ছাত্র অধিকার পরিষদের নেতার ওপর হামলা ও দোকান ভাঙচুর করলো ছাত্রদল
- আপডেট সময় ০৫:২৮:৪০ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২০ ফেব্রুয়ারী ২০২৬
- / ৫৪ বার পড়া হয়েছে
ওয়ারেন্টভুক্ত এক আসামির গ্রেপ্তারকে কেন্দ্র করে পটুয়াখালীর দশমিনায় উপজেলা ছাত্র অধিকার পরিষদের এক নেতার ওপর হামলা ও তার ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানে ভাঙচুরের ঘটনা ঘটেছে। গতকাল বৃহস্পতিবার (১৯ ফেব্রুয়ারি) রাত ৯টার দিকে উপজেলা সদরের বাজার এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।
আহত হাসান মাহামুদ (২৫) দশমিনা উপজেলা ছাত্র অধিকার পরিষদের দপ্তর সম্পাদক। হামলার পর স্থানীয় লোকজন তাকে উদ্ধার করে প্রথমে দশমিনা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান। সেখানে প্রাথমিক চিকিৎসা দেয়ার পর অবস্থার অবনতি হলে তাকে বরিশালের শেরেবাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল-এ পাঠানো হয়। বর্তমানে তিনি সেখানে চিকিৎসাধীন আছেন বলে দলীয় সূত্র জানিয়েছে।
হাসান মাহামুদের অভিযোগ, দশমিনা উপজেলা ছাত্রদলের আহ্বায়ক আবুল বশারের অনুসারীরা তার ওপর হামলা চালান। তিনি দাবি করেন, কোনও ধরনের উসকানি ছাড়াই পরিকল্পিতভাবে তাকে লক্ষ্য করে মারধর করা হয় এবং তার দোকানে ভাঙচুর চালানো হয়।
গণ অধিকার পরিষদের উপজেলা সদস্যসচিব মিলন মিয়া বলেন, চরবোরহান ইউনিয়ন ছাত্রদল নেতা রাকিবুল ইসলামের বিরুদ্ধে আদালতের একটি ওয়ারেন্ট ছিল। বৃহস্পতিবার রাত ৯টার দিকে পুলিশ তাকে গ্রেপ্তার করতে গেলে উপজেলা ছাত্রদলের আহ্বায়ক আবুল বশার ও তার সমর্থকদের সঙ্গে পুলিশের বাগবিতণ্ডা হয়। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে অতিরিক্ত পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে রাকিবুল ইসলামকে থানায় নিয়ে যায়।
মিলন মিয়ার ভাষ্য অনুযায়ী, ওই ঘটনার কিছু সময় পর স্থানীয় বিএনপি কর্মী ও ইউপি সদস্য ছিদ্দিক মিয়া এবং ছাত্রদল নেতা আবুল বশারের অনুসারীরা হাসান মাহামুদের ওপর হামলা চালান। তাকে মারধরের পাশাপাশি তার ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানে ভাঙচুর করা হয়। গুরুতর আহত অবস্থায় তাকে হাসপাতালে নেয়া হয়।
জেলা গণ অধিকার পরিষদের সিনিয়র সহসভাপতি কালাম পঞ্চায়েত বলেন, ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে গণ অধিকার পরিষদের চেয়ারম্যান নুরুল হক নুর-এর নির্বাচনী কার্যালয়ে ভাঙচুর ও কর্মীদের মারধরের একটি মামলায় রাকিবুল ইসলাম আসামি ছিলেন। আদালতের ওয়ারেন্টের ভিত্তিতেই পুলিশ তাকে গ্রেপ্তার করে। এরপর ক্ষুব্ধ হয়ে ছাত্রদলের কিছু কর্মী হাসান মাহামুদের ওপর হামলা চালান বলে তিনি অভিযোগ করেন। এ বিষয়ে থানায় মৌখিক অভিযোগ দেয়া হয়েছে বলেও জানান তিনি।
অভিযোগের বিষয়ে জানতে উপজেলা ছাত্রদলের আহ্বায়ক আবুল বশারের মুঠোফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন ধরেননি। ফলে তার বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
এ বিষয়ে দশমিনা থানার উপপরিদর্শক (এসআই) মনিরুল ইসলাম বলেন, ওয়ারেন্টভুক্ত আসামিকে থানায় আনার পর স্থানীয়ভাবে কিছু ঝামেলার কথা তিনি শুনেছেন। তবে হামলা ও ভাঙচুরের বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য তার জানা নেই। লিখিত অভিযোগ পেলে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে বলেও জানান তিনি।



















