ঢাকা ১২:২০ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১২ ফেব্রুয়ারী ২০২৬, ২৯ মাঘ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

নারী হেনস্তার প্রতিবাদ করায় বুয়েট ছাত্রকে বিএনপির মারধর; ভোট না দিয়েই ছাড়লেন এলাকা

স্টাফ রিপোর্টার
  • আপডেট সময় ০৭:৪১:৫২ অপরাহ্ন, বুধবার, ১১ ফেব্রুয়ারী ২০২৬
  • / ৩৭ বার পড়া হয়েছে
বিএনপি নেতাকর্মীদের কর্তৃক নারী হেনস্তার প্রতিবাদ জানানোয় মারধরের শিকার হয়েছেন বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) এক শিক্ষার্থী। এছাড়া বিএনপি নেতাকর্মীদের ধাওয়া খেয়ে ভোট না দিয়েই এলাকা ছাড়তে হয়েছে সে শিক্ষার্থীকে। সিরাজগঞ্জ সদরের রানীগ্রাম রোডে এ ঘটনা ঘটে বলে জানা যায়। নিজস্ব ফেসবুক একাউন্টে পোস্ট দিয়ে এসব কথা জানান ভুক্তভোগী শিক্ষার্থী সাদ খান।

ফেসবুক পোস্টে তিনি বলেন, “ভোট দিতে পারলাম না। গতকালই বাড়িতে এসেছিলাম, আজই ঢাকা যাচ্ছি। শুধুমাত্র একটি বিশেষ দলের জন্য বাড়িতে থাকতে পারলাম না। যে কাপড়ে ছিলাম, সেটাই পরে বের হয়ে গেলাম। আপনার বিবেককে প্রশ্ন করে ভোটটা দেবেন।”
ঘটনার বর্ণনা দিয়ে তিনি বলেন, আজ দুপুর ১২টার দিকে আমি বাসার উঠানে ছোট বাচ্চাদের সঙ্গে খেলছিলাম। হঠাৎ জোরে চিৎকারের শব্দ শুনে আমি, আমার ছোট ভাই, আমার চাচাতো ভাই ও এক ফুপাতো ভাই রাস্তার দিকে যাই। গিয়ে দেখি, আমার দুই ফুপি যাদের বয়স আনুমানিক ৬৫ বছরের বেশি তাদের বিএনপির কয়েকজন লোক আটকে রেখেছে। তাদের অভিযোগ ছিল, তারা নাকি জামায়াতের প্রচারণা করছিলেন।
আমি তাদের বললাম, “উনাদের তো বয়স অনেক। তাই উনাদের বাড়ির ভেতরে এভাবে আটকে না রেখে ছেড়ে দিন। যেহেতু সেনাবাহিনীকে কল করা হয়েছে এবং তারা আসছে, তারা বিষয়টি দেখবে।”
তখন বিএনপির একজন আমাকে জিজ্ঞেস করল, “তোর নাম কী? তুই কে?” আমি পরিচয় দেওয়ার সঙ্গে সঙ্গে সে আমার কলার ধরে রাণীগ্রামের দিকে নিয়ে যেতে থাকে। আমি অনেক কষ্টে তার হাত থেকে নিজেকে ছাড়িয়ে দৌড়ে পালাই। মাঠের দিকে দৌড় দিলে ৭–৮ জন আমার পেছনে ধাওয়া করে। একপর্যায়ে আমি পড়ে যাই। তখন তারা আমাকে মাটিতে ফেলে লাথি ও লাঠি দিয়ে মারধর করে। আমার ছোট ভাই ও চাচাতো ভাইকেও তারা কোদাল দিয়ে আঘাত করে। অল্পের জন্য তারা আমাকে ইট দিয়ে মাথায় মারতে পারেনি। একপর্যায়ে একটি ছোট বাচ্চা আমার ওপর শুয়ে পড়ে। কিছুক্ষণ পর আমার চাচিরা ও আম্মু এসে আমাকে উঠান। এরপর আমি দৌড়ে গিয়ে একজনের বাসায় আশ্রয় নিই। সেখানে একটি রুমে আমার আম্মু আমাকে আটকে রাখেন।
আমি ৯৯৯-এ কল দিয়ে বিষয়টি জানালে তারা সেনাবাহিনী পাঠায়। এরপর কী হয়েছে, জানি না। তারা নাকি বলেছে, “শুধু বিএনপি উঠুক, তাকে আর তোর ভাইদের দেখে নেব।” তাই আজকে বাসা থেকে ভাইসহ পালিয়ে আসলাম। আমার চাচাতো ভাইয়ের চোখে গুরুতর আঘাত করা হয়েছে।
ভুক্তভোগী সাদ খান বুয়েটের কেমিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের ২৪ ব্যাচের শিক্ষার্থী।

