মুক্তিযোদ্ধা পরিবারের সদস্য হিসেবে নিজের পরিচয় দিলেন জামায়াত আমির
- আপডেট সময় ০৯:১২:১৯ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ৩১ মার্চ ২০২৬
- / ২২ বার পড়া হয়েছে
নিজেকে শহীদ মুক্তিযোদ্ধা পরিবারের সন্তান হিসেবে দাবি করেছেন জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান। মঙ্গলবার সংসদ অধিবেশনে জুলাই সনদের ওপর আনা মুলতবি প্রস্তাবের আলোচনায় তিনি এ দাবি করেন।
বিরোধীদলীয় নেতা বলেন, ‘আমিও একটি শহীদ পরিবারের সন্তান। সেই মুক্তিযুদ্ধে যারা জীবন দিয়েছিলেন, আমাদের পরিবার কয়েক ফোঁটা রক্ত দিয়ে তাদের সঙ্গে শরিক হওয়ার সৌভাগ্য অর্জন করেছে। বাংলাদেশ আমাদের সকলের।’
মুক্তিযুদ্ধ-পরবর্তী সরকারের সমালোচনা করে তিনি বলেন, ‘প্রথম যে সরকার হয়েছিল, তারা জনগণের ভোট পেয়েই নির্বাচিত হয়েছিল। কিন্তু আমরা সেখানে লক্ষ করলাম, যারা বহুদলীয় গণতন্ত্রের কারণে এই সুযোগটা পেয়েছিল, তারাই এসে বহুদলীয় গণতন্ত্রকে হত্যা করে একদলীয় বাকশাল কায়েম করল। বাহাত্তরের যে সংবিধান, তার অনেকটুকু এখানে হারিয়ে যায়। যখন একদলীয় কোনো শাসনব্যবস্থা কোনো দেশে সাংবিধানিকভাবে স্বীকৃত হয়ে যায়, কার্যত সেই দেশে জনগণের ভোটের আর বড় কোনো মূল্যায়ন থাকে না। এভাবে বারবার সরকার এসেছে, সরকার গিয়েছে।’
শফিকুর রহমান বলেন, ‘সর্বশেষ ২০০৯ সালে যারা সরকার গঠন করেছিল ২০০৮ সালের একটা বোঝাপড়ার নির্বাচনের মধ্য দিয়ে, তারা দেশে কী করেছে তার জ্বলন্ত সাক্ষী আজকের এই সংসদ। আমি সেই জন্য বলেছিলাম, আমার ধারণা, ফ্যাসিস্ট সরকারের হাতে নির্যাতনের শিকার হননি এমন বোধ হয় কোনো সদস্য এখানে নেই। কেউ হয়েছেন বারবার, কেউ হয়েছেন হয়তো একবার। যারা সৌভাগ্যবান, অনেকেই দেশেই থাকতে পারেন। নির্যাতনের ভয়াবহতা এতটাই ভারী ছিল যে তারা নিজ জন্মস্থানের মাটি আঁকড়ে ধরে থাকতে পারেননি।’
ফ্যাসিবাদ যেন আর ফিরে না আসে, সেই আশা প্রকাশ করে তিনি বলেন, ‘দেশ ন্যায্যতার ভিত্তিতে, ন্যায়বিচারের ওপরে কায়েম হবে। যেখানে সবাই নাগরিক হিসেবে সমান অধিকার পাবে। তার পরিপ্রেক্ষিতে প্রধান প্রধান রাজনৈতিক দল এবং সমন্বয়কদের দীর্ঘ আলোচনার পর অন্তর্বর্তীকালীন সরকার যে জাতীয় ঐকমত্য কমিশন গঠন করে দিয়েছিল, তারা সংস্কারের কিছু প্রস্তাব চূড়ান্ত করেছে। এরই আলোকে রাষ্ট্রপতি একটি আদেশ জারি করেছেন।’









