ঢাকা ১০:৪৪ অপরাহ্ন, বুধবার, ০৪ ফেব্রুয়ারী ২০২৬, ২২ মাঘ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

তারাই গুপ্ত যারা ১৯ বছর বিদেশে পালিয়ে ছিল: জামায়াত নেত্রী

ডেস্ক রিপোর্ট
  • আপডেট সময় ০৩:১২:৫৮ অপরাহ্ন, বুধবার, ৪ ফেব্রুয়ারী ২০২৬
  • / ৩৭ বার পড়া হয়েছে

বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদ সদস্য ও ঢাকা মহানগরী দক্ষিণের মহিলা বিভাগের সেক্রেটারি আয়েশা সিদ্দিকা পারভীন বলেছেন, ‘‘তারাই গুপ্ত যারা ১৯ বচল বিদেশে পালিয়ে ছিল”।

তিনি বলেন, জামায়াতে ইসলামীর কোনো নেতাকর্মী বিদেশে পালিয়ে ছিল না। বরং জেল-জুলুম, নির্যাতন সহ্য করে জনগণের অধিকার প্রতিষ্ঠার আন্দোলন চালিয়েছে। এই আন্দোলনে জামায়াতে ইসলামীর শীর্ষ ১১ জন নেতা সহ অসংখ্যা নেতাকর্মী শাহাদাত বরণ করেছে। হাজার-হাজার নেতাকর্মীর জীবন ও রক্তের বিনিময়ে ফ্যাসিবাদের পতনের পর যারা লন্ডন থেকে দেশে এসেছে তারাই আসল গুপ্ত।

বুধবার (৪ ফেব্রুয়ারি) ঢাকা-৪ আসনের নির্বাচনী প্রচারণায় নারী নেত্রীর ওপর বর্বরোচিত হামলাসহ সারাদেশে নির্বাচনী প্রচারণায় নারীদের ওপর হামলার প্রতিবাদে ও সন্ত্রাসীদের গ্রেফতারের দাবিতে রাজধানীতে মহিলা জামাতের বিক্ষোভ মিছিল পরবর্তী সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

তিনি আরও বলেন, জামায়াতে ইসলামীকে সামনে আসতে দেওয়া হয়নি। কিন্তু আমরা থেমে যাইনি। আমরা আমাদের কার্যক্রম পরিচালনা করেই জনগণের আস্থা অর্জন করেছি। এদেশের জনগণ দেখেছে কারা জনগণের পাশে ছিল আর কারা লন্ডনে পালিয়ে ছিল।

এসময় তিনি আরও বলেন, যারা বলে জামায়াতের নারী কর্মী নাই। তারা জামায়াতের নারী কর্মীদের দেখলে পালিয়ে যাবে। কারণ জামায়াতের নারী সংগঠন এতো বেশি বৃহৎ এবং শক্তিশালী।

নারীদের ওপর হামলা চালিয়ে তাদের হিজাব খুলে ফেলার ঘটনা কোনো সভ্য সমাজ মেনে নিতে পারে না উল্লেখ করে আয়েশা সিদ্দিকা বলেন, বিএনপির কর্মীরা নারীদের সাথে এমন সব অশ্লীল ও কুরুচিপূর্ণ ভাষা ব্যবহার করে যেই ভাষা আমরা উচ্চারণ করতে পারি না। দুঃখের বিষয় বিএনপির শীর্ষ পর্যায় থেকে তৃণমূলের এমন কর্মকাণ্ডের বিরুদ্ধে সাংগঠনিক কোনো ব্যবস্থা গ্রহন করা হচ্ছে না। এতে বুঝা যায় বিএনপি দলগতভাবে নারীদের অধিকার হরণ করার মিশনে নেমেছে। সন্ত্রাসীদের কোনো দলীয় পরিচয় থাকতে পারে না উল্লেখ করে তিনি প্রশাসনের প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলেন, নারীর নিরাপত্তা, স্বাধীনতা ও অধিকার রক্ষায় নারীর প্রতি সহিংসতা বন্ধে দ্রুত পদক্ষেপ গ্রহন করতে হবে। নতুবা নারী সমাজ রাজপথে নেমে আসতে বাধ্য হবে।

