ঢাকা ০৫:৪৭ অপরাহ্ন, শনিবার, ৩১ জানুয়ারী ২০২৬, ১৮ মাঘ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

বিএনপির দুর্নীতি নিয়ে কথা বলায় প্রার্থীকে হেনস্তা-হামলার অভিযোগ

স্টাফ রিপোর্টার
  • আপডেট সময় ০৪:১৩:০২ অপরাহ্ন, শনিবার, ৩১ জানুয়ারী ২০২৬
  • / ১৮ বার পড়া হয়েছে

শরীয়তপুরে ‘জনগণের মুখোমুখি’ অনুষ্ঠানে বিএনপির দুর্নীতি নিয়ে কথা বলায় সুপ্রিম পার্টির প্রার্থীকে হেনস্তা ও বাংলাদেশ ছাত্র অধিকার পরিষদের কেন্দ্রীয় নেতার ওপর হামলার অভিযোগ উঠেছে বিএনপির নেতা-কর্মীদের বিরুদ্ধে। 

শুক্রবার (৩০ জানুয়ারি) বিকেলে শরীয়তপুর সরকারি কলেজ মাঠে সুশাসনের জন্য নাগরিক (সুজন) আয়োজিত ‘জনগণের মুখোমুখি’ শীর্ষক অনুষ্ঠানে এ ঘটনা ঘটে।

প্রত্যক্ষদর্শী ও দলীয় সূত্রে জানা যায়, বিকালে শরীয়তপুর সরকারি কলেজ মাঠে ‘জনগণের মুখোমুখি’ নামের এক অনুষ্ঠানের আয়োজন করে সুশাসনের জন্য নাগরিক (সুজন)। এতে অংশ নেয় শরীয়তপুর-১ আসনের আট সংসদ সদস্য প্রার্থী। তারা নিজেদের ভাবনা তুলে ধরেন এবং উপস্থিত ভোটারদের প্রশ্নের জবাব দেন।

অনুষ্ঠানে বক্তব্য উপস্থাপনকালে শরীয়তপুর-১ আসনের প্রার্থী নুর মোহাম্মদ মিয়া বলেন, ২০০১-০৬ পর্যন্ত দেশ দুর্নীতিতে চ্যাম্পিয়ন হয়েছিল’ তার বক্তব্য শেষ হতেই উপস্থিত বিএনপির সমর্থকরা ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া জানায়। তারা ওই বক্তব্য প্রত্যাহারের দাবি তুলে স্টেজ থেকে নামিয়ে দেয়া ও হেনস্তা করে বলে অভিযোগ উঠে।

এ সময় পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে উঠলে বাংলাদেশ ছাত্র অধিকার পরিষদের কেন্দ্রীয় সহ-সভাপতি ও বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের বাংলা কলেজের নেতা  মাহমুদ পারভেজ প্রতিবাদ করেন। এতে তার ওপর চড়াও হয়ে কিল-ঘুষির পাশাপাশি চেয়ার দিয়ে আঘাত করা হয়। পরিস্থিতি আরও অবনতি হলে অনুষ্ঠানে উপস্থিত অন্যান্য প্রার্থীদের অনুরোধ এবং পুলিশ দ্রুত হস্তক্ষেপের মাধ্যমে নিয়ন্ত্রণে আসে।

বাংলাদেশ সুপ্রিম পার্টির প্রার্থী নুর মোহাম্মদ মিয়া বলেন, আজকের ঘটনাটি মানবাধিকার লঙ্ঘনের শামিল। আমরা নির্বাচনে যেই লেভেল প্লেয়িং ফিল্ডের কথা বলছি তারা মানছে না। এমন ঘটনা ঘটলে আমরা কীভাবে নির্বাচনের মাঠে থাকবো? ওনার (বিএনপির প্রার্থী) কথা ওনি বলবে। আমি সেখানে দুর্নীতির কথা বলেছি। দুর্নীতির সমস্যা সমাধানে কাজ করবো সেই কথা বলেছি। তারা যদি এভাবে বাঁধা দেয় তাহলে ভাববো তারা দুর্নীতির পক্ষে।

গণ-অধিকার পরিষদের প্রার্থী ফিরোজ আহম্মেদ বলেন, একজন প্রার্থী তার মতামত ব্যক্ত করতেই পারেন। ভুল কিছু বললে জবাবদিহি করা যেতে পারে, কিন্তু তাকে হেনস্তা করা কাম্য নয়। একজন জুলাই যোদ্ধার সঙ্গে এ ধরনের ঘটনায় আমি মর্মাহত, শংঙ্কিত, কি হবে আগামীর বাংলাদেশে।

পালং মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শাহ আলম বলেন, ঘটনাস্থলে উপস্থিত ছিলাম। কিছুটা হট্টগোল হয়েছিলো। পরবর্তীতে বিষয়টি শান্ত করেছি। এ ব্যাপারে কোনো অভিযোগ পাইনি।

