ঢাকা ০৩:৪৮ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ১৬ মার্চ ২০২৬, ১ চৈত্র ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

‘এমপি সাহেবের থার্টি পারসেন্ট বুঝাইয়া দিছেন’, বিএনপি নেতার অডিও ভাইরাল

ডেস্ক রিপোর্ট
  • আপডেট সময় ০২:১৩:৪১ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ১৬ মার্চ ২০২৬
  • / ১৮ বার পড়া হয়েছে

লালমনিরহাটের কালীগঞ্জ উপজেলায় সংসদ সদস্যের নামে ভিজিএফের চালের ৩০ শতাংশ দাবি করে ইউপি চেয়ারম্যানের সঙ্গে বিএনপি নেতার কথোপকথনের একটি অডিও ছড়িয়েছে।

বৃহস্পতিবার থেকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেইসবুকে ছড়িয়ে পড়া ওই অডিওতে কালীগঞ্জ উপজেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক শামসুজ্জামান সবুজের কণ্ঠ সদৃশ একজনকে মদাতি ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান জাহাঙ্গীর হোসেন বিপ্লবের সঙ্গে চালের ভাগ নিয়ে কথা বলতে শোনা যায়।

এক মিনিট ৪৮ সেকেন্ডের ওই অডিও নিয়ে স্থানীয় রাজনীতিতে বেশ চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। যদিও বিএনপির নেতা তার বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ অস্বীকার করেছেন।

স্থানীয় বিএনপি নেতা ও সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, শামসুজ্জামান সবুজের সঙ্গে ইউপি চেয়ারম্যানের কথোপকথনের বিষয়টি মঙ্গলবারের। এর পরদিন বুধবার পুলিশ নাশকতার পুরনো একটি মামলায় চেয়ারম্যান বিপ্লবকে গ্রেপ্তার করে। সেদিনই তাকে কারাগারে পাঠানো হয়। বৃহস্পতিবার অডিওটি ভাইরাল হয়।

জাহাঙ্গীর হোসেন বিপ্লব কালীগঞ্জ উপজেলা ছাত্রলীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক। বিগত ইউপি নির্বাচনে তিনি আওয়ামী লীগের ‘বিদ্রোহী’ হিসেবে স্বতন্ত্রভাবে নির্বাচন করে জয়লাভ করেন।

অডিওতে দুজনের কথোপকথন ছিল এরকম-

শামসুজ্জামান সবুজ সদৃশ কণ্ঠ বলছে, “আসসালামু আলাইকুম। ভালো আছেন? মদাতীর চেয়ারম্যান বিপ্লব ভাই বলছেন? আমাকে তো আর চিনেন না, চিনবেনও না। আমাকে তো আপনি দেখেনও নাই।”

চেয়ারম্যান বিপ্লব বলেন, “দেখছি হয়তবা।”

সবুজ বলেন, “যাই হোক, আপনি আমাদের এমপি সাহেবের (আদিতমারী ও কালীগঞ্জ উপজেলা নিয়ে গঠিত লালমনিরহাট-২ আসনের সংসদ সদস্য রোকন উদ্দিন বাবুল) ৩০ পারসেন্ট আমাদের বীরেন ভাইকে বুঝাই দিছেন কি?”

চেয়ারম্যান বলেন, “না, ৩০ পারসেন্ট না, আমরা মিটিংয়ে বসেছিলাম তো। আমরা বীরেনদার কাছে একজন প্রতিনিধি চাইছিলাম।”

সবুজ বলেন, “আমাদেরটা নিয়ে আপনারা মিটিং করবেন কেন?”

চেয়ারম্যান বলেন, “না, মিটিংয়ে একজন দলীয় ব্যক্তি লাগে তো।”

সবুজ বলেন, “না, না। আপনি তো এখনও এমপির দলীয় প্রতিনিধি নেননি। এমপির দুজন প্রতিনিধি নিয়েছেন আপনি? না, না। আপনার চিঠিতে কী ইনস্ট্রাকশন দেওয়া আছে?”

চেয়ারম্যান বলেন, “দুইজন প্রতিনিধি দিবে ইউএনও মহোদয়?”

সবুজ বলেন, “ইউএনওর প্রতিনিধি, না এমপির প্রতিনিধি- কোনটা বলছে আপনাকে?”

