ঢাকা ০৬:২৭ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ০৫ ফেব্রুয়ারী ২০২৬, ২৩ মাঘ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

আশুলিয়ায় লাশ পোড়ানো মামলায় ৬ জনের ফাঁসি, রাজসাক্ষী খালাস

ডেস্ক রিপোর্ট
  • আপডেট সময় ০৩:১৫:৩৬ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৫ ফেব্রুয়ারী ২০২৬
  • / ২৩ বার পড়া হয়েছে

জুলাই গণঅভ্যুত্থানে আশুলিয়ায় ছয়জনের লাশ পোড়ানোসহ সাতজনকে হত্যার ঘটনায় মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলার সাবেক সংসদ সদস্য সাইফুল ইসলামসহ ৬ জনের মৃত্যুদণ্ড দিয়েছেন আদালত। এছাড়া সাতজনের যাবজ্জীবন, দুইজনের সাত বছরের কারাদণ্ড ও রাজসাক্ষী আফজালকে খালাস দিয়েছেন আদালাত।

একই সঙ্গে সাবেক সংসদ সদস্য সাইফুল ইসলামের সব সম্পত্তি বাজেয়াপ্ত করে দুস্থদের মধ্যে বিতরণের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

বৃহস্পতিবার (৫ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে ট্রাইব্যুনাল-২ এর চেয়ারম্যান বিচারপতি নজরুল ইসলাম চৌধুরীর নেতৃত্বাধীন তিন সদস্যের বিচারিক প্যানেল এ রায় ঘোষণা করেন। প্যানেলের অপর দুই সদস্য হলেন—বিচারক মো. মঞ্জুরুল বাছিদ ও বিচারক নূর মোহাম্মদ শাহরিয়ার কবীর।

রায় ঘিরে কয়েক স্তরের নিরাপত্তা বাড়ানো হয়েছে ট্রাইব্যুনাল ও সুপ্রিম কোর্ট এলাকায়। পুলিশ-র‌্যাব-বিজিবির পাশাপাশি নিয়োজিত রয়েছে সেনাবাহিনী। তৎপর রয়েছেন গোয়েন্দা সংস্থার সদস্যরাও।

মামলায় গ্রেফতার ব্যক্তিরা হলেন— ঢাকা জেলার সাবেক অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক্রাইম অ্যান্ড অপস) মো. আব্দুল্লাহিল কাফী, সাবেক অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সাভার সার্কেল) মো. শাহিদুল ইসলাম, ডিবির তৎকালীন পরিদর্শক আরাফাত হোসেন, এসআই মালেক, এসআই আরাফাত উদ্দিন, এএসআই কামরুল হাসান, এসআই শেখ আবজালুল হক ও কনস্টেবল মুকুল।

পলাতক আট আসামি হলেন— ঢাকা-১৯ আসনের সাবেক এমপি মুহাম্মদ সাইফুল ইসলাম, ঢাকা রেঞ্জের সাবেক ডিআইজি সৈয়দ নুরুল ইসলাম, সাবেক পুলিশ সুপার মো. আসাদুজ্জামান রিপন, আশুলিয়া থানার তৎকালীন ওসি এএফএম সায়েদ রনি, সাবেক পুলিশ পরিদর্শক (তদন্ত) মোহাম্মদ মাসুদুর রহমান, সাবেক পুলিশ পরিদর্শক (অপারেশন) নির্মল কুমার দাস, সাবেক এএসআই বিশ্বজিৎ সাহা ও স্থানীয় আওয়ামী লীগ নেতা রনি ভূঁইয়া।

ট্রাইব্যুনালে এই মামলায় প্রসিকিউসনের পক্ষে ছিলেন চিফ প্রসিকিউটর মোহাম্মদ তাজুল ইসলাম, প্রসিকিউটর মিজানুল ইসলাম, গাজী এম এইচ তামীম, বি এম সুলতান মাহমুদ, ফারুক আহমেদ, আবদুস সাত্তার পালোয়ানসহ অপর প্রসিকিউটররা। অন্যদিকে চার আসামির পক্ষে ছিলেন রাষ্ট্র নিযুক্ত আইনজীবী আমির হোসেন।

গত ২০ জানুয়ারি এ মামলার যুক্তিতর্ক সম্পন্ন হয়। রাষ্ট্রপক্ষ ও আসামিপক্ষের যুক্তিতর্ক শেষে মামলাটি রায়ের জন্য অপেক্ষমাণ (সিএভি) রাখেন ট্রাইব্যুনাল। এ মামলায় প্রাথমিকভাবে ১৬ জনকে আসামি করা হয়। ট্রাইব্যুনালে এ মামলায় ১১ আসামির নাম উল্লেখ করে প্রসিকিউশন। এর মধ্যে আটজন গ্রেফতার হয়ে কারাগারে রয়েছেন।