নিউজটি শেয়ার করুন

বিএনপির দুর্নীতি নিয়ে কথা বলায় প্রার্থীকে হেনস্তা-হামলার অভিযোগ

আপডেট সময় ০৪:১৩:০২ অপরাহ্ন, শনিবার, ৩১ জানুয়ারী ২০২৬

শরীয়তপুরে ‘জনগণের মুখোমুখি’ অনুষ্ঠানে বিএনপির দুর্নীতি নিয়ে কথা বলায় সুপ্রিম পার্টির প্রার্থীকে হেনস্তা ও বাংলাদেশ ছাত্র অধিকার পরিষদের কেন্দ্রীয় নেতার ওপর হামলার অভিযোগ উঠেছে বিএনপির নেতা-কর্মীদের বিরুদ্ধে। 

শুক্রবার (৩০ জানুয়ারি) বিকেলে শরীয়তপুর সরকারি কলেজ মাঠে সুশাসনের জন্য নাগরিক (সুজন) আয়োজিত ‘জনগণের মুখোমুখি’ শীর্ষক অনুষ্ঠানে এ ঘটনা ঘটে।

প্রত্যক্ষদর্শী ও দলীয় সূত্রে জানা যায়, বিকালে শরীয়তপুর সরকারি কলেজ মাঠে ‘জনগণের মুখোমুখি’ নামের এক অনুষ্ঠানের আয়োজন করে সুশাসনের জন্য নাগরিক (সুজন)। এতে অংশ নেয় শরীয়তপুর-১ আসনের আট সংসদ সদস্য প্রার্থী। তারা নিজেদের ভাবনা তুলে ধরেন এবং উপস্থিত ভোটারদের প্রশ্নের জবাব দেন।

অনুষ্ঠানে বক্তব্য উপস্থাপনকালে শরীয়তপুর-১ আসনের প্রার্থী নুর মোহাম্মদ মিয়া বলেন, ২০০১-০৬ পর্যন্ত দেশ দুর্নীতিতে চ্যাম্পিয়ন হয়েছিল’ তার বক্তব্য শেষ হতেই উপস্থিত বিএনপির সমর্থকরা ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া জানায়। তারা ওই বক্তব্য প্রত্যাহারের দাবি তুলে স্টেজ থেকে নামিয়ে দেয়া ও হেনস্তা করে বলে অভিযোগ উঠে।

এ সময় পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে উঠলে বাংলাদেশ ছাত্র অধিকার পরিষদের কেন্দ্রীয় সহ-সভাপতি ও বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের বাংলা কলেজের নেতা  মাহমুদ পারভেজ প্রতিবাদ করেন। এতে তার ওপর চড়াও হয়ে কিল-ঘুষির পাশাপাশি চেয়ার দিয়ে আঘাত করা হয়। পরিস্থিতি আরও অবনতি হলে অনুষ্ঠানে উপস্থিত অন্যান্য প্রার্থীদের অনুরোধ এবং পুলিশ দ্রুত হস্তক্ষেপের মাধ্যমে নিয়ন্ত্রণে আসে।

বাংলাদেশ সুপ্রিম পার্টির প্রার্থী নুর মোহাম্মদ মিয়া বলেন, আজকের ঘটনাটি মানবাধিকার লঙ্ঘনের শামিল। আমরা নির্বাচনে যেই লেভেল প্লেয়িং ফিল্ডের কথা বলছি তারা মানছে না। এমন ঘটনা ঘটলে আমরা কীভাবে নির্বাচনের মাঠে থাকবো? ওনার (বিএনপির প্রার্থী) কথা ওনি বলবে। আমি সেখানে দুর্নীতির কথা বলেছি। দুর্নীতির সমস্যা সমাধানে কাজ করবো সেই কথা বলেছি। তারা যদি এভাবে বাঁধা দেয় তাহলে ভাববো তারা দুর্নীতির পক্ষে।

গণ-অধিকার পরিষদের প্রার্থী ফিরোজ আহম্মেদ বলেন, একজন প্রার্থী তার মতামত ব্যক্ত করতেই পারেন। ভুল কিছু বললে জবাবদিহি করা যেতে পারে, কিন্তু তাকে হেনস্তা করা কাম্য নয়। একজন জুলাই যোদ্ধার সঙ্গে এ ধরনের ঘটনায় আমি মর্মাহত, শংঙ্কিত, কি হবে আগামীর বাংলাদেশে।

পালং মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শাহ আলম বলেন, ঘটনাস্থলে উপস্থিত ছিলাম। কিছুটা হট্টগোল হয়েছিলো। পরবর্তীতে বিষয়টি শান্ত করেছি। এ ব্যাপারে কোনো অভিযোগ পাইনি।