ঢাকা ০৯:৩১ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৭ মার্চ ২০২৬, ৩ চৈত্র ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

অপসারণ করা উপাচার্যদের তুলনায় শিক্ষা ও গবেষণায় পিছিয়ে নতুনরা

ডেস্ক রিপোর্ট
  • আপডেট সময় ০৭:৫৫:০৬ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৭ মার্চ ২০২৬
  • / ১৯ বার পড়া হয়েছে

দেশের গুরুত্বপূর্ণ আটটি বিশ্ববিদ্যালয়ে নতুন উপাচার্য (ভিসি) নিয়োগ দিয়েছে সরকার। গতকাল সোমবার (১৬ মার্চ) শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সম্মেলনকক্ষে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে নতুন ৭ ভিসির নাম ঘোষণা করেন শিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন। আজ মঙ্গলবার (১৭ মার্চ) ওই সাতসহ আরও একজন ভিসির নামে প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়।

তবে হঠাৎ দেশের গুরুত্বপূর্ণ এই আটটি বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসি পরিবর্তনের ফলে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে মিশ্র প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা। অনেকে বিএনপির রাজনীতির সঙ্গে জড়িত থাকাকে নতুন ভিসিদের প্রধান যোগ্যতা হিসেবে উল্লেখ করে পোস্ট করেছেন। খতিয়ে দেখা গেছে, শিক্ষা ও গবেষণার ক্ষেত্রে সাবেক ভিসিদের তুলনায় নতুন ভিসিরা তুলনামূলক পিছিয়ে রয়েছেন।

নতুন ভিসি নিয়োগ হওয়া বিশ্ববিদ্যালয়গুলো হল— ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়, রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়, চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়, খুলনা প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়, ঢাকা সেন্ট্রাল ইউনিভার্সিটি এবং ইসলামি আরবি বিশ্ববিদ্যালয়।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বর্তমান ভিসি হিসেবে নিয়োগ পেয়েছেন পদার্থবিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক ড. এ বি এম ওবায়দুল ইসলাম। তিনি ঢাবির পদার্থবিজ্ঞান বিভাগ থেকে স্নাতক ও স্নাতকোত্তর ডিগ্রি লাভ করেন। পরে জাপানের তোয়ামা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে পিএইচডি ডিগ্রি অর্জন করেন।  জার্মানির ডার্মস্ট্যাড ইউনিভার্সিটি অব টেকনোলজি এবং যুক্তরাজ্যের শেফিল্ড হ্যালাম ইউনিভার্সিটিতে পোস্ট-ডক্টরাল গবেষণা সম্পন্ন করেন। দেশি ও বিদেশি বিভিন্ন স্বীকৃত জার্নালে তাঁর প্রায় ৪০টির বেশি বৈজ্ঞানিক নিবন্ধ প্রকাশিত হয়েছে। তাঁর গবেষণাপত্রগুলো প্রায় এক হাজার সাইটেশন লাভ করেছে।

এর আগে তিনি বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য ও ঢাবির পদার্থবিজ্ঞান বিভাগের চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক সমিতির সাবেক সাধারণ সম্পাদক ও সিনেট সদস্য এবং ফেডারেশন অব বাংলাদেশ ইউনিভার্সিটি টিচার্স অ্যাসোসিয়েশনের মহাসচিব হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। বর্তমানে তিনি বিএনপিপন্থী বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষকদের সংগঠন ইউনিভার্সিটি টিচার্স অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (ইউট্যাব) এর সভাপতি এবং বিএনপির কেন্দ্রীয় শিক্ষা বিষয়ক সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন।

অপরদিকে ঢাবির সদ্য সাবেক ভিসি অধ্যাপক নিয়াজ আহমেদ খান চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের লোকপ্রশাসন বিভাগ থেকে স্নাতক ও স্নাতকোত্তর ডিগ্রি লাভ করেন। তিনি ইনস্টিটিউট অব পার্সোনেল ম্যানেজমেন্ট থেকে পোস্ট গ্র্যাজুয়েট ডিপ্লোমা সম্পন্ন করেন। এছাড়া যুক্তরাজ্যের ওয়েলস বিশ্ববিদ্যালয় থেকে পিএইচডি ডিগ্রি অর্জন করেন এবং পরবর্তী সময়ে অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়, সোয়ানসি বিশ্ববিদ্যালয় ও এশিয়ান ইউনিভার্সিটি অব টেকনোলজিতে পোস্ট ডক্টরাল গবেষণা সম্পাদন করেন।

অধ্যাপক নিয়াজ আহমদ খান চবির লোকপ্রশাসন বিভাগে যোগদানের মাধ্যমে শিক্ষকতা শুরু করেন। ২০০৬ সালে তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উন্নয়ন অধ্যয়ন বিভাগে অধ্যাপক হিসেবে যোগদান করেন। তাঁর দুই শতাধিক গবেষণামূলক প্রবন্ধ ও বই প্রকাশিত হয়েছে। গুগল স্কলারের তথ্য অনুযায়ী, তাঁর মোট সাইটেশন সংখ্যা দুই হাজারের বেশি।

নিয়াজ আহমদ খান ২০২১ থেকে ২০২৪ সাল পর্যন্ত ইনডিপেনডেন্ট ইউনিভার্সিটি, বাংলাদেশের (আইইউবি) প্রো-ভিসি এবং ভারপ্রাপ্ত ভিসি হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। প্রকাশ্যে তাঁর কোনো রাজনৈতিক দলের সঙ্গে সংশ্লিষ্টতা পাওয়া যায়নি। তবে গুঞ্জন আছে, তিনি জামায়াত ইসলামীর সমর্থক।

রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়
রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের বর্তমান উপাচার্য অধ্যাপক মো. ফরিদুল ইসলাম রাবির মার্কেটিং বিভাগ থেকে স্নাতক এবং স্নাতকোত্তর ডিগ্রি লাভ করেন। পরবর্তীতে তিনি সুইডেনের গুটেনবার্গ বিশ্ববিদ্যালয় থেকে মাস্টার্স এবং অস্ট্রেলিয়ার কার্টিন বিশ্ববিদ্যালয় থেকে পিএইচডি ডিগ্রি অর্জন করেন। দেশি ও বিদেশি বিভিন্ন স্বীকৃত জার্নালে তাঁর বেশ কিছু গবেষণা প্রবন্ধ প্রকাশিত হয়েছে। তিনি দীর্ঘদিন মালয়েশিয়ার কার্টিন ইউনিভার্সিটিতেও শিক্ষকতা ও গবেষণায় যুক্ত ছিলেন।

তিনি রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের বিজনেস স্টাডিজ অনুষদের ডিন হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। বর্তমানে তিনি রাবি শাখা জিয়া পরিষদের সাধারণ সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। এছাড়া জাতীয়তাবাদী শিক্ষক ফোরাম এবং ইউনিভার্সিটি টিচার্স অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (ইউট্যাব) সক্রিয় সদস্য তিনি দায়িত্ব পালন করছেন।

অপরদিকে সদ্য সাবেক উপাচার্য অধ্যাপক ড. সালেহ হাসান নকীব পদার্থবিজ্ঞান বিভাগ থেকে স্নাতক ও স্নাতকোত্তর ডিগ্রি লাভ করেন। পরবর্তীতে তিনি যুক্তরাজ্যের কেমব্রিজ বিশ্ববিদ্যালয় পিএইচডি ডিগ্রি অর্জন করেন। বিভিন্ন জার্নালে তাঁর প্রকাশিত বৈজ্ঞানিক নিবন্ধের সংখ্যা ২০০টির বেশি। গুগল স্কলারসহ বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সাইটেশন প্ল্যাটফর্মে তাঁর গবেষণাপত্রগুলো প্রায় ২ হাজার ৭০০-এর বেশি সাইটেশন লাভ করেছে। তিনি বাংলাদেশের পদার্থবিজ্ঞানীদের মধ্যে অন্যতম শীর্ষ সাইটেশনধারী গবেষক হিসেবে পরিচিত।

অধ্যাপক সালেহ হাসান নকীব জাতীয়তাবাদী শিক্ষক ফোরামের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। তবে পরবর্তীতে সেখান থেকে পদত্যাগ করেন। বিশ্ববিদ্যালয়ের বৈষম্যবিরোধী শিক্ষক আন্দোলনের অন্যতম অগ্রণী মুখ এবং সংস্কারপন্থী শিক্ষক হিসেবে তিনি বেশ পরিচিত।

চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়
চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের বর্তমান উপাচার্য অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ আল-ফোরকান চবির উদ্ভিদবিদ্যা বিভাগ থেকে স্নাতক ও স্নাতকোত্তর ডিগ্রি লাভ করেন। পরবর্তীতে তিনি যুক্তরাজ্যের নটিংহাম বিশ্ববিদ্যালয়ে পিএইচডি ডিগ্রি অর্জন করেন। এছাড়া কানাডার ইউনিভার্সিটি অব আলবার্টা এবং অ্যাগ্রিকালচারাল রিসার্চ কাউন্সিলে পোস্ট-ডক্টরাল গবেষণা সম্পন্ন করেন। তিনি যুক্তরাষ্ট্রের ইউনিভার্সিটি অব ক্যালিফোর্নিয়া, ডেভিসে ভিজিটিং প্রফেসর ও গবেষক হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেছেন। দেশি ও বিদেশি বিভিন্ন স্বীকৃত জার্নালে তাঁর ৫১টি বৈজ্ঞানিক নিবন্ধ ও গবেষণা প্রবন্ধ প্রকাশিত হয়েছে।

তিনি চবির জেনেটিক ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের প্রতিষ্ঠাতা চেয়ারম্যান ও শামসুন্নাহার হলের প্রভোস্ট হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। করোনা মহামারির সময়ে তিনি চবিতে কোভিড-১৯ শনাক্তকরণ কার্যক্রমে সমন্বয়ক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।

অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ আল-ফোরকান বর্তমানে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় জাতীয়তাবাদী শিক্ষক ফোরামের সিনিয়র সহ-সভাপতি। ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে চট্টগ্রাম-৫ আসনে (হাটহাজারী ও বায়েজিদ আংশিক) বিএনপির প্রার্থীর নির্বাচনী পরিচালনা কমিটির আহ্বায়ক হিসেবে তিনি দায়িত্ব পালন করেন। তবে তাঁর স্ত্রী অধ্যাপক ড. লায়লা খালেদা আওয়ামীপন্থী শিক্ষকদের সংগঠন হলুদ দলের সদস্য। ছাত্রজীবনে লায়লা খালেদা ছাত্রলীগের রাজনীতিতে যুক্ত ছিলেন। চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় ও কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগের পদধারী নেতা ছিলেন। এ ছাড়া আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় পরিবেশ বিষয়ক উপ-কমিটির সদস্যও তিনি।

