বাংলাদেশ সংবাদ সংস্থায় রাজনীতিকরণ: রাষ্ট্রীয় খরচে দলীয় মূখপাত্র?
- আপডেট সময় ১২:২১:০০ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৮ জানুয়ারী ২০২৬
- / ৩১ বার পড়া হয়েছে
রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থা বাংলাদেশ সংবাদ সংস্থার (বাসস) প্রধান সম্পাদক ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক জাতীয় নির্বাচন ও গণভোটের প্রাক্কালে একটি জোটকে হেয় করে একের পর এক সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বক্তব্য দিয়ে যাচ্ছেন। বাসসের এমডি এমন এক স্ট্যাটাসে কর্নেল (অব:) অলি আহমদ/ড. মাহমুদুর রহমানকে প্রেসিডেন্ট, ডা: শফিকুর রহমানকে প্রধানমন্ত্রী আর পিনাকি ভট্টাচার্য, ইলিয়াস হোসেন, কনক সরওয়ার ও শিশির মনিরকে মন্ত্রী বানিয়ে আগামী সরকারের একটি তালিকা প্রকাশ করেছেন। তিনি সামাজিক প্রচারমাধ্যমে সরাসরি জামায়াতের বিরুদ্ধে বিষোদগার করে চলেছেন। বাসসের প্রচার প্রচারণায়ও তার প্রতিফলন দেখা যাচ্ছে। জাতীয় বার্তা সংস্থার শীর্ষে বসে এমন কর্মকাণ্ড অন্তর্বর্তী সরকার ও নির্বাচন কমিশনকে প্রশ্নের মুখে ঠেলে দিয়েছে।
বাসসের ব্যবস্থাপনা পরিচালকের বিরুদ্ধে নানা ধরনের দুর্নীতির অভিযোগ অনুসন্ধানের মধ্যেই তিনি নিজের অনিয়মের বৈধতা দেয়ার জন্য বোর্ডের একটি মিটিং ডেকেছেন। তার বিভিন্ন কর্মকাণ্ডে সংস্থাটি বর্তমানে গভীর প্রশাসনিক ও নৈতিক সঙ্কটে পড়েছে। সংস্থার ব্যবস্থাপনা পরিচালকের (এমডি) বিরুদ্ধে নিয়োগ-বাণিজ্য, প্রকল্প ব্যয়ে অনিয়ম, সম্পাদনা নীতিতে পক্ষপাত এবং ভিন্নমত দমনের একাধিক অভিযোগ উঠেছে। এসব অভিযোগ কেবল অভ্যন্তরীণ অসন্তোষে সীমাবদ্ধ নয়; বরং নথি, অফিস আদেশ ও সংশ্লিষ্ট একাধিক সূত্রের তথ্য বিশ্লেষণে উঠে এসেছে কাঠামোগত অনিয়মের চিত্র।
সম্পাদনা নীতি ও সংবাদ নির্বাচন : রাষ্ট্রীয় সংস্থা না দলীয় মুখপত্র?
বাসসের সংবাদ দেশের প্রায় সব গণমাধ্যমে সরাসরি ব্যবহৃত হয়। ফলে এখানে পক্ষপাতের অভিযোগ অত্যন্ত গুরুতর। অনুসন্ধানে দেখা যায়- নির্দিষ্ট রাজনৈতিক ইস্যুতে সংবাদ বাছাই ও হেডলাইনে একমুখী প্রবণতা। কিছু গুরুত্বপূর্ণ ঘটনা বা সমালোচনামূলক বক্তব্য নিয়মিতভাবে উপেক্ষিত বা সংক্ষিপ্ত আকারে প্রকাশ। ভিন্নমত পোষণকারী প্রতিবেদকদের রিপোর্ট ‘হোল্ড’ বা পুনর্লিখনের চাপ।
একজন জ্যেষ্ঠ সম্পাদক বলেন, ‘নিরপেক্ষতার জায়গায় এখন নির্দেশনাভিত্তিক সম্পাদনা চলছে।’
এমডির সিদ্ধান্তের বিরোধিতা বা প্রশ্ন তোলার পর একাধিক কর্মকর্তা-কর্মচারীর বিরুদ্ধে- হঠাৎ বদলি, দায়িত্ব কমিয়ে দেয়া এবং শোকজ নোটিশ জারির নজির পাওয়া গেছে। সংশ্লিষ্ট আদেশগুলোর সময়কাল ও প্রেক্ষাপট বিশ্লেষণে দেখা যায়, বেশির ভাগ ক্ষেত্রেই এগুলো সমালোচনার পরপরই জারি হয়েছে।
নিয়োগ ও পদোন্নতি : বিধি উপেক্ষা করে ‘পছন্দের তালিকা’?
