ঢাকা ০১:১০ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ২১ ফেব্রুয়ারী ২০২৬, ৮ ফাল্গুন ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

বিএনপি নেতার ছেলেকে চাঁদা না দেওয়ায় ব্যবসায়ীকে হত্যার হুমকি

ডেস্ক রিপোর্ট
  • আপডেট সময় ১১:২৪:৫৮ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২০ ফেব্রুয়ারী ২০২৬
  • / ২৩ বার পড়া হয়েছে

পটুয়াখালীর বাউফল উপজেলার কালাইয়া-দাসপাড়া নির্মাণ সামগ্রী মালিক সমিতির সভাপতি মোস্তাফিজুর রহমান চৌধুরীকে চাঁদা না দেওয়ায় হত্যার হুমকি দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। এই ঘটনার প্রতিবাদে এবং নিরাপত্তার দাবিতে শুক্রবার সকালে স্থানীয় ব্যবসায়ীরা দোকানপাট বন্ধ রেখে ধর্মঘট পালন করেন। উপজেলার কালাইয়া ধান হাট সেতুর পশ্চিম পাশে দাসপাড়া বাসস্ট্যান্ড এলাকায় এই পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। ব্যবসায়ীদের অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে ওই এলাকায় ট্রলার ও কার্গো প্রতি এক থেকে দেড় হাজার টাকা করে চাঁদা আদায় করা হচ্ছিল। গত বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় এ বিষয়ে থানায় একটি লিখিত অভিযোগও দায়ের করা হয়েছে।

ব্যবসায়ীদের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, দাসপাড়া-কালাইয়া নির্মাণ সামগ্রী মালিক সমিতির অধীনে প্রায় ৩২ জন ব্যবসায়ী বালু, পাথর ও সিমেন্টের ব্যবসা পরিচালনা করেন। প্রতিদিন এখানে ১৫ থেকে ২০টি মালবাহী নৌযান আসে। সম্প্রতি সমিতির সাধারণ সম্পাদক মাসুদ রানার উপস্থিতিতে এক জরুরি সভায় সিদ্ধান্ত নেওয়া হয় যে, তারা আর কোনো প্রকার অবৈধ চাঁদা প্রদান করবেন না। এই সিদ্ধান্তের পর গত বৃহস্পতিবার সকালে মো. শান্ত প্যাদা নামের এক যুবক চাঁদা নিতে এলে সমিতির সভাপতি মোস্তাফিজুর রহমান তা দিতে অস্বীকার করেন। এতে ক্ষুব্ধ হয়ে শান্ত প্রকাশ্যে তাকে প্রাণনাশের হুমকি দেন বলে ব্যবসায়ীরা অভিযোগ করেছেন। সভাপতি মোস্তাফিজুর রহমান জানান, অভিযুক্ত শান্তর কাছে সবসময় অস্ত্র থাকায় তারা চরম নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন।

অভিযুক্ত শান্ত প্যাদা স্থানীয় দাসপাড়া ইউনিয়ন বিএনপির ২ নম্বর ওয়ার্ডের সাধারণ সম্পাদক সোহরাব হোসেন প্যাদার ছেলে। এ বিষয়ে সোহরাব হোসেন প্যাদা দাবি করেছেন, তিনি ইউনিয়ন বিএনপি সভাপতি আলী আজম চৌধুরীর কাছ থেকে ৪০ হাজার টাকায় জলমহল কিনেছেন, তাই তার ছেলে ট্রলার প্রতি ২০০ টাকা করে নিচ্ছিল এবং এটি কোনো চাঁদাবাজি নয়। তবে উপজেলা ভূমি অফিস ও ইউএনও কার্যালয় সূত্রে নিশ্চিত করা হয়েছে যে, কালাইয়া বা দাসপাড়া খাল জলমহল হিসেবে কাউকে ইজারা দেওয়া হয়নি। অন্যদিকে, ইউনিয়ন বিএনপি সভাপতি আলী আজম চৌধুরীর মোবাইল বন্ধ থাকায় তার কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

শুক্রবার সকালে ব্যবসায়ীদের ধর্মঘটের খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে উপস্থিত হন পটুয়াখালী-২ আসনের নবনির্বাচিত সংসদ সদস্য শফিকুল ইসলাম। তিনি ব্যবসায়ীদের আশ্বস্ত করে বলেন যে, তার এলাকায় কোনো প্রকার চাঁদাবাজি বরদাশত করা হবে না এবং জড়িতদের দ্রুত আইনের আওতায় আনা হবে। সংসদ সদস্যের আশ্বাসের প্রেক্ষিতে দুপুর ১২টার দিকে ব্যবসায়ীরা পুনরায় দোকান খোলেন। পটুয়াখালীর সহকারী পুলিশ সুপার (বাউফল সার্কেল) আরিফ মুহাম্মদ শাকুর জানিয়েছেন, সংসদ সদস্যের সাথে আলোচনার ভিত্তিতে দোষীদের বিরুদ্ধে দ্রুত প্রয়োজনীয় আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করা হচ্ছে।

