ঢাকা ০৪:০০ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ১৫ মার্চ ২০২৬, ৩০ ফাল্গুন ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

যুবলীগ নেতার নেতৃত্বে বাড়িঘর ভাঙচুর-লুটপাট, ককটেল বিস্ফোরণে আহত ৭

স্টাফ রিপোর্টার
  • আপডেট সময় ০২:১৭:৫৫ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ১৫ মার্চ ২০২৬
  • / ১৮ বার পড়া হয়েছে

কুমিল্লার চৌদ্দগ্রামে পূর্ব বিরোধের জেরে এক যুবলীগ নেতার নেতৃত্বে দফায় দফায় হামলা চালিয়ে পুলিশ কর্মকর্তার বাড়িসহ সাতটি বাড়িঘর ভাঙচুর ও লুটপাটের অভিযোগ উঠেছে। এ সময় কয়েকটি ককটেল বিস্ফোরণের ঘটনাও ঘটে। হামলায় নারী-পুরুষসহ অন্তত সাতজন আহত হয়েছেন।

শুক্রবার রাতে উপজেলার মুন্সিরহাট ইউনিয়নের সিংরাইশ মাস্টারবাড়ি এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। শনিবার বিকেলে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন চৌদ্দগ্রাম মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আবু মাহমুদ কাওসার হোসেন।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, সিংরাইশ গ্রামের আবদুস সাত্তারের ছেলে মো. সবুজের সঙ্গে একই এলাকার আমির ইসলামের ভাতিজা রেজাউল করিমের দীর্ঘদিনের বিরোধ ছিল। বৃহস্পতিবার রাতে রেজাউল করিমকে স্থানীয় যুবলীগ নেতা বাচ্চু মিয়া মারধর করেন বলে অভিযোগ রয়েছে। এর জেরে শুক্রবার রাতে উভয় পক্ষ বিষয়টি মীমাংসার চেষ্টা করলে বাচ্চু মিয়া দলবল নিয়ে এলাকায় দফায় দফায় হামলা চালান।

হামলার সময় সাতটি বাড়িঘর ভাঙচুর করা হয় এবং নগদ টাকা ও স্বর্ণালঙ্কার লুটের অভিযোগ ওঠে। এতে ওই এলাকার হাবিব উল্লাহর ছেলে রেজাউল হক, হাফিজুর রহমানের ছেলে আলমগীর হোসেন, আহসান মিয়ার ছেলে রেহান, রেজাউল হকের ছেলে রিফাত, সৌদি প্রবাসী আরিফ হোসেন, সাইফুল ইসলাম ও ফাতেমা আক্তার আহত হন। স্থানীয়রা তাদের উদ্ধার করে চৌদ্দগ্রাম উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসা দেন।

স্থানীয়দের অভিযোগ, যুবলীগ নেতা বাচ্চু মিয়া ক্ষমতাসীন দলের সময় এলাকায় ত্রাসের রাজত্ব কায়েম করেছিলেন। তার অত্যাচারে তৎকালীন বিরোধী দলের অনেক নেতাকর্মী বাড়িঘরে থাকতে পারেননি। ২০২৪ সালের গণঅভ্যুত্থানের পর তিনি অবস্থান বদলে জামায়াতকে সমর্থন করে দলবল নিয়ে প্রকাশ্যে চলাফেরা শুরু করেন বলেও অভিযোগ করেন তারা।

স্থানীয়দের দাবি, শুক্রবার রাত ৮টার দিকে সংঘর্ষ শুরু হয়ে দফায় দফায় তা রাত ১২টা পর্যন্ত চলে। এ সময় কয়েকটি ককটেল বিস্ফোরণের ঘটনাও ঘটে, এতে এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। খবর পেয়ে পুলিশের একাধিক টিম ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।

তবে অভিযোগ অস্বীকার করে বাচ্চু মিয়া বলেন, “শুক্রবার রাতের ঘটনার সঙ্গে আমি জড়িত নই। তাছাড়া আমি কখনো যুবলীগ করিনি।”

চৌদ্দগ্রাম মডেল থানার ওসি আবু মাহমুদ কাওসার হোসেন বলেন, “খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। এ ঘটনায় একটি লিখিত অভিযোগ পেয়েছি। অভিযুক্ত ব্যক্তিকে গ্রেপ্তারে পুলিশের অভিযান অব্যাহত রয়েছে।”