বাসসের সার্ভিস রুলস অনুযায়ী নিয়োগ ও পদোন্নতির ক্ষেত্রে জ্যেষ্ঠতা, অভিজ্ঞতা এবং নির্ধারিত বোর্ডপ্রক্রিয়া অনুসরণ বাধ্যতামূলক। তবে অনুসন্ধানে দেখা যায়- সাম্প্রতিক কয়েকটি চুক্তিভিত্তিক নিয়োগে বিজ্ঞপ্তি ও শর্টলিস্টিং প্রক্রিয়া ছিল অস্বচ্ছ। জ্যেষ্ঠতা থাকা সত্ত্বেও একাধিক কর্মকর্তা পদোন্নতি থেকে বঞ্চিত হয়েছেন, অথচ তুলনামূলক কম অভিজ্ঞ ব্যক্তিরা গুরুত্বপূর্ণ ডেস্ক ও প্রশাসনিক পদে নিয়োগ পেয়েছেন। কিছু ক্ষেত্রে বোর্ডের সুপারিশ পাশ কাটিয়ে এমডি-কেন্দ্রিক সিদ্ধান্তে পোস্টিং আদেশ জারি হয়েছে বলে নথিতে ইঙ্গিত পাওয়া যায়।
একজন ভুক্তভোগী কর্মকর্তা বলেন, ‘এখানে যোগ্যতা নয়, ঘনিষ্ঠতাই মূল মানদণ্ড হয়ে উঠেছে।’
প্রকল্প ও অর্থব্যয় : কোটি টাকার হিসাব কোথায়?
বাসসের ডিজিটাল আধুনিকায়ন, প্রশিক্ষণ ও আইটি অবকাঠামো উন্নয়নের নামে সাম্প্রতিক বছরগুলোতে একাধিক প্রকল্প অনুমোদন পায়। অনুসন্ধানে যেসব প্রশ্ন উঠে এসেছে- কয়েকটি আইটি ও সফটওয়্যার প্রকল্পে ব্যয়ের তুলনায় কার্যকর আউটপুট নেই। একই ধরনের সরঞ্জাম কেনায় ভিন্ন ভিন্ন দামের বিল পাওয়া গেছে, যা বাজারদরের সাথে অসামঞ্জস্যপূর্ণ। প্রকল্প মূল্যায়ন রিপোর্ট ও পোস্ট-ইমপ্লিমেন্টেশন অডিট নিয়মিতভাবে প্রকাশ করা হয়নি।
আর্থিক বিভাগের একজন কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানান, প্রকল্প শেষ হলেও ফাইল ক্লোজ হয়নি, প্রশ্ন তুললে বলা হয় ‘উপরে কথা হয়েছে’।
বাসসে বোর্ডসভা ঘিরে তোলপাড়
সংস্থার এমডি মাহবুব মোর্শেদের বিরুদ্ধে ওঠা দুর্নীতি ও ক্ষমতার অপব্যবহারের অভিযোগের মধ্যে আগামী ৫ ফেব্রুয়ারি ডাকা বোর্ডসভা ঘিরে নতুন করে বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। অভিযোগ উঠেছে, প্রায় এক বছর পর ডাকা এই সভা ব্যবহার করে এমডি তার যোগদানের পর থেকে বোর্ডের অনুমোদন ছাড়াই নেয়া বেআইনি সিদ্ধান্ত ও অফিস আদেশগুলোকে ভূতাপেক্ষ বৈধতা দেয়ার চেষ্টা করছেন।
এমডির দুর্নীতি ও অনিয়মের বিষয়ে বক্তব্য দেয়ার জন্য গত ২৫ জানুয়ারি হাজির হওয়ার নোটিশ দেয় দুদক। এই নোটিশে বলা হয়, ‘জনাব মাহবুব মোর্শেদ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, বাংলাদেশ সংবাদ সংস্থা (বাসস)-এর বিরুদ্ধে নানাবিধ অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ সুষ্ঠু অনুসন্ধানের স্বার্থে আপনার বক্তব্য শ্রবণ ও গ্রহণ করা একান্ত প্রয়োজন।’ এর পরপরই সব অবৈধ কর্মকাণ্ডের বৈধতা দেয়ার জন্য ৫ ফেব্রুয়ারি বোর্ড সভা ডাকেন তিনি।