নিউজটি শেয়ার করুন

বিএনপি নেতার ছেলেকে চাঁদা না দেওয়ায় ব্যবসায়ীকে হত্যার হুমকি

আপডেট সময় ১১:২৪:৫৮ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২০ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

পটুয়াখালীর বাউফল উপজেলার কালাইয়া-দাসপাড়া নির্মাণ সামগ্রী মালিক সমিতির সভাপতি মোস্তাফিজুর রহমান চৌধুরীকে চাঁদা না দেওয়ায় হত্যার হুমকি দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। এই ঘটনার প্রতিবাদে এবং নিরাপত্তার দাবিতে শুক্রবার সকালে স্থানীয় ব্যবসায়ীরা দোকানপাট বন্ধ রেখে ধর্মঘট পালন করেন। উপজেলার কালাইয়া ধান হাট সেতুর পশ্চিম পাশে দাসপাড়া বাসস্ট্যান্ড এলাকায় এই পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। ব্যবসায়ীদের অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে ওই এলাকায় ট্রলার ও কার্গো প্রতি এক থেকে দেড় হাজার টাকা করে চাঁদা আদায় করা হচ্ছিল। গত বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় এ বিষয়ে থানায় একটি লিখিত অভিযোগও দায়ের করা হয়েছে।

ব্যবসায়ীদের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, দাসপাড়া-কালাইয়া নির্মাণ সামগ্রী মালিক সমিতির অধীনে প্রায় ৩২ জন ব্যবসায়ী বালু, পাথর ও সিমেন্টের ব্যবসা পরিচালনা করেন। প্রতিদিন এখানে ১৫ থেকে ২০টি মালবাহী নৌযান আসে। সম্প্রতি সমিতির সাধারণ সম্পাদক মাসুদ রানার উপস্থিতিতে এক জরুরি সভায় সিদ্ধান্ত নেওয়া হয় যে, তারা আর কোনো প্রকার অবৈধ চাঁদা প্রদান করবেন না। এই সিদ্ধান্তের পর গত বৃহস্পতিবার সকালে মো. শান্ত প্যাদা নামের এক যুবক চাঁদা নিতে এলে সমিতির সভাপতি মোস্তাফিজুর রহমান তা দিতে অস্বীকার করেন। এতে ক্ষুব্ধ হয়ে শান্ত প্রকাশ্যে তাকে প্রাণনাশের হুমকি দেন বলে ব্যবসায়ীরা অভিযোগ করেছেন। সভাপতি মোস্তাফিজুর রহমান জানান, অভিযুক্ত শান্তর কাছে সবসময় অস্ত্র থাকায় তারা চরম নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন।

অভিযুক্ত শান্ত প্যাদা স্থানীয় দাসপাড়া ইউনিয়ন বিএনপির ২ নম্বর ওয়ার্ডের সাধারণ সম্পাদক সোহরাব হোসেন প্যাদার ছেলে। এ বিষয়ে সোহরাব হোসেন প্যাদা দাবি করেছেন, তিনি ইউনিয়ন বিএনপি সভাপতি আলী আজম চৌধুরীর কাছ থেকে ৪০ হাজার টাকায় জলমহল কিনেছেন, তাই তার ছেলে ট্রলার প্রতি ২০০ টাকা করে নিচ্ছিল এবং এটি কোনো চাঁদাবাজি নয়। তবে উপজেলা ভূমি অফিস ও ইউএনও কার্যালয় সূত্রে নিশ্চিত করা হয়েছে যে, কালাইয়া বা দাসপাড়া খাল জলমহল হিসেবে কাউকে ইজারা দেওয়া হয়নি। অন্যদিকে, ইউনিয়ন বিএনপি সভাপতি আলী আজম চৌধুরীর মোবাইল বন্ধ থাকায় তার কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

শুক্রবার সকালে ব্যবসায়ীদের ধর্মঘটের খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে উপস্থিত হন পটুয়াখালী-২ আসনের নবনির্বাচিত সংসদ সদস্য শফিকুল ইসলাম। তিনি ব্যবসায়ীদের আশ্বস্ত করে বলেন যে, তার এলাকায় কোনো প্রকার চাঁদাবাজি বরদাশত করা হবে না এবং জড়িতদের দ্রুত আইনের আওতায় আনা হবে। সংসদ সদস্যের আশ্বাসের প্রেক্ষিতে দুপুর ১২টার দিকে ব্যবসায়ীরা পুনরায় দোকান খোলেন। পটুয়াখালীর সহকারী পুলিশ সুপার (বাউফল সার্কেল) আরিফ মুহাম্মদ শাকুর জানিয়েছেন, সংসদ সদস্যের সাথে আলোচনার ভিত্তিতে দোষীদের বিরুদ্ধে দ্রুত প্রয়োজনীয় আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করা হচ্ছে।