ঢাকা ০৫:০৯ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১৩ মার্চ ২০২৬, ২৯ ফাল্গুন ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

আজ বিশ্ব ঘুম দিবস

ডেস্ক রিপোর্ট
  • আপডেট সময় ০৩:৫১:০৩ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১৩ মার্চ ২০২৬
  • / ১৯ বার পড়া হয়েছে

আজ ১৩ মার্চ, বিশ্ব ঘুম দিবস। প্রতি বছর মার্চ মাসের তৃতীয় শুক্রবার বিশ্বজুড়ে দিবসটি পালন করা হয়। ২০০৮ সালে প্রথমবারের মতো ‘ওয়ার্ল্ড অ্যাসোসিয়েশন অব স্লিপ মেডিসিন’-এর উদ্যোগে এই দিনটি পালন শুরু হয়। এ বছর দিবসটির মূল প্রতিপাদ্য নির্ধারণ করা হয়েছে— ‘নিয়মিত ঘুম: স্বাস্থ্যোজ্জ্বল ভবিষ্যৎ’।

ঘুম মানুষের মৌলিক চাহিদার একটি, যা শারীরিক ও মানসিক সুস্থতার জন্য অপরিহার্য। চিকিৎসাবিজ্ঞানীদের মতে, একজন সুস্থ প্রাপ্তবয়স্ক মানুষের দৈনিক অন্তত ৭ থেকে ৮ ঘণ্টা নিরবচ্ছিন্ন ঘুমের প্রয়োজন। ঘুমের অভাব যেমন শরীরের ক্ষতি করে, তেমনি অতিরিক্ত ঘুমও স্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকর হতে পারে।

গবেষণায় দেখা গেছে, বর্তমানে বিশ্বজুড়ে প্রায় ১০০ মিলিয়ন মানুষ পর্যাপ্ত ঘুমের অভাবে ভুগছেন। শুধুমাত্র আমেরিকাতেই প্রায় ২২ মিলিয়ন মানুষ চরম অনিদ্রার শিকার। গবেষকরা সতর্ক করে জানিয়েছেন, সপ্তাহের কাজের দিনগুলোতে কম ঘুমিয়ে ছুটির দিনে ২ ঘণ্টা বেশি ঘুমানোর অভ্যাস শরীরের ‘বডি ক্লক’ বা দেহঘড়িকে প্রায় ৪৫ মিনিট বিলম্বিত করে দেয়। এর ফলে পরবর্তী কর্মদিবসে শরীর ও মন কাজের জন্য পুরোপুরি প্রস্তুত হতে পারে না এবং ক্লান্তি অনুভূত হয়।

ঘুমের মান ঠিক রাখতে দেহঘড়ির সামঞ্জস্য বজায় রাখা জরুরি। গবেষকরা বলছেন, দেহঘড়ি সচল রাখতে সূর্যের আলো অত্যন্ত কার্যকর। ছুটির দিনগুলোতে শরীরে ভিটামিন ‘ডি’ পাওয়ার জন্য অন্তত ৬ থেকে ৮ মিনিট রোদে থাকা প্রয়োজন। শরীরে ভিটামিন ‘ডি’-এর ঘাটতি হলে ডায়াবেটিস, হাইপারটেনশন, এমনকি ক্যান্সারের মতো মরণব্যাধি হতে পারে। এছাড়া হাড়ের ঘনত্ব কমে গিয়ে ‘অস্টিওপোরোসিস’ বা হাড় ভঙ্গুর হওয়ার ঝুঁকি বেড়ে যায়।

টেক্সাসের বেয়লর বিশ্ববিদ্যালয়ের এক গবেষণায় দেখা গেছে, মধ্যবয়সে (ত্রিশোর্ধ্ব সময়) নিয়ম মেনে ভালো ঘুম ভবিষ্যতে মানসিক প্রশান্তির জন্য একটি বড় পুঁজি হিসেবে কাজ করে। ভালো ঘুমের সাথে স্মৃতিশক্তির নিবিড় সম্পর্ক রয়েছে। চিকিৎসকদের মতে, যারা মধ্যবয়সে নিয়মিত পর্যাপ্ত ঘুমান, বৃদ্ধ বয়সে তাদের স্মৃতিশক্তি লোপ পাওয়া বা অনিদ্রার সমস্যায় ভোগার হার অন্যদের চেয়ে অনেক কম থাকে।

বিশ্ব ঘুম দিবস কমিটির মূল লক্ষ্য হলো মানুষকে পর্যাপ্ত ঘুমের সুফল সম্পর্কে সচেতন করা। বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ অনুযায়ী, সুস্থ ও দীর্ঘ জীবনের জন্য কেবল ছুটির দিন নয়, বরং সপ্তাহের প্রতি রাতেই নির্দিষ্ট সময়ে ৮ ঘণ্টা ঘুমানোর অভ্যাস গড়ে তোলা উচিত।