এমন পরিস্থিতিতে জানা গেছে, বর্তমানে দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) দু’টি পৃথক তদন্ত দল সাবেক এমডি আবুল কালাম আজাদ এবং বর্তমান এমডি মাহবুব মোর্শেদের বিরুদ্ধে ওঠা দুর্নীতির অভিযোগ তদন্ত করছে। ইতোমধ্যে কমপক্ষে ১০টি জাতীয় দৈনিকে প্রকাশিত অনুসন্ধানী প্রতিবেদনে বাসসে সংঘটিত আর্থিক অনিয়ম, প্রশাসনিক দুর্নীতি এবং দুদক তদন্তে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টির অভিযোগ উঠে এসেছে।
বোর্ড পাশ কাটিয়ে সিদ্ধান্তের অভিযোগ
বাসস সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো বলছে, প্রায় ১৮ মাসের কর্মকালজুড়ে বর্তমান এমডি অধিকাংশ গুরুত্বপূর্ণ প্রশাসনিক ও আর্থিক সিদ্ধান্ত নিয়েছেন পরিচালনা পর্ষদের অনুমোদন ছাড়াই। অথচ বাসস আইন অনুযায়ী সংস্থার সর্বময় ক্ষমতা পরিচালনা পর্ষদের হাতে ন্যস্ত, ব্যবস্থাপনা পরিচালকের হাতে নয়। একইভাবে বাসস সার্ভিস রুলস অনুযায়ী নিয়োগ, পদোন্নতি ও বরখাস্তের একমাত্র বৈধ কর্তৃপক্ষও বোর্ড।
সংশ্লিষ্টদের মতে, বোর্ডের অনুমোদন ছাড়া এমডি কর্তৃক জারিকৃত যেকোনো অফিস আদেশ আইনগতভাবে অবৈধ এবং তা অনিয়ম ও দুর্নীতির আওতাভুক্ত।
‘দুর্নীতি সিন্ডিকেট’ অভিযোগ
এমডির বিরুদ্ধে আরো অভিযোগ রয়েছে, তিনি একটি প্রভাবশালী দুর্নীতি সিন্ডিকেটের সাথে যোগসাজশে বাসস পরিচালনা করছেন। বিশেষ করে প্রধান হিসাবরক্ষক জসিমউদ্দিন এবং প্রধান প্রশাসনিক কর্মকর্তা মোহাম্মদ আলী খানের বিরুদ্ধে হাসিনা সরকারের সময় থেকে চলমান দুর্নীতির নেতৃত্ব দেয়ার অভিযোগ উঠেছে। এসব অভিযোগ বর্তমানে তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়, দুদক এবং বাসস বোর্ড চেয়ারম্যান আনোয়ার আলদীনের কাছে বিচারাধীন বলে জানা গেছে।
বোর্ডসভার কার্যবিবরণী জালিয়াতির অভিযোগ
সবচেয়ে গুরুতর অভিযোগ উঠেছে ১৮০তম বোর্ডসভার কার্যবিবরণী (মিনিটস) জালিয়াতি নিয়ে। দুদকের একটি নির্ভরযোগ্য সূত্রের বরাতে জানা গেছে, বর্তমান এমডি সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের সহায়তায় ওই সভার কার্যবিবরণী পরিবর্তন করে সাবেক এমডি আবুল কালাম আজাদের জারি করা ১৮টি অবৈধ অফিস আদেশকে অনুমোদনের চেষ্টা করেন। এসব আদেশের মাধ্যমে এ পর্যন্ত আনুমানিক ছয় কোটি টাকা আত্মসাৎ করা হয়েছে বলে অভিযোগ রয়েছে। অভিযোগ প্রমাণিত হলে এটি গুরুতর ফৌজদারি অপরাধ হিসেবে গণ্য হবে বলে মনে করছেন আইন বিশেষজ্ঞরা।
বোর্ডের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন
বাসস বোর্ডের ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। অভিযোগ রয়েছে, এতসব গুরুতর অভিযোগ ও দুদকের চলমান তদন্তের পরও বোর্ড থেকে এখনো দৃশ্যমান কোনো কঠোর পদক্ষেপ নেয়া হয়নি। সংশ্লিষ্ট মহলের মতে, আসন্ন ১৮১তম বোর্ডসভায় যদি এমডির অবৈধ সিদ্ধান্তগুলো বাতিল না করে বরং বৈধতা দেয়া হয়, তবে বোর্ড নিজেও আইনগত ঝুঁকিতে পড়তে পারে।
একজন সাবেক জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা বলেন, ‘রাষ্ট্রের প্রতিনিধি হিসেবে বাসসের প্রকৃত মালিক বোর্ড। আর এমডি একজন বেতনভুক কর্মকর্তা। এই মৌলিক বিষয়টি ভুলে গেলে পুরো প্রতিষ্ঠানই আইনি জটিলতায় পড়বে।’
পরিচালনা পর্ষদ ও মন্ত্রণালয় : নীরবতা কেন?
বাসস হচ্ছে তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ের অধীন একটি রাষ্ট্রীয় সংস্থা। এত অভিযোগের পরও- স্বাধীন তদন্ত কমিটি গঠনের ঘোষণা নেই, নিয়োগ ও প্রকল্প ব্যয়ের বিশেষ অডিট প্রকাশ হয়নি এবং বোর্ডসভার সিদ্ধান্ত সম্পর্কে স্বচ্ছতা নেই। এতে প্রশ্ন উঠছে, তদারকির দায়িত্বে থাকা সংস্থাগুলো কি কার্যকর ভূমিকা পালন করছে?
বিশ্লেষকদের মতে, রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থা হিসেবে বাসসের বিশ্বাসযোগ্যতা রক্ষায় এখনই প্রয়োজন- বোর্ডের মাধ্যমে অবৈধ সিদ্ধান্ত বাতিল, দুদক তদন্তে পূর্ণ সহযোগিতা, প্রশাসনিক ও আর্থিক স্বচ্ছতা নিশ্চিতকরণ। অন্যথায়, বাসসের চলমান সঙ্কট আরো গভীর হবে এবং এর দায় শেষ পর্যন্ত রাষ্ট্রকেই বহন করতে হবে বলে মত সংশ্লিষ্টদের।
নিজের গাড়ি ভাড়া দিয়ে দেড় লাখ টাকা
বাসসের এমডির বিরুদ্ধে রয়েছে বিচিত্র ধরনের দুর্নীতির অভিযোগ। বিস্ময়করভাবে বাসসের এমডির দায়িত্ব পাওয়ার আগে তিনি বছর দুয়েক বেকার ছিলেন। দায়িত্ব পাওয়ার পর তিনি একটি গাড়ি কেনেন। আর সে গাড়িটি বাসসকে ভাড়া দিয়ে মাসে দেড় লাখ টাকা করে নেন। এ গাড়িটি ব্যবহার করেন তিনি নিজে। বাসস একই ধরনের আরেকটি গাড়ি ভাড়া করেছে ৭০ হাজার টাকায়।
মাহবুব মোর্শেদ সাংবাদিক হিসেবে একেবারে স্বল্প পরিচিত হলেও একজন উপদেষ্টার ঘনিষ্ঠতা অর্জনের সুবাদে ডিপি বড়–য়া, আমান উল্লাহ, আমান উল্লাহ কবির, জগলুল আহমেদ চৌধুরী, আবুল কালাম আজাদের মতো সিনিয়র সাংবাদিকরা যে পদে ছিলেন, সেখানে অধিষ্ঠিত হয়ে সবাইকে বিস্মিত করে দেন। তিনি প্রখ্যাত কবি ও যুগান্তর সম্পাদক আব্দুল হাই শিকদারের নাম দিয়ে বেগম খালেদা জিয়ার ওপর একটি বিকৃত কবিতা নিজ ফেসবুকে প্রচার করেন। কবি