ঢাকা ১১:৪৮ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৭ জানুয়ারী ২০২৬, ১৪ মাঘ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

বিগত সরকার লুটেপুটে শিল্পকারখানা বন্ধ করেছে, আমরা কারখানা স্থাপন করবো: জামায়াত আমির

নিজস্ব সংবাদ :
  • আপডেট সময় ০৯:০৬:০০ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৭ জানুয়ারী ২০২৬
  • / ৭ বার পড়া হয়েছে

ক্ষমতায় গেলে বন্ধ শিল্পকারখানা চালু করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা: শফিকুর রহমান।

তিনি বলেন, ‘বিগত সরকারের ভুলনীতি ও লুটপাটে একের পর এক শিল্পকারখানা বন্ধ হয়েছে। জামায়াত আল্লাহর ইচ্ছায় ও জনগণের রায়ে রাষ্ট্র ক্ষমতা পেলে বন্ধ মিল-কারখানা চালুর পাশাপাশি নতুন নতুন কারখানা স্থাপন হবে।’

মঙ্গলবার (২৭ জানুয়ারি) খুলনার সার্কিট হাউজ মাঠে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী খুলনা মহানগরী ও জেলা শাখা আয়োজিত নির্বাচনী জনসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। দুপুর দলের খুলনা মহানগর আমির অধ্যাপক মাহফুজুর রহমানের সভাপতিত্বে সমাবেশের কাজ শুরু হয়।

ডা: শফিকুর রহমান বলেন, ‘আমরা যুব সমাজকে কর্মসংস্থানের মাধ্যমে তাদেরকে সম্মানিত করতে চাই। জুলাই বিপ্লবে তাদের যে অবদান, কিছুটা হলেও তার ঋণ শোধ করতে চাই।’

তিনি বলেন, আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি দেশের জনগণের জন্য দু’টি গুরুত্বপূর্ণ ভোট অপেক্ষা করছে। একটি গণভোট এবং অন্যটি জাতীয় সংসদ নির্বাচনের ভোট। গণভোটে ‘হ্যাঁ’ ভোট দেয়ার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, আগে ‘হ্যাঁ’ ভোট দিন, পরে ১১ দলের প্রার্থীদের ভোট দিন। তিনি বলেন, ‘হ্যাঁ’ মানে আজাদী, ‘না’ মানে গোলামী- আমরা আজাদীর পক্ষে।

তিনি আরো বলেন, ‘আপনারা প্রত্যেকটি নর-নারীর ভোটের অধিকারের পাহারাদার হবেন। ভোট যার যেখানে ইচ্ছা সেখানে দেবে। কিন্ত আমরা বাক্স পর্যন্ত ভোটারকে পৌঁছে দিতে চাই। ১৩ ফেব্রুয়ারি আমরা একটি অভিশাপমুক্ত বাংলাদেশ চাই। এ সময় তিনি দীর্ঘ ১৭ বছরের ফ্যাসিবাদী দুঃশাসনের কালে এবং তারও আগে ২০০৮ সালের ২৮ অক্টোবর লগি বৈঠার তাণ্ডবে নিহত সকল শহীদের রুহের মাগফিরাত কামনা করেন। সেইসাথে আহত, পঙ্গু, কারা নির্যাতিত, গুমের শিকার ও দেশান্তরী হতে বাধ্য হওয়া সবার প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন।

ডা: শফিকুর রহমান বলেন, ‘আমি এখানে জামায়াতের পক্ষে কথা বলার জন্য দাঁড়াইনি। বিগত ১৬ বছর যে সকল মায়ের, বাবার বুক খালি করা হয়েছে, যে সকল বোনের কাছ থেকে স্বামীকে কেড়ে নেয়া হয়েছে, যে সকল শিশুকে বাবা হারা করা হয়েছে- আমি তাদের পক্ষে কথা বলার জন্য এখানে দাঁড়িয়েছি। ১৮ কোটি মানুষের পক্ষে কথা বলার জন্য দাঁড়িয়েছি।

