ঢাকা ০১:৫৮ অপরাহ্ন, শনিবার, ২৫ মে ২০২৪, ১১ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩১ বঙ্গাব্দ
এ ঘটনায় সোমবার ওই শিক্ষার্থী পুলিশ সুপারের কাছে একটি অভিযোগ দিয়েছেন

শিক্ষার্থীকে ইয়াবা দিয়ে ফাঁসানোর চেষ্টা, ক্ষমা চাইলেন এসআই

নিউজ ডেস্ক
  • আপডেট সময় ১০:৫৪:১৯ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১০ অক্টোবর ২০২৩
  • / ১৪১ বার পড়া হয়েছে

এসআই আসিফ

রাজবাড়ীতে রিফায়াত ইবনে রইস আরাফ নামের এক কলেজছাত্রকে পকেটে ইয়াবা দিয়ে ফাঁসানোর চেষ্টা ও নির্যাতনের অভিযোগ উঠেছে রাজবাড়ীর বিনোদপুর পুলিশ ফাঁড়ির এসআই আসিফ আহমেদের বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় সোমবার ওই শিক্ষার্থী পুলিশ সুপারের কাছে একটি অভিযোগ দিয়েছেন।

বিষয়টি মঙ্গলবার ৭টার দিকে গণমাধ্যমকে নিশ্চিত করেছেন রাজবাড়ীর পুলিশ সুপার জিএম আবুল কালাম আজাদ।

রিফায়াত ইবনে রইস আরাফ রাজবাড়ী পৌরসভার ২নং ওয়ার্ডের  নুরপুর এলাকার রইচ উদ্দিনের ছেলে। তিনি রাজবাড়ী সরকারি কলেজ থেকে এবার এইচএসসি পরীক্ষা দিয়েছেন।

রিফায়াত ইবনে রইস আরাফের মা মিরুনা বানু মুন বলেন, আরাফের বড় ভাই রোববার রাত পৌনে ১টার দিকে শিক্ষাসফর শেষে শহরের মুরগির ফার্ম বাসস্ট্যান্ড এলাকায় আসেন। সেখান থেকে আরাফ তাকে মোটরসাইকেলে করে নুরপুরের বাসায় নিয়ে আসেন। বাসায় গিয়ে আরাফের বড় ভাই তাকে বলেন, তার কাছে থাকা ল্যাপটপসহ ব্যাগ ফেলে রেখে এসেছেন। সঙ্গে সঙ্গে আরাফ তখন মোটরসাইকেল নিয়ে বাসস্ট্যান্ডে গিয়ে সেগুলো নিয়ে বাসায় ফিরছিলেন।

তিনি বলেন, রাজবাড়ী ইয়াছিন স্কুলসংলগ্ন ২নং রেলগেট এলাকায় তারা দুজন আসলে পুলিশ প্রশাসন তাদের মোটরসাইকেলের গতিরোধ করেন। সেখানে এসআই আসিফ, কনস্টেবল জাহাঙ্গীর ও সুকান্ত তাকে জেরা করতে শুরু করেন। জেরা শুরুর একপর্যায়ে এসআই আসিফ আহমেদ কলেজছাত্র আরাফের শার্টের কলার ধরে ইয়াবা ব্যবসায়ী বলে তার নিজের শার্টের পকেটে কিছু ঢুকানোর চেষ্টা করতে থাকেন। সেটা করতে অসিফ আহমেদ ব্যর্থ হলে তখন তাকে তার বাসায় ফোন করে বিপুল পরিমাণ টাকা আনতে বলেন।

তিনি আরও বলেন, আরাফের ফোন পেয়ে তার পরিবারের লোকজন ঘটনাস্থলে ছুটে আসেন। তখন তাদের কাছে থাকা ক্যামেরা ও বিভিন্ন লোকজনের উপস্থিতি টের পেয়ে তারা আরাফকে ছেড়ে দিতে বাধ্য হন। পরে ভোর ৪টার দিকে সেই এসআই আসিফ পুলিশের পোশাক পরে আরাফের বাড়িতে গিয়ে ক্ষমা প্রার্থনা করেন। সেইসঙ্গে আরাফকে পরবর্তী কোনো আইনগত পদক্ষেপ না নিতে অনুরোধ করেন। আইনগত পদক্ষেপ নিলে তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার কথা বলে হুমকিও দেন। এ ঘটনায় আমার ছেলে মানসিকভাবে অসুস্থ হয়ে পড়েছেন বলে ক্ষোভ প্রকাশ করেন।

বিনোদপুর পুলিশ ফাঁড়ির এসআই আসিফ আহমেদ বলেন, ওই দিন তিনি ২নং রেলগেট এলাকায় ডিউটিতে ছিলেন কিন্তু কোনো ছাত্রকে হয়রানির কোনো ঘটনা ঘটেনি বলে জানান।

এ বিষয়ে রাজবাড়ীর পুলিশ সুপার জিএম আবুল কালাম আজাদ বলেন, কলেজছাত্র রিফায়াত ইবনে রইস আরাফের কাছ থেকে একটি অভিযোগ পেয়েছি। বিষয়টি তদন্ত করা হচ্ছে। সবকিছু তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানান পুলিশের এই কর্মকর্তা।

