে নামতে হবে। দায়িত্ব নিতে হবে নিজেদের কাঁধে। তিনি বলেন, সরকারকে ভেতরের ও বাইরের সব চ্যালেঞ্জের বিষয়ে আন্তরিক ও সতর্ক থাকতে হবে। নিজের অভিজ্ঞতা তুলে ধরে তিনি বলেন, একসময় সংসদ সদস্যদের সম্পদের বিবরণ প্রকাশের উদ্যোগ নেয়া হলেও পরে তা বন্ধ করে দেয়া হয়, যা রাজনৈতিক সদিচ্ছার অভাবকেই নির্দেশ করে।

বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান আসাদুজ্জামান রিপন বলেন, বর্তমান বৈশ্বিক বাস্তবতায় ছোট দেশগুলোতে স্বচ্ছতা ও দায়বদ্ধতা টিকে থাকবে কি না, তা নিয়ে সন্দেহ রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের একটি নির্দিষ্ট রাজনৈতিক দলের সাথে সম্পর্ক নিয়ে প্রশ্ন তুলে তিনি বলেন, দ্বৈত নাগরিকত্বের আইন কঠোরভাবে প্রয়োগ করা জরুরি। রাজনৈতিক নেতাদের হলফনামা বাস্তবায়নও নিশ্চিত করতে হবে।

বাসদের সাধারণ সম্পাদক বজলুর রশীদ ফিরোজ বলেন, স্বাধীনতার ৫৪ বছর ধরে স্বচ্ছতা ও শাসন সংস্কার নিয়ে আলোচনা হলেও বাস্তব পরিবর্তন হয়নি। অন্তর্বর্তীকালীন সরকার জাতির কাছে দায়বদ্ধ হলেও কোনো দলের কাছে নয়, এ কথা স্মরণ করিয়ে দিয়ে তিনি বলেন, উপদেষ্টাদের সম্পদের হিসাব প্রকাশ না হওয়ায় আস্থাহীনতা তৈরি হয়েছে। অন্তর্বর্তী সরকারের দুর্নীতি নিয়েও শ্বেতপত্র প্রকাশের দাবি জানান তিনি।

অ্যাডভোকেট সুব্রত চৌধুরী বলেন, স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা যদি রাজনৈতিক দলগুলোর ভেতরে না থাকে, তাহলে সাধারণ মানুষের জীবনে তা কিভাবে প্রতিফলিত হবে? তিনি বলেন, পুরো রাষ্ট্রই অসুস্থ হয়ে পড়েছে। রাজনৈতিক দলের ভাষা ও আচরণ সংস্কার না হলে রাষ্ট্র সংস্কারের আলোচনা অর্থহীন। রাষ্ট্র সংস্কারের চেয়ে রাজনৈতিক দলের সংস্কারই এখন বেশি জরুরি। বিএনপির সাবেক সংসদ সদস্য নিলুফার চৌধুরী মনি বলেন, স্বচ্ছতা ও দায়বদ্ধতা আদৌ কতটা আছে, তা নিয়েই প্রশ্ন। তিনি বলেন, গণমাধ্যম ও বিচার বিভাগের স্বাধীনতা এখনো প্রশ্নবিদ্ধ। নির্বাচনের সময় প্রতিশ্রুতি দেয়া হলেও পরে তা আর বাস্তবায়িত হয় না। হলফনামায় তথ্য গোপন এবং ঋণখেলাপি আইনপ্রণেতাদের উপস্থিতি ভবিষ্যৎ নিয়ে গভীর উদ্বেগ তৈরি করছে।

সিজিএসের নির্বাহী পরিচালক পারভেজ করিম আব্বাসী বলেন, নির্বাচিত সরকারগুলো সাধারণত সংস্কারে আগ্রহী হয় না। তারা দ্রুত প্রতিশ্রুতি ভুলে যায়। বন্দর লিজ, সামরিক বিমান ক্রয় কিংবা গুরুত্বপূর্ণ নীতিনির্ধারণে স্বচ্ছতার অভাব রয়েছে বলে তিনি মন্তব্য করেন। নির্বাচন নিয়েও জনগণের আস্থার সঙ্কট কাটেনি বলেও তিনি উল্লেখ করেন।