চেয়ারম্যান বলেন, “আমি চিঠিটা আপনার হোয়াটসঅ্যাপে দিচ্ছি।”

সবুজ বলেন, “না, চিঠিটা আছে আমার কাছে। আর আপনি এক হাজার তিনটা টোকেন আপনি বুঝায় দিবেন। বিনা ভোটের এমপি যখন ছিল তাদেরকে তো সুন্দরভাবে বুঝায় দিছেন। আমরা কিন্তু বিনা ভোটে হইনি। অতীত কিন্তু ভুলি নাই। বিনা ভোটে বলতে কি এর আগে আমরা ৪০০ করে নাম দিয়েছিলাম। কইটরী সেন্টারের দৃশ্য আমি সবুজ ভুলি নাই কিন্তু। আমরা হয়তো প্রতিহিংসার রাজনীতি করি না। আমরা অন্যায়কে প্রশ্রয় দেব এটা কি করে ভাবেন আপনি? আপনি কিসের মিটিং করেন আমাদের বরাদ্দ নিয়ে? আপনি এক হাজার তিনটা টোকেন বুঝায় দিবেন। আর সবুজকে চিনতে হবে না আপনার। সবুজকে আপনার চেনা লাগবে না।”

একই বিষয় নিয়ে উপজেলা বিএনপির জ্যেষ্ঠ যুগ্ম আহ্বায়ক বিধান চন্দ্র রায়ের সঙ্গেও ইউপি চেয়ারম্যান বিপ্লবের আরেকটি কথোপকথন ফাঁস হয়েছে।

এদিকে অডিওর বিষয়টি অস্বীকার করে বিএনপি নেতা শামসুজ্জামান সবুজ বলেন, “ফেইসবুকে ছড়িয়ে পড়া কল রেকর্ডটি আমার নয়। ওই চেয়ারম্যানের সঙ্গে আমার কোনো কথাই হয়নি। এটি একটি রাজনৈতিক ষড়যন্ত্র।”

এলাকায় কোনো অনিয়ম হচ্ছে কি-না, সেদিকে নজর দিতে তিনি সাংবাদিকদের অনুরোধ করেন।

এ ব্যাপারে জানতে চাইলে লালমনিরহাট-২ আসনের সংসদ সদস্য রোকন উদ্দিন বাবুল রোববার রাতে বলেন, “আসলে বিষয়টি নিয়ে নোংরামি হচ্ছে। দীর্ঘদিন তো কার্ডগুলো অন্যভাবে বিতরণ করত তারা। আমরা এলাকার দুজন গণ্যমান্য ব্যক্তিকে নিয়ে ‘থার্টি পারসেন্ট’ বিতরণের ব্যবস্থা করছিলাম। কিন্তু ফেইসবুকে বিষয়টি নিয়ে নোংরামি হচ্ছে।”

কালীগঞ্জ উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক জাহাঙ্গীর আলম বলেন, “এমপির নামে ৩০ শতাংশ চাল চাওয়ার বিষয়টি আমি শুনেছি। জেলা বিএনপির নেতৃবৃন্দও এ বিষয়ে অবগত। তারা দ্রুতই এ বিষয়ে সাংগঠনিক ব্যবস্থা গ্রহণ করবেন।”

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) শামীমা আক্তার জাহান বলেন, “স্থানীয় এমপিকে ভিজিএফ চাল বিতরণের বিষয়টি নিয়ম অনুযায়ী অবহিত করতে হয়। তবে সেখানে কোনো ‘৩০ শতাংশ কোটা’ দেওয়ার কথা নেই। অডিও ভাইরালের বিষয়টি বিব্রতকর।”

উপজেলা প্রশাসনের তথ্য অনুযায়ী, রোজার ঈদ উপলক্ষে কালীগঞ্জ উপজেলার আটটি ইউনিয়নে মোট ২২ হাজার ৮৬৪টি কার্ড বরাদ্দ দিয়েছে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা শাখা। এর মধ্যে মদাতি ইউনিয়নে বরাদ্দ করা হয়েছে তিন হাজার ৩৪৫টি কার্ড। প্রতিটি কার্ডের বিপরীতে দুস্থদের ১০ কেজি করে চাল পাওয়ার কথা রয়েছে।

