ঢাকা ০১:২৪ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৭ ফেব্রুয়ারী ২০২৬, ৪ ফাল্গুন ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

সিরাজগঞ্জে জামায়াত নেতার বাড়িতে বিএনপির লুটপাট-ভাঙচুর, নারী-শিশুসহ আহত ১০

নিজস্ব সংবাদ :
  • আপডেট সময় ০৯:১৩:৩৬ অপরাহ্ন, সোমবার, ১৬ ফেব্রুয়ারী ২০২৬
  • / ৩৮ বার পড়া হয়েছে

সিরাজগঞ্জের উল্লাপাড়া উপজেলায় বিএনপির নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে জামায়াতের উধুনিয়া ইউনিয়ন আমিরের বাড়িতে হামলা, লুটপাট ও ভাঙচুরের অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় নারী ও শিশুসহ অন্তত ১০ জন আহত হয়েছেন বলে জানা গেছে। আহতদের স্থানীয় হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।

রোববার (১৫ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে এ ঘটনা ঘটেছে। অভিযোগ অনুযায়ী, বিএনপির নেতাকর্মীরা প্রায় ৫০-৬০টি মোটরসাইকেলের বহর নিয়ে উপজেলার বিভিন্ন এলাকা প্রদর্শন করে দুপুর দেড়টার দিকে উধুনিয়া ইউনিয়নের গজাইল বাজার এলাকায় পৌঁছায়। এ সময় তারা ইউনিয়ন জামায়াতের আমির আব্দুল আলিমের বাড়ি লক্ষ্য করে হামলা চালায়।

স্থানীয় সূত্র জানায়, আওয়ামী লীগ সরকারের সময় আওয়ামী লীগের রাজনীতির সাথে যুক্ত থাকলেও পরে বিএনপিতে যোগদানকারী স্থানীয় নেতা মো: গফুরের বাড়ির কাছে পৌঁছালে মোটরসাইকেল বহরের নেতৃত্বদানকারীরা ইউনিয়ন জামায়াতের আমিরের বাড়ি চিহ্নিত করেন। এরপর হামলাকারীরা বাড়িতে ঢুকে ভাঙচুর ও লুটপাট চালায়।

এ ঘটনায় উল্লাপাড়া মডেল থানায় একটি এজাহার দাখিল করা হয়। এজাহারে উল্লেখ করা হয়, ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক উত্তেজনার জেরে বিএনপি মনোনীত প্রার্থীর সমর্থকরা সশস্ত্র অবস্থায় বাড়িতে প্রবেশ করে ব্যাপক ভাঙচুর চালায়। এ সময় বাড়ির নারী সদস্যরা বাধা দিলে তাদের মারধর করা হয়।

গুরুতর আহতদের মধ্যে রয়েছেন— আব্দুল আলিমের স্ত্রী মোসা: জেরিন খাতুন, তার মেয়ে মারুফা খাতুন, মর্জিনা খাতুন, জামেনা খাতুন ও আকলিমা খাতুন। তারা বর্তমানে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।

এজাহারে আরো অভিযোগ করা হয়েছে, হামলাকারীরা নগদ পাঁচ লাখ ৭৫ হাজার টাকা, প্রায় তিন ভরি স্বর্ণালংকার (আনুমানিক বাজারমূল্য প্রায় ১২ লাখ টাকা), মসজিদ ও কবরস্থানের তহবিলের অর্থসহ বিভিন্ন মূল্যবান সামগ্রী লুট করে নিয়ে যায়।

এ ঘটনায় বিএনপির স্থানীয় কয়েকজন নেতা— উপজেলা যুবদলের আহ্বায়ক গোলাম মোস্তফা, সদস্য সচিব নিক্সন কুমার আমিন, পৌর ছাত্রদলের আহ্বায়ক ইলিয়াস কাওসার ও কাওসার আহমেদ রনির নাম এজাহারে উল্লেখ করা হয়।

তবে এ বিষয়ে অভিযুক্ত নিক্সন কুমার আমিন বিষয়টি অস্বীকার করে বলেন, ‘আমরা আমাদের নেতাকর্মীদের দেখতে গিয়েছিলাম।’