নিউজটি শেয়ার করুন

এ ঘটনায় সোমবার ওই শিক্ষার্থী পুলিশ সুপারের কাছে একটি অভিযোগ দিয়েছেন

শিক্ষার্থীকে ইয়াবা দিয়ে ফাঁসানোর চেষ্টা, ক্ষমা চাইলেন এসআই

আপডেট সময় ১০:৫৪:১৯ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১০ অক্টোবর ২০২৩

রাজবাড়ীতে রিফায়াত ইবনে রইস আরাফ নামের এক কলেজছাত্রকে পকেটে ইয়াবা দিয়ে ফাঁসানোর চেষ্টা ও নির্যাতনের অভিযোগ উঠেছে রাজবাড়ীর বিনোদপুর পুলিশ ফাঁড়ির এসআই আসিফ আহমেদের বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় সোমবার ওই শিক্ষার্থী পুলিশ সুপারের কাছে একটি অভিযোগ দিয়েছেন।

বিষয়টি মঙ্গলবার ৭টার দিকে গণমাধ্যমকে নিশ্চিত করেছেন রাজবাড়ীর পুলিশ সুপার জিএম আবুল কালাম আজাদ।

রিফায়াত ইবনে রইস আরাফ রাজবাড়ী পৌরসভার ২নং ওয়ার্ডের  নুরপুর এলাকার রইচ উদ্দিনের ছেলে। তিনি রাজবাড়ী সরকারি কলেজ থেকে এবার এইচএসসি পরীক্ষা দিয়েছেন।

রিফায়াত ইবনে রইস আরাফের মা মিরুনা বানু মুন বলেন, আরাফের বড় ভাই রোববার রাত পৌনে ১টার দিকে শিক্ষাসফর শেষে শহরের মুরগির ফার্ম বাসস্ট্যান্ড এলাকায় আসেন। সেখান থেকে আরাফ তাকে মোটরসাইকেলে করে নুরপুরের বাসায় নিয়ে আসেন। বাসায় গিয়ে আরাফের বড় ভাই তাকে বলেন, তার কাছে থাকা ল্যাপটপসহ ব্যাগ ফেলে রেখে এসেছেন। সঙ্গে সঙ্গে আরাফ তখন মোটরসাইকেল নিয়ে বাসস্ট্যান্ডে গিয়ে সেগুলো নিয়ে বাসায় ফিরছিলেন।

তিনি বলেন, রাজবাড়ী ইয়াছিন স্কুলসংলগ্ন ২নং রেলগেট এলাকায় তারা দুজন আসলে পুলিশ প্রশাসন তাদের মোটরসাইকেলের গতিরোধ করেন। সেখানে এসআই আসিফ, কনস্টেবল জাহাঙ্গীর ও সুকান্ত তাকে জেরা করতে শুরু করেন। জেরা শুরুর একপর্যায়ে এসআই আসিফ আহমেদ কলেজছাত্র আরাফের শার্টের কলার ধরে ইয়াবা ব্যবসায়ী বলে তার নিজের শার্টের পকেটে কিছু ঢুকানোর চেষ্টা করতে থাকেন। সেটা করতে অসিফ আহমেদ ব্যর্থ হলে তখন তাকে তার বাসায় ফোন করে বিপুল পরিমাণ টাকা আনতে বলেন।

তিনি আরও বলেন, আরাফের ফোন পেয়ে তার পরিবারের লোকজন ঘটনাস্থলে ছুটে আসেন। তখন তাদের কাছে থাকা ক্যামেরা ও বিভিন্ন লোকজনের উপস্থিতি টের পেয়ে তারা আরাফকে ছেড়ে দিতে বাধ্য হন। পরে ভোর ৪টার দিকে সেই এসআই আসিফ পুলিশের পোশাক পরে আরাফের বাড়িতে গিয়ে ক্ষমা প্রার্থনা করেন। সেইসঙ্গে আরাফকে পরবর্তী কোনো আইনগত পদক্ষেপ না নিতে অনুরোধ করেন। আইনগত পদক্ষেপ নিলে তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার কথা বলে হুমকিও দেন। এ ঘটনায় আমার ছেলে মানসিকভাবে অসুস্থ হয়ে পড়েছেন বলে ক্ষোভ প্রকাশ করেন।

বিনোদপুর পুলিশ ফাঁড়ির এসআই আসিফ আহমেদ বলেন, ওই দিন তিনি ২নং রেলগেট এলাকায় ডিউটিতে ছিলেন কিন্তু কোনো ছাত্রকে হয়রানির কোনো ঘটনা ঘটেনি বলে জানান।

এ বিষয়ে রাজবাড়ীর পুলিশ সুপার জিএম আবুল কালাম আজাদ বলেন, কলেজছাত্র রিফায়াত ইবনে রইস আরাফের কাছ থেকে একটি অভিযোগ পেয়েছি। বিষয়টি তদন্ত করা হচ্ছে। সবকিছু তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানান পুলিশের এই কর্মকর্তা।