ঢাকা ০৫:৫২ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১০ মার্চ ২০২৬, ২৬ ফাল্গুন ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

দুর্নীতিগ্রস্ত প্রসিকিউটর সাইমুম রেজা বিএনপির ‘জাতীয়তাবাদী আইসিটি ফোরামের’ নেতা

নিজস্ব সংবাদ :
  • আপডেট সময় ০৪:৩৪:০৮ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১০ মার্চ ২০২৬
  • / ১৪ বার পড়া হয়েছে

আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের (আইসিটি) প্রসিকিউটর সাইমুম রেজা তালুকদারের বিরুদ্ধে কারাবন্দী সাবেক এক আওয়ামী লীগ নেতার পরিবার থেকে ১ কোটি টাকা ঘুষ চাওয়ার অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগ রয়েছে, তিনি ওই আসামির জামিন করিয়ে দেওয়ার বিনিময়ে এই বিপুল অঙ্কের টাকা দাবি করেন। অভিযুক্ত এই প্রসিকিউটর সম্প্রতি গঠিত ‘জাতীয়তাবাদী আইসিটি ফোরাম’-এর নবনির্বাচিত আইন বিষয়ক সম্পাদক।

সাইমুম রেজা তালুকদার পেশায় একজন বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক ছিলেন। ঢাকার নাগরিক সমাজে ইন্টারনেট গভর্ন্যান্স বিশেষজ্ঞ হিসেবে পরিচিত হলেও ট্রাইব্যুনালে যোগদানের আগে মামলা পরিচালনার অভিজ্ঞতা ছিল খুবই সামান্য। রাজনৈতিকভাবে তিনি জাতীয়তাবাদী ঘরানার সাথে যুক্ত। গত ১৬ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ দৈনিক সমকালে প্রকাশিত খবর অনুযায়ী, এ কে এম ওয়াহিদুজ্জামানের নেতৃত্বাধীন ‘জাতীয়তাবাদী আইসিটি ফোরাম’-এর প্রথম কমিটিতে তাকে আইন বিষয়ক সম্পাদক করা হয়।

গত ১৬ ফ্রেব্রুরারি ২০২৬ দৈনিক সমকালে প্রকাশিত খবরে বলা হয়, টেলিযোগাযোগ ও তথ্য-যোগাযোগ প্রযুক্তি (আইসিটি) খাতে উদ্যোক্তা ও কর্মরত জাতীয়তাবাদী ব্যক্তিবর্গের উদ্যোগে ‘জাতীয়তাবাদী আইসিটি ফোরাম’ (Nationalist ICT Forum)-এর প্রথম কমিটি অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। গত কয়েকটি সভার সিদ্ধান্তের ভিত্তিতে গঠিত পাঁচ সদস্যবিশিষ্ট একটি কমিটির সুপারিশ অনুযায়ী এই কমিটি চূড়ান্ত করা হয়।কমিটির প্রধান উপদেষ্টা করা হয়েছে এ কে এম ওয়াহিদুজ্জামানকে। উপদেষ্টা হিসেবে রয়েছেন ড. মারুফ মল্লিক, প্রফেসর শাহ জে মিয়া, আব্বাস ফারুক, ফয়সাল আলিম, প্রফেসর এ এন কে জামান, প্রফেসর কামরুদ্দিন নূর, ড. আতিকুর রহমান ও প্রকৌশলী মিজানুর রহমান।

জানা যায়, ফজলে করিম চৌধুরীর বিরুদ্ধে ২০২৪ সালের জুলাইয়ে বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনে হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত থেকে মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগ রয়েছে। ফজলে করিম চৌধুরীর পরিবারের কাছে ১ কোটি টাকা দাবি করেছিলেন সাইমুম রেজা তালুকদার। হোয়াটসঅ্যাপ কথোপকথনের একাধিক অডিও রেকর্ডিংয়ে দেখা যায়, তিনি ফজলে করিমের জামিনের বিনিময়ে ‘বেশ ভালো অ্যামাউন্টের’ কথা বলেন এবং সরাসরি ১ কোটি টাকার অঙ্ক উল্লেখ করেন। এমনকি কাজ শুরুর আগে অগ্রিম হিসেবে নগদে ১০ লাখ টাকা দেওয়ার জন্যও চাপ দেন তিনি।

সাইমুম রেজার বিরুদ্ধে ঘুষ চাওয়ার বিষয়টি তৎকালীন চিফ প্রসিকিউটর তাজুল ইসলাম জানতে পারলে তাকে ওই মামলা থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছিল। তবে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পর প্রসিকিউশন টিমে রদবদল আসলে সাইমুম রেজা পুনরায় ওই মামলায় ফেরার চেষ্টা করেন এবং আসামিপক্ষকে আশ্বস্ত করেন।

