ঢাকা ০৩:৫৯ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ১৫ মার্চ ২০২৬, ৩০ ফাল্গুন ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

আল-আকসা বন্ধ থাকায় ফিলিস্তিনিদের রাস্তায় নামাজ আদায়

ডেস্ক রিপোর্ট
  • আপডেট সময় ০২:০৫:৩৬ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ১৫ মার্চ ২০২৬
  • / ৪ বার পড়া হয়েছে

দখলদার ইসরাইলের নিষেধাজ্ঞার কারণে ইসলামের তৃতীয় পবিত্রতম স্থান আল-আকসা মসজিদে প্রবেশ করতে পারছেন না হাজার হাজার ফিলিস্তিনি। রমজানের এই শেষ দিনগুলোতে তারা মসজিদের বাইরে সড়কেই নামাজ আদায় করছেন।

বিগত বছরগুলোতে দেখা যেত, রমজানের এই সময়ে বিশেষ করে জুমার নামাজে লাখ লাখ মানুষের সমাগম হতো আল-আকসা মসজিদ প্রাঙ্গণে। কিন্তু গত ২৮ ফেব্রুয়ারি থেকে ইরানের বিরুদ্ধে শুরু হওয়া ইসরাইল-যুক্তরাষ্ট্র যৌথ সামরিক অভিযানের পর থেকে পরিস্থিতি বদলে গেছে। নিরাপত্তার অজুহাত দেখিয়ে জেরুজালেমের পুরোনো শহর এবং পবিত্র স্থানগুলোতে ফিলিস্তিনিদের প্রবেশে কঠোর বিধিনিষেধ আরোপ করেছে ইসরাইলি বাহিনী।

সব বাধা উপেক্ষা করেই ফিলিস্তিনিরা তাদের ইমানি দৃঢ়তার পরিচয় দিচ্ছেন। আল-আকসার সীমানায় ঢুকতে না পেরে তারা নিকটবর্তী বাব আল-সাহিরা গেটের আশেপাশে মাদুর বিছিয়ে মাগরিব, এশা ও তারাবির নামাজ আদায় করছেন।

৬৫ বছর বয়সী জেরুজালেম বাসিন্দা ইকরিমা আল-হুসাইনি জানান, গত ৫০ বছর ধরে তিনি কখনও আল-আকসায় তারাবি ছাড়েননি। ভারাক্রান্ত কণ্ঠে তিনি বলেন, অর্ধ শতাব্দী ধরে আমি প্রতি রমজানে এখানে আসছি। কিন্তু এ বছরের পরিস্থিতি একদমই আলাদা। শেষ দশ দিনের এই গুরুত্বপূর্ণ সময়ে আমরা হাজার হাজার মানুষের সঙ্গে ভেতরে থাকতাম। এখন বাইরে নামাজ পড়তে হওয়ায় মনে হচ্ছে খুব মূল্যবান কিছু আমাদের কাছ থেকে কেড়ে নেওয়া হয়েছে।

উল্লেখ্য যে, ১৯৬৭ সালের পর এবারই প্রথম আল-আকসা এভাবে পুরোপুরি বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। তবে যুদ্ধের আগে থেকেই বিধিনিষেধের প্রক্রিয়া শুরু করেছিল ইসরাইল। রমজানের প্রথম জুমায় অধিকৃত পশ্চিম তীর থেকে মাত্র ১০ হাজার মানুষকে প্রবেশের অনুমতি দেওয়া হয়েছিল, যেখানে স্বাভাবিক সময়ে পাঁচ লাখ পর্যন্ত মানুষের সমাগম হতো।

নিউজটি শেয়ার করুন

আল-আকসা বন্ধ থাকায় ফিলিস্তিনিদের রাস্তায় নামাজ আদায়

আপডেট সময় ০২:০৫:৩৬ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ১৫ মার্চ ২০২৬

দখলদার ইসরাইলের নিষেধাজ্ঞার কারণে ইসলামের তৃতীয় পবিত্রতম স্থান আল-আকসা মসজিদে প্রবেশ করতে পারছেন না হাজার হাজার ফিলিস্তিনি। রমজানের এই শেষ দিনগুলোতে তারা মসজিদের বাইরে সড়কেই নামাজ আদায় করছেন।

বিগত বছরগুলোতে দেখা যেত, রমজানের এই সময়ে বিশেষ করে জুমার নামাজে লাখ লাখ মানুষের সমাগম হতো আল-আকসা মসজিদ প্রাঙ্গণে। কিন্তু গত ২৮ ফেব্রুয়ারি থেকে ইরানের বিরুদ্ধে শুরু হওয়া ইসরাইল-যুক্তরাষ্ট্র যৌথ সামরিক অভিযানের পর থেকে পরিস্থিতি বদলে গেছে। নিরাপত্তার অজুহাত দেখিয়ে জেরুজালেমের পুরোনো শহর এবং পবিত্র স্থানগুলোতে ফিলিস্তিনিদের প্রবেশে কঠোর বিধিনিষেধ আরোপ করেছে ইসরাইলি বাহিনী।

সব বাধা উপেক্ষা করেই ফিলিস্তিনিরা তাদের ইমানি দৃঢ়তার পরিচয় দিচ্ছেন। আল-আকসার সীমানায় ঢুকতে না পেরে তারা নিকটবর্তী বাব আল-সাহিরা গেটের আশেপাশে মাদুর বিছিয়ে মাগরিব, এশা ও তারাবির নামাজ আদায় করছেন।

৬৫ বছর বয়সী জেরুজালেম বাসিন্দা ইকরিমা আল-হুসাইনি জানান, গত ৫০ বছর ধরে তিনি কখনও আল-আকসায় তারাবি ছাড়েননি। ভারাক্রান্ত কণ্ঠে তিনি বলেন, অর্ধ শতাব্দী ধরে আমি প্রতি রমজানে এখানে আসছি। কিন্তু এ বছরের পরিস্থিতি একদমই আলাদা। শেষ দশ দিনের এই গুরুত্বপূর্ণ সময়ে আমরা হাজার হাজার মানুষের সঙ্গে ভেতরে থাকতাম। এখন বাইরে নামাজ পড়তে হওয়ায় মনে হচ্ছে খুব মূল্যবান কিছু আমাদের কাছ থেকে কেড়ে নেওয়া হয়েছে।

উল্লেখ্য যে, ১৯৬৭ সালের পর এবারই প্রথম আল-আকসা এভাবে পুরোপুরি বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। তবে যুদ্ধের আগে থেকেই বিধিনিষেধের প্রক্রিয়া শুরু করেছিল ইসরাইল। রমজানের প্রথম জুমায় অধিকৃত পশ্চিম তীর থেকে মাত্র ১০ হাজার মানুষকে প্রবেশের অনুমতি দেওয়া হয়েছিল, যেখানে স্বাভাবিক সময়ে পাঁচ লাখ পর্যন্ত মানুষের সমাগম হতো।