চবির সদ্য সাবেক উপাচার্য অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইয়াহ্ইয়া আখতার রাবির রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগ থেকে স্নাতক ও স্নাতকোত্তর ডিগ্রি লাভ করেন। পরে তিনি কানাডার ওয়াটারলু বিশ্ববিদ্যালয় থেকে মাস্টার্স এবং অস্ট্রেলিয়ার সিডনি বিশ্ববিদ্যালয় থেকে পিএইচডি ডিগ্রি অর্জন করেন। দেশি ও বিদেশি বিভিন্ন জার্নালে তাঁর প্রায় ৪০টির বেশি গবেষণামূলক নিবন্ধ প্রকাশিত হয়েছে। এছাড়া তাঁর লেখা ও সম্পাদিত বইয়ের সংখ্যা প্রায় ৯টি। তাঁর সাইটেশন সংখ্যা এক হাজারের বেশি।

এর আগে তিনি চবির রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। তিনি বিএনপিপন্থী শিক্ষকদের সংগঠন ‘সাদা দল’-এর রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত। তিনি চবি শিক্ষক সমিতির বিভিন্ন নির্বাচনে এই প্যানেল থেকে একাধিকবার প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেছেন।

জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়
জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের বর্তমান উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. রইছ উদ্দীন কুষ্টিয়া ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় থেকে স্নাতক ও স্নাতকোত্তর ডিগ্রি লাভ করেন। পরবর্তীতে তিনি একই বিভাগ থেকে পিএইচডি ডিগ্রি সম্পন্ন করেন। দেশি-বিদেশি বিভিন্ন স্বীকৃত জার্নালে তাঁর বেশ কিছু গবেষণা প্রবন্ধ প্রকাশিত হয়েছে। তবে তাঁর সাইটেশন সংখ্যা জানা যায়নি।

এর আগে তিনি জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের ইসলামিক স্টাডিজ বিভাগের চেয়ারম্যান এবং কলা অনুষদের ডিন হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। এছাড়া তিনি বিশ্ববিদ্যালয়ের সিন্ডিকেট সদস্য হিসেবেও কাজ করেছেন। তিনি বিএনপিপন্থী শিক্ষকদের সংগঠন ‘সাদা দল’-এর সাধারণ সম্পাদক। বর্তমানে তিনি জবি শিক্ষক সমিতির সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। এর আগে তিনি ইউনিভার্সিটি টিচার্স অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (ইউট্যাব)-এর জবি শাখার সভাপতি ছিলেন।

জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের সদ্য সাবেক উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. রেজাউল করিম ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাজকল্যাণ বিভাগ থেকে স্নাতক ও স্নাতকোত্তর ডিগ্রি লাভ করেন। পরবর্তীতে তিনি জাপানের সুকুবা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে পিএইচডি ডিগ্রি অর্জন করেন। এর আগে তিনি সমাজকর্ম বিভাগের চেয়ারম্যান এবং সামাজিক বিজ্ঞান অনুষদের ডিন হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। তিনি জাতীয়তাবাদী আদর্শের অনুসারী বলে জানা গেছে।

খুলনা প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় (কুয়েট)
কুয়েটের বর্তমান ভিসি অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ মাছুদ মেকানিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগ থেকে স্নাতক পাশ করেন। পরবর্তীতে তিনি জাপানের নাগোয়া বিশ্ববিদ্যালয় থেকে মাস্টার্স এবং পিএইচডি ডিগ্রি অর্জন করেন। তিনি যুক্তরাষ্ট্রের নাসা-সমর্থিত অ্যারোস্পেস সেন্টারে রিসার্চ ফেলো হিসেবেও কাজ করেছেন।

দেশি ও বিদেশি বিভিন্ন স্বীকৃত জার্নালে তাঁর প্রকাশিত বৈজ্ঞানিক নিবন্ধের সংখ্যা প্রায় ১৪৩টি। গুগল স্কলারের তথ্য অনুযায়ী তাঁর গবেষণাপত্রগুলো ১০০০ এর বেশি সাইটেশন লাভ করেছে। দীর্ঘ ২৫ বছর ধরে তিনি কুয়েটের মেকানিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগে শিক্ষকতা করছেন। এর আগে তিনি বিভাগীয় প্রধান হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। ২০২৪ সালের সেপ্টেম্বরে তিনি প্রথমবার উপাচার্য হিসেবে নিয়োগ পান। পরে আন্দোলনের মুখে তাকে পদত্যাগ করতে হয়। ২০২৬ সালের ১৬ মার্চ সরকার তাঁকে আবারও পূর্ণ মেয়াদে এই দায়িত্বে বহাল রাখার চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার।

কুয়েটের সদ্য সাবেক উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. মাকসুদ হেলালী বুয়েটের মেকানিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগ থেকে স্নাতক ও স্নাতকোত্তর সম্পন্ন করেন। পরবর্তীতে তিনি আয়ারল্যান্ডের ডাবলিন সিটি ইউনিভার্সিটি থেকে পিএইচডি ডিগ্রি অর্জন করেন। তাঁর প্রকাশিত গবেষণা প্রবন্ধের সংখ্যা প্রায় ৫০টি।

তিনি বুয়েটের মেকানিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের অধ্যাপক এবং বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ প্রশাসনিক পর্ষদের সদস্য ছিলেন। ২০২৫ সালের জুলাইয়ে সার্চ কমিটির মাধ্যমে তিনি কুয়েটের উপাচার্য হিসেবে নিয়োগ পান। ২০২৬ সালের ১৬ মার্চ নতুন নিয়োগ প্রক্রিয়ায় অধ্যাপক মুহাম্মদ মাছুদ পুনরায় উপাচার্য পদে ফেরায় তাঁর মেয়াদের সমাপ্তি ঘটে।

বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়
বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়ের বর্তমান উপাচার্য অধ্যাপক ড. ছিদ্দিকুর রহমান খান ঢাবির ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি বিভাগ থেকে স্নাতক ও স্নাতকোত্তর ডিগ্রি লাভ করেন। পরবর্তীতে তিনি একই বিভাগ থেকে পিএইচডি ডিগ্রি অর্জন করেন। বিভিন্ন জার্নালে তাঁর প্রকাশিত গবেষণা প্রবন্ধের সংখ্যা ৩০টির বেশি। তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি বিভাগের অধ্যাপক এবং কলা অনুষদের নির্বাচিত ডিন ছিলেন। এর আগে তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেছেন। তিনি ঢাবির বিএনপিপন্থী শিক্ষকদের সংগঠন সাদা দলের একজন শীর্ষস্থানীয় নেতা এবং বাংলাদেশ এশিয়াটিক সোসাইটির দুইবারের নির্বাচিত সাধারণ সম্পাদক।

বাউবির সদ্য সাবেক উপাচার্য অধ্যাপক ড. এ বি এম ওবায়দুল ইসলাম বর্তমানে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন।

ঢাকা সেন্ট্রাল বিশ্ববিদ্যালয়
ঢাকা সেন্ট্রাল বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. নুরুল ইসলাম জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের ভূগোল ও পরিবেশ বিভাগ থেকে স্নাতক ও স্নাতকোত্তর ডিগ্রি লাভ করেন। পরবর্তীতে তিনি যুক্তরাজ্যের নটিংহাম বিশ্ববিদ্যালয় থেকে পিএইচডি ডিগ্রি অর্জন করেন এবং পোস্ট-ডক্টরাল গবেষণা সম্পন্ন করেন। তিনি অস্ট্রিয়া ও থাইল্যান্ড থেকেও উচ্চতর প্রশিক্ষণ গ্রহণ করেছেন।

বিভিন্ন স্বীকৃত জার্নালে তাঁর প্রকাশিত গবেষণাপত্রের সংখ্যা ৫০ টির বেশি। বর্তমানে তিনি জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রো-ভিসি হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। এর আগে তিনি বাংলাদেশ ন্যাশনাল জিওগ্রাফিক্যাল অ্যাসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক ছিলেন। অধ্যাপক ড. মো. নুরুল বিএনপির অনুসারী বলে জানা গেছে।

ঢাকা সেন্ট্রাল বিশ্ববিদ্যালয়ের সদ্য সাবেক উপাচার্য অধ্যাপক এ এস এম আব্দুল হাসিব বুয়েটের মেটেরিয়ালস অ্যান্ড মেটালার্জিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগ থেকে স্নাতক ও স্নাতকোত্তর সম্পন্ন করেন। পরবর্তীতে তিনি যুক্তরাজ্যের শেফিল্ড বিশ্ববিদ্যালয় থেকে পিএইচডি ডিগ্রি লাভ করেন। বিভিন্ন স্বীকৃত জার্নালে তাঁর প্রায় অর্ধশতাধিক গবেষণা প্রকাশিত হয়েছে।

তিনি বুয়েটের পোস্ট-গ্র্যাজুয়েট স্টাডিজ অনুষদের ডিন হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। ২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারিতে নবগঠিত ঢাকা সেন্ট্রাল বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রথম উপাচার্য হিসেবে তিনি নিয়োগ পেয়েছিলেন। তবে নতুন প্রশাসনিক রদবদলে তাঁর জায়গায় অধ্যাপক নুরুল ইসলামকে দায়িত্ব দেওয়া হয়।

ইসলামী আরবি বিশ্ববিদ্যালয়
ইসলামী আরবি বিশ্ববিদ্যালয়ে প্রো-ভিসি অধ্যাপক মোহাম্মদ আবু জাফর খানকে নতুন ভিসির দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। আজ মঙ্গলবার (১৭ মার্চ) এক প্রজ্ঞাপনে এই তথ্য জানানো হয়। অধ্যাপক আবু জাফর খান ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়, কুষ্টিয়ার দা’ওয়াহ অ্যান্ড ইসলামিক স্টাডিজ বিভাগের অধ্যাপক। তাঁর গবেষণার বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের ওয়েবসাইটে কোনো তথ্য নেই। অনলাইনেও কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি। তাঁর ব্যবহৃত মুঠোফোন নম্বরে একাধিকবার কল দেওয়া হলেও তিনি কল রিসিভ করেননি। এ ছাড়া তার সহকর্মীদের কয়েকজনের কাছে জানতে চাওয়া হলেও তারা কোনো তথ্য দিতে পারেননি।

অপরদিকে বিশ্ববিদ্যালয়টির সদ্য সাবেক উপাচার্য অধ্যাপক ড. শামছুল আলম ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ইসলামিক স্টাডিজ বিভাগের অধ্যাপক। তিনি একই বিভাগ থেকে ১৯৯০ সালে স্নাতক ও ১৯৯১ সালে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি লাভ করেন। ২০০০ সালে প্রভাষক হিসেবে যোগ দেন। ২০০৮ সালে তিনি একই বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ইসলামে মানবিক মূল্যবোধ বিষয়ে গবেষণার জন্য পিএইচডি ডিগ্রি অর্জন করেন। ২০১২ সালে অধ্যাপক পদে উন্নীত হন। দেশীয় ও আন্তর্জাতিক জার্নালে তাঁর ২৫টির বেশি গবেষণা প্রবন্ধ প্রকাশিত হয়েছে।