ঢাকা মহানগরী দক্ষিণের কর্মপরিষদ সদস্য ও ঢাকা-৪ আসন পরিচালিকা রাবেয়া খানমের সভাপতিত্বে সমাবেশে বিশেষ অতিথির বক্তব্য রাখেন কেন্দ্রীয় মজলিসে শুরা সদস্য ও ঢাকা মহানগরী দক্ষিণের সহকারি সেক্রেটারি ডা. শিরিন আক্তার রুনা, মহানগরীর মহিলা বিভাগের কর্মপরিষদ সদস্য তানহা আজমি। এসময় উপস্থিত ছিলেন মহানগরী কর্মপরিষদ সদস্য ও ঢাকা-৪ আসন সদস্য সচিব নার্গিস খান, মহানগরীর কর্মপরিষদ সদস্য কানিজ ফাতেমা, সেলিনা আক্তার সহ বিভিন্ন থানার সেক্রেটারিবৃন্দ।

নেতৃবৃন্দ আরও বলেন, ক্ষমতায় যাওয়ার আগেই একটি দলের নেতাকর্মীর কাছে মা-বোন নিরাপদ নয়; তারা ক্ষমতায় গেলে মানুষের জান ও মালের কোনো নিরাপত্তা থাকবে না। নির্বাচনের প্রচারণায় প্রতিপক্ষের কর্মী-সমর্থকদের ওপর হামলার ঘটনায় নির্বাচনী আচরণ বিধি লংঘন হলেও কমিশন ও প্রশাসন কোনো ব্যবস্থা নিতে না পারায় নেতৃবৃন্দ ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, যদি কমিশন ও প্রশাসন যদি কোনো দলের পক্ষপাতিত্ব করে তবে জামায়াতে ইসলামী জনগণের পক্ষে পক্ষপাতিত্ব করতে বাধ্য হবে। নারীদের ওপর হামলার ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের গ্রেফতারের দাবি জানিয়ে নেতৃবৃন্দ বলেন, এমন নেক্কারজনক ঘটনার সঙ্গে জড়িত সন্ত্রাসীদের অনতিবিলিম্বে আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্ত মুলক শাস্তি প্রদান করতে হবে।

নিউজটি শেয়ার করুন

তারাই গুপ্ত যারা ১৯ বছর বিদেশে পালিয়ে ছিল: জামায়াত নেত্রী

আপডেট সময় ০৩:১২:৫৮ অপরাহ্ন, বুধবার, ৪ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদ সদস্য ও ঢাকা মহানগরী দক্ষিণের মহিলা বিভাগের সেক্রেটারি আয়েশা সিদ্দিকা পারভীন বলেছেন, ‘‘তারাই গুপ্ত যারা ১৯ বচল বিদেশে পালিয়ে ছিল”।

তিনি বলেন, জামায়াতে ইসলামীর কোনো নেতাকর্মী বিদেশে পালিয়ে ছিল না। বরং জেল-জুলুম, নির্যাতন সহ্য করে জনগণের অধিকার প্রতিষ্ঠার আন্দোলন চালিয়েছে। এই আন্দোলনে জামায়াতে ইসলামীর শীর্ষ ১১ জন নেতা সহ অসংখ্যা নেতাকর্মী শাহাদাত বরণ করেছে। হাজার-হাজার নেতাকর্মীর জীবন ও রক্তের বিনিময়ে ফ্যাসিবাদের পতনের পর যারা লন্ডন থেকে দেশে এসেছে তারাই আসল গুপ্ত।

বুধবার (৪ ফেব্রুয়ারি) ঢাকা-৪ আসনের নির্বাচনী প্রচারণায় নারী নেত্রীর ওপর বর্বরোচিত হামলাসহ সারাদেশে নির্বাচনী প্রচারণায় নারীদের ওপর হামলার প্রতিবাদে ও সন্ত্রাসীদের গ্রেফতারের দাবিতে রাজধানীতে মহিলা জামাতের বিক্ষোভ মিছিল পরবর্তী সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

