ঢাকা ১১:৩৭ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২০ ফেব্রুয়ারী ২০২৬, ৮ ফাল্গুন ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

ছাত্রদল নেতা কর্তৃৃক ভাগনিকে ধর্ষণ প্রমাণিত; নামমাত্র বহিস্কার হলেও কর্মসূচীতে সরব

ডেস্ক রিপোর্ট
  • আপডেট সময় ০৫:১৯:৪১ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২০ ফেব্রুয়ারী ২০২৬
  • / ৪৪ বার পড়া হয়েছে

বরিশাল জেলা ছাত্রদলের বহিষ্কৃত সহ-সভাপতি সবুজ আকনের বিরুদ্ধে স্ত্রীর বোনের মেয়েকে (ভাগনি) ধর্ষণের প্রমাণ পেয়েছে গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)। এজন্য তাকে অভিযুক্ত করে আদালতে চার্জশিট দাখিল করেছে তারা।

এদিকে অভিযোগ ওঠার পর গতবছর ২৫ মে সবুজ আকনকে জেলা ছাত্রদলের সহ-সভাপতিসহ সব পর্যায়ের পদ থেকে সাময়িক বহিষ্কার করে কেন্দ্রীয় সংসদ। তবে বহিষ্কারের পরও তিনি ছাত্রদলের ব্যানারে বিভিন্ন কর্মসূচিতে অংশ নিয়ে প্রভাব বিস্তারের চেষ্টা করেন বলে স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে।

বরিশালে স্ত্রীর বোনের কিশোরী মেয়েকে (ভাগনি) ধর্ষণের অভিযোগে জেলা ছাত্রদলের বহিষ্কৃত সহ-সভাপতি সবুজ আকনের বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র (চার্জশিট) দাখিল করেছে গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)। তদন্তে প্রাথমিকভাবে ধর্ষণের অভিযোগের সত্যতা পাওয়ার কথা উল্লেখ করে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে মামলাটি বিচারের জন্য আদালতে পাঠানো হয়েছে।

আদালতের সরকারি নিবন্ধন কর্মকর্তা (জিআরও) শফিকুল ইসলাম বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, চলতি সপ্তাহেই চার্জশিট গ্রহণ করা হয়েছে। তবে মামলাটি এখনও বিচারিক ফাইলে অন্তর্ভুক্ত হয়নি।

জানা গেছে, সাবেক ছাত্রদল নেতা সবুজ আকনের বিরুদ্ধে ধর্ষণ মামলাটি প্রথমে তদন্তের দায়িত্ব পান বরিশাল মেট্রোপলিটনের কাউনিয়া থানার উপ পরিদর্শক দেলোয়ার হোসেন। পরবর্তীতে মামলাটি তদন্তের দায়িত্ব পান গোয়েন্দা পুলিশের উপ পরিদর্শক গাজী অহিদুল ইসলাম অহিদ।

তদন্তকারী কর্মকর্তা ডিবির উপপরিদর্শক গাজী অহিদুল ইসলাম অহিদ অভিযোগপত্রে উল্লেখ করেছেন, আসামি সবুজ আকনের বিরুদ্ধে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন ২০০০ (সংশোধিত ২০০৩) এর ৯(১) ধারার অপরাধ প্রাথমিকভাবে প্রমাণিত হয়েছে। তাই মামলাটি বিচারের জন্য আদালতে দাখিল করা হয়েছে।

মামলার এজাহার সূত্রে জানা গেছে, সবুজ আকনের স্ত্রী গর্ভবতী থাকাকালে তার সেবাযত্নের জন্য স্ত্রীর বোনের মেয়েকে বাসায় রাখা হয়। সেই সুযোগে সবুজ আকন কিশোরীকে বিভিন্নভাবে উত্ত্যক্ত করতে থাকেন। পরে ২০২৪ সালের ২১ আগস্ট বরিশাল নগরীর এসআর রোড এলাকার একটি ভাড়া বাসায় নিয়ে গিয়ে একাধিকবার ধর্ষণের অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে।

ঘটনার কথা কাউকে না বলার জন্য ভুক্তভোগী ও তার মাকে হুমকি দেওয়া হয় বলেও মামলায় উল্লেখ করা হয়েছে। ঘটনার প্রায় ছয় মাস পর, ২৬ মে ভুক্তভোগীর মা বাদী হয়ে মামলা দায়ের করেন।

অভিযুক্ত সবুজ আকন বলেন, ‘আমার বিরুদ্ধে মামলাটি ষড়যন্ত্রমূলকভাবে করা হয়েছে। আমাকে অভিযুক্ত করে চার্জশিট দেওয়া হয়েছে কিনা সে বিষয়েও আমি নিশ্চিত নই। খোঁজ নিয়ে দেখব।’