আব্দুল হাই শিকদার এ ব্যাপারে ক্ষুব্ধ হয়ে মানহানির মামলা করেন। এ ধরনের জঘন্য ঘটনার কারণে জাতীয় প্রেস ক্লাব তার সদস্যপদ স্থগিত করে। মাহবুব মোর্শেদের দুর্নীতি, অনিয়ম ও অসদাচরণের প্রতিবাদে ঢাকা সাংবাদিক ইউনিয়ন ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়ে একাধিক প্রতিবাদ কর্মসূচি পালন করে। সর্বশেষ ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটির নেতাদের সাথে অসদাচরণ করলে রিপোর্টাররা তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেন।
এমডির বক্তব্য
এ বিষয়ে এমডির সাথে যোগাযোগের চেষ্টা করেও তার বক্তব্য পাওয়া যায়নি। বিভিন্ন অভিযোগ প্রসঙ্গে গতকাল মঙ্গলবার রাত ৯টা ১০, ৯টা ১১ ও ৯টা ২৯ মিনিটে তিনবার ফোন করলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি। বিষয়টি জানতে বাসসের ব্যবস্থাপনা সম্পাদক মো: ফজলুল হককে ফোন করলে তিনি এ প্রসঙ্গে কোনো কথা বলতে অপারগতা প্রকাশ করেন। তবে এর আগে ওঠা সব অভিযোগ সম্পূর্ণ অস্বীকার করে তিনি বলেন, ‘নিয়ম মেনেই সব সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে। একটি স্বার্থান্বেষী মহল উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে বিভ্রান্তি ছড়াচ্ছে।’ তিনি দাবি করেন, প্রয়োজনে সব নথি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে দেখানো হবে।
এই সঙ্কট কেন রাষ্ট্রের জন্য ঝুঁকিপূর্ণ
বাসসের সংবাদ জাতীয় মিডিয়ার এজেন্ডা নির্ধারণে ভূমিকা রাখে, এখানে অনিয়ম মানে তথ্যপ্রবাহে প্রাতিষ্ঠানিক বিকৃতি এবং রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যমে আস্থাহীনতা গণতান্ত্রিক পরিসর সঙ্কুচিত করে। বিশেষজ্ঞদের মতে, দ্রুত স্বাধীন তদন্ত ও কাঠামোগত সংস্কার ছাড়া এই সঙ্কট কাটবে না।
বাসসের এমডির বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগগুলো ব্যক্তিগত বিরোধ নয়; এগুলো রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থার জবাবদিহি ও বিশ্বাসযোগ্যতার প্রশ্ন। অভিযোগ সত্য হোক বা মিথ্যা-স্বচ্ছ তদন্ত, নথি প্রকাশ এবং পেশাগত স্বাধীনতা নিশ্চিত না হলে বাসসের সঙ্কট আরো গভীর হবে।
সবচেয়ে বড় বিষয় হলো দেশের মানুষ অন্তর্বর্তী সরকারের কাছে সব পক্ষের জন্য সম-আচরণ আশা করে। কিন্তু প্রধান জাতীয় প্রচারমাধ্যমের শীর্ষ ব্যক্তি যখন একের পর এক বিষোদগার করে একটি প্রধান দলের বিরুদ্ধে বক্তব্য রাখেন তখন কর্তৃপক্ষের নিরপেক্ষতা প্রশ্নের মুখে পড়ে।



















