নারীরা ‘শারীরিকভাবে দুর্বল- কিম জং-উন
- আপডেট সময় ০৩:৩৫:৩৪ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ১০ মার্চ ২০২৬
- / ১৭ বার পড়া হয়েছে
আন্তর্জাতিক নারী দিবস উপলক্ষে দেওয়া এক অদ্ভুত ভাষণে উত্তর কোরিয়ার নেতা কিম জং-উন নারীদের ‘শারীরিকভাবে দুর্বল’ এবং ‘সাদামাটা চেহারার’ বলে অভিহিত করেছেন।
তবে একইসঙ্গে তিনি নারীদেরকে ‘বিপ্লবের শক্তিশালী স্তম্ভ’ হিসাবে উল্লেখ করে ধন্যবাদও জানিয়েছেন।
উত্তর কোরিয়ার রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থা কেসিএনএ-এর বরাত দিয়ে জানানো হয়, কিম কোরীয় নারীদের ‘অসাধারণ এবং অজানা প্রচেষ্টার’ জন্য বিশেষভাবে ধন্যবাদ জানান।
সংবাদ সংস্থাটি কিমের উদ্ধৃতি দিয়ে বলেছে, “আমাদের নারীরা যখন তাদের অপূরণীয় দায়িত্ব ও ভূমিকা পালনের মাধ্যমে দেশপ্রেমের ঐতিহ্যকে এগিয়ে নিয়ে যাবেন, তখন আমাদের সমাজ আরও শক্তিশালী ও সমৃদ্ধ হবে।”
কিম জং উন বলেন, “আমাদের সমসাময়িক নারীরা বিপ্লবের এক শক্ত খুঁটিতে পরিণত হয়েছেন। যদিও তারা শারীরিকভাবে দুর্বল, তবুও তারা স্পষ্টতই দৃঢ়চেতা। তাদের সাদামাটা চেহারার আড়ালে লুকিয়ে থাকে সাহস এবং তাদের মুখের বলিরেখা কঠোর পরিশ্রমের সাক্ষ্য দেয়।”
আন্তর্জাতিক নারী দিবস উপলক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে কিম জং উনের সঙ্গে তার স্ত্রী রি সোল জু এবং কন্যা জু আয়ে-কেও দেখা গেছে। কিমের উত্তরসূরি হিসেবে যাকে নিয়ে জোর আলোচনা চলছে, সেই কিশোরী কন্যাকে তার বাবার হাত ধরে থাকতে দেখা যায়।
কিম আরও বলেন, “আমি গর্বের সঙ্গে বলতে চাই যে, আমাদের প্রিয় কোরীয় নারীরা-মা, স্ত্রী, কন্যা এবং বান্ধবীরা-অন্যান্য দেশের নারীদের তুলনায় সত্যিই সুন্দর এবং মহান।”
তিনি আরও বলেন, “কোরীয় নারীরা যারা কঠিন সময়ে সৎ ছিলেন, শোকের মুহূর্তে অবিচল ছিলেন এবং মৃত্যুর মুখেও সাহসী ছিলেন, তারা বিপ্লবের ইতিবৃত্তে ও ইতিহাসের পাতায় উল্লেখযোগ্য কীর্তি লিপিবদ্ধ করেছেন। এই কীর্তিগুলো এখনও আমাদের স্মৃতিতে অমলিন এবং আমাদের শক্তিশালী আধ্যাত্মিক ভিত্তি হিসেবে কাজ করছে।”
কেসিএনএ জানিয়েছে, কিমের এই ভাষণের পর উপস্থিত সবাই উল্লাসে ফেটে পড়েন এবং তাকে করতালি দিয়ে অভিবাদন জানান।
তবে কিমের এই বক্তব্যের বিপরীতে মানবাধিকার সংস্থা ‘হিউম্যান রাইটস ওয়াচ’ তাদের পর্যবেক্ষণে জানিয়েছে, “উত্তর কোরিয়ার কর্মকর্তারা লিঙ্গ সমতা অর্জনের দাবি করলেও সেখানকার নারী ও মেয়েরা যৌন এবং লিঙ্গ-ভিত্তিক সহিংসতা, ব্যাপক বৈষম্য, কঠোর লিঙ্গভিত্তিক সামাজিক দৃষ্টিভঙ্গি এবং তীব্র মানবাধিকার লঙ্ঘনের শিকার।”
মানবাধিকার সংস্থাটি জানায়, উত্তর কোরিয়ায় প্রবল পিতৃতান্ত্রিক প্রথার কারণে নারীরা মূলত গৃহস্থালি ও নিম্ন আয়ের কাজে সীমাবদ্ধ এবং শীর্ষ নেতৃত্বে তাদের প্রতিনিধিত্ব অত্যন্ত নগণ্য।
সংস্থাটির ২০২২ সালের প্রতিবেদন অনুযায়ী, কিম ইয়ো জং-এর মতো নারী কর্মকর্তাদের প্রচার বাড়লেও নীতিনির্ধারণী পর্যায়ে এর কোনও ইতিবাচক প্রভাব পড়েনি।





