ট্যাগস :

নিউজটি শেয়ার করুন

অপসারণ করা উপাচার্যদের তুলনায় শিক্ষা ও গবেষণায় পিছিয়ে নতুনরা

আপডেট সময় ০৭:৫৫:০৬ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৭ মার্চ ২০২৬

দেশের গুরুত্বপূর্ণ আটটি বিশ্ববিদ্যালয়ে নতুন উপাচার্য (ভিসি) নিয়োগ দিয়েছে সরকার। গতকাল সোমবার (১৬ মার্চ) শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সম্মেলনকক্ষে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে নতুন ৭ ভিসির নাম ঘোষণা করেন শিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন। আজ মঙ্গলবার (১৭ মার্চ) ওই সাতসহ আরও একজন ভিসির নামে প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়।

তবে হঠাৎ দেশের গুরুত্বপূর্ণ এই আটটি বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসি পরিবর্তনের ফলে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে মিশ্র প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা। অনেকে বিএনপির রাজনীতির সঙ্গে জড়িত থাকাকে নতুন ভিসিদের প্রধান যোগ্যতা হিসেবে উল্লেখ করে পোস্ট করেছেন। খতিয়ে দেখা গেছে, শিক্ষা ও গবেষণার ক্ষেত্রে সাবেক ভিসিদের তুলনায় নতুন ভিসিরা তুলনামূলক পিছিয়ে রয়েছেন।

নতুন ভিসি নিয়োগ হওয়া বিশ্ববিদ্যালয়গুলো হল— ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়, রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়, চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়, খুলনা প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়, ঢাকা সেন্ট্রাল ইউনিভার্সিটি এবং ইসলামি আরবি বিশ্ববিদ্যালয়।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বর্তমান ভিসি হিসেবে নিয়োগ পেয়েছেন পদার্থবিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক ড. এ বি এম ওবায়দুল ইসলাম। তিনি ঢাবির পদার্থবিজ্ঞান বিভাগ থেকে স্নাতক ও স্নাতকোত্তর ডিগ্রি লাভ করেন। পরে জাপানের তোয়ামা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে পিএইচডি ডিগ্রি অর্জন করেন।  জার্মানির ডার্মস্ট্যাড ইউনিভার্সিটি অব টেকনোলজি এবং যুক্তরাজ্যের শেফিল্ড হ্যালাম ইউনিভার্সিটিতে পোস্ট-ডক্টরাল গবেষণা সম্পন্ন করেন। দেশি ও বিদেশি বিভিন্ন স্বীকৃত জার্নালে তাঁর প্রায় ৪০টির বেশি বৈজ্ঞানিক নিবন্ধ প্রকাশিত হয়েছে। তাঁর গবেষণাপত্রগুলো প্রায় এক হাজার সাইটেশন লাভ করেছে।

এর আগে তিনি বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য ও ঢাবির পদার্থবিজ্ঞান বিভাগের চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক সমিতির সাবেক সাধারণ সম্পাদক ও সিনেট সদস্য এবং ফেডারেশন অব বাংলাদেশ ইউনিভার্সিটি টিচার্স অ্যাসোসিয়েশনের মহাসচিব হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। বর্তমানে তিনি বিএনপিপন্থী বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষকদের সংগঠন ইউনিভার্সিটি টিচার্স অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (ইউট্যাব) এর সভাপতি এবং বিএনপির কেন্দ্রীয় শিক্ষা বিষয়ক সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন।

অপরদিকে ঢাবির সদ্য সাবেক ভিসি অধ্যাপক নিয়াজ আহমেদ খান চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের লোকপ্রশাসন বিভাগ থেকে স্নাতক ও স্নাতকোত্তর ডিগ্রি লাভ করেন। তিনি ইনস্টিটিউট অব পার্সোনেল ম্যানেজমেন্ট থেকে পোস্ট গ্র্যাজুয়েট ডিপ্লোমা সম্পন্ন করেন। এছাড়া যুক্তরাজ্যের ওয়েলস বিশ্ববিদ্যালয় থেকে পিএইচডি ডিগ্রি অর্জন করেন এবং পরবর্তী সময়ে অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়, সোয়ানসি বিশ্ববিদ্যালয় ও এশিয়ান ইউনিভার্সিটি অব টেকনোলজিতে পোস্ট ডক্টরাল গবেষণা সম্পাদন করেন।

অধ্যাপক নিয়াজ আহমদ খান চবির লোকপ্রশাসন বিভাগে যোগদানের মাধ্যমে শিক্ষকতা শুরু করেন। ২০০৬ সালে তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উন্নয়ন অধ্যয়ন বিভাগে অধ্যাপক হিসেবে যোগদান করেন। তাঁর দুই শতাধিক গবেষণামূলক প্রবন্ধ ও বই প্রকাশিত হয়েছে। গুগল স্কলারের তথ্য অনুযায়ী, তাঁর মোট সাইটেশন সংখ্যা দুই হাজারের বেশি।

নিয়াজ আহমদ খান ২০২১ থেকে ২০২৪ সাল পর্যন্ত ইনডিপেনডেন্ট ইউনিভার্সিটি, বাংলাদেশের (আইইউবি) প্রো-ভিসি এবং ভারপ্রাপ্ত ভিসি হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। প্রকাশ্যে তাঁর কোনো রাজনৈতিক দলের সঙ্গে সংশ্লিষ্টতা পাওয়া যায়নি। তবে গুঞ্জন আছে, তিনি জামায়াত ইসলামীর সমর্থক।

রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়
রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের বর্তমান উপাচার্য অধ্যাপক মো. ফরিদুল ইসলাম রাবির মার্কেটিং বিভাগ থেকে স্নাতক এবং স্নাতকোত্তর ডিগ্রি লাভ করেন। পরবর্তীতে তিনি সুইডেনের গুটেনবার্গ বিশ্ববিদ্যালয় থেকে মাস্টার্স এবং অস্ট্রেলিয়ার কার্টিন বিশ্ববিদ্যালয় থেকে পিএইচডি ডিগ্রি অর্জন করেন। দেশি ও বিদেশি বিভিন্ন স্বীকৃত জার্নালে তাঁর বেশ কিছু গবেষণা প্রবন্ধ প্রকাশিত হয়েছে। তিনি দীর্ঘদিন মালয়েশিয়ার কার্টিন ইউনিভার্সিটিতেও শিক্ষকতা ও গবেষণায় যুক্ত ছিলেন।

তিনি রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের বিজনেস স্টাডিজ অনুষদের ডিন হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। বর্তমানে তিনি রাবি শাখা জিয়া পরিষদের সাধারণ সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। এছাড়া জাতীয়তাবাদী শিক্ষক ফোরাম এবং ইউনিভার্সিটি টিচার্স অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (ইউট্যাব) সক্রিয় সদস্য তিনি দায়িত্ব পালন করছেন।

অপরদিকে সদ্য সাবেক উপাচার্য অধ্যাপক ড. সালেহ হাসান নকীব পদার্থবিজ্ঞান বিভাগ থেকে স্নাতক ও স্নাতকোত্তর ডিগ্রি লাভ করেন। পরবর্তীতে তিনি যুক্তরাজ্যের কেমব্রিজ বিশ্ববিদ্যালয় পিএইচডি ডিগ্রি অর্জন করেন। বিভিন্ন জার্নালে তাঁর প্রকাশিত বৈজ্ঞানিক নিবন্ধের সংখ্যা ২০০টির বেশি। গুগল স্কলারসহ বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সাইটেশন প্ল্যাটফর্মে তাঁর গবেষণাপত্রগুলো প্রায় ২ হাজার ৭০০-এর বেশি সাইটেশন লাভ করেছে। তিনি বাংলাদেশের পদার্থবিজ্ঞানীদের মধ্যে অন্যতম শীর্ষ সাইটেশনধারী গবেষক হিসেবে পরিচিত।

অধ্যাপক সালেহ হাসান নকীব জাতীয়তাবাদী শিক্ষক ফোরামের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। তবে পরবর্তীতে সেখান থেকে পদত্যাগ করেন। বিশ্ববিদ্যালয়ের বৈষম্যবিরোধী শিক্ষক আন্দোলনের অন্যতম অগ্রণী মুখ এবং সংস্কারপন্থী শিক্ষক হিসেবে তিনি বেশ পরিচিত।

চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়
চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের বর্তমান উপাচার্য অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ আল-ফোরকান চবির উদ্ভিদবিদ্যা বিভাগ থেকে স্নাতক ও স্নাতকোত্তর ডিগ্রি লাভ করেন। পরবর্তীতে তিনি যুক্তরাজ্যের নটিংহাম বিশ্ববিদ্যালয়ে পিএইচডি ডিগ্রি অর্জন করেন। এছাড়া কানাডার ইউনিভার্সিটি অব আলবার্টা এবং অ্যাগ্রিকালচারাল রিসার্চ কাউন্সিলে পোস্ট-ডক্টরাল গবেষণা সম্পন্ন করেন। তিনি যুক্তরাষ্ট্রের ইউনিভার্সিটি অব ক্যালিফোর্নিয়া, ডেভিসে ভিজিটিং প্রফেসর ও গবেষক হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেছেন। দেশি ও বিদেশি বিভিন্ন স্বীকৃত জার্নালে তাঁর ৫১টি বৈজ্ঞানিক নিবন্ধ ও গবেষণা প্রবন্ধ প্রকাশিত হয়েছে।

তিনি চবির জেনেটিক ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের প্রতিষ্ঠাতা চেয়ারম্যান ও শামসুন্নাহার হলের প্রভোস্ট হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। করোনা মহামারির সময়ে তিনি চবিতে কোভিড-১৯ শনাক্তকরণ কার্যক্রমে সমন্বয়ক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।

অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ আল-ফোরকান বর্তমানে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় জাতীয়তাবাদী শিক্ষক ফোরামের সিনিয়র সহ-সভাপতি। ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে চট্টগ্রাম-৫ আসনে (হাটহাজারী ও বায়েজিদ আংশিক) বিএনপির প্রার্থীর নির্বাচনী পরিচালনা কমিটির আহ্বায়ক হিসেবে তিনি দায়িত্ব পালন করেন। তবে তাঁর স্ত্রী অধ্যাপক ড. লায়লা খালেদা আওয়ামীপন্থী শিক্ষকদের সংগঠন হলুদ দলের সদস্য। ছাত্রজীবনে লায়লা খালেদা ছাত্রলীগের রাজনীতিতে যুক্ত ছিলেন। চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় ও কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগের পদধারী নেতা ছিলেন। এ ছাড়া আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় পরিবেশ বিষয়ক উপ-কমিটির সদস্যও তিনি।