তিনি আরও বলেন, জামায়াতে ইসলামীকে সামনে আসতে দেওয়া হয়নি। কিন্তু আমরা থেমে যাইনি। আমরা আমাদের কার্যক্রম পরিচালনা করেই জনগণের আস্থা অর্জন করেছি। এদেশের জনগণ দেখেছে কারা জনগণের পাশে ছিল আর কারা লন্ডনে পালিয়ে ছিল।

এসময় তিনি আরও বলেন, যারা বলে জামায়াতের নারী কর্মী নাই। তারা জামায়াতের নারী কর্মীদের দেখলে পালিয়ে যাবে। কারণ জামায়াতের নারী সংগঠন এতো বেশি বৃহৎ এবং শক্তিশালী।

নারীদের ওপর হামলা চালিয়ে তাদের হিজাব খুলে ফেলার ঘটনা কোনো সভ্য সমাজ মেনে নিতে পারে না উল্লেখ করে আয়েশা সিদ্দিকা বলেন, বিএনপির কর্মীরা নারীদের সাথে এমন সব অশ্লীল ও কুরুচিপূর্ণ ভাষা ব্যবহার করে যেই ভাষা আমরা উচ্চারণ করতে পারি না। দুঃখের বিষয় বিএনপির শীর্ষ পর্যায় থেকে তৃণমূলের এমন কর্মকাণ্ডের বিরুদ্ধে সাংগঠনিক কোনো ব্যবস্থা গ্রহন করা হচ্ছে না। এতে বুঝা যায় বিএনপি দলগতভাবে নারীদের অধিকার হরণ করার মিশনে নেমেছে। সন্ত্রাসীদের কোনো দলীয় পরিচয় থাকতে পারে না উল্লেখ করে তিনি প্রশাসনের প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলেন, নারীর নিরাপত্তা, স্বাধীনতা ও অধিকার রক্ষায় নারীর প্রতি সহিংসতা বন্ধে দ্রুত পদক্ষেপ গ্রহন করতে হবে। নতুবা নারী সমাজ রাজপথে নেমে আসতে বাধ্য হবে।

ঢাকা মহানগরী দক্ষিণের কর্মপরিষদ সদস্য ও ঢাকা-৪ আসন পরিচালিকা রাবেয়া খানমের সভাপতিত্বে সমাবেশে বিশেষ অতিথির বক্তব্য রাখেন কেন্দ্রীয় মজলিসে শুরা সদস্য ও ঢাকা মহানগরী দক্ষিণের সহকারি সেক্রেটারি ডা. শিরিন আক্তার রুনা, মহানগরীর মহিলা বিভাগের কর্মপরিষদ সদস্য তানহা আজমি। এসময় উপস্থিত ছিলেন মহানগরী কর্মপরিষদ সদস্য ও ঢাকা-৪ আসন সদস্য সচিব নার্গিস খান, মহানগরীর কর্মপরিষদ সদস্য কানিজ ফাতেমা, সেলিনা আক্তার সহ বিভিন্ন থানার সেক্রেটারিবৃন্দ।

নেতৃবৃন্দ আরও বলেন, ক্ষমতায় যাওয়ার আগেই একটি দলের নেতাকর্মীর কাছে মা-বোন নিরাপদ নয়; তারা ক্ষমতায় গেলে মানুষের জান ও মালের কোনো নিরাপত্তা থাকবে না। নির্বাচনের প্রচারণায় প্রতিপক্ষের কর্মী-সমর্থকদের ওপর হামলার ঘটনায় নির্বাচনী আচরণ বিধি লংঘন হলেও কমিশন ও প্রশাসন কোনো ব্যবস্থা নিতে না পারায় নেতৃবৃন্দ ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, যদি কমিশন ও প্রশাসন যদি কোনো দলের পক্ষপাতিত্ব করে তবে জামায়াতে ইসলামী জনগণের পক্ষে পক্ষপাতিত্ব করতে বাধ্য হবে। নারীদের ওপর হামলার ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের গ্রেফতারের দাবি জানিয়ে নেতৃবৃন্দ বলেন, এমন নেক্কারজনক ঘটনার সঙ্গে জড়িত সন্ত্রাসীদের অনতিবিলিম্বে আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্ত মুলক শাস্তি প্রদান করতে হবে।