মামলার বিবরণে জানা যায়, ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট সাভারের আশুলিয়ায় পুলিশের গুলিতে প্রাণ হারান ছয় তরুণ। এরপর পুলিশ ভ্যানে তাদের লাশ তুলে আগুনে পুড়িয়ে দেওয়া হয়। নৃশংস এ ঘটনার সময় একজন জীবিত ছিলেন। পেট্রল ঢেলে জীবন্ত মানুষকেই পুড়িয়ে মারা হয়। এ ছাড়া এর আগের দিন একজন শহীদ হয়েছিলেন।

এ ঘটনায় একই বছরের ১১ সেপ্টেম্বর মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগ এনে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে মামলা করা হয়। গত ১৪ সেপ্টেম্বর মামলার সূচনা বক্তব্যে চিফ প্রসিকিউটর মোহাম্মদ তাজুল ইসলাম। ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট আশুলিয়ায় সংঘটিত বর্বরোচিত হত্যাকাণ্ডের বর্ণনা দেন তিনি।

এ মামলার আনুষ্ঠানিক অভিযোগের সঙ্গে অন্যান্য তথ্যসূত্র হিসেবে ৩১৩ পৃষ্ঠা নথি, ১৬৮ পৃষ্ঠার দালিলিক প্রমাণ ও দুটি পেনড্রাইভ যুক্ত করা হয়। এ ছাড়া সাক্ষী করা হয়েছে ৬২ জনকে। এর মধ্যে ২৬ জন সাক্ষী দেওয়ার পর এ মামলার সাক্ষ্যগ্রহণ শেষ করা হয়।

২০২৫ সালের ২১ আগস্ট ট্রাইব্যুনাল-২ এই মামলায় ১৬ আসামির বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করে বিচার শুরুর আদেশ দেন। গত ২ জুলাই জুলাই-আগস্টে ছাত্র আন্দোলন চলাকালে সাভারের আশুলিয়ায় ছয় লাশ পোড়ানোর ঘটনায় সাবেক সংসদ সদস্য সাইফুল ইসলামসহ ১৬ জনের বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ আমলে নেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল। একইসঙ্গে পলাতক আট আসামির বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করেন আদালত। এ ছাড়া গ্রেফতার আট আসামিকে শ্যোন অ্যারেস্ট দেখানো হয়।

নিউজটি শেয়ার করুন

আশুলিয়ায় লাশ পোড়ানো মামলায় ৬ জনের ফাঁসি, রাজসাক্ষী খালাস

আপডেট সময় ০৩:১৫:৩৬ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৫ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

জুলাই গণঅভ্যুত্থানে আশুলিয়ায় ছয়জনের লাশ পোড়ানোসহ সাতজনকে হত্যার ঘটনায় মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলার সাবেক সংসদ সদস্য সাইফুল ইসলামসহ ৬ জনের মৃত্যুদণ্ড দিয়েছেন আদালত। এছাড়া সাতজনের যাবজ্জীবন, দুইজনের সাত বছরের কারাদণ্ড ও রাজসাক্ষী আফজালকে খালাস দিয়েছেন আদালাত।

একই সঙ্গে সাবেক সংসদ সদস্য সাইফুল ইসলামের সব সম্পত্তি বাজেয়াপ্ত করে দুস্থদের মধ্যে বিতরণের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

বৃহস্পতিবার (৫ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে ট্রাইব্যুনাল-২ এর চেয়ারম্যান বিচারপতি নজরুল ইসলাম চৌধুরীর নেতৃত্বাধীন তিন সদস্যের বিচারিক প্যানেল এ রায় ঘোষণা করেন। প্যানেলের অপর দুই সদস্য হলেন—বিচারক মো. মঞ্জুরুল বাছিদ ও বিচারক নূর মোহাম্মদ শাহরিয়ার কবীর।

রায় ঘিরে কয়েক স্তরের নিরাপত্তা বাড়ানো হয়েছে ট্রাইব্যুনাল ও সুপ্রিম কোর্ট এলাকায়। পুলিশ-র‌্যাব-বিজিবির পাশাপাশি নিয়োজিত রয়েছে সেনাবাহিনী। তৎপর রয়েছেন গোয়েন্দা সংস্থার সদস্যরাও।

মামলায় গ্রেফতার ব্যক্তিরা হলেন— ঢাকা জেলার সাবেক অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক্রাইম অ্যান্ড অপস) মো. আব্দুল্লাহিল কাফী, সাবেক অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সাভার সার্কেল) মো. শাহিদুল ইসলাম, ডিবির তৎকালীন পরিদর্শক আরাফাত হোসেন, এসআই মালেক, এসআই আরাফাত উদ্দিন, এএসআই কামরুল হাসান, এসআই শেখ আবজালুল হক ও কনস্টেবল মুকুল।

