নদীর বুক খালি করে চলছে লুটপাট
বিএনপি-আওয়ামী লীগ মিলে ধলেশ্বরী-বুড়িগঙ্গা নদীতে মাটি চুরির হিড়িক
- আপডেট সময় ০৯:২৮:৫৯ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ৩১ মার্চ ২০২৬
- / ২৩ বার পড়া হয়েছে
ফতুল্লা থানার বুক চিড়ে বয়ে যাওয়া ধলেশ্বরী ও বুড়িগঙ্গা নদীর মাটি প্রকাশ্যে উত্তোলন করে স্থানীয় ইটভাটায় বিক্রির অভিযোগ উঠেছে স্থানীয় বিএনপি নেতাদের বিরুদ্ধে। গ্র্যাব ড্রেজার (নদী থেকে বালু উত্তোলনের বিশেষ ড্রেজার মেশিন) ব্যবহার করে দীর্ঘদিন ধরে প্রকাশ্যে এ কার্যক্রম পরিচালিত হলেও কার্যকর কোনো ব্যবস্থা নিচ্ছে না প্রশাসন।
বুড়িগঙ্গা নদীর ধর্মগঞ্জ মোহনা ও ধলেশ্বরী নদীর বক্তাবলী ঘাট এলাকায় গ্র্যাব ড্রেজার দিয়ে প্রতিদিন প্রায় দেড় লাখ ফুট মাটি উত্তোলন করে স্থানীয় ইটভাটাগুলোতে বিক্রি করা হচ্ছে। নদী ড্রেজিং করার অনুমতি না থাকলেও বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌপরিবহন কর্তৃপক্ষ (বিআইডব্লিউটিএ) এর অসাধু কিছু কর্মকর্তা ও বক্তাবলী নৌ পুলিশকে ম্যানেজ করেই নদী সাফাই করছেন সরকারি দলের নেতারা।
স্থানীয়দের অভিযোগ, ঢাকার দক্ষিণ কেরানীগঞ্জ উপজেলার কোন্ডা ইউনিয়ন বিএনপি ও ফতুল্লা থানার বক্তাবলী ইউনিয়ন বিএনপির নেতারা যৌথভাবে এই গ্র্যাব ড্রেজারের নেতৃত্ব দিয়ে আসছেন। এদের মধ্যে বক্তাবলী ইউনিয়ন যুবদলের সাধারণ সম্পাদক আবুল খায়ের, বক্তাবলী ইউনিয়ন বিএনপির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক রাসেল প্রধান, বক্তাবলী ৩ নং ওয়ার্ড যুবদলের সভাপতি মোজাম্মেল, সাবেক চেয়ারম্যান বাবুলের ছোট ভাই বিএনপি নেতা মাসুমের নেতৃত্বে ধলেশ্বরী নদীর মাটি কাটা হচ্ছে।
এই সিন্ডিকেটের সঙ্গে আওয়ামী লীগ নেতা মাকসুদুর রহমান বন্টিও জড়িত। তিনি বিগত ফ্যাসিবাদী সরকারের আমলে নদী থেকে মাটি চুরির ব্যবসার নিয়ন্ত্রণ করতেন। বিএনপি নেতারা তাকে সঙ্গে রেখে শক্তিশালী সিন্ডিকেট করেছেন। নদীর মাটি তোলা থেকে শুরু করে ইটভাটায় বিক্রির তদারকির দায়িত্বে আছেন বন্টি।
অপরদিকে, বুড়িগঙ্গা নদীর ফতুল্লার ধর্মগঞ্জ অংশে কোন্ডা ইউনিয়ন বিএনপির নেতা আনন্দবাজার এলাকার শাহজালাল, রতন, জাজিরার ইমরান ও খইল্লারচর এলাকার সেলিম অবৈধভাবে মাটি উত্তোলন করছেন।
এই সিন্ডিকেটের এক সদস্য নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, বিআইডব্লিউটিএ, নৌ পুলিশ, বিএনপির সিনিয়র নেতাদের ম্যানেজ করেই ব্যবসা করছি। তবু ঝামেলার শেষ নেই।
জানা যায়, বুড়িগঙ্গা নদীর ধর্মগঞ্জ মোহনায় ১১টি ও ধলেশ্বরী নদীর বক্তাবলী ঘাট এলাকায় চারটি গ্র্যাব ড্রেজার দিয়ে প্রতিদিন প্রায় দেড় লাখ ফুট মাটি উত্তোলন করা হচ্ছে। এই মাটি ৮ টাকা ফুট দরে স্থানীয় ইটভাটায় সাপ্লাই দেওয়া হয়।
একেকটি গ্র্যাব ড্রেজার দিয়ে গড়ে দিনে ১৫ ট্রলার মাটি উত্তোলন করা হয়। অপরিকল্পিতভাবে মাটি উত্তোলনের কারণে নদীর দুপাশে থাকা ফসলি জমি ও রাস্তাঘাট চরম ঝুঁকিতে রয়েছে।
স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, অবৈধভাবে মাটি কাটার কারণে নদীর নাব্য ও পরিবেশগত ভারসাম্য মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। ব্যবসা-বাণিজ্য ও বসতবাড়ি হুমকির মুখে রয়েছে; যেকোনো সময় বড় ধরনের ভাঙন দেখা দিতে পারে।
এদিকে, নদী থেকে অবৈধভাবে মাটি উত্তোলনের বিষয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করে নারায়ণগঞ্জ-৪ আসনের সংসদ সদস্য আব্দুল্লাহ আল আমিন বলেন, ‘মুষ্টিমেয় কয়েকজন প্রভাবশালী লোক নিজেদের আর্থিক ফায়দা লুটতে ধলেশ্বরী ও বুড়িগঙ্গা নদী থেকে অবৈধভাবে মাটি উত্তোলন করছে। এর ফলে নদীর দুই তীরের ঘরবাড়ি ও জনপদ বিলীন হওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। কোনো নিরীহ মানুষ এ কাজ করছে না; যারা গুন্ডামি করে, তারাই এসব অপকর্মে লিপ্ত। একজন গুন্ডামি করবে আর সাধারণ মানুষ বসে দেখবে, এমন রাজনীতি আমরা চাই না।’
এ ব্যাপারে জানতে বিআইডব্লিউটিএর পরিচালক ক্যাপ্টেন মো. শাহজাহানের মুঠোফোনে কল করলে তিনি রিসিভ করেও বক্তব্য দিতে রাজি হননি।
বক্তাবলী নৌ পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ এ কে এম আমিনুল হক জানান, আমি দুই সপ্তাহ আগে এই ফাঁড়িতে যোগ দিয়েছি। নদীতে গ্র্যাব ড্রেজার দিয়ে মাটি কাটার বিষয়টি শুনেছি, কিন্তু এখনো আমার চোখে পড়েনি। আমি এ ব্যাপারে অবশ্যই খোঁজ নিয়ে কঠোর ব্যবস্থা নেব। কোনো অন্যায়কে প্রশ্রয় দেব না।



















