একটি দল স্বৈরাচার দলটির মতো ভাষা ব্যবহার করছে: তারেক রহমান
- আপডেট সময় ০৮:০৪:৪৮ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৭ জানুয়ারী ২০২৬
- / ৩৩ বার পড়া হয়েছে
জামায়াতে ইসলামীকে উদ্দেশ্য করে বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান বলেছেন, একটি দল স্বৈরাচার দলটির (আওয়ামী লীগ) মতো ভাষা ব্যবহার করছে। তারা বলে, বিএনপি দুর্নীতিতে চ্যাম্পিয়ন ছিল। আমার প্রশ্ন—২০০১ থেকে ২০০৬ সাল পর্যন্ত তাদেরও দুজন সদস্য বিএনপি সরকারে ছিলেন। বিএনপি যদি এত খারাপই ছিল, তাহলে ওই দুজন ব্যক্তি কেন পদত্যাগ করে সরে আসেননি?
মঙ্গলবার (২৭ জানুয়ারি) বিকেলে ময়মনসিংহের ঐতিহাসিক সার্কিট হাউজ ময়দানে নির্বাচনি জনসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
তারেক রহমান আরও বলেন, ‘ওই দুজন সদস্য বিএনপি সরকারে থাকা অবস্থায় পদত্যাগ করেননি। কারণ তারা জানতেন খালেদা জিয়া কঠোর হস্তে দুর্নীতি দমন করছেন।’
ময়মনসিংহ, নেত্রকোনা, জামালপুর ও শেরপুরে বহু সমস্যা রয়ে গেছে উল্লেখ করে তারেক রহমান বলেন, ‘নদীভাঙন সমস্যা আছে, কর্মসংস্থানের সমস্যা আছে। বিভিন্ন জেলা-উপজেলায় ব্রিজ, রাস্তাঘাট, স্কুল-কলেজ, কালভার্টের সমস্যা রয়ে গেছে। যেগুলো দীর্ঘ এক যুগেরও বেশি সময় ধরে সংস্কার বা নতুন করে করার দরকার ছিল। কিন্তু কোনো কাজ হয়নি। না হওয়ার কারণ ভোটের অধিকার ছিল না। যদি ভোটের অধিকার থাকতো, তাহলে জনগণের সমস্যা সমাধান হতো। যেহেতু নিশিরাতে তথাকথিত নির্বাচন হয়েছিল, তাই তখন সত্যকারের জনপ্রতিনিধি ছিল না। তাই যুবক সমাজের জন্য কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করা হয়নি’
তিনি বলেন, ‘তরুণ-যুবকরা চায় কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা। দেশে মিল-ফ্যাক্টরি হবে, ব্যবসা-বাণিজ্য হবে, যাতে তারা নিরাপদে ব্যবসা-বাণিজ্য বা চাকরি করতে পারে। মানুষ চায় অসুস্থ হলে যেন চিকিৎসা সুবিধা পায়।’

ময়মনসিংহে কৃষকদের অনেক সমস্যা রয়েছে উল্লেখ করে বিএনপির চেয়ারম্যান বলেন, ‘ময়মনসিংহের মাছের পোনা অনেক সরবরাহ করা হয়। আমাদের পরিকল্পনার মধ্যে রয়েছে কী করে মাছের পোনার বিষয়টি শুধু দেশের ভেতরে সীমাবদ্ধ না রেখে বিদেশেও রপ্তানি করা যায়।’
তিনি বলেন, ‘আপনাদের নিশ্চয়ই মনে আছে, দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়া মেয়েদের শিক্ষা ব্যবস্থাকে ক্লাস ওয়ান থেকে টুয়েলভ পর্যন্ত ফ্রি করেছিল। সেই মা-বোনেরা শিক্ষিত হয়েছে। এখন আমরা যে কোনো স্কুল, কলেজ, বিশ্ববিদ্যালয়ে যাই, দেখবো সমান সংখ্যক মেয়ে লেখাপড়া করছে। আজ জনসংখ্যা অর্ধেকেরও বেশি নারী। আমরা দেশকে যদি সামনের দিকে এগিয়ে নিয়ে যেতে চাই, তাহলে দেশের জনগোষ্ঠীকে পেছনে ফেলে সামনের দিকে দেশকে এগিয়ে নিয়ে যাওয়া সম্ভব নয়। সেজন্য খেটে-খাওয়া নারী, গৃহিণী ও মা-বোনদের একটি ফ্যামিলি কার্ড দিতে চাই। যাতে এই ফ্যামিলি কার্ডের মাধ্যমে প্রতিটি পরিবারের কাছে অল্প হলেও সুবিধা পৌঁছাতে পারে। এতে তারা প্রতি মাসের কয়েকটি দিন হলেও স্বাচ্ছন্দ্যে অতিবাহিত করতে পারবে।’
তারেক রহমান আরও বলেন, ‘একইভাবে মৎস্য চাষি, ক্ষেত-খামারে চাষবাস করেন এরকম কৃষক ভাইদের পাশেও আমরা দাঁড়াতে চাই। সেজন্য কৃষক কার্ড দেওয়ার পরিকল্পনা করছি। কারণ, দেশের অধিকাংশ মানুষ কৃষক। কৃষক ভালো থাকলে বাংলাদেশের মানুষ ভালো থাকবে।’
তিনি বলেন, ‘বিএনপির অতীত অভিজ্ঞতা রয়েছে কীভাবে খাদ্য উৎপাদন দ্বিগুণ করতে হয়। বিএনপির অভিজ্ঞতা রয়েছে কীভাবে গ্রাম থেকে শহর পর্যন্ত রাস্তাঘাট নির্মাণ করতে হয়, কীভাবে শিক্ষার আলো ঘরে ঘরে পৌঁছে দিতে হয়। বিএনপির অভিজ্ঞতা রয়েছে কীভাবে মানুষকে নিরাপদে রাখতে হয়।’
ময়মনসিংহ দক্ষিণ জেলা বিএনপির আহ্বায়ক জাকির হোসেনের সভাপতিত্বে বিএনপির কেন্দ্রীয় নেতা সাবেক এমপি আফজাল এইচ খান, ময়মনসিংহ বিভাগীয় বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক শরিফুল আলম, সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক ওয়ারেছ আলী মামুন, আবু ওয়াহাব আকন্দ, সাবেক স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী লুৎফুজ্জামান বাবর, বিএনপির আইন বিষয়ক সম্পাদক কায়সার কামাল এবং বিভাগের সবগুলো আসনের ধানের শীষের প্রার্থী ও স্থানীয় বিএনপির শীর্ষ নেতারা মঞ্চে উপস্থিত ছিলেন।



