নিউজটি শেয়ার করুন

নারী হেনস্তার প্রতিবাদ করায় বুয়েট ছাত্রকে বিএনপির মারধর; ভোট না দিয়েই ছাড়লেন এলাকা

আপডেট সময় ০৭:৪১:৫২ অপরাহ্ন, বুধবার, ১১ ফেব্রুয়ারী ২০২৬
বিএনপি নেতাকর্মীদের কর্তৃক নারী হেনস্তার প্রতিবাদ জানানোয় মারধরের শিকার হয়েছেন বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) এক শিক্ষার্থী। এছাড়া বিএনপি নেতাকর্মীদের ধাওয়া খেয়ে ভোট না দিয়েই এলাকা ছাড়তে হয়েছে সে শিক্ষার্থীকে। সিরাজগঞ্জ সদরের রানীগ্রাম রোডে এ ঘটনা ঘটে বলে জানা যায়। নিজস্ব ফেসবুক একাউন্টে পোস্ট দিয়ে এসব কথা জানান ভুক্তভোগী শিক্ষার্থী সাদ খান।

ফেসবুক পোস্টে তিনি বলেন, “ভোট দিতে পারলাম না। গতকালই বাড়িতে এসেছিলাম, আজই ঢাকা যাচ্ছি। শুধুমাত্র একটি বিশেষ দলের জন্য বাড়িতে থাকতে পারলাম না। যে কাপড়ে ছিলাম, সেটাই পরে বের হয়ে গেলাম। আপনার বিবেককে প্রশ্ন করে ভোটটা দেবেন।”
ঘটনার বর্ণনা দিয়ে তিনি বলেন, আজ দুপুর ১২টার দিকে আমি বাসার উঠানে ছোট বাচ্চাদের সঙ্গে খেলছিলাম। হঠাৎ জোরে চিৎকারের শব্দ শুনে আমি, আমার ছোট ভাই, আমার চাচাতো ভাই ও এক ফুপাতো ভাই রাস্তার দিকে যাই। গিয়ে দেখি, আমার দুই ফুপি যাদের বয়স আনুমানিক ৬৫ বছরের বেশি তাদের বিএনপির কয়েকজন লোক আটকে রেখেছে। তাদের অভিযোগ ছিল, তারা নাকি জামায়াতের প্রচারণা করছিলেন।
আমি তাদের বললাম, “উনাদের তো বয়স অনেক। তাই উনাদের বাড়ির ভেতরে এভাবে আটকে না রেখে ছেড়ে দিন। যেহেতু সেনাবাহিনীকে কল করা হয়েছে এবং তারা আসছে, তারা বিষয়টি দেখবে।”
তখন বিএনপির একজন আমাকে জিজ্ঞেস করল, “তোর নাম কী? তুই কে?” আমি পরিচয় দেওয়ার সঙ্গে সঙ্গে সে আমার কলার ধরে রাণীগ্রামের দিকে নিয়ে যেতে থাকে। আমি অনেক কষ্টে তার হাত থেকে নিজেকে ছাড়িয়ে দৌড়ে পালাই। মাঠের দিকে দৌড় দিলে ৭–৮ জন আমার পেছনে ধাওয়া করে। একপর্যায়ে আমি পড়ে যাই। তখন তারা আমাকে মাটিতে ফেলে লাথি ও লাঠি দিয়ে মারধর করে। আমার ছোট ভাই ও চাচাতো ভাইকেও তারা কোদাল দিয়ে আঘাত করে। অল্পের জন্য তারা আমাকে ইট দিয়ে মাথায় মারতে পারেনি। একপর্যায়ে একটি ছোট বাচ্চা আমার ওপর শুয়ে পড়ে। কিছুক্ষণ পর আমার চাচিরা ও আম্মু এসে আমাকে উঠান। এরপর আমি দৌড়ে গিয়ে একজনের বাসায় আশ্রয় নিই। সেখানে একটি রুমে আমার আম্মু আমাকে আটকে রাখেন।
আমি ৯৯৯-এ কল দিয়ে বিষয়টি জানালে তারা সেনাবাহিনী পাঠায়। এরপর কী হয়েছে, জানি না। তারা নাকি বলেছে, “শুধু বিএনপি উঠুক, তাকে আর তোর ভাইদের দেখে নেব।” তাই আজকে বাসা থেকে ভাইসহ পালিয়ে আসলাম। আমার চাচাতো ভাইয়ের চোখে গুরুতর আঘাত করা হয়েছে।
ভুক্তভোগী সাদ খান বুয়েটের কেমিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের ২৪ ব্যাচের শিক্ষার্থী।