পলাতক আট আসামি হলেন— ঢাকা-১৯ আসনের সাবেক এমপি মুহাম্মদ সাইফুল ইসলাম, ঢাকা রেঞ্জের সাবেক ডিআইজি সৈয়দ নুরুল ইসলাম, সাবেক পুলিশ সুপার মো. আসাদুজ্জামান রিপন, আশুলিয়া থানার তৎকালীন ওসি এএফএম সায়েদ রনি, সাবেক পুলিশ পরিদর্শক (তদন্ত) মোহাম্মদ মাসুদুর রহমান, সাবেক পুলিশ পরিদর্শক (অপারেশন) নির্মল কুমার দাস, সাবেক এএসআই বিশ্বজিৎ সাহা ও স্থানীয় আওয়ামী লীগ নেতা রনি ভূঁইয়া।

ট্রাইব্যুনালে এই মামলায় প্রসিকিউসনের পক্ষে ছিলেন চিফ প্রসিকিউটর মোহাম্মদ তাজুল ইসলাম, প্রসিকিউটর মিজানুল ইসলাম, গাজী এম এইচ তামীম, বি এম সুলতান মাহমুদ, ফারুক আহমেদ, আবদুস সাত্তার পালোয়ানসহ অপর প্রসিকিউটররা। অন্যদিকে চার আসামির পক্ষে ছিলেন রাষ্ট্র নিযুক্ত আইনজীবী আমির হোসেন।

গত ২০ জানুয়ারি এ মামলার যুক্তিতর্ক সম্পন্ন হয়। রাষ্ট্রপক্ষ ও আসামিপক্ষের যুক্তিতর্ক শেষে মামলাটি রায়ের জন্য অপেক্ষমাণ (সিএভি) রাখেন ট্রাইব্যুনাল। এ মামলায় প্রাথমিকভাবে ১৬ জনকে আসামি করা হয়। ট্রাইব্যুনালে এ মামলায় ১১ আসামির নাম উল্লেখ করে প্রসিকিউশন। এর মধ্যে আটজন গ্রেফতার হয়ে কারাগারে রয়েছেন।

মামলার বিবরণে জানা যায়, ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট সাভারের আশুলিয়ায় পুলিশের গুলিতে প্রাণ হারান ছয় তরুণ। এরপর পুলিশ ভ্যানে তাদের লাশ তুলে আগুনে পুড়িয়ে দেওয়া হয়। নৃশংস এ ঘটনার সময় একজন জীবিত ছিলেন। পেট্রল ঢেলে জীবন্ত মানুষকেই পুড়িয়ে মারা হয়। এ ছাড়া এর আগের দিন একজন শহীদ হয়েছিলেন।

এ ঘটনায় একই বছরের ১১ সেপ্টেম্বর মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগ এনে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে মামলা করা হয়। গত ১৪ সেপ্টেম্বর মামলার সূচনা বক্তব্যে চিফ প্রসিকিউটর মোহাম্মদ তাজুল ইসলাম। ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট আশুলিয়ায় সংঘটিত বর্বরোচিত হত্যাকাণ্ডের বর্ণনা দেন তিনি।

এ মামলার আনুষ্ঠানিক অভিযোগের সঙ্গে অন্যান্য তথ্যসূত্র হিসেবে ৩১৩ পৃষ্ঠা নথি, ১৬৮ পৃষ্ঠার দালিলিক প্রমাণ ও দুটি পেনড্রাইভ যুক্ত করা হয়। এ ছাড়া সাক্ষী করা হয়েছে ৬২ জনকে। এর মধ্যে ২৬ জন সাক্ষী দেওয়ার পর এ মামলার সাক্ষ্যগ্রহণ শেষ করা হয়।

২০২৫ সালের ২১ আগস্ট ট্রাইব্যুনাল-২ এই মামলায় ১৬ আসামির বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করে বিচার শুরুর আদেশ দেন। গত ২ জুলাই জুলাই-আগস্টে ছাত্র আন্দোলন চলাকালে সাভারের আশুলিয়ায় ছয় লাশ পোড়ানোর ঘটনায় সাবেক সংসদ সদস্য সাইফুল ইসলামসহ ১৬ জনের বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ আমলে নেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল। একইসঙ্গে পলাতক আট আসামির বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করেন আদালত। এ ছাড়া গ্রেফতার আট আসামিকে শ্যোন অ্যারেস্ট দেখানো হয়।