সন্ত্রাসী আস্তানা জঙ্গল সলিমপুরে যৌথ বাহিনীর অভিযান
- আপডেট সময় ০৫:৫৪:৫৩ অপরাহ্ন, সোমবার, ৯ মার্চ ২০২৬
- / ২৭ বার পড়া হয়েছে
চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ডের জঙ্গল সলিমপুরে সন্ত্রাসী গ্রেপ্তার ও অস্ত্র উদ্ধারে যৌথ বাহিনীর অভিযানের আগেই বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে বায়েজিদ ফৌজদারহাট লিংক রোডে। এতে সীমাহীন ভোগান্তিতে পড়েছেন বিশ্ববিদ্যালয়, কলেজ শিক্ষার্থীসহ শহরগামী মানুষেরা। কেউ কেউ দূরের বিকল্প পথ হয়ে শহরে প্রবেশ করলেও অনেকেই লিংক রোড ব্যবহার করতে গিয়ে পড়েছেন বিপাকে।
ব্যবহারকারীদের অভিযোগ আগে থেকে না জানিয়েই জনগুরুত্বপূর্ণ সড়কটি বন্ধ করে দেওয়া হয়। এখানে দুটি বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় রয়েছে। এছাড়াও এই পথ ব্যবহার করে দ্রুত সময়ে সীতাকুণ্ড হয়ে শহরে প্রবেশ করা যায়। হঠাৎ করে বন্ধ করে দেওয়ায় সীমাহীন ভোগান্তিতে পড়তে হয় অনেককে।
সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, সোমবার ভোর থেকেই বায়েজিদ ফৌজদারহাট লিংক রোড়ের দুটি প্রবেশ মুখে পুলিশ পাহারা বসানো হয়েছে। সড়কের ফৌজদারহাট অংশে সড়কের উপর পুলিশ সদস্যরা অবস্থান নিয়ে যান চলাচল বন্ধ রাখছেন। একইভাবে বায়েজিদ মুখেও পুলিশ ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা অবস্থান নিয়েছেন। সকাল থেকে বিকাল পর্যন্ত প্রশাসনের যানবাহন ছাড়া যেকোনো যান চলাচল সম্পূর্ণ নিষেধ করা হয়েছে। এতে এশিয়ান উইম্যান ইউনিভার্সিটি ও সাউদার্ন ইউনিভার্সিটির শতশত শিক্ষার্থী ক্যাম্পাসে যেতে ভোগান্তিতে পড়েন।
শিক্ষার্থী মো. রাহাতুল ইসলাম জানান, পুলিশ না জানিয়েই সড়ক বন্ধ রেখেছে। নিরাপত্তা হুমকি থাকলে তারা নোটিশ করতে পারতো। তাছাড়া একটি পাহাড়ি এলাকায় অভিযান চালাতে হলে পার্শ্ববর্তী ব্যস্ততম সড়কে কেন যান চলাচল বন্ধ রাখতে হবে।
একইভাবে ক্ষোভ প্রকাশ করেন শহরগামী অনেকে। মিরসরাই থেকে আসা আনোয়ারুল হক নিজামী বলেন, আমরা ফৌজদারহাট থেকে বায়েজিদ লিংক রোড় ব্যবহার করে সহজে চট্টগ্রাম শহরে প্রবেশ করি। কিন্তু হঠাৎ দেখলাম সড়কটি বন্ধ। এতে একেখান, জিইসি, পাহাড়তলী, খুলশী এলাকায় আমার কোন কাজ না থাকলেও এলাকাগুলো শহরে আসতে হয়েছে।
স্থানীয় ব্যবসায়ীরা জানিয়েছেন, ভোর থেকেই লিংক রোড়ের দোকানপাট খুলতে প্রশাসন কড়াকড়ি আরোপ করে। সেখানে থাকা রেস্টুরেন্ট, খেলার টার্ফ খোলা হয়নি। যেসব যানবাহন সরাসরি নগরের দুই নম্বর গেট, ফটিকছড়ি, হাটহাজারী ও পার্বত্য এলাকার উদ্দেশ্যে ছেড়ে যায় সেগুলো শহরের অনেক এলাকা অকারণে ঘুরে আসতে হচ্ছে।
এদিকে লিংক রোড় বন্ধ থাকায় শহরের জিইসি ও একেখানের জাকির হোসেন রোড়ে যানবাহনের চাপ বেড়েছে। সেখানে অন্যান্য দিনের তুলনায় যানজট আরও প্রকট আকার ধারণ করে।
এ বিষয়ে চট্টগ্রাম উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের বায়েজিদ লিংক রোড় প্রকল্প পরিচালক আসাদ বিন আনোয়ারকে কল করা হলে তিনি কথা বলতে রাজি হননি।
চট্টগ্রাম রেঞ্জের অতিরিক্ত ডিআইজি (অপারেশন্স এণ্ড ইন্টেলিজেন্স) শফিজুল ইসলাম জানান, অভিযানের পরপর সবকিছু স্বাভাবিক হয়ে যাবে। সাময়িক অসুবিধা হয়েছে একটি অভিযানের জন্য। এর আগে সোমবার দুপুরে গণমাধ্যমকে ডিআইজি আহসান হাবিব পলাশ জানান, জঙ্গল সলিমপুর এলাকাটি নিয়ন্ত্রণে নেওয়া সহজ ছিলো না। বর্তমানে আমরা পুরো এলাকাটি নিয়ন্ত্রণে নিয়েছি। সেখানে দুটি অস্থায়ী ক্যাম্প করা হয়েছে। সন্ত্রাসীরা জঙ্গল সলিমপুরে থাকার কোন সুযোগ নেই।



