উল্লাপাড়া মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) সাকিউল আজম বলেন, ‘খবর পেয়ে ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সাথে নিয়ে ঘটনাস্থলে গিয়েছিলাম, তদন্ত করে ব্যবস্থা নেয়া হবে।’

নির্বাচন ফল ঘোষণা ঘিরে উত্তেজনা
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের ফলাফল ঘোষণা নিয়ে এলাকায় উত্তেজনা বিরাজ করছে। অভিযোগ রয়েছে, পোস্টাল ভোটসহ ফলাফল ঘোষণায় বিলম্ব হওয়াকে কেন্দ্র করে নির্বাচনের রাত থেকেই বিভিন্ন স্থানে সহিংসতার ঘটনা ঘটে।

প্রাপ্ত তথ্যমতে, পোস্টাল ভোট ছাড়া বিএনপি প্রার্থী পেয়েছেন এক লাখ ৬০ হাজার ৪৫৮ ভোট এবং জামায়াত প্রার্থী পেয়েছেন এক লাখ ৫৯ হাজার ৬৯৩ ভোট। পোস্টাল ভোটে বিএনপি পেয়েছে ৮২০ ভোট এবং জামায়াত পেয়েছে দুই হাজার ১৭৯ ভোট।

সব মিলিয়ে বিএনপি প্রার্থীর মোট ভোট এক লাখ ৬১ হাজার ২৭৮ এবং জামায়াত প্রার্থীর মোট ভোট এক লাখ ৬১ হাজার ৮৭২। ফলে জামায়াত প্রার্থী ৫৯৪ ভোটে বিজয়ী হন।

অভিযোগ উঠেছে, পোস্টাল ব্যালটসহ পূর্ণাঙ্গ ফলাফল ঘোষণা না দেয়াকে কেন্দ্র করে বিএনপির নেতাকর্মীরা বিভিন্ন স্থানে হামলা ও ভাঙচুর চালায়। জামায়াত নেতাকর্মীদের ওপর হামলা, বাড়িঘরে ভাঙচুর ও মামলা দেয়ার অভিযোগও পাওয়া গেছে। এমনকি ভট্টোকাওয়াক গ্রামে ১১০ বছর বয়সী এক বৃদ্ধের নামেও মামলা দেয়া হয়েছে বলে স্থানীয়রা দাবি করেছেন।

নিউজটি শেয়ার করুন

সিরাজগঞ্জে জামায়াত নেতার বাড়িতে বিএনপির লুটপাট-ভাঙচুর, নারী-শিশুসহ আহত ১০

আপডেট সময় ০৯:১৩:৩৬ অপরাহ্ন, সোমবার, ১৬ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

সিরাজগঞ্জের উল্লাপাড়া উপজেলায় বিএনপির নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে জামায়াতের উধুনিয়া ইউনিয়ন আমিরের বাড়িতে হামলা, লুটপাট ও ভাঙচুরের অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় নারী ও শিশুসহ অন্তত ১০ জন আহত হয়েছেন বলে জানা গেছে। আহতদের স্থানীয় হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।

রোববার (১৫ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে এ ঘটনা ঘটেছে। অভিযোগ অনুযায়ী, বিএনপির নেতাকর্মীরা প্রায় ৫০-৬০টি মোটরসাইকেলের বহর নিয়ে উপজেলার বিভিন্ন এলাকা প্রদর্শন করে দুপুর দেড়টার দিকে উধুনিয়া ইউনিয়নের গজাইল বাজার এলাকায় পৌঁছায়। এ সময় তারা ইউনিয়ন জামায়াতের আমির আব্দুল আলিমের বাড়ি লক্ষ্য করে হামলা চালায়।

স্থানীয় সূত্র জানায়, আওয়ামী লীগ সরকারের সময় আওয়ামী লীগের রাজনীতির সাথে যুক্ত থাকলেও পরে বিএনপিতে যোগদানকারী স্থানীয় নেতা মো: গফুরের বাড়ির কাছে পৌঁছালে মোটরসাইকেল বহরের নেতৃত্বদানকারীরা ইউনিয়ন জামায়াতের আমিরের বাড়ি চিহ্নিত করেন। এরপর হামলাকারীরা বাড়িতে ঢুকে ভাঙচুর ও লুটপাট চালায়।