আওয়ামী লীগের সমালোচনা করে তিনি বলেন, ‘তারা সিন্ডিকেট করে চাঁদাবাজির মাধ্যমে, ব্যাংক লুট করে, শেয়ারবাজার লুটপাট করে বিদেশে বেগম পাড়া বানিয়েছিল।’

জনসভায় বিশেষ অতিথির বক্তৃতা করেন জাতীয় গণতান্ত্রিক পার্টির নেতা রাশেদ প্রধান, খুলনা-৬ আসনে জামায়াত মনোনীত এবং ১১ লীয় নির্বাচনী ঐক্য সমর্থিত দাঁড়িপাল্লা প্রতীকের প্রার্থী কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদ সদস্য খুলনা অঞ্চল সহকারী পরিচালক মাওলানা আবুল কালাম আজাদ, খুলনা-৪ আসনে খেলাফত মজলিস মনোনীত এবং ১১ দলীয় নির্বাচনী ঐক্য সমর্থিত দেওয়াল ঘড়ির প্রার্থী খেলাফত মজলিসের কেন্দ্রীয় সিনিয়র নায়েবে আমির মাওলানা সাখাওয়াত হোসাইন, খুলনা-২ আসনে জামায়াত মনোনীত এবং ১১ দলীয় নির্বাচনী ঐক্য সমর্থিত দাঁড়িপাল্লা প্রতীকের প্রার্থী কেন্দ্রীয় মজলিসে শূরা সদস্য খুলনা মহানগরী সেক্রেটারি অ্যাডভোকেট শেখ জাহাঙ্গীর হুসাইন হেলাল, খুলনা-১ আসনের জামায়াত মনোনীত এবং ১১ দলীয় নির্বাচনী ঐক্য সমর্থিত দাঁড়িপাল্লা প্রতীকের প্রার্থী খুলনা জেলা হিন্দু মহাজোটের সভাপতি বাবু কৃষ্ণ নন্দী।

নিউজটি শেয়ার করুন

বিগত সরকার লুটেপুটে শিল্পকারখানা বন্ধ করেছে, আমরা কারখানা স্থাপন করবো: জামায়াত আমির

আপডেট সময় ০৯:০৬:০০ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৭ জানুয়ারী ২০২৬

ক্ষমতায় গেলে বন্ধ শিল্পকারখানা চালু করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা: শফিকুর রহমান।

তিনি বলেন, ‘বিগত সরকারের ভুলনীতি ও লুটপাটে একের পর এক শিল্পকারখানা বন্ধ হয়েছে। জামায়াত আল্লাহর ইচ্ছায় ও জনগণের রায়ে রাষ্ট্র ক্ষমতা পেলে বন্ধ মিল-কারখানা চালুর পাশাপাশি নতুন নতুন কারখানা স্থাপন হবে।’

মঙ্গলবার (২৭ জানুয়ারি) খুলনার সার্কিট হাউজ মাঠে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী খুলনা মহানগরী ও জেলা শাখা আয়োজিত নির্বাচনী জনসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। দুপুর দলের খুলনা মহানগর আমির অধ্যাপক মাহফুজুর রহমানের সভাপতিত্বে সমাবেশের কাজ শুরু হয়।

ডা: শফিকুর রহমান বলেন, ‘আমরা যুব সমাজকে কর্মসংস্থানের মাধ্যমে তাদেরকে সম্মানিত করতে চাই। জুলাই বিপ্লবে তাদের যে অবদান, কিছুটা হলেও তার ঋণ শোধ করতে চাই।’

