ঢাকা ১২:৪২ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ২৫ ফেব্রুয়ারী ২০২৬, ১২ ফাল্গুন ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

‘এমপিকে দেখাতে’ ভর্তি রোগী সরিয়ে দিয়ে স্বাস্থ্যকেন্দ্র দখল বিএনপিনেতাকর্মীদের

ডেস্ক রিপোর্ট
  • আপডেট সময় ০২:৫৭:৫৭ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৪ ফেব্রুয়ারী ২০২৬
  • / ৪৩ বার পড়া হয়েছে

শপথ গ্রহণের প্রায় এক সপ্তাহ পর এলাকায় এসে হাসপাতালে পরিদর্শনে গেলেন চট্টগ্রাম-১৩ আসনের নবনির্বাচিত সংসদ সদস্য সরওয়ার জামাল নিজাম। সোমবার (২৩ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে আনোয়ারা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স পরিদর্শন ও নির্বাচনে আহত নেতাকর্মীদের দেখতে যান তিনি। তবে যেসব নেতাকর্মীকে দেখতে এমপি হাসপাতালে যান, তারা আগে থেকে ভর্তি ছিলেন না। এমপির আগমন ঘিরে আগে থেকে ভর্তি থাকা কয়েকজন রোগীকে সরিয়ে দিয়ে নির্বাচনকালীন সময়ে বিভিন্ন সময়ে সাময়িকভাবে আহত কয়েকজন বিএনপি নেতাকর্মীকে শয্যা দেওয়া হয়। এছাড়া পরিদর্শনের সময় তার সঙ্গে বিপুলসংখ্যক দলীয় নেতাকর্মীর উপস্থিতি দেখা যায়। ফলে ভোগান্তিতে পড়েন হাসপাতালে ভর্তি থাকা রোগী ও চিকিৎসা নিতে আসা সাধারণ মানুষেরা।

সরেজমিনে গিয়ে জানা যায়, এমপির আগমন ঘিরে হাসপাতালে আগে থেকে শ্বাসকষ্টসহ বিভিন্ন রোগীরা ভর্তি থাকা কয়েকজন রোগীকে বাইরে বসিয়ে আহত কয়েকজন নেতাকর্মীকে সাময়িক ভর্তি করা হয়। পরে এমপি চলে যাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে নতুন ভর্তি হওয়া রোগীরা চলে যায়। এতে ভোগান্তিতে পড়েন চিকিৎসা নিতে আসা প্রকৃত রোগী ও তাদের স্বজনেরা। হাসপাতালের জরুরি বিভাগ ও ওয়ার্ড এলাকায় অতিরিক্ত ভিড়ের কারণে চলাচলে বিঘ্ন ঘটে এবং চিকিৎসাসেবায় বিলম্ব হয়।

হাসপাতালে শ্বাসকষ্ট নিয়ে ভর্তি থাকা এক বৃদ্ধ বলেন, সকালে আমাদের এই রুম থেকে বের হয়ে বাইরে বসতে বলে। পরে আমাদের সিটি মারামারিতে আহত কয়েকজনকে রাখা হয়। তাদের সঙ্গে এমপি কথা বলেন ও ছবি তুলেন। আমাদের কারো সঙ্গে কথা বলেননি। এমপি চলে যাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে তারাও চলে যায়।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে এক রোগীর স্বজন বলেন, ‘আমাদের রোগী ভর্তি ছিল। কিন্তু রাজনৈতিক লোকজন আসার পর আমাদের সরিয়ে দেওয়া হয়। পরে দেখি তারা বিকেলেই চলে গেছে।’

আক্ষেপ নিয়ে এক বৃদ্ধ রোগী বলেন, ‘এমপি সাহেবকে সালাম দেয়ার সুযোগ পাইনি। নেতাকর্মীদের চাপে এমপি সাহেব রোগীদের সঙ্গে সুখ-দুঃখের কথাও বলতে পারেনি।’

হাসপাতাল সূত্রে জানা যায়, সকাল আনুমানিক ১০টার দিকে ২৩জন রোগী ভর্তি হয়। বিকেল গড়াতেই এসব রোগী হাসপাতাল ছেড়ে চলে যান। জানতে চাইলে নাম প্রকাশ না করার অনুরোধ করে এক নার্স বলেন, বিষয়টি নিয়ে স্যারের সঙ্গে কথা বলেন। আমাদের কাছে ভর্তির তালিকা আছে। কিন্তু বর্তমানে এখন ওই রোগীরা হাসপাতালে নেই।

বিষয়টি অস্বীকার করে মুঠোফোনে সংসদ সদস্য সরওয়ার জামাল নিজাম বলেন, ‘আমি কেন এমনটা করবো। আমি সাধারণ রোগীদের সঙ্গে কথা বলেছি। অসুস্থ নেতাকর্মীদের আমি দেখতে চেয়েছি তাই তাদের এখানে আসতে বলা হয়েছিল।’

জানতে চাইলে আনোয়ারা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের পরিবার ও পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. মাহতাবউদ্দীন চৌধুরী বলেন, ‘নির্বাচনকালীন সময়ে আহত নেতাকর্মীরা ভর্তি হয়েছে শুনে এমপি সাহেব হাসপাতালে ছুটে এসেছেন। রোগী সরিয়ে দেয়ার বিষয়টি সম্পূর্ণ ভূয়া ও মিথ্যা।’

