ঢাকা ০৪:৩৭ অপরাহ্ন, রবিবার, ০১ মার্চ ২০২৬, ১৭ ফাল্গুন ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

বাকৃবির হলে ছাত্রলীগ পূনর্বাসনের চেষ্টা ছাত্রদল নেতার

ডেস্ক রিপোর্ট
  • আপডেট সময় ০৩:০৭:২৬ অপরাহ্ন, রবিবার, ১ মার্চ ২০২৬
  • / ২১ বার পড়া হয়েছে

বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ে (বাকৃবি) ছাত্রদল নেতার ছত্রছায়ায় আবাসিক হলে ছাত্রলীগ কর্মীদের পুনর্বাসনের অভিযোগে শিক্ষার্থীদের মাঝে তীব্র উত্তেজনা ও বাগবিতণ্ডার ঘটনা ঘটেছে। শুক্রবার মধ্যরাতে মাওলানা ভাসানী হলে এ ঘটনা ঘটে। পরে প্রক্টরিয়াল বডি ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।

জানা যায়, শুক্রবার মধ্যরাতে মাওলানা ভাসানী হলের নিচতলায় ‘খ’ ব্লকের ১০৯ নম্বর কক্ষে ছাত্রলীগের ৫ কর্মীকে উঠানোর চেষ্টা করা হয়। অভিযোগ ওঠে, বাকৃবি ছাত্রদলের সদস্য সচিব শফিকুল রহমান শফিকের হস্তক্ষেপে এই পুনর্বাসনের প্রক্রিয়া চলছিল। বিষয়টি জানাজানি হওয়ার পরপরই হলের আবাসিক শিক্ষার্থীরা বিক্ষুব্ধ হয়ে ওঠেন।

রাত ১২টার পর শিক্ষার্থীরা হল প্রাঙ্গণে জড়ো হয়ে প্রতিবাদ মিছিল শুরু করেন। এ সময় তারা ওই কর্মীদের হল থেকে বের করে দেওয়ার দাবি জানান। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে ছাত্রদলের উপস্থিতিতে নেতাকর্মীদের সঙ্গে শিক্ষার্থীদের প্রায় দুই ঘণ্টা ধরে বাগবিতণ্ডা ও উত্তপ্ত বাক্যবিনিময় চলে।

পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে না আসায় একপর্যায়ে শিক্ষার্থীরা বিষয়টি হল প্রভোস্টকে অবহিত করেন। পরে প্রভোস্টের অনুমতিক্রমে রাত দেড়টার দিকে প্রক্টরিয়াল বডি ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়। প্রক্টরিয়াল বডির গাড়িতে করে অভিযুক্তদের মধ্যে তিনজনকে হল থেকে সরিয়ে নেওয়া হয়। বাকি দুজন আগেই হল ত্যাগ করেন।

এই বিষয়ে প্রক্টর অধ্যাপক ড. আব্দুল আলীম বলেন, ছাত্রলীগ নামধারী তিনজনকে প্রক্টরিয়াল বডির গাড়িতে করে হল থেকে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে। প্রাথমিক তদন্তে জানা গেছে, হল প্রভোস্টের অনুমতি ছাড়াই তারা হলে ওঠার চেষ্টা করেছিল। বিষয়টি সমাধানের জন্য হল প্রভোস্ট প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেবেন।

এ ঘটনায় ছাত্রদলের সদস্য সচিব মো. শফিকুল রহমান শফিক অভিযোগ উড়িয়ে দিয়ে বলেন, ‘হলে ছাত্রলীগ নামধারী যাদের তোলার চেষ্টা করা হচ্ছে, তাদের সঙ্গে আমার ও আমার কর্মীদের কোনো সম্পৃক্ততা নেই। আমার কথা একটাই- ফ‌্যাসিবাদের দোসরদের এই ক‌্যাম্পাসে ঠাঁই হবে না। ক‌্যাম্পাসে ছাত্রলীগ পুনর্বাসন হোক এবং এ নিয়ে কোনো বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি হোক- এটা আমি কখনই চাই না। আমি ওই হলে ওঠার পর থেকেই আমার নামে একটি মহল অনলাইনে এ ধরনের প্রোপাগান্ডা ছড়াচ্ছে।’

মওলানা ভাসানী হলের প্রভোস্ট অধ্যাপক শরীফ-আর-রাফি বলেন, ‘জুলাই আন্দোলনের পর যারা গেস্টরুম কালচার, র‌্যাগিংয়ের সঙ্গে জড়িত তাদের হলে না ওঠানোর বিষয়ে যে সিদ্ধান্ত নিয়েছে সাধারণ শিক্ষার্থীরা সেটি এখনো বহাল রয়েছে। তারা কখনই হলে উঠতে পারবে না। সাধারণ ছাত্রদের কাছে আমি চিঠি দিব। এ রকম যাদের নামে অভিযোগ আছে, তাদের বিষয়ে ছাত্ররা প্রমাণ সাপেক্ষে অভিযোগ দিলে হল প্রশাসনের পক্ষ থেকে আমি ব‌্যবস্থা নেব।’