তিনি বলেন, আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি দেশের জনগণের জন্য দু’টি গুরুত্বপূর্ণ ভোট অপেক্ষা করছে। একটি গণভোট এবং অন্যটি জাতীয় সংসদ নির্বাচনের ভোট। গণভোটে ‘হ্যাঁ’ ভোট দেয়ার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, আগে ‘হ্যাঁ’ ভোট দিন, পরে ১১ দলের প্রার্থীদের ভোট দিন। তিনি বলেন, ‘হ্যাঁ’ মানে আজাদী, ‘না’ মানে গোলামী- আমরা আজাদীর পক্ষে।

তিনি আরো বলেন, ‘আপনারা প্রত্যেকটি নর-নারীর ভোটের অধিকারের পাহারাদার হবেন। ভোট যার যেখানে ইচ্ছা সেখানে দেবে। কিন্ত আমরা বাক্স পর্যন্ত ভোটারকে পৌঁছে দিতে চাই। ১৩ ফেব্রুয়ারি আমরা একটি অভিশাপমুক্ত বাংলাদেশ চাই। এ সময় তিনি দীর্ঘ ১৭ বছরের ফ্যাসিবাদী দুঃশাসনের কালে এবং তারও আগে ২০০৮ সালের ২৮ অক্টোবর লগি বৈঠার তাণ্ডবে নিহত সকল শহীদের রুহের মাগফিরাত কামনা করেন। সেইসাথে আহত, পঙ্গু, কারা নির্যাতিত, গুমের শিকার ও দেশান্তরী হতে বাধ্য হওয়া সবার প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন।

ডা: শফিকুর রহমান বলেন, ‘আমি এখানে জামায়াতের পক্ষে কথা বলার জন্য দাঁড়াইনি। বিগত ১৬ বছর যে সকল মায়ের, বাবার বুক খালি করা হয়েছে, যে সকল বোনের কাছ থেকে স্বামীকে কেড়ে নেয়া হয়েছে, যে সকল শিশুকে বাবা হারা করা হয়েছে- আমি তাদের পক্ষে কথা বলার জন্য এখানে দাঁড়িয়েছি। ১৮ কোটি মানুষের পক্ষে কথা বলার জন্য দাঁড়িয়েছি।

আওয়ামী লীগের সমালোচনা করে তিনি বলেন, ‘তারা সিন্ডিকেট করে চাঁদাবাজির মাধ্যমে, ব্যাংক লুট করে, শেয়ারবাজার লুটপাট করে বিদেশে বেগম পাড়া বানিয়েছিল।’

জনসভায় বিশেষ অতিথির বক্তৃতা করেন জাতীয় গণতান্ত্রিক পার্টির নেতা রাশেদ প্রধান, খুলনা-৬ আসনে জামায়াত মনোনীত এবং ১১ লীয় নির্বাচনী ঐক্য সমর্থিত দাঁড়িপাল্লা প্রতীকের প্রার্থী কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদ সদস্য খুলনা অঞ্চল সহকারী পরিচালক মাওলানা আবুল কালাম আজাদ, খুলনা-৪ আসনে খেলাফত মজলিস মনোনীত এবং ১১ দলীয় নির্বাচনী ঐক্য সমর্থিত দেওয়াল ঘড়ির প্রার্থী খেলাফত মজলিসের কেন্দ্রীয় সিনিয়র নায়েবে আমির মাওলানা সাখাওয়াত হোসাইন, খুলনা-২ আসনে জামায়াত মনোনীত এবং ১১ দলীয় নির্বাচনী ঐক্য সমর্থিত দাঁড়িপাল্লা প্রতীকের প্রার্থী কেন্দ্রীয় মজলিসে শূরা সদস্য খুলনা মহানগরী সেক্রেটারি অ্যাডভোকেট শেখ জাহাঙ্গীর হুসাইন হেলাল, খুলনা-১ আসনের জামায়াত মনোনীত এবং ১১ দলীয় নির্বাচনী ঐক্য সমর্থিত দাঁড়িপাল্লা প্রতীকের প্রার্থী খুলনা জেলা হিন্দু মহাজোটের সভাপতি বাবু কৃষ্ণ নন্দী।