ঢাকা ০৭:২৯ অপরাহ্ন, রবিবার, ২২ ফেব্রুয়ারী ২০২৬, ১০ ফাল্গুন ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

‘চাকরি করতে হলে আমারে কইয়া করন লাগবো’ —ওসিকে বিএনপি নেতা

স্টাফ রিপোর্টার
  • আপডেট সময় ০২:৪৩:৪৩ অপরাহ্ন, রবিবার, ২২ ফেব্রুয়ারী ২০২৬
  • / ৫৮ বার পড়া হয়েছে

হবিগঞ্জের বাহুবল মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ বনাম বিএনপি সভাপতির মোবাইল ফোনে তর্কাতর্কির ঘটনায় তোলপাড় চলছে। উপজেলা বিএনপির সভাপতি ফেরদৌস আহমেদ চৌধুরী তোষার ও অফিসার ইনচার্জ মো. সাইফুল ইসলামের মোবাইল ফোনের কথোপকথনে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ঝড় বইছে। গেল নির্বাচনের মাসখানেক আগে মাসুক মিয়া নামের এক যুবককে গ্রেপ্তারের ঘটনায় বিতর্কের সূত্রপাত।

সূত্র জানায়, ২০১৯ সেশনের স্থানীয় ইউনিয়ন যুবলীগের কমিটির সদস্য হিসেবে মাসুক মিয়াকে পুলিশ গ্রেপ্তার করে। এর পরই উপজেলা বিএনপির কতিপয় নেতা গ্রেপ্তার মাস্কু মিয়াকে ভাদেশ্বর ইউনিয়ন বিএনপির কর্মী বলে তাকে থানা থেকে ছাড়িয়ে নেওয়ার চেষ্টা করে ব্যর্থ হন।

এ ব্যাপারে উপজেলা বিএনপির সভাপতি ফেরদৌস আহমেদ চৌধুরী তোষার মোবাইল ফোনে ওসিকে হুমকি ও গালিগালাজ করার একটি কল রেকর্ড সম্প্রতি সামাজিক মাধ্যমে ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে পড়ে। তবে এই অডিও কল রেকর্ডটি কবের তা নিশ্চিত হওয়া যায়নি। কল রেকর্ডে বিএনপি নেতা তোষার ওসিকে হুমকি দিয়ে বলেন, ‘বাহুবলে চাকরি করতে হলে আমারে কইয়া করন লাগব।’

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, মাসুক মিয়ার বিষয়টি নিয়ে জেলা বিএনপির সদস্য মখলিছুর রহমানও ওসি সাইফুল ইসলামের সঙ্গে মোবাইল ফোনে কথা বলেন। এ সময় তিনি গ্রেপ্তার মাসুক মিয়াকে ছেড়ে দিতে বলেন। এতে ওসি সম্মত না হওয়ায় বিএনপির একটি অংশের মধ্যে ক্ষোভের সৃষ্টি হয়।

‎এ ব্যাপারে জানতে চাইলে ওসি সাইফুল ইসলাম বলেন, উপজেলা বিএনপির সভাপতির একটি কল আমি ধরতে পারিনি। পরে তিনি অন্য একটি নম্বর থেকে ফোনে আমাকে অকথ্য ভাষায় গালাগালাজ করেন এবং বলেন, বাহুবলে চাকরি করতে হলে তাকে জিজ্ঞেস করে করতে হবে। ‎

‎উপজেলা বিএনপির সভাপতি ফেরদৌস আহমেদ চৌধুরী তোষারের ব্যবহৃত মোবাইল ফোনে একাধিক কল করলে তিনি সিভি করেননি।

তবে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে লাইভে এসে তিনি বলেন, ওসি মহাসড়কে বিপুল পরিমাণ অবৈধ সিগারেট জব্দ করে আত্মসাৎসহ মাদক ব্যবসা ও বিভিন্ন অনিয়মে জড়িত। বিষয়গুলো তিনি পুলিশ সুপারকে মৌখিকভাবে অবগত করেছেন বলে জানান।

এ ঘটনায় উপজেলা বিএনপির সভাপতি ফেরদৌস আহমেদ চৌধুরী তোষারকে আটক করেছে গোয়েন্দা পুলিশ। রোববার দুপুর ১২টার দিকে জেলা শহরের শায়েস্তানগরের নিজ বাসা থেকে তাকে আটক করা হয়। এ সময় ডিবি পুলিশের সঙ্গে বাহুবল থানার পুলিশের একটি টিম ছিল।