ট্যাগস :

নিউজটি শেয়ার করুন

বাকৃবির হলে ছাত্রলীগ পূনর্বাসনের চেষ্টা ছাত্রদল নেতার

আপডেট সময় ০৩:০৭:২৬ অপরাহ্ন, রবিবার, ১ মার্চ ২০২৬

বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ে (বাকৃবি) ছাত্রদল নেতার ছত্রছায়ায় আবাসিক হলে ছাত্রলীগ কর্মীদের পুনর্বাসনের অভিযোগে শিক্ষার্থীদের মাঝে তীব্র উত্তেজনা ও বাগবিতণ্ডার ঘটনা ঘটেছে। শুক্রবার মধ্যরাতে মাওলানা ভাসানী হলে এ ঘটনা ঘটে। পরে প্রক্টরিয়াল বডি ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।

জানা যায়, শুক্রবার মধ্যরাতে মাওলানা ভাসানী হলের নিচতলায় ‘খ’ ব্লকের ১০৯ নম্বর কক্ষে ছাত্রলীগের ৫ কর্মীকে উঠানোর চেষ্টা করা হয়। অভিযোগ ওঠে, বাকৃবি ছাত্রদলের সদস্য সচিব শফিকুল রহমান শফিকের হস্তক্ষেপে এই পুনর্বাসনের প্রক্রিয়া চলছিল। বিষয়টি জানাজানি হওয়ার পরপরই হলের আবাসিক শিক্ষার্থীরা বিক্ষুব্ধ হয়ে ওঠেন।

রাত ১২টার পর শিক্ষার্থীরা হল প্রাঙ্গণে জড়ো হয়ে প্রতিবাদ মিছিল শুরু করেন। এ সময় তারা ওই কর্মীদের হল থেকে বের করে দেওয়ার দাবি জানান। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে ছাত্রদলের উপস্থিতিতে নেতাকর্মীদের সঙ্গে শিক্ষার্থীদের প্রায় দুই ঘণ্টা ধরে বাগবিতণ্ডা ও উত্তপ্ত বাক্যবিনিময় চলে।

পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে না আসায় একপর্যায়ে শিক্ষার্থীরা বিষয়টি হল প্রভোস্টকে অবহিত করেন। পরে প্রভোস্টের অনুমতিক্রমে রাত দেড়টার দিকে প্রক্টরিয়াল বডি ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়। প্রক্টরিয়াল বডির গাড়িতে করে অভিযুক্তদের মধ্যে তিনজনকে হল থেকে সরিয়ে নেওয়া হয়। বাকি দুজন আগেই হল ত্যাগ করেন।

এই বিষয়ে প্রক্টর অধ্যাপক ড. আব্দুল আলীম বলেন, ছাত্রলীগ নামধারী তিনজনকে প্রক্টরিয়াল বডির গাড়িতে করে হল থেকে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে। প্রাথমিক তদন্তে জানা গেছে, হল প্রভোস্টের অনুমতি ছাড়াই তারা হলে ওঠার চেষ্টা করেছিল। বিষয়টি সমাধানের জন্য হল প্রভোস্ট প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেবেন।

এ ঘটনায় ছাত্রদলের সদস্য সচিব মো. শফিকুল রহমান শফিক অভিযোগ উড়িয়ে দিয়ে বলেন, ‘হলে ছাত্রলীগ নামধারী যাদের তোলার চেষ্টা করা হচ্ছে, তাদের সঙ্গে আমার ও আমার কর্মীদের কোনো সম্পৃক্ততা নেই। আমার কথা একটাই- ফ‌্যাসিবাদের দোসরদের এই ক‌্যাম্পাসে ঠাঁই হবে না। ক‌্যাম্পাসে ছাত্রলীগ পুনর্বাসন হোক এবং এ নিয়ে কোনো বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি হোক- এটা আমি কখনই চাই না। আমি ওই হলে ওঠার পর থেকেই আমার নামে একটি মহল অনলাইনে এ ধরনের প্রোপাগান্ডা ছড়াচ্ছে।’

মওলানা ভাসানী হলের প্রভোস্ট অধ্যাপক শরীফ-আর-রাফি বলেন, ‘জুলাই আন্দোলনের পর যারা গেস্টরুম কালচার, র‌্যাগিংয়ের সঙ্গে জড়িত তাদের হলে না ওঠানোর বিষয়ে যে সিদ্ধান্ত নিয়েছে সাধারণ শিক্ষার্থীরা সেটি এখনো বহাল রয়েছে। তারা কখনই হলে উঠতে পারবে না। সাধারণ ছাত্রদের কাছে আমি চিঠি দিব। এ রকম যাদের নামে অভিযোগ আছে, তাদের বিষয়ে ছাত্ররা প্রমাণ সাপেক্ষে অভিযোগ দিলে হল প্রশাসনের পক্ষ থেকে আমি ব‌্যবস্থা নেব।’