চাঁদা না দেওয়ায় লেগুনার চালককে পিটিয়ে হত্যা
- আপডেট সময় ০৩:৫৪:০৬ অপরাহ্ন, রবিবার, ২২ ফেব্রুয়ারী ২০২৬
- / ২৭ বার পড়া হয়েছে
রাজধানীর যাত্রাবাড়ি- চিটাগাং রোড সড়কে দৈনিক শতাধিক লেগুনা চলাচল করে। প্রতি লেগুনা থেকে নারায়ণগঞ্জ ও ওয়ারি ট্রাফিক পুলিশের নামে মাসিক ১ হাজার টাকা, সিদ্ধিরগঞ্জ ও যাত্রাবাড়ি থানা পুলিশের নামে ৫’শ টাকা ও লাইন ম্যানের জন্য ৪০ টাকা হারে আদায় করা হয়। এ চাঁদাবাজির আধিপত্যকে কেন্দ্র করে দীর্ঘদিন ধরে যাত্রাবাড়ি ও চিটাগাং রোড লেগুনা স্ট্যান্ডে বিরোধ চলে আসছে।
চাঁদা দিতে অস্বীকার করায় শুক্রবার দুপুর বিকাল পৌনে ৩টার সময় যাত্রাবাড়ি মাছের আড়ত সংলগ্ন সুফিয়া গার্মেন্টের পাশে খায়রুল নামের এক চালককে পিটিয়ে হত্যার অভিযোগ উঠেছে। গত শুক্রবার যাত্রাবাড়ী সুফিয়া গার্মেন্টসের সামনে এ ঘটনা ঘটে। মুমূর্ষু অবস্থায় তাকে উদ্ধার করে ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। চিকিৎসাধীন অবস্থায় রাতে তার মৃত্যু হয়। নিহত লেগুনাচালক নুরে আলম শরীয়তপুরের শফিপুর সদরের মোয়াল্লেম সরদারের ছেলে। তিনি মাতুয়াইল এলাকায় পরিবার নিয়ে ভাড়া থাকতেন।
পুলিশ জানায়, চাঁদা নিয়ে পূর্ববিরোধের জেরে নুরে আলমকে মারধর করে যাত্রাবাড়ী মোড়ের কয়েকজন চালক। এতে গুরুতর আহত অবস্থায় তাকে প্রথমে স্থানীয়ভাবে চিকিৎসা দেওয়া হয়, পরে অবস্থার অবনতি হলে ঢামেকে নেওয়া হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় রাতে তিনি মারা যান।
নিহতের খালাতো ভাই ওমর ফারুক বলেন, ‘হৃদয় নামে এক চালক রোডে গাড়ি চালাতে গেলে চাঁদা দাবি করেন। চাঁদা দিতে রাজি না হওয়ায় নুরে আলমকে পিটিয়ে হত্যা করা হয়েছে। ওর তিন বছরের একটি শিশুসন্তান রয়েছে। তাকে কী বুঝ দেব এখন। জড়িতদের আইনের আওতায় নিয়ে এসে এ ঘটনার সুষ্ঠু বিচার চাই।’
এ ঘটনায় নিহতের বাবা মোয়াল্লেম সর্দার বাদী হয়ে এজাহার নামীয় ৮জনসহ অজ্ঞাত আরো ৪/৫ জনকে আসামি করে শনিবার যাত্রাবাড়ি থানায় মামলা দায়ের করেন।
নিহত খায়রুলের ছোট বোন আছিয়া আক্তার বলেন,আমার ভাই আগে মাছের ফিডের ব্যবসা করত। দেড় বছর বেকার থাকার পর দেড়মাস ধরে ভাড়ায় লেগুনা চালাত। আমার একমাত্র ভাইয়ের উপর ৭/৮ জনের পরিবারের সদসের ভরন পোষন পরিচালনা করা হতো। তার আফোয়ানা আলম নুর নামের ৩ বছরের একটি কন্যা সন্তান রয়েছে। আমরা এ হত্যাকান্ডের সঠিক বিচারের দাবি জানাই।
ডিএমপির যাত্রাবাড়ী থানার ওসি মোহাম্মদ রাজু বলেন, ময়নাতদন্ত শেষে নিহতের মরদেহ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।
তিনি আরও বলেন, ‘সম্প্রতি নুরে আলমের সঙ্গে অন্য এক লেগুনাচালকের ঝগড়া হয়। সেই শত্রুতার জেরে তাকে মারধর করে হত্যা করা হয় বলে প্রাথমিকভাবে জানতে পেরেছি। ওই ঘটনায় নিহতের পরিবার থানায় একটি হত্যা মামলা করেছে। হত্যাকা-ে জড়িতদের গ্রেপ্তারে অভিযান চলছে।’
সংবাদ ২৪৭/এজে


