সংবাদ ২৪৭/ এজে

নিউজটি শেয়ার করুন

‘চাকরি করতে হলে আমারে কইয়া করন লাগবো’ —ওসিকে বিএনপি নেতা

আপডেট সময় ০২:৪৩:৪৩ অপরাহ্ন, রবিবার, ২২ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

হবিগঞ্জের বাহুবল মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ বনাম বিএনপি সভাপতির মোবাইল ফোনে তর্কাতর্কির ঘটনায় তোলপাড় চলছে। উপজেলা বিএনপির সভাপতি ফেরদৌস আহমেদ চৌধুরী তোষার ও অফিসার ইনচার্জ মো. সাইফুল ইসলামের মোবাইল ফোনের কথোপকথনে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ঝড় বইছে। গেল নির্বাচনের মাসখানেক আগে মাসুক মিয়া নামের এক যুবককে গ্রেপ্তারের ঘটনায় বিতর্কের সূত্রপাত।

সূত্র জানায়, ২০১৯ সেশনের স্থানীয় ইউনিয়ন যুবলীগের কমিটির সদস্য হিসেবে মাসুক মিয়াকে পুলিশ গ্রেপ্তার করে। এর পরই উপজেলা বিএনপির কতিপয় নেতা গ্রেপ্তার মাস্কু মিয়াকে ভাদেশ্বর ইউনিয়ন বিএনপির কর্মী বলে তাকে থানা থেকে ছাড়িয়ে নেওয়ার চেষ্টা করে ব্যর্থ হন।

এ ব্যাপারে উপজেলা বিএনপির সভাপতি ফেরদৌস আহমেদ চৌধুরী তোষার মোবাইল ফোনে ওসিকে হুমকি ও গালিগালাজ করার একটি কল রেকর্ড সম্প্রতি সামাজিক মাধ্যমে ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে পড়ে। তবে এই অডিও কল রেকর্ডটি কবের তা নিশ্চিত হওয়া যায়নি। কল রেকর্ডে বিএনপি নেতা তোষার ওসিকে হুমকি দিয়ে বলেন, ‘বাহুবলে চাকরি করতে হলে আমারে কইয়া করন লাগব।’

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, মাসুক মিয়ার বিষয়টি নিয়ে জেলা বিএনপির সদস্য মখলিছুর রহমানও ওসি সাইফুল ইসলামের সঙ্গে মোবাইল ফোনে কথা বলেন। এ সময় তিনি গ্রেপ্তার মাসুক মিয়াকে ছেড়ে দিতে বলেন। এতে ওসি সম্মত না হওয়ায় বিএনপির একটি অংশের মধ্যে ক্ষোভের সৃষ্টি হয়।

‎এ ব্যাপারে জানতে চাইলে ওসি সাইফুল ইসলাম বলেন, উপজেলা বিএনপির সভাপতির একটি কল আমি ধরতে পারিনি। পরে তিনি অন্য একটি নম্বর থেকে ফোনে আমাকে অকথ্য ভাষায় গালাগালাজ করেন এবং বলেন, বাহুবলে চাকরি করতে হলে তাকে জিজ্ঞেস করে করতে হবে। ‎

‎উপজেলা বিএনপির সভাপতি ফেরদৌস আহমেদ চৌধুরী তোষারের ব্যবহৃত মোবাইল ফোনে একাধিক কল করলে তিনি সিভি করেননি।

তবে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে লাইভে এসে তিনি বলেন, ওসি মহাসড়কে বিপুল পরিমাণ অবৈধ সিগারেট জব্দ করে আত্মসাৎসহ মাদক ব্যবসা ও বিভিন্ন অনিয়মে জড়িত। বিষয়গুলো তিনি পুলিশ সুপারকে মৌখিকভাবে অবগত করেছেন বলে জানান।

এ ঘটনায় উপজেলা বিএনপির সভাপতি ফেরদৌস আহমেদ চৌধুরী তোষারকে আটক করেছে গোয়েন্দা পুলিশ। রোববার দুপুর ১২টার দিকে জেলা শহরের শায়েস্তানগরের নিজ বাসা থেকে তাকে আটক করা হয়। এ সময় ডিবি পুলিশের সঙ্গে বাহুবল থানার পুলিশের একটি টিম ছিল।

সংবাদ ২৪৭/ এজে