চবির সদ্য সাবেক উপাচার্য অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইয়াহ্ইয়া আখতার রাবির রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগ থেকে স্নাতক ও স্নাতকোত্তর ডিগ্রি লাভ করেন। পরে তিনি কানাডার ওয়াটারলু বিশ্ববিদ্যালয় থেকে মাস্টার্স এবং অস্ট্রেলিয়ার সিডনি বিশ্ববিদ্যালয় থেকে পিএইচডি ডিগ্রি অর্জন করেন। দেশি ও বিদেশি বিভিন্ন জার্নালে তাঁর প্রায় ৪০টির বেশি গবেষণামূলক নিবন্ধ প্রকাশিত হয়েছে। এছাড়া তাঁর লেখা ও সম্পাদিত বইয়ের সংখ্যা প্রায় ৯টি। তাঁর সাইটেশন সংখ্যা এক হাজারের বেশি।

এর আগে তিনি চবির রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। তিনি বিএনপিপন্থী শিক্ষকদের সংগঠন ‘সাদা দল’-এর রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত। তিনি চবি শিক্ষক সমিতির বিভিন্ন নির্বাচনে এই প্যানেল থেকে একাধিকবার প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেছেন।

জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়
জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের বর্তমান উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. রইছ উদ্দীন কুষ্টিয়া ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় থেকে স্নাতক ও স্নাতকোত্তর ডিগ্রি লাভ করেন। পরবর্তীতে তিনি একই বিভাগ থেকে পিএইচডি ডিগ্রি সম্পন্ন করেন। দেশি-বিদেশি বিভিন্ন স্বীকৃত জার্নালে তাঁর বেশ কিছু গবেষণা প্রবন্ধ প্রকাশিত হয়েছে। তবে তাঁর সাইটেশন সংখ্যা জানা যায়নি।

এর আগে তিনি জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের ইসলামিক স্টাডিজ বিভাগের চেয়ারম্যান এবং কলা অনুষদের ডিন হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। এছাড়া তিনি বিশ্ববিদ্যালয়ের সিন্ডিকেট সদস্য হিসেবেও কাজ করেছেন। তিনি বিএনপিপন্থী শিক্ষকদের সংগঠন ‘সাদা দল’-এর সাধারণ সম্পাদক। বর্তমানে তিনি জবি শিক্ষক সমিতির সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। এর আগে তিনি ইউনিভার্সিটি টিচার্স অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (ইউট্যাব)-এর জবি শাখার সভাপতি ছিলেন।

জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের সদ্য সাবেক উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. রেজাউল করিম ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাজকল্যাণ বিভাগ থেকে স্নাতক ও স্নাতকোত্তর ডিগ্রি লাভ করেন। পরবর্তীতে তিনি জাপানের সুকুবা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে পিএইচডি ডিগ্রি অর্জন করেন। এর আগে তিনি সমাজকর্ম বিভাগের চেয়ারম্যান এবং সামাজিক বিজ্ঞান অনুষদের ডিন হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। তিনি জাতীয়তাবাদী আদর্শের অনুসারী বলে জানা গেছে।

খুলনা প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় (কুয়েট)
কুয়েটের বর্তমান ভিসি অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ মাছুদ মেকানিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগ থেকে স্নাতক পাশ করেন। পরবর্তীতে তিনি জাপানের নাগোয়া বিশ্ববিদ্যালয় থেকে মাস্টার্স এবং পিএইচডি ডিগ্রি অর্জন করেন। তিনি যুক্তরাষ্ট্রের নাসা-সমর্থিত অ্যারোস্পেস সেন্টারে রিসার্চ ফেলো হিসেবেও কাজ করেছেন।

দেশি ও বিদেশি বিভিন্ন স্বীকৃত জার্নালে তাঁর প্রকাশিত বৈজ্ঞানিক নিবন্ধের সংখ্যা প্রায় ১৪৩টি। গুগল স্কলারের তথ্য অনুযায়ী তাঁর গবেষণাপত্রগুলো ১০০০ এর বেশি সাইটেশন লাভ করেছে। দীর্ঘ ২৫ বছর ধরে তিনি কুয়েটের মেকানিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগে শিক্ষকতা করছেন। এর আগে তিনি বিভাগীয় প্রধান হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। ২০২৪ সালের সেপ্টেম্বরে তিনি প্রথমবার উপাচার্য হিসেবে নিয়োগ পান। পরে আন্দোলনের মুখে তাকে পদত্যাগ করতে হয়। ২০২৬ সালের ১৬ মার্চ সরকার তাঁকে আবারও পূর্ণ মেয়াদে এই দায়িত্বে বহাল রাখার চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার।

কুয়েটের সদ্য সাবেক উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. মাকসুদ হেলালী বুয়েটের মেকানিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগ থেকে স্নাতক ও স্নাতকোত্তর সম্পন্ন করেন। পরবর্তীতে তিনি আয়ারল্যান্ডের ডাবলিন সিটি ইউনিভার্সিটি থেকে পিএইচডি ডিগ্রি অর্জন করেন। তাঁর প্রকাশিত গবেষণা প্রবন্ধের সংখ্যা প্রায় ৫০টি।

তিনি বুয়েটের মেকানিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের অধ্যাপক এবং বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ প্রশাসনিক পর্ষদের সদস্য ছিলেন। ২০২৫ সালের জুলাইয়ে সার্চ কমিটির মাধ্যমে তিনি কুয়েটের উপাচার্য হিসেবে নিয়োগ পান। ২০২৬ সালের ১৬ মার্চ নতুন নিয়োগ প্রক্রিয়ায় অধ্যাপক মুহাম্মদ মাছুদ পুনরায় উপাচার্য পদে ফেরায় তাঁর মেয়াদের সমাপ্তি ঘটে।

বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়
বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়ের বর্তমান উপাচার্য অধ্যাপক ড. ছিদ্দিকুর রহমান খান ঢাবির ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি বিভাগ থেকে স্নাতক ও স্নাতকোত্তর ডিগ্রি লাভ করেন। পরবর্তীতে তিনি একই বিভাগ থেকে পিএইচডি ডিগ্রি অর্জন করেন। বিভিন্ন জার্নালে তাঁর প্রকাশিত গবেষণা প্রবন্ধের সংখ্যা ৩০টির বেশি। তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি বিভাগের অধ্যাপক এবং কলা অনুষদের নির্বাচিত ডিন ছিলেন। এর আগে তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেছেন। তিনি ঢাবির বিএনপিপন্থী শিক্ষকদের সংগঠন সাদা দলের একজন শীর্ষস্থানীয় নেতা এবং বাংলাদেশ এশিয়াটিক সোসাইটির দুইবারের নির্বাচিত সাধারণ সম্পাদক।

বাউবির সদ্য সাবেক উপাচার্য অধ্যাপক ড. এ বি এম ওবায়দুল ইসলাম বর্তমানে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন।

ঢাকা সেন্ট্রাল বিশ্ববিদ্যালয়
ঢাকা সেন্ট্রাল বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. নুরুল ইসলাম জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের ভূগোল ও পরিবেশ বিভাগ থেকে স্নাতক ও স্নাতকোত্তর ডিগ্রি লাভ করেন। পরবর্তীতে তিনি যুক্তরাজ্যের নটিংহাম বিশ্ববিদ্যালয় থেকে পিএইচডি ডিগ্রি অর্জন করেন এবং পোস্ট-ডক্টরাল গবেষণা সম্পন্ন করেন। তিনি অস্ট্রিয়া ও থাইল্যান্ড থেকেও উচ্চতর প্রশিক্ষণ গ্রহণ করেছেন।

বিভিন্ন স্বীকৃত জার্নালে তাঁর প্রকাশিত গবেষণাপত্রের সংখ্যা ৫০ টির বেশি। বর্তমানে তিনি জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রো-ভিসি হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। এর আগে তিনি বাংলাদেশ ন্যাশনাল জিওগ্রাফিক্যাল অ্যাসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক ছিলেন। অধ্যাপক ড. মো. নুরুল বিএনপির অনুসারী বলে জানা গেছে।

ঢাকা সেন্ট্রাল বিশ্ববিদ্যালয়ের সদ্য সাবেক উপাচার্য অধ্যাপক এ এস এম আব্দুল হাসিব বুয়েটের মেটেরিয়ালস অ্যান্ড মেটালার্জিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগ থেকে স্নাতক ও স্নাতকোত্তর সম্পন্ন করেন। পরবর্তীতে তিনি যুক্তরাজ্যের শেফিল্ড বিশ্ববিদ্যালয় থেকে পিএইচডি ডিগ্রি লাভ করেন। বিভিন্ন স্বীকৃত জার্নালে তাঁর প্রায় অর্ধশতাধিক গবেষণা প্রকাশিত হয়েছে।

তিনি বুয়েটের পোস্ট-গ্র্যাজুয়েট স্টাডিজ অনুষদের ডিন হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। ২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারিতে নবগঠিত ঢাকা সেন্ট্রাল বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রথম উপাচার্য হিসেবে তিনি নিয়োগ পেয়েছিলেন। তবে নতুন প্রশাসনিক রদবদলে তাঁর জায়গায় অধ্যাপক নুরুল ইসলামকে দায়িত্ব দেওয়া হয়।

ইসলামী আরবি বিশ্ববিদ্যালয়
ইসলামী আরবি বিশ্ববিদ্যালয়ে প্রো-ভিসি অধ্যাপক মোহাম্মদ আবু জাফর খানকে নতুন ভিসির দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। আজ মঙ্গলবার (১৭ মার্চ) এক প্রজ্ঞাপনে এই তথ্য জানানো হয়। অধ্যাপক আবু জাফর খান ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়, কুষ্টিয়ার দা’ওয়াহ অ্যান্ড ইসলামিক স্টাডিজ বিভাগের অধ্যাপক। তাঁর গবেষণার বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের ওয়েবসাইটে কোনো তথ্য নেই। অনলাইনেও কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি। তাঁর ব্যবহৃত মুঠোফোন নম্বরে একাধিকবার কল দেওয়া হলেও তিনি কল রিসিভ করেননি। এ ছাড়া তার সহকর্মীদের কয়েকজনের কাছে জানতে চাওয়া হলেও তারা কোনো তথ্য দিতে পারেননি।

অপরদিকে বিশ্ববিদ্যালয়টির সদ্য সাবেক উপাচার্য অধ্যাপক ড. শামছুল আলম ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ইসলামিক স্টাডিজ বিভাগের অধ্যাপক। তিনি একই বিভাগ থেকে ১৯৯০ সালে স্নাতক ও ১৯৯১ সালে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি লাভ করেন। ২০০০ সালে প্রভাষক হিসেবে যোগ দেন। ২০০৮ সালে তিনি একই বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ইসলামে মানবিক মূল্যবোধ বিষয়ে গবেষণার জন্য পিএইচডি ডিগ্রি অর্জন করেন। ২০১২ সালে অধ্যাপক পদে উন্নীত হন। দেশীয় ও আন্তর্জাতিক জার্নালে তাঁর ২৫টির বেশি গবেষণা প্রবন্ধ প্রকাশিত হয়েছে।