তিনি আরও যোগ করেন, ‘আহতরা আগে চট্টগ্রাম নগরীর বেসরকারি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ছিলো, পুনরায় চিকিৎসা নিতে এখানে এসেছে।’

ট্যাগস :

নিউজটি শেয়ার করুন

‘এমপিকে দেখাতে’ ভর্তি রোগী সরিয়ে দিয়ে স্বাস্থ্যকেন্দ্র দখল বিএনপিনেতাকর্মীদের

আপডেট সময় ০২:৫৭:৫৭ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৪ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

শপথ গ্রহণের প্রায় এক সপ্তাহ পর এলাকায় এসে হাসপাতালে পরিদর্শনে গেলেন চট্টগ্রাম-১৩ আসনের নবনির্বাচিত সংসদ সদস্য সরওয়ার জামাল নিজাম। সোমবার (২৩ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে আনোয়ারা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স পরিদর্শন ও নির্বাচনে আহত নেতাকর্মীদের দেখতে যান তিনি। তবে যেসব নেতাকর্মীকে দেখতে এমপি হাসপাতালে যান, তারা আগে থেকে ভর্তি ছিলেন না। এমপির আগমন ঘিরে আগে থেকে ভর্তি থাকা কয়েকজন রোগীকে সরিয়ে দিয়ে নির্বাচনকালীন সময়ে বিভিন্ন সময়ে সাময়িকভাবে আহত কয়েকজন বিএনপি নেতাকর্মীকে শয্যা দেওয়া হয়। এছাড়া পরিদর্শনের সময় তার সঙ্গে বিপুলসংখ্যক দলীয় নেতাকর্মীর উপস্থিতি দেখা যায়। ফলে ভোগান্তিতে পড়েন হাসপাতালে ভর্তি থাকা রোগী ও চিকিৎসা নিতে আসা সাধারণ মানুষেরা।

সরেজমিনে গিয়ে জানা যায়, এমপির আগমন ঘিরে হাসপাতালে আগে থেকে শ্বাসকষ্টসহ বিভিন্ন রোগীরা ভর্তি থাকা কয়েকজন রোগীকে বাইরে বসিয়ে আহত কয়েকজন নেতাকর্মীকে সাময়িক ভর্তি করা হয়। পরে এমপি চলে যাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে নতুন ভর্তি হওয়া রোগীরা চলে যায়। এতে ভোগান্তিতে পড়েন চিকিৎসা নিতে আসা প্রকৃত রোগী ও তাদের স্বজনেরা। হাসপাতালের জরুরি বিভাগ ও ওয়ার্ড এলাকায় অতিরিক্ত ভিড়ের কারণে চলাচলে বিঘ্ন ঘটে এবং চিকিৎসাসেবায় বিলম্ব হয়।

হাসপাতালে শ্বাসকষ্ট নিয়ে ভর্তি থাকা এক বৃদ্ধ বলেন, সকালে আমাদের এই রুম থেকে বের হয়ে বাইরে বসতে বলে। পরে আমাদের সিটি মারামারিতে আহত কয়েকজনকে রাখা হয়। তাদের সঙ্গে এমপি কথা বলেন ও ছবি তুলেন। আমাদের কারো সঙ্গে কথা বলেননি। এমপি চলে যাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে তারাও চলে যায়।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে এক রোগীর স্বজন বলেন, ‘আমাদের রোগী ভর্তি ছিল। কিন্তু রাজনৈতিক লোকজন আসার পর আমাদের সরিয়ে দেওয়া হয়। পরে দেখি তারা বিকেলেই চলে গেছে।’

আক্ষেপ নিয়ে এক বৃদ্ধ রোগী বলেন, ‘এমপি সাহেবকে সালাম দেয়ার সুযোগ পাইনি। নেতাকর্মীদের চাপে এমপি সাহেব রোগীদের সঙ্গে সুখ-দুঃখের কথাও বলতে পারেনি।’

হাসপাতাল সূত্রে জানা যায়, সকাল আনুমানিক ১০টার দিকে ২৩জন রোগী ভর্তি হয়। বিকেল গড়াতেই এসব রোগী হাসপাতাল ছেড়ে চলে যান। জানতে চাইলে নাম প্রকাশ না করার অনুরোধ করে এক নার্স বলেন, বিষয়টি নিয়ে স্যারের সঙ্গে কথা বলেন। আমাদের কাছে ভর্তির তালিকা আছে। কিন্তু বর্তমানে এখন ওই রোগীরা হাসপাতালে নেই।

বিষয়টি অস্বীকার করে মুঠোফোনে সংসদ সদস্য সরওয়ার জামাল নিজাম বলেন, ‘আমি কেন এমনটা করবো। আমি সাধারণ রোগীদের সঙ্গে কথা বলেছি। অসুস্থ নেতাকর্মীদের আমি দেখতে চেয়েছি তাই তাদের এখানে আসতে বলা হয়েছিল।’

জানতে চাইলে আনোয়ারা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের পরিবার ও পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. মাহতাবউদ্দীন চৌধুরী বলেন, ‘নির্বাচনকালীন সময়ে আহত নেতাকর্মীরা ভর্তি হয়েছে শুনে এমপি সাহেব হাসপাতালে ছুটে এসেছেন। রোগী সরিয়ে দেয়ার বিষয়টি সম্পূর্ণ ভূয়া ও মিথ্যা।’

তিনি আরও যোগ করেন, ‘আহতরা আগে চট্টগ্রাম নগরীর বেসরকারি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ছিলো, পুনরায় চিকিৎসা নিতে এখানে এসেছে।’