ট্যাগস :

নিউজটি শেয়ার করুন

আজ বিশ্ব ঘুম দিবস

আপডেট সময় ০৩:৫১:০৩ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১৩ মার্চ ২০২৬

আজ ১৩ মার্চ, বিশ্ব ঘুম দিবস। প্রতি বছর মার্চ মাসের তৃতীয় শুক্রবার বিশ্বজুড়ে দিবসটি পালন করা হয়। ২০০৮ সালে প্রথমবারের মতো ‘ওয়ার্ল্ড অ্যাসোসিয়েশন অব স্লিপ মেডিসিন’-এর উদ্যোগে এই দিনটি পালন শুরু হয়। এ বছর দিবসটির মূল প্রতিপাদ্য নির্ধারণ করা হয়েছে— ‘নিয়মিত ঘুম: স্বাস্থ্যোজ্জ্বল ভবিষ্যৎ’।

ঘুম মানুষের মৌলিক চাহিদার একটি, যা শারীরিক ও মানসিক সুস্থতার জন্য অপরিহার্য। চিকিৎসাবিজ্ঞানীদের মতে, একজন সুস্থ প্রাপ্তবয়স্ক মানুষের দৈনিক অন্তত ৭ থেকে ৮ ঘণ্টা নিরবচ্ছিন্ন ঘুমের প্রয়োজন। ঘুমের অভাব যেমন শরীরের ক্ষতি করে, তেমনি অতিরিক্ত ঘুমও স্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকর হতে পারে।

গবেষণায় দেখা গেছে, বর্তমানে বিশ্বজুড়ে প্রায় ১০০ মিলিয়ন মানুষ পর্যাপ্ত ঘুমের অভাবে ভুগছেন। শুধুমাত্র আমেরিকাতেই প্রায় ২২ মিলিয়ন মানুষ চরম অনিদ্রার শিকার। গবেষকরা সতর্ক করে জানিয়েছেন, সপ্তাহের কাজের দিনগুলোতে কম ঘুমিয়ে ছুটির দিনে ২ ঘণ্টা বেশি ঘুমানোর অভ্যাস শরীরের ‘বডি ক্লক’ বা দেহঘড়িকে প্রায় ৪৫ মিনিট বিলম্বিত করে দেয়। এর ফলে পরবর্তী কর্মদিবসে শরীর ও মন কাজের জন্য পুরোপুরি প্রস্তুত হতে পারে না এবং ক্লান্তি অনুভূত হয়।

ঘুমের মান ঠিক রাখতে দেহঘড়ির সামঞ্জস্য বজায় রাখা জরুরি। গবেষকরা বলছেন, দেহঘড়ি সচল রাখতে সূর্যের আলো অত্যন্ত কার্যকর। ছুটির দিনগুলোতে শরীরে ভিটামিন ‘ডি’ পাওয়ার জন্য অন্তত ৬ থেকে ৮ মিনিট রোদে থাকা প্রয়োজন। শরীরে ভিটামিন ‘ডি’-এর ঘাটতি হলে ডায়াবেটিস, হাইপারটেনশন, এমনকি ক্যান্সারের মতো মরণব্যাধি হতে পারে। এছাড়া হাড়ের ঘনত্ব কমে গিয়ে ‘অস্টিওপোরোসিস’ বা হাড় ভঙ্গুর হওয়ার ঝুঁকি বেড়ে যায়।

টেক্সাসের বেয়লর বিশ্ববিদ্যালয়ের এক গবেষণায় দেখা গেছে, মধ্যবয়সে (ত্রিশোর্ধ্ব সময়) নিয়ম মেনে ভালো ঘুম ভবিষ্যতে মানসিক প্রশান্তির জন্য একটি বড় পুঁজি হিসেবে কাজ করে। ভালো ঘুমের সাথে স্মৃতিশক্তির নিবিড় সম্পর্ক রয়েছে। চিকিৎসকদের মতে, যারা মধ্যবয়সে নিয়মিত পর্যাপ্ত ঘুমান, বৃদ্ধ বয়সে তাদের স্মৃতিশক্তি লোপ পাওয়া বা অনিদ্রার সমস্যায় ভোগার হার অন্যদের চেয়ে অনেক কম থাকে।

বিশ্ব ঘুম দিবস কমিটির মূল লক্ষ্য হলো মানুষকে পর্যাপ্ত ঘুমের সুফল সম্পর্কে সচেতন করা। বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ অনুযায়ী, সুস্থ ও দীর্ঘ জীবনের জন্য কেবল ছুটির দিন নয়, বরং সপ্তাহের প্রতি রাতেই নির্দিষ্ট সময়ে ৮ ঘণ্টা ঘুমানোর অভ্যাস গড়ে তোলা উচিত।