নিউজটি শেয়ার করুন

যুবলীগ নেতার নেতৃত্বে বাড়িঘর ভাঙচুর-লুটপাট, ককটেল বিস্ফোরণে আহত ৭

আপডেট সময় ০২:১৭:৫৫ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ১৫ মার্চ ২০২৬

কুমিল্লার চৌদ্দগ্রামে পূর্ব বিরোধের জেরে এক যুবলীগ নেতার নেতৃত্বে দফায় দফায় হামলা চালিয়ে পুলিশ কর্মকর্তার বাড়িসহ সাতটি বাড়িঘর ভাঙচুর ও লুটপাটের অভিযোগ উঠেছে। এ সময় কয়েকটি ককটেল বিস্ফোরণের ঘটনাও ঘটে। হামলায় নারী-পুরুষসহ অন্তত সাতজন আহত হয়েছেন।

শুক্রবার রাতে উপজেলার মুন্সিরহাট ইউনিয়নের সিংরাইশ মাস্টারবাড়ি এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। শনিবার বিকেলে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন চৌদ্দগ্রাম মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আবু মাহমুদ কাওসার হোসেন।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, সিংরাইশ গ্রামের আবদুস সাত্তারের ছেলে মো. সবুজের সঙ্গে একই এলাকার আমির ইসলামের ভাতিজা রেজাউল করিমের দীর্ঘদিনের বিরোধ ছিল। বৃহস্পতিবার রাতে রেজাউল করিমকে স্থানীয় যুবলীগ নেতা বাচ্চু মিয়া মারধর করেন বলে অভিযোগ রয়েছে। এর জেরে শুক্রবার রাতে উভয় পক্ষ বিষয়টি মীমাংসার চেষ্টা করলে বাচ্চু মিয়া দলবল নিয়ে এলাকায় দফায় দফায় হামলা চালান।

হামলার সময় সাতটি বাড়িঘর ভাঙচুর করা হয় এবং নগদ টাকা ও স্বর্ণালঙ্কার লুটের অভিযোগ ওঠে। এতে ওই এলাকার হাবিব উল্লাহর ছেলে রেজাউল হক, হাফিজুর রহমানের ছেলে আলমগীর হোসেন, আহসান মিয়ার ছেলে রেহান, রেজাউল হকের ছেলে রিফাত, সৌদি প্রবাসী আরিফ হোসেন, সাইফুল ইসলাম ও ফাতেমা আক্তার আহত হন। স্থানীয়রা তাদের উদ্ধার করে চৌদ্দগ্রাম উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসা দেন।

স্থানীয়দের অভিযোগ, যুবলীগ নেতা বাচ্চু মিয়া ক্ষমতাসীন দলের সময় এলাকায় ত্রাসের রাজত্ব কায়েম করেছিলেন। তার অত্যাচারে তৎকালীন বিরোধী দলের অনেক নেতাকর্মী বাড়িঘরে থাকতে পারেননি। ২০২৪ সালের গণঅভ্যুত্থানের পর তিনি অবস্থান বদলে জামায়াতকে সমর্থন করে দলবল নিয়ে প্রকাশ্যে চলাফেরা শুরু করেন বলেও অভিযোগ করেন তারা।

স্থানীয়দের দাবি, শুক্রবার রাত ৮টার দিকে সংঘর্ষ শুরু হয়ে দফায় দফায় তা রাত ১২টা পর্যন্ত চলে। এ সময় কয়েকটি ককটেল বিস্ফোরণের ঘটনাও ঘটে, এতে এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। খবর পেয়ে পুলিশের একাধিক টিম ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।

তবে অভিযোগ অস্বীকার করে বাচ্চু মিয়া বলেন, “শুক্রবার রাতের ঘটনার সঙ্গে আমি জড়িত নই। তাছাড়া আমি কখনো যুবলীগ করিনি।”

চৌদ্দগ্রাম মডেল থানার ওসি আবু মাহমুদ কাওসার হোসেন বলেন, “খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। এ ঘটনায় একটি লিখিত অভিযোগ পেয়েছি। অভিযুক্ত ব্যক্তিকে গ্রেপ্তারে পুলিশের অভিযান অব্যাহত রয়েছে।”