ঢাকা ০৫:৫৩ অপরাহ্ন, সোমবার, ৩০ মার্চ ২০২৬, ১৬ চৈত্র ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

গভর্মেন্ট তো আমাদের, আগের ডিসিকে ইচ্ছা করে বদলি করেছি: বিএনপি’র পরাজিত প্রার্থী

স্টাফ রিপোর্টার
  • আপডেট সময় ০৩:০৫:৪০ অপরাহ্ন, শনিবার, ২৮ মার্চ ২০২৬
  • / ৩৯ বার পড়া হয়েছে

কুষ্টিয়ার আগের জেলা প্রশাসককে (ডিসি) ইচ্ছা করে বদলি করে দেয়া হয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন কুষ্টিয়া-৪ (কুমারখালী-খোকসা) আসনে বিএনপি’র পরাজিত প্রার্থী সৈয়দ মেহেদী আহমেদ রুমী। তার এমন বক্তব্যের একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়ায় জেলা জুড়ে আলোচনার সৃষ্টি হয়েছে। বৃহস্পতিবার বেলা ১১টায় কুষ্টিয়া জেলা প্রশাসনের আয়োজনে স্বাধীনতা দিবস উপলক্ষে আলোচনা সভায় তিনি এ মন্তব্য করেন। কুষ্টিয়া জেলা শিল্পকলা মিলনায়তনে আয়োজিত অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন জেলা প্রশাসক তৌহিদ-বিন-হাসান।

২ মিনিট ২৯ সেকেন্ডের ভিডিওতে সৈয়দ মেহেদী আহমেদ বলেন, গত নির্বাচনে আমাকে হারিয়ে দেয়া হয়েছে। প্রশাসনের কিছু গাদ্দার এবং আমাদের দলের কিছু গাদ্দার মিলে আমাকে ৫ হাজার ভোটের ব্যবধানে হারিয়ে দিয়েছে। আমি ১ লাখ ৪০ হাজার ভোট পেয়েছি। তিনি দাবি করেন, নির্বাচন সুষ্ঠু হলে তিনি বড় ব্যবধানে জয়ী হতেন। সর্বশেষ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের প্রসঙ্গ টেনে বিএনপি’র এই নেতা বলেন, ৬০ বছর ধরে রাজনীতি করি, ৭৩ বছর বয়স আমার।

নির্বাচনকালে প্রশাসনের ভূমিকা নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করে তিনি বলেন, কুষ্টিয়ার আগের জেলা প্রশাসক (ইকবাল হোসেন) গাদ্দারি করেছেন নির্বাচনের সময়। উনি গাদ্দারি করেছেন, কুমারখালী প্রশাসন গাদ্দারি করেছে, খোকসা প্রশাসন গাদ্দারি করেছে। আমি এক লাখ ভোটের ব্যবধানে বিজয়ী হতাম। কিন্তু সেটা হতে দেয়নি। তিনি বলেন, সত্য কথা বলার চেষ্টা করাই তার অপরাধ হয়ে দাঁড়িয়েছে। সৈয়দ মেহেদী আহমেদ জানান, ভোট গণনা নিয়ে তিনি হাইকোর্টে মামলা করেছেন এবং তা গ্রহণও করা হয়েছে। ২৪শে জুন শুনানি আছে। আমার বিশ্বাস, ভোট পুনর্গণনা হবে। আমি বিজয়ী হবো।

বক্তব্যের শেষদিকে এসে আলোচিত মন্তব্যটি করেন তিনি। সৈয়দ মেহেদী আহমেদ বলেন, আগের জেলা প্রশাসক সাহেবকে আমরা ইচ্ছা করে বদলি করে দিয়েছি। কারণ, গভর্মেন্ট আমাদের তো। আমি একজন সিনিয়র লোক, ৭৩ বছর বয়স। উনি এ রকম কাজ করবেন বুঝতে পারিনি। বুঝতে পারলে আমরা আগেই ব্যবস্থা নিতাম। এই বক্তব্য প্রকাশের পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তা নিয়ে ব্যাপক আলোচনা শুরু হয়। কুষ্টিয়া জেলা প্রশাসনের আয়োজিত ওই অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য রাখেন- জেলা পরিষদের প্রশাসক ও সাবেক এমপি অধ্যক্ষ সোহরাব উদ্দিন, পুলিশ সুপার জসীম উদ্দীন, বীর মুক্তিযোদ্ধা রফিকুল আলমসহ অন্যান্য অতিথিরা।

প্রসঙ্গত, ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে কুষ্টিয়া-৪ (কুমারখালী-খোকসা) আসনে বিএনপি’র মনোনয়ন পান সৈয়দ মেহেদী আহমেদ। তিনি সাবেক সংসদ সদস্য এবং জেলা বিএনপি’র সাবেক সভাপতি। তবে ওই আসনে তাকে পরাজিত করে জয়ী হন জামায়াত-সমর্থিত প্রার্থী আফজাল হোসেন।

