ব্যানারে নাম না থাকায় বিএনপির দুই গ্রুপের সংঘর্ষ, পণ্ড ইফতার মাহফিল
- আপডেট সময় ০৩:০৬:৪৯ অপরাহ্ন, রবিবার, ৮ মার্চ ২০২৬
- / ১৭ বার পড়া হয়েছে
ব্রাহ্মণবাড়িয়ার কসবায় ইফতার মাহফিলের ব্যানারে নাম না থাকাকে কেন্দ্র করে বিএনপির দুই গ্রুপের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। শনিবার (৭ মার্চ) সন্ধ্যায় উপজেলার বিনাউটি ইউনিয়ন বিএনপির আয়োজিত ইফতার ও দোয়া মাহফিলে এ সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। এতে উভয় পক্ষের বেশ কয়েকজন আহত হয়েছেন বলে জানা গেছে এবং সংঘর্ষের কারণে পুরো ইফতার মাহফিল পণ্ড হয়ে যায়।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ব্রাহ্মণবাড়িয়া-৪ (কসবা-আখাউড়া) আসনের সংসদ সদস্য মুশফিকুর রহমানের নির্দেশে শনিবার বিকেলে ৫নং বিনাউটি ইউনিয়ন বিএনপির উদ্যোগে তিনলাখপীর গরু বাজারে ইফতার ও দোয়া মাহফিলের আয়োজন করা হয়। এতে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা বিএনপির সহ-সভাপতি মো. ইলিয়াস।
তবে অনুষ্ঠানে কসবা উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক শরীফুল হক স্বপনকে আমন্ত্রণ জানানো হয়নি এবং অনুষ্ঠানের ব্যানারেও তার নাম রাখা হয়নি বলে অভিযোগ ওঠে।
এ সময় ইফতার মাহফিলে বক্তব্য দেন কসবা উপজেলা যুবদলের আহ্বায়ক মাসুদুল হক ভুইয়া দীপু। তিনি তার বক্তব্যে সংসদ নির্বাচনে বিএনপির কতিপয় নেতাকর্মীদের বিপক্ষে অবস্থান নেওয়াসহ সংসদ সদস্য ঘোষিত মাদক ও ড্রেজারবিরোধী অভিযান নিয়ে দলীয় নেতাকর্মীদের ভর্ৎসনা করে বক্তব্য রাখেন।
এর কয়েক মিনিট পর কসবা উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক শরীফুল হক স্বপন তার সমর্থকদের নিয়ে অনুষ্ঠানে উপস্থিত হন এবং ব্যানারে নাম না থাকা ও ইউনিয়ন বিএনপির অধিকাংশ নেতাকর্মীকে দাওয়াত না দেওয়ার বিষয়ে আপত্তি জানান। এ নিয়ে দুই পক্ষের মধ্যে তর্ক-বিতর্ক শুরু হয়।
একপর্যায়ে দুই গ্রুপের নেতাকর্মীরা পানির বোতল ও চেয়ার ছোড়াছুড়ি, ভাঙচুরসহ সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়েন। এতে এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে এবং ইফতারে আসা মুসল্লি ও দলীয় কর্মী-সমর্থকেরা প্রাণভয়ে দৌড়াদৌড়ি করে প্যান্ডেল ছেড়ে অন্যত্র সরে যান। সংঘর্ষের কারণে পুরো ইফতার মাহফিল পণ্ড হয়ে যায় এবং উভয় পক্ষের বেশ কয়েকজন আহত হন।
ঘটনার বিষয়ে উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক শরীফুল হক স্বপন বলেন, ‘স্থানীয় সংসদ সদস্যের নির্দেশনায় ইউনিয়ন বিএনপির উদ্যোগে ইফতার মাহফিলের আয়োজন করা হয়েছে। ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি সহ অধিকাংশ নেতাকে দাওয়াত দেওয়া হয়নি। আমি উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক আমাকে দাওয়াত দেওয়া হয়নি এবং সভাপতিকে ও দাওয়াত করা হয়নি। উল্টো আমাদেরকে নিয়ে কটূক্তিমূলক বক্তব্য দেওয়া হয়। এসব বিষয়কে কেন্দ্র করেই ঝামেলা বাঁধে।’
অন্যদিকে উপজেলা যুবদল আহ্বায়ক মাসুদুল হক ভুইয়া দীপু বলেন, ‘ইফতার মাহফিলে নেতারা আলোচনা করছিলেন। সংসদ সদস্য মুশফিকুর রহমানের অবৈধ মাদক ও ড্রেজার বিরোধী অভিযান নিয়ে বক্তব্যের জের ধরে উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক শরীফুল হক স্বপন ও তার লোকজন এসে হামলা করে। পরে এ ঘটনার জের ধরে দুই পক্ষ সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে।’
কসবা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা নাজনীন সুলতানা বলেন, ‘সংঘর্ষের খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। বর্তমানে পরিস্থিতি শান্ত রয়েছে। প্রাথমিকভাবে জানা গেছে, ব্যানারে কসবা উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক শরীফুল হক স্বপনের নাম না থাকার জের ধরে এ সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। উক্ত ঘটনায় অভিযোগ সাপেক্ষে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।



















