কুবিতে হল দখল করতে গিয়ে শিক্ষার্থীকে রক্তাক্ত করলেন ছাত্রদল নেতা
- আপডেট সময় ০৫:০৭:২০ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২০ ফেব্রুয়ারী ২০২৬
- / ৪৩ বার পড়া হয়েছে
কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ে (কুবি) আবাসিক হলে নিয়মবহির্ভূতভাবে সিট দখল ও বহিরাগত তোলাকে কেন্দ্র করে শিক্ষার্থীদের মারধরের অভিযোগ উঠেছে বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রদলের যুগ্ম আহ্বায়কসহ কয়েকজন নেতা-কর্মীদের বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় তিন শিক্ষার্থী আহত হয়েছেন। একজনের নাক ফেটে রক্তপাত হলে তাকে তাৎক্ষণিকভাবে কুমিল্লা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
বৃহস্পতিবার রাত পোনে ১২ টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের শহীদ ধীরেন্দ্রনাথ দত্ত হলের তৃতীয় তলার ছাদে এ ঘটনা ঘটে। ঘটনার পর রাতেই হলে বিক্ষোভে ফেটে পড়েন হলের আবাসিক শিক্ষার্থীরা।
অভিযুক্তরা হলেন কুবি শাখা ছাত্রদলের যুগ্ম আহ্বায়ক ও ৮ম ব্যাচের সাবেক শিক্ষার্থী আতিকুর রহমান, একই ব্যাচের সাইফুল, ১২তম ব্যাচের তরিকুল এবং ১৮তম ব্যাচের শিক্ষার্থী সিফাত।
ভুক্তভোগীরা হলেন নৃবিজ্ঞান বিভাগের ১৬তম ব্যাচের মাজহারুল ইসলাম আবির, অর্থনীতি বিভাগের ১৭ ব্যাচের তোফায়েল আহমেদ নিবিড় এবং একই ব্যাচের অ্যাকাউন্টিং বিভাগের শিক্ষার্থী কাব্য। কাব্য বর্তমানে চিকিৎসাধীন। জানা যায়, ভুক্তভোগীরাও ছাত্রদলের রাজনীতির সঙ্গে সম্পৃক্ত।
হলের আবাসিক শিক্ষার্থীদের সাথে কথা বলে জানা যায়, গত ১৭ ফেব্রুয়ারি আতিকুর রহমান হল কর্তৃপক্ষকে অবহিত ব্যতিত দত্ত হলের ৫০০২ নম্বর কক্ষে অবস্থান নেন এবং সেখানে ১৯তম আবর্তনের আরেক কর্মীকে তোলেন। একইভাবে ২০৪ নম্বর কক্ষে আরেক ছাত্রদল কর্মী সিফাতকে নিয়মবহির্ভূতভাবে রাখার অভিযোগ ওঠে। বিষয়টি জানাজানি হলে ১৮ ব্যাচের শিক্ষার্থীরা আপত্তি জানান এবং হলের সিনিয়রদের অবহিত করেন।
প্রত্যক্ষদর্শীদের ভাষ্যমতে, ঘটনার দিন সন্ধ্যায় আতিকুর রহমান কয়েকজন অনাবাসিক শিক্ষার্থী ও কর্মীদের সঙ্গে নিয়ে হলের বিভিন্ন কক্ষে যান এবং তাদের বিভিন্ন সিটে থাকার নির্দেশ দেন। এ বিষয়কে কেন্দ্র করে মৌখিক বাকবিতণ্ডা শুরু হয়। রাতের দিকে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে।
এসময় শিক্ষার্থীরা প্রতিবাদ জানাতে গেলে শাখা ছাত্রদলের আহ্বায়ক মামুন ও সদস্য সচিব মুস্তাফিজুর রহমান শুভ’র উপস্থিতিতে আতিকুর রহমান নিবিড়ের কলার ধরে থাপ্পর মারেন। বাধা দিতে গেলে আবিরকে ধাক্কা দেওয়া হয় এবং সৌরভ কাব্যকে নাকে ঘুষি মারা হয়, এতে তার নাক ফেটে যায়। একপর্যায়ে হলের অন্যান্য শিক্ষার্থীরা ছুটে আসেন। শিক্ষার্থীরা ক্ষুব্ধ হয়ে অভিযুক্তদের ধাওয়া দিলে তারা হল এলাকা থেকে পালিয়ে যান।
ঘটনার পর শিক্ষার্থীরা হল প্রাঙ্গণে বিক্ষোভ করেন এবং হল প্রশাসনের ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন তোলেন।
হলের আবাসিক শিক্ষার্থীদের অভিযোগ, সাম্প্রতিক সময়ে দলীয় পরিচয়ে অছাত্রদের হলের কক্ষে তোলার প্রচেষ্টা করছে ছাত্রদলের নেতা-কর্মীরা।। ক্ষমতার পরিবর্তনের পর একটি পক্ষ হল দখল ও প্রভাব বিস্তারের চেষ্টা করছে বলেও দাবি করেন তারা। বিজয় চব্বিশ হলসহ আরও কয়েকটি হলে একই ধরনের অনিয়মের অভিযোগ রয়েছে।
নাক ফাটানোর বিষয়ে কাব্যের বন্ধু ও ছাত্রদল কর্মী হুসাইন বিন আলি বলেন, কাব্যর নাকের হাড় ভেঙে গিয়েছে। দিনের বেলা তাকে নাক-কান ও গলা বিশেষজ্ঞ ডাক্তারকে দেখানো হবে।
ভুক্তভোগী তোফায়েল মাহমুদ নিবিড় বলেন, এ বিষয়ে ভুক্তভোগী তোফায়েল মাহমুদ নিবিড় বলেন‚ ‘আমরা ছাদে আছি এরমধ্যে ছাত্রদলের আতিক এসে আমার কলারে ধরে চড় মারে। আর ১৬ ব্যাচের একজনের নাকে ঘুষি মেরে রক্ত বের করে ফেলেছে। তাদের সাথে সাইফুল, তরিক আর ১৮ ব্যাচের সিফাত নামের একটা ছেলে ছিলো। তখন সৌরভ-এর নাক ফেটে যায়, আর আমাকে ধাক্কা মেরে কাঠে ফেলে দিলে আমার হাত মচকে যায়। আতিক আমার ডিপার্টমেন্টের সাবেক শিক্ষার্থী। সে আমাকে পলিটিক্যালি মেরেছে।’
বহিরাগত হয়েও ছাত্রদলের ক্ষমতায় হল দখলের চেষ্টা ও হলের শিক্ষার্থীদের মারধরের বিষয়ে অভিযুক্ত কুবি ছাত্রদলের যুগ্ম আহ্বায়ক আতিকুরের সাথে মুঠোফোনে যোগাযোগ করার চেষ্টা করা হলেও তাকে পাওয়া যায়নি।
এ বিষয়ে কুবি শাখা ছাত্রদলের সদস্য সচিব মুস্তাফিজুর রহমান শুভ বলেন, সাংগঠনিক ভাবে বিষটি সমাধান করা হবে।
হলের প্রাধ্যক্ষ ড. ম. জনি আলম বলেন, “ঘটনাটি অনাকাঙ্ক্ষিত। হল প্রশাসনের কারও সম্পৃক্ততা থাকলে তা খতিয়ে দেখা হবে। প্রক্টরিয়াল বডির সঙ্গে আলোচনা করে অভিযুক্ত বহিরাগতদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে।”



















