ঢাকা ০৩:৫৫ অপরাহ্ন, রবিবার, ২৯ মার্চ ২০২৬, ১৫ চৈত্র ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

বহিষ্কারের পর ক্ষোভ: উল্টো মারধরের শিকার হওয়ার অভিযোগ ছাত্রদল নেতার

স্টাফ রিপোর্টার
  • আপডেট সময় ০১:২৪:০৩ অপরাহ্ন, রবিবার, ২৯ মার্চ ২০২৬
  • / ৩০ বার পড়া হয়েছে

প্রধানমন্ত্রী হিসেবে প্রথমবার নয়াপল্টনে তারেক রহমানের আগমন উপলক্ষে সংবর্ধনায় শৃঙ্খলা ভঙ্গের অভিযোগে ঢাকা কলেজ শাখা ছাত্রদলের যুগ্ম আহবায়ক রাশেদুল আমিনকে বহিষ্কার করেছে কেন্দ্রীয় সংসদ। শনিবার (২৮ মার্চ) রাতে সংগঠনের কেন্দ্রীয় দপ্তর সম্পাদক জাহাঙ্গীর আলম স্বাক্ষরিত এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানা যায়।

বহিষ্কারের পর ঢাকা কলেজ ছাত্রদল নেতা দাবি করেছেন, তিনি বরং ঢাকা মহানগর পশ্চিম ছাত্রদলের সভাপতি রবিন খান কর্তৃক মারধর ও হেনস্তার শিকার হয়েছেন। শনিবার রাতে নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক অ্যাকাউন্টে এক পোস্টে সংগঠনের প্রতি হতাশা প্রকাশ করে তিনি এমন মন্তব্য করেন।

ঢাকা কলেজের ছাত্রদল নেতা রাশেদুল আমিন বলেন, ‘তারেক রহমানের প্রধানমন্ত্রী হিসেবে শপথ গ্রহণের পর প্রথমবার বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে আগমন উপলক্ষে ঢাকা কলেজ ছাত্রদলের সাথে আমিও উপস্থিত হই। দীর্ঘ সময় অপেক্ষায় থাকার পর ঢাকা কলেজ ছাত্রদলের সিনিয়র নেতৃবৃন্দের সাথে ব্যারিকেডের ওপর দাড়িয়ে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে অভিবাদন জানানোর প্রচেষ্টায় আমিও যুক্ত হই।’

তিনি বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের আগমনের কিছুক্ষণ পূর্বে হঠাৎ ঢাকা মহানগর পশ্চিম ছাত্রদলের নেতৃবৃন্দ ব্যারিকেডের খুব নিকটে চলে আসে এবং নিজেদের অবস্থান সুদৃঢ় করার জন্য উপস্থিত জনতা ও বিভিন্ন ইউনিটের নেতাকর্মীদের সাথে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির অপচেষ্টা চালাতে থাকে।  তখনও আমি ঢাকা কলেজ ছাত্রদলের সিনিয়র নেতৃবৃন্দের সাথে ব্যারিকেডের ওপরেই দাঁড়ানো।’

ব্যারিকেডের ওপরে দাঁড়ানো নিয়ে ঢাকা মহানগর পশ্চিম ছাত্রদলের সভাপতি রবিন খান ঢাকা কলেজ ছাত্রদল নিয়ে অকথ্য ভাষায় গালাগাল করেছেন উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘মহানগর পশ্চিম ছাত্রদলের উশৃঙ্খল নেতাকর্মীরা আমাকে টেনে ব্যারিকেডের ওপর থেকে ফেলে দিয়ে রক্তাক্ত করে।’

এ ঘটনায় ঢাকা কলেজ ছাত্রদলের আহবায়ক এবং সদস্য সচিবের ভূমিকায় ক্ষোভ জানিয়ে সদ্য বহিষ্কৃত এ নেতা বলেন, ‘বিশৃঙ্খলা এড়াতে আমি নিজেই স্থান ত্যাগ করি এবং প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের কেন্দ্রীয় কার্যালয় ত্যাগ করার পর আমি পুনরায় প্রতিবাদ করি। ঢাকা কলেজ ছাত্রদলের সাথে এমন অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনার পুনরাবৃত্তি হলে সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য কেন্দ্রীয় দফতরে অভিযোগ করব বলে হুঁশিয়ার করি।’

তখন আবারও ঢাকা মহানগর পশ্চিম ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির চেষ্টা করলে তিনি সাথে সাথেই স্থান ত্যাগ করেন জানিয়ে রাশেদুল আমিন বলেন, ‘বাসায় পৌঁছাতেই দেখি কেন্দ্রীয় দফতরের বহিষ্কারাদেশ।’

বিষয়টি নিয়ে ঢাকা মহানগর পশ্চিম ছাত্রদলের সভাপতি রবিন খান দ্য ডেইলি ক্যাম্পাসকে বলেন, ‘ওই সময় সেখানে আমাদের কিছু সদস্য উপস্থিত ছিলেন। আমার ইউনিটের কেউ তাদের গায়ে হাত দেয়নি। যাদের সঙ্গে বাগবিতণ্ডা হয়েছিল, সেটা সমাধান করা হয় তখনই। তার গায়ে হাত কারা দিয়েছে, এ বিষয়ে জানা নেই।’

তিনি আরও বলেন, ‘ঢাকা কলেজ ছাড়াও মহানগর উত্তর ছাত্রদল এবং অন্যান্য ইউনিটের সদস্যরা সেখানে উপস্থিত ছিলেন। ওপেন স্পেসে কিছু মনমালিন্য তৈরি হলেও তা তৎক্ষণিকভাবে সমাধান করা হয়েছে।’