ট্যাগস :

নিউজটি শেয়ার করুন

ছাত্রদল নেতা কর্তৃৃক ভাগনিকে ধর্ষণ প্রমাণিত; নামমাত্র বহিস্কার হলেও কর্মসূচীতে সরব

আপডেট সময় ০৫:১৯:৪১ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২০ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

বরিশাল জেলা ছাত্রদলের বহিষ্কৃত সহ-সভাপতি সবুজ আকনের বিরুদ্ধে স্ত্রীর বোনের মেয়েকে (ভাগনি) ধর্ষণের প্রমাণ পেয়েছে গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)। এজন্য তাকে অভিযুক্ত করে আদালতে চার্জশিট দাখিল করেছে তারা।

এদিকে অভিযোগ ওঠার পর গতবছর ২৫ মে সবুজ আকনকে জেলা ছাত্রদলের সহ-সভাপতিসহ সব পর্যায়ের পদ থেকে সাময়িক বহিষ্কার করে কেন্দ্রীয় সংসদ। তবে বহিষ্কারের পরও তিনি ছাত্রদলের ব্যানারে বিভিন্ন কর্মসূচিতে অংশ নিয়ে প্রভাব বিস্তারের চেষ্টা করেন বলে স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে।

বরিশালে স্ত্রীর বোনের কিশোরী মেয়েকে (ভাগনি) ধর্ষণের অভিযোগে জেলা ছাত্রদলের বহিষ্কৃত সহ-সভাপতি সবুজ আকনের বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র (চার্জশিট) দাখিল করেছে গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)। তদন্তে প্রাথমিকভাবে ধর্ষণের অভিযোগের সত্যতা পাওয়ার কথা উল্লেখ করে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে মামলাটি বিচারের জন্য আদালতে পাঠানো হয়েছে।

আদালতের সরকারি নিবন্ধন কর্মকর্তা (জিআরও) শফিকুল ইসলাম বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, চলতি সপ্তাহেই চার্জশিট গ্রহণ করা হয়েছে। তবে মামলাটি এখনও বিচারিক ফাইলে অন্তর্ভুক্ত হয়নি।

জানা গেছে, সাবেক ছাত্রদল নেতা সবুজ আকনের বিরুদ্ধে ধর্ষণ মামলাটি প্রথমে তদন্তের দায়িত্ব পান বরিশাল মেট্রোপলিটনের কাউনিয়া থানার উপ পরিদর্শক দেলোয়ার হোসেন। পরবর্তীতে মামলাটি তদন্তের দায়িত্ব পান গোয়েন্দা পুলিশের উপ পরিদর্শক গাজী অহিদুল ইসলাম অহিদ।

তদন্তকারী কর্মকর্তা ডিবির উপপরিদর্শক গাজী অহিদুল ইসলাম অহিদ অভিযোগপত্রে উল্লেখ করেছেন, আসামি সবুজ আকনের বিরুদ্ধে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন ২০০০ (সংশোধিত ২০০৩) এর ৯(১) ধারার অপরাধ প্রাথমিকভাবে প্রমাণিত হয়েছে। তাই মামলাটি বিচারের জন্য আদালতে দাখিল করা হয়েছে।

মামলার এজাহার সূত্রে জানা গেছে, সবুজ আকনের স্ত্রী গর্ভবতী থাকাকালে তার সেবাযত্নের জন্য স্ত্রীর বোনের মেয়েকে বাসায় রাখা হয়। সেই সুযোগে সবুজ আকন কিশোরীকে বিভিন্নভাবে উত্ত্যক্ত করতে থাকেন। পরে ২০২৪ সালের ২১ আগস্ট বরিশাল নগরীর এসআর রোড এলাকার একটি ভাড়া বাসায় নিয়ে গিয়ে একাধিকবার ধর্ষণের অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে।

ঘটনার কথা কাউকে না বলার জন্য ভুক্তভোগী ও তার মাকে হুমকি দেওয়া হয় বলেও মামলায় উল্লেখ করা হয়েছে। ঘটনার প্রায় ছয় মাস পর, ২৬ মে ভুক্তভোগীর মা বাদী হয়ে মামলা দায়ের করেন।

অভিযুক্ত সবুজ আকন বলেন, ‘আমার বিরুদ্ধে মামলাটি ষড়যন্ত্রমূলকভাবে করা হয়েছে। আমাকে অভিযুক্ত করে চার্জশিট দেওয়া হয়েছে কিনা সে বিষয়েও আমি নিশ্চিত নই। খোঁজ নিয়ে দেখব।’