নিউজটি শেয়ার করুন

‘এমপি সাহেবের থার্টি পারসেন্ট বুঝাইয়া দিছেন’, বিএনপি নেতার অডিও ভাইরাল

আপডেট সময় ০২:১৩:৪১ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ১৬ মার্চ ২০২৬

লালমনিরহাটের কালীগঞ্জ উপজেলায় সংসদ সদস্যের নামে ভিজিএফের চালের ৩০ শতাংশ দাবি করে ইউপি চেয়ারম্যানের সঙ্গে বিএনপি নেতার কথোপকথনের একটি অডিও ছড়িয়েছে।

বৃহস্পতিবার থেকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেইসবুকে ছড়িয়ে পড়া ওই অডিওতে কালীগঞ্জ উপজেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক শামসুজ্জামান সবুজের কণ্ঠ সদৃশ একজনকে মদাতি ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান জাহাঙ্গীর হোসেন বিপ্লবের সঙ্গে চালের ভাগ নিয়ে কথা বলতে শোনা যায়।

এক মিনিট ৪৮ সেকেন্ডের ওই অডিও নিয়ে স্থানীয় রাজনীতিতে বেশ চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। যদিও বিএনপির নেতা তার বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ অস্বীকার করেছেন।

স্থানীয় বিএনপি নেতা ও সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, শামসুজ্জামান সবুজের সঙ্গে ইউপি চেয়ারম্যানের কথোপকথনের বিষয়টি মঙ্গলবারের। এর পরদিন বুধবার পুলিশ নাশকতার পুরনো একটি মামলায় চেয়ারম্যান বিপ্লবকে গ্রেপ্তার করে। সেদিনই তাকে কারাগারে পাঠানো হয়। বৃহস্পতিবার অডিওটি ভাইরাল হয়।

জাহাঙ্গীর হোসেন বিপ্লব কালীগঞ্জ উপজেলা ছাত্রলীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক। বিগত ইউপি নির্বাচনে তিনি আওয়ামী লীগের ‘বিদ্রোহী’ হিসেবে স্বতন্ত্রভাবে নির্বাচন করে জয়লাভ করেন।

অডিওতে দুজনের কথোপকথন ছিল এরকম-

শামসুজ্জামান সবুজ সদৃশ কণ্ঠ বলছে, “আসসালামু আলাইকুম। ভালো আছেন? মদাতীর চেয়ারম্যান বিপ্লব ভাই বলছেন? আমাকে তো আর চিনেন না, চিনবেনও না। আমাকে তো আপনি দেখেনও নাই।”

চেয়ারম্যান বিপ্লব বলেন, “দেখছি হয়তবা।”

সবুজ বলেন, “যাই হোক, আপনি আমাদের এমপি সাহেবের (আদিতমারী ও কালীগঞ্জ উপজেলা নিয়ে গঠিত লালমনিরহাট-২ আসনের সংসদ সদস্য রোকন উদ্দিন বাবুল) ৩০ পারসেন্ট আমাদের বীরেন ভাইকে বুঝাই দিছেন কি?”

চেয়ারম্যান বলেন, “না, ৩০ পারসেন্ট না, আমরা মিটিংয়ে বসেছিলাম তো। আমরা বীরেনদার কাছে একজন প্রতিনিধি চাইছিলাম।”

সবুজ বলেন, “আমাদেরটা নিয়ে আপনারা মিটিং করবেন কেন?”

চেয়ারম্যান বলেন, “না, মিটিংয়ে একজন দলীয় ব্যক্তি লাগে তো।”

সবুজ বলেন, “না, না। আপনি তো এখনও এমপির দলীয় প্রতিনিধি নেননি। এমপির দুজন প্রতিনিধি নিয়েছেন আপনি? না, না। আপনার চিঠিতে কী ইনস্ট্রাকশন দেওয়া আছে?”

চেয়ারম্যান বলেন, “দুইজন প্রতিনিধি দিবে ইউএনও মহোদয়?”

সবুজ বলেন, “ইউএনওর প্রতিনিধি, না এমপির প্রতিনিধি- কোনটা বলছে আপনাকে?”

