ফাঁসির মঞ্চ থেকে সংসদে যে তিনজন
- আপডেট সময় ১০:০৪:০৫ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১২ মার্চ ২০২৬
- / ৩৯ বার পড়া হয়েছে
মাথার ওপর ঝুলছিল ফাঁসির দড়ি, সঙ্গী ছিল কারাগারের অন্ধকার প্রকোষ্ঠ। দীর্ঘ দেড় থেকে দুই দশক যাদের জীবন কাটল ‘মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত কয়েদি’ হিসেবে, জুলাইয়ের গণ-অভ্যুত্থান পরবর্তী নতুন বাংলাদেশে তারা এখন জনগণের নির্বাচিত প্রতিনিধি। রাজনৈতিক প্রতিহিংসা আর প্রহসনের বিচার ছাপিয়ে ব্যালট বিপ্লবের মাধ্যমে জাতীয় সংসদে ফিরেছেন বিএনপির লুৎফুজ্জামান বাবর, আবদুস সালাম পিন্টু এবং জামায়াতে ইসলামীর এটিএম আজহারুল ইসলাম।
লুৎফুজ্জামান বাবর: সাবেক স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী লুৎফুজ্জামান বাবর ২০০৭ সাল থেকে দীর্ঘ ১৮ বছর কারাবন্দী ছিলেন। ২০০৪ সালের ২১ আগস্ট গ্রেনেড হামলা মামলায় তাকে মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়েছিল। বছরের পর বছর প্রিজন ভ্যানে করে আদালতে যাতায়াত করা বাবরের মুক্তি ছিল অনিশ্চিত। কিন্তু গত বছরের ১৬ জানুয়ারি কারামুক্ত হয়ে তিনি ফিরে যান নিজের নির্বাচনী এলাকা নেত্রকোনায় (মোহনগঞ্জ-মদন-খালিয়াজুরি)। ধানের শীষ প্রতীকে নির্বাচন করে নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বীর চেয়ে প্রায় ১ লাখ ২০ হাজার বেশি ভোট পেয়ে তিনি বিজয় ছিনিয়ে আনেন।
আবদুস সালাম পিন্টু: লুৎফুজ্জামান বাবরের মতোই ২১ আগস্ট মামলার আরেক দণ্ডপ্রাপ্ত আসামি ছিলেন সাবেক উপমন্ত্রী ও বিএনপি নেতা আবদুস সালাম পিন্টু। ১৭ বছরের দীর্ঘ কারাজীবনের ইতি ঘটিয়ে গত ২৪ ডিসেম্বর তিনি মুক্তি পান। নিজ জন্মভূমি টাঙ্গাইলের গোপালপুর-ভূঞাপুর আসনে ধানের শীষ নিয়ে নির্বাচনে দাঁড়ান তিনি। দীর্ঘ নির্বাসিত জীবনের পর নির্বাচনে ফিরেই ২ লাখের বেশি ভোটের ব্যবধানে জয়ী হয়ে তাক লাগিয়ে দিয়েছেন এই বর্ষীয়ান নেতা।
এটিএম আজহারুল ইসলাম: সবচেয়ে নাটকীয় মোড় দেখা গেছে জামায়াত নেতা এটিএম আজহারুল ইসলামের ক্ষেত্রে। মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় তার মৃত্যুদণ্ডের রায় হয়েছিল এবং কারাবরণ করেছিলেন দীর্ঘ এক যুগ। ২০১২ সাল থেকে বন্দি থাকার পর গত বছর ২৮ মে তিনি মুক্তি পান। রংপুর-২ (তারাগঞ্জ-বদরগঞ্জ) আসনে প্রতিদ্বন্দ্বী বিএনপি প্রার্থীকে পরাজিত করে বিপুল ব্যবধানে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন তিনি। যার মৃত্যুদণ্ড কার্যকর হওয়া ছিল সময়ের ব্যাপার, তিনিই এখন নিজের এলাকার প্রতিনিধিত্ব করছেন সংসদে।



