নিউজটি শেয়ার করুন

বহিষ্কারের পর ক্ষোভ: উল্টো মারধরের শিকার হওয়ার অভিযোগ ছাত্রদল নেতার

আপডেট সময় ০১:২৪:০৩ অপরাহ্ন, রবিবার, ২৯ মার্চ ২০২৬

প্রধানমন্ত্রী হিসেবে প্রথমবার নয়াপল্টনে তারেক রহমানের আগমন উপলক্ষে সংবর্ধনায় শৃঙ্খলা ভঙ্গের অভিযোগে ঢাকা কলেজ শাখা ছাত্রদলের যুগ্ম আহবায়ক রাশেদুল আমিনকে বহিষ্কার করেছে কেন্দ্রীয় সংসদ। শনিবার (২৮ মার্চ) রাতে সংগঠনের কেন্দ্রীয় দপ্তর সম্পাদক জাহাঙ্গীর আলম স্বাক্ষরিত এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানা যায়।

বহিষ্কারের পর ঢাকা কলেজ ছাত্রদল নেতা দাবি করেছেন, তিনি বরং ঢাকা মহানগর পশ্চিম ছাত্রদলের সভাপতি রবিন খান কর্তৃক মারধর ও হেনস্তার শিকার হয়েছেন। শনিবার রাতে নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক অ্যাকাউন্টে এক পোস্টে সংগঠনের প্রতি হতাশা প্রকাশ করে তিনি এমন মন্তব্য করেন।

ঢাকা কলেজের ছাত্রদল নেতা রাশেদুল আমিন বলেন, ‘তারেক রহমানের প্রধানমন্ত্রী হিসেবে শপথ গ্রহণের পর প্রথমবার বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে আগমন উপলক্ষে ঢাকা কলেজ ছাত্রদলের সাথে আমিও উপস্থিত হই। দীর্ঘ সময় অপেক্ষায় থাকার পর ঢাকা কলেজ ছাত্রদলের সিনিয়র নেতৃবৃন্দের সাথে ব্যারিকেডের ওপর দাড়িয়ে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে অভিবাদন জানানোর প্রচেষ্টায় আমিও যুক্ত হই।’

তিনি বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের আগমনের কিছুক্ষণ পূর্বে হঠাৎ ঢাকা মহানগর পশ্চিম ছাত্রদলের নেতৃবৃন্দ ব্যারিকেডের খুব নিকটে চলে আসে এবং নিজেদের অবস্থান সুদৃঢ় করার জন্য উপস্থিত জনতা ও বিভিন্ন ইউনিটের নেতাকর্মীদের সাথে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির অপচেষ্টা চালাতে থাকে।  তখনও আমি ঢাকা কলেজ ছাত্রদলের সিনিয়র নেতৃবৃন্দের সাথে ব্যারিকেডের ওপরেই দাঁড়ানো।’

ব্যারিকেডের ওপরে দাঁড়ানো নিয়ে ঢাকা মহানগর পশ্চিম ছাত্রদলের সভাপতি রবিন খান ঢাকা কলেজ ছাত্রদল নিয়ে অকথ্য ভাষায় গালাগাল করেছেন উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘মহানগর পশ্চিম ছাত্রদলের উশৃঙ্খল নেতাকর্মীরা আমাকে টেনে ব্যারিকেডের ওপর থেকে ফেলে দিয়ে রক্তাক্ত করে।’

এ ঘটনায় ঢাকা কলেজ ছাত্রদলের আহবায়ক এবং সদস্য সচিবের ভূমিকায় ক্ষোভ জানিয়ে সদ্য বহিষ্কৃত এ নেতা বলেন, ‘বিশৃঙ্খলা এড়াতে আমি নিজেই স্থান ত্যাগ করি এবং প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের কেন্দ্রীয় কার্যালয় ত্যাগ করার পর আমি পুনরায় প্রতিবাদ করি। ঢাকা কলেজ ছাত্রদলের সাথে এমন অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনার পুনরাবৃত্তি হলে সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য কেন্দ্রীয় দফতরে অভিযোগ করব বলে হুঁশিয়ার করি।’

তখন আবারও ঢাকা মহানগর পশ্চিম ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির চেষ্টা করলে তিনি সাথে সাথেই স্থান ত্যাগ করেন জানিয়ে রাশেদুল আমিন বলেন, ‘বাসায় পৌঁছাতেই দেখি কেন্দ্রীয় দফতরের বহিষ্কারাদেশ।’

বিষয়টি নিয়ে ঢাকা মহানগর পশ্চিম ছাত্রদলের সভাপতি রবিন খান দ্য ডেইলি ক্যাম্পাসকে বলেন, ‘ওই সময় সেখানে আমাদের কিছু সদস্য উপস্থিত ছিলেন। আমার ইউনিটের কেউ তাদের গায়ে হাত দেয়নি। যাদের সঙ্গে বাগবিতণ্ডা হয়েছিল, সেটা সমাধান করা হয় তখনই। তার গায়ে হাত কারা দিয়েছে, এ বিষয়ে জানা নেই।’

তিনি আরও বলেন, ‘ঢাকা কলেজ ছাড়াও মহানগর উত্তর ছাত্রদল এবং অন্যান্য ইউনিটের সদস্যরা সেখানে উপস্থিত ছিলেন। ওপেন স্পেসে কিছু মনমালিন্য তৈরি হলেও তা তৎক্ষণিকভাবে সমাধান করা হয়েছে।’