ট্যাগস :

নিউজটি শেয়ার করুন

গভর্মেন্ট তো আমাদের, আগের ডিসিকে ইচ্ছা করে বদলি করেছি: বিএনপি’র পরাজিত প্রার্থী

আপডেট সময় ০৩:০৫:৪০ অপরাহ্ন, শনিবার, ২৮ মার্চ ২০২৬

কুষ্টিয়ার আগের জেলা প্রশাসককে (ডিসি) ইচ্ছা করে বদলি করে দেয়া হয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন কুষ্টিয়া-৪ (কুমারখালী-খোকসা) আসনে বিএনপি’র পরাজিত প্রার্থী সৈয়দ মেহেদী আহমেদ রুমী। তার এমন বক্তব্যের একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়ায় জেলা জুড়ে আলোচনার সৃষ্টি হয়েছে। বৃহস্পতিবার বেলা ১১টায় কুষ্টিয়া জেলা প্রশাসনের আয়োজনে স্বাধীনতা দিবস উপলক্ষে আলোচনা সভায় তিনি এ মন্তব্য করেন। কুষ্টিয়া জেলা শিল্পকলা মিলনায়তনে আয়োজিত অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন জেলা প্রশাসক তৌহিদ-বিন-হাসান।

২ মিনিট ২৯ সেকেন্ডের ভিডিওতে সৈয়দ মেহেদী আহমেদ বলেন, গত নির্বাচনে আমাকে হারিয়ে দেয়া হয়েছে। প্রশাসনের কিছু গাদ্দার এবং আমাদের দলের কিছু গাদ্দার মিলে আমাকে ৫ হাজার ভোটের ব্যবধানে হারিয়ে দিয়েছে। আমি ১ লাখ ৪০ হাজার ভোট পেয়েছি। তিনি দাবি করেন, নির্বাচন সুষ্ঠু হলে তিনি বড় ব্যবধানে জয়ী হতেন। সর্বশেষ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের প্রসঙ্গ টেনে বিএনপি’র এই নেতা বলেন, ৬০ বছর ধরে রাজনীতি করি, ৭৩ বছর বয়স আমার।

নির্বাচনকালে প্রশাসনের ভূমিকা নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করে তিনি বলেন, কুষ্টিয়ার আগের জেলা প্রশাসক (ইকবাল হোসেন) গাদ্দারি করেছেন নির্বাচনের সময়। উনি গাদ্দারি করেছেন, কুমারখালী প্রশাসন গাদ্দারি করেছে, খোকসা প্রশাসন গাদ্দারি করেছে। আমি এক লাখ ভোটের ব্যবধানে বিজয়ী হতাম। কিন্তু সেটা হতে দেয়নি। তিনি বলেন, সত্য কথা বলার চেষ্টা করাই তার অপরাধ হয়ে দাঁড়িয়েছে। সৈয়দ মেহেদী আহমেদ জানান, ভোট গণনা নিয়ে তিনি হাইকোর্টে মামলা করেছেন এবং তা গ্রহণও করা হয়েছে। ২৪শে জুন শুনানি আছে। আমার বিশ্বাস, ভোট পুনর্গণনা হবে। আমি বিজয়ী হবো।

বক্তব্যের শেষদিকে এসে আলোচিত মন্তব্যটি করেন তিনি। সৈয়দ মেহেদী আহমেদ বলেন, আগের জেলা প্রশাসক সাহেবকে আমরা ইচ্ছা করে বদলি করে দিয়েছি। কারণ, গভর্মেন্ট আমাদের তো। আমি একজন সিনিয়র লোক, ৭৩ বছর বয়স। উনি এ রকম কাজ করবেন বুঝতে পারিনি। বুঝতে পারলে আমরা আগেই ব্যবস্থা নিতাম। এই বক্তব্য প্রকাশের পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তা নিয়ে ব্যাপক আলোচনা শুরু হয়। কুষ্টিয়া জেলা প্রশাসনের আয়োজিত ওই অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য রাখেন- জেলা পরিষদের প্রশাসক ও সাবেক এমপি অধ্যক্ষ সোহরাব উদ্দিন, পুলিশ সুপার জসীম উদ্দীন, বীর মুক্তিযোদ্ধা রফিকুল আলমসহ অন্যান্য অতিথিরা।

প্রসঙ্গত, ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে কুষ্টিয়া-৪ (কুমারখালী-খোকসা) আসনে বিএনপি’র মনোনয়ন পান সৈয়দ মেহেদী আহমেদ। তিনি সাবেক সংসদ সদস্য এবং জেলা বিএনপি’র সাবেক সভাপতি। তবে ওই আসনে তাকে পরাজিত করে জয়ী হন জামায়াত-সমর্থিত প্রার্থী আফজাল হোসেন।