ট্যাগস :

নিউজটি শেয়ার করুন

দুর্নীতিগ্রস্ত প্রসিকিউটর সাইমুম রেজা বিএনপির ‘জাতীয়তাবাদী আইসিটি ফোরামের’ নেতা

আপডেট সময় ০৪:৩৪:০৮ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১০ মার্চ ২০২৬

আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের (আইসিটি) প্রসিকিউটর সাইমুম রেজা তালুকদারের বিরুদ্ধে কারাবন্দী সাবেক এক আওয়ামী লীগ নেতার পরিবার থেকে ১ কোটি টাকা ঘুষ চাওয়ার অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগ রয়েছে, তিনি ওই আসামির জামিন করিয়ে দেওয়ার বিনিময়ে এই বিপুল অঙ্কের টাকা দাবি করেন। অভিযুক্ত এই প্রসিকিউটর সম্প্রতি গঠিত ‘জাতীয়তাবাদী আইসিটি ফোরাম’-এর নবনির্বাচিত আইন বিষয়ক সম্পাদক।

সাইমুম রেজা তালুকদার পেশায় একজন বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক ছিলেন। ঢাকার নাগরিক সমাজে ইন্টারনেট গভর্ন্যান্স বিশেষজ্ঞ হিসেবে পরিচিত হলেও ট্রাইব্যুনালে যোগদানের আগে মামলা পরিচালনার অভিজ্ঞতা ছিল খুবই সামান্য। রাজনৈতিকভাবে তিনি জাতীয়তাবাদী ঘরানার সাথে যুক্ত। গত ১৬ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ দৈনিক সমকালে প্রকাশিত খবর অনুযায়ী, এ কে এম ওয়াহিদুজ্জামানের নেতৃত্বাধীন ‘জাতীয়তাবাদী আইসিটি ফোরাম’-এর প্রথম কমিটিতে তাকে আইন বিষয়ক সম্পাদক করা হয়।

গত ১৬ ফ্রেব্রুরারি ২০২৬ দৈনিক সমকালে প্রকাশিত খবরে বলা হয়, টেলিযোগাযোগ ও তথ্য-যোগাযোগ প্রযুক্তি (আইসিটি) খাতে উদ্যোক্তা ও কর্মরত জাতীয়তাবাদী ব্যক্তিবর্গের উদ্যোগে ‘জাতীয়তাবাদী আইসিটি ফোরাম’ (Nationalist ICT Forum)-এর প্রথম কমিটি অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। গত কয়েকটি সভার সিদ্ধান্তের ভিত্তিতে গঠিত পাঁচ সদস্যবিশিষ্ট একটি কমিটির সুপারিশ অনুযায়ী এই কমিটি চূড়ান্ত করা হয়।কমিটির প্রধান উপদেষ্টা করা হয়েছে এ কে এম ওয়াহিদুজ্জামানকে। উপদেষ্টা হিসেবে রয়েছেন ড. মারুফ মল্লিক, প্রফেসর শাহ জে মিয়া, আব্বাস ফারুক, ফয়সাল আলিম, প্রফেসর এ এন কে জামান, প্রফেসর কামরুদ্দিন নূর, ড. আতিকুর রহমান ও প্রকৌশলী মিজানুর রহমান।

জানা যায়, ফজলে করিম চৌধুরীর বিরুদ্ধে ২০২৪ সালের জুলাইয়ে বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনে হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত থেকে মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগ রয়েছে। ফজলে করিম চৌধুরীর পরিবারের কাছে ১ কোটি টাকা দাবি করেছিলেন সাইমুম রেজা তালুকদার। হোয়াটসঅ্যাপ কথোপকথনের একাধিক অডিও রেকর্ডিংয়ে দেখা যায়, তিনি ফজলে করিমের জামিনের বিনিময়ে ‘বেশ ভালো অ্যামাউন্টের’ কথা বলেন এবং সরাসরি ১ কোটি টাকার অঙ্ক উল্লেখ করেন। এমনকি কাজ শুরুর আগে অগ্রিম হিসেবে নগদে ১০ লাখ টাকা দেওয়ার জন্যও চাপ দেন তিনি।

সাইমুম রেজার বিরুদ্ধে ঘুষ চাওয়ার বিষয়টি তৎকালীন চিফ প্রসিকিউটর তাজুল ইসলাম জানতে পারলে তাকে ওই মামলা থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছিল। তবে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পর প্রসিকিউশন টিমে রদবদল আসলে সাইমুম রেজা পুনরায় ওই মামলায় ফেরার চেষ্টা করেন এবং আসামিপক্ষকে আশ্বস্ত করেন।