চেয়ারম্যান বলেন, “আমি চিঠিটা আপনার হোয়াটসঅ্যাপে দিচ্ছি।”

সবুজ বলেন, “না, চিঠিটা আছে আমার কাছে। আর আপনি এক হাজার তিনটা টোকেন আপনি বুঝায় দিবেন। বিনা ভোটের এমপি যখন ছিল তাদেরকে তো সুন্দরভাবে বুঝায় দিছেন। আমরা কিন্তু বিনা ভোটে হইনি। অতীত কিন্তু ভুলি নাই। বিনা ভোটে বলতে কি এর আগে আমরা ৪০০ করে নাম দিয়েছিলাম। কইটরী সেন্টারের দৃশ্য আমি সবুজ ভুলি নাই কিন্তু। আমরা হয়তো প্রতিহিংসার রাজনীতি করি না। আমরা অন্যায়কে প্রশ্রয় দেব এটা কি করে ভাবেন আপনি? আপনি কিসের মিটিং করেন আমাদের বরাদ্দ নিয়ে? আপনি এক হাজার তিনটা টোকেন বুঝায় দিবেন। আর সবুজকে চিনতে হবে না আপনার। সবুজকে আপনার চেনা লাগবে না।”

একই বিষয় নিয়ে উপজেলা বিএনপির জ্যেষ্ঠ যুগ্ম আহ্বায়ক বিধান চন্দ্র রায়ের সঙ্গেও ইউপি চেয়ারম্যান বিপ্লবের আরেকটি কথোপকথন ফাঁস হয়েছে।

এদিকে অডিওর বিষয়টি অস্বীকার করে বিএনপি নেতা শামসুজ্জামান সবুজ বলেন, “ফেইসবুকে ছড়িয়ে পড়া কল রেকর্ডটি আমার নয়। ওই চেয়ারম্যানের সঙ্গে আমার কোনো কথাই হয়নি। এটি একটি রাজনৈতিক ষড়যন্ত্র।”

এলাকায় কোনো অনিয়ম হচ্ছে কি-না, সেদিকে নজর দিতে তিনি সাংবাদিকদের অনুরোধ করেন।

এ ব্যাপারে জানতে চাইলে লালমনিরহাট-২ আসনের সংসদ সদস্য রোকন উদ্দিন বাবুল রোববার রাতে বলেন, “আসলে বিষয়টি নিয়ে নোংরামি হচ্ছে। দীর্ঘদিন তো কার্ডগুলো অন্যভাবে বিতরণ করত তারা। আমরা এলাকার দুজন গণ্যমান্য ব্যক্তিকে নিয়ে ‘থার্টি পারসেন্ট’ বিতরণের ব্যবস্থা করছিলাম। কিন্তু ফেইসবুকে বিষয়টি নিয়ে নোংরামি হচ্ছে।”

কালীগঞ্জ উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক জাহাঙ্গীর আলম বলেন, “এমপির নামে ৩০ শতাংশ চাল চাওয়ার বিষয়টি আমি শুনেছি। জেলা বিএনপির নেতৃবৃন্দও এ বিষয়ে অবগত। তারা দ্রুতই এ বিষয়ে সাংগঠনিক ব্যবস্থা গ্রহণ করবেন।”

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) শামীমা আক্তার জাহান বলেন, “স্থানীয় এমপিকে ভিজিএফ চাল বিতরণের বিষয়টি নিয়ম অনুযায়ী অবহিত করতে হয়। তবে সেখানে কোনো ‘৩০ শতাংশ কোটা’ দেওয়ার কথা নেই। অডিও ভাইরালের বিষয়টি বিব্রতকর।”

উপজেলা প্রশাসনের তথ্য অনুযায়ী, রোজার ঈদ উপলক্ষে কালীগঞ্জ উপজেলার আটটি ইউনিয়নে মোট ২২ হাজার ৮৬৪টি কার্ড বরাদ্দ দিয়েছে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা শাখা। এর মধ্যে মদাতি ইউনিয়নে বরাদ্দ করা হয়েছে তিন হাজার ৩৪৫টি কার্ড। প্রতিটি কার্ডের বিপরীতে দুস্থদের ১০ কেজি করে চাল পাওয়ার কথা রয়েছে।