এ ঘটনায় উল্লাপাড়া মডেল থানায় একটি এজাহার দাখিল করা হয়। এজাহারে উল্লেখ করা হয়, ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক উত্তেজনার জেরে বিএনপি মনোনীত প্রার্থীর সমর্থকরা সশস্ত্র অবস্থায় বাড়িতে প্রবেশ করে ব্যাপক ভাঙচুর চালায়। এ সময় বাড়ির নারী সদস্যরা বাধা দিলে তাদের মারধর করা হয়।

গুরুতর আহতদের মধ্যে রয়েছেন— আব্দুল আলিমের স্ত্রী মোসা: জেরিন খাতুন, তার মেয়ে মারুফা খাতুন, মর্জিনা খাতুন, জামেনা খাতুন ও আকলিমা খাতুন। তারা বর্তমানে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।

এজাহারে আরো অভিযোগ করা হয়েছে, হামলাকারীরা নগদ পাঁচ লাখ ৭৫ হাজার টাকা, প্রায় তিন ভরি স্বর্ণালংকার (আনুমানিক বাজারমূল্য প্রায় ১২ লাখ টাকা), মসজিদ ও কবরস্থানের তহবিলের অর্থসহ বিভিন্ন মূল্যবান সামগ্রী লুট করে নিয়ে যায়।

এ ঘটনায় বিএনপির স্থানীয় কয়েকজন নেতা— উপজেলা যুবদলের আহ্বায়ক গোলাম মোস্তফা, সদস্য সচিব নিক্সন কুমার আমিন, পৌর ছাত্রদলের আহ্বায়ক ইলিয়াস কাওসার ও কাওসার আহমেদ রনির নাম এজাহারে উল্লেখ করা হয়।

তবে এ বিষয়ে অভিযুক্ত নিক্সন কুমার আমিন বিষয়টি অস্বীকার করে বলেন, ‘আমরা আমাদের নেতাকর্মীদের দেখতে গিয়েছিলাম।’

উল্লাপাড়া মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) সাকিউল আজম বলেন, ‘খবর পেয়ে ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সাথে নিয়ে ঘটনাস্থলে গিয়েছিলাম, তদন্ত করে ব্যবস্থা নেয়া হবে।’

নির্বাচন ফল ঘোষণা ঘিরে উত্তেজনা
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের ফলাফল ঘোষণা নিয়ে এলাকায় উত্তেজনা বিরাজ করছে। অভিযোগ রয়েছে, পোস্টাল ভোটসহ ফলাফল ঘোষণায় বিলম্ব হওয়াকে কেন্দ্র করে নির্বাচনের রাত থেকেই বিভিন্ন স্থানে সহিংসতার ঘটনা ঘটে।

প্রাপ্ত তথ্যমতে, পোস্টাল ভোট ছাড়া বিএনপি প্রার্থী পেয়েছেন এক লাখ ৬০ হাজার ৪৫৮ ভোট এবং জামায়াত প্রার্থী পেয়েছেন এক লাখ ৫৯ হাজার ৬৯৩ ভোট। পোস্টাল ভোটে বিএনপি পেয়েছে ৮২০ ভোট এবং জামায়াত পেয়েছে দুই হাজার ১৭৯ ভোট।

সব মিলিয়ে বিএনপি প্রার্থীর মোট ভোট এক লাখ ৬১ হাজার ২৭৮ এবং জামায়াত প্রার্থীর মোট ভোট এক লাখ ৬১ হাজার ৮৭২। ফলে জামায়াত প্রার্থী ৫৯৪ ভোটে বিজয়ী হন।

অভিযোগ উঠেছে, পোস্টাল ব্যালটসহ পূর্ণাঙ্গ ফলাফল ঘোষণা না দেয়াকে কেন্দ্র করে বিএনপির নেতাকর্মীরা বিভিন্ন স্থানে হামলা ও ভাঙচুর চালায়। জামায়াত নেতাকর্মীদের ওপর হামলা, বাড়িঘরে ভাঙচুর ও মামলা দেয়ার অভিযোগও পাওয়া গেছে। এমনকি ভট্টোকাওয়াক গ্রামে ১১০ বছর বয়সী এক বৃদ্ধের নামেও মামলা দেয়া হয়েছে বলে স্থানীয